Sufi Faruq Ibne Abubakar (সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর)

কর্মসূচি – প্রযুক্তি উৎসব কর্মসূচি, প্রযুক্তি উৎসব

প্রযুক্তি উৎসব কর্মসূচীটি আমাদের কুষ্টিয়া জেলার প্রযুক্তি জাগরণের মাইলফলক। ১৯৯৯ সালে আমরা কজন বন্ধ মিলে প্রথম উদ্যোগটি নেই। উদ্যোগটি নেয়া হয়েছিল আমাদের সংগঠন প্রযুক্তিতে কুষ্টিয়ার পক্ষ থেকে। সেসময় আমাদের লক্ষ্য ছিল যেন বেশিরভাগ শিক্ষার্থীকে প্রযুক্তি মুখি শিক্ষায় (বিশেষ করে তথ্য প্রযুক্তি) উৎসাহিত করা যায়। সে সময়ের আধুনিক প্রযুক্তিগুলোর সাথে কুষ্টিয়ার মানুষদের পরিচয় করিয়ে দেয়া যায়। পাশাপাশি প্রোগ্রামিং, নেটওয়ার্কিং সহ তথ্য প্রযুক্তিতে সফল পেশাজীবীদের সাথে শিক্ষার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেয়া যায়। সেসময় আমরা দারুণ উৎসাহ, উদ্দীপনা ও অংশগ্রহণ পেয়েছিলাম। দেশের বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় সহ প্রযুক্তি নির্ভর বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো অংশগ্রহণ করেছিল।

শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উৎসব, সেমিনার ও কর্মশালার আয়োজন করে প্রযুক্তিতে কুষ্টিয়া বৃহত্তর কুষ্টিয়া জেলার সচেতন মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। বহুবিধ তথ্য সেবা সহ কুষ্টিয়ায় প্রথম বারের মত প্রযুক্তি উৎসবের আয়োজন করা হয় যা পরপর কয়েক বছর নিয়মিত ভাবে চলতে থাকে। স্থানীয় পাবলিক লাইব্রেরী মাঠে ৩ দিনের প্রযুক্তি উৎসবে বাংলাদেশ প্রকৌশল প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী প্রকৌশল প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা প্রকৌশল প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় সহ দেশের বহু খ্যাতনামা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে অংশ গ্রহণ করে। এছাড়া স্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা অংশ নেয়। বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল ও বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে একে একটি সফল আয়োজনে পরিণত করে।

কুষ্টিয়া জেলাকে একটি অন্যতম সমৃদ্ধ অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসাবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে “প্রযুক্তিতে কুষ্টিয়া” সংগঠনটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। বিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় পেশা ও প্রযুক্তি নির্ভর জনসম্পদ তৈরি, জনসম্পদ কাজে লাগাবার মতো উদ্যোক্তা তৈরি, বাইরের সফল উদ্যোক্তাদের কুষ্টিয়াতে কাজ করার সুযোগ তৈরির জন্য তথ্য সেবা প্রদানের পাশাপাশি বিভিন্ন উদ্যোগকে সহায়তা করে আসছে। শুরুতে শুধুমাত্র শিক্ষার্থী ও তরুণ উদ্যোক্তাদের নিয়ে কাজ শুরু করলেও অচিরেই কর্মপরিধি আরও বিস্তৃত হয়। এই উদ্যোগকে এগিয়ে নিয়ে যেতে শিক্ষাবিদ প্রফেসর কায়েস উদ্দিন, প্রফেসর মু. লূৎফর রহমান, প্রফেসর ড. আবুল আহসান চৌধুরী, প্রফেসর ড. এম আলাউদ্দিন, ড. মাযহারুর ইসলাম, প্রফেসর শাহিনুর রহমান ও তথ্য প্রযুক্তি আন্দোলনের জাতীয় নেতৃত্বদের মধ্যে আবদুল্লাহ এইচ কাফি সহ স্থানিয় শিক্ষানুরাগী আব্দুর রউফ ও দানবীর আলাউদ্দিন আহমেদ প্রমূখ এগিয়ে আসেন। সে সময় থেকেই প্রযুক্তিতে কুষ্টিয়ার মুখপাত্র হিসাবে একটি মাসিক পত্রিকা প্রকাশ করা হয়।

আজ আমরা গর্বের সাথে বলতে পারি দেশের অন্যান্য জেলার তুলনায় কুষ্টিয়ার ছেলেমেয়েরা ফ্রিল্যান্সিং সহ তথ্য প্রযুক্তি পেশায় বিভিন্ন যায়গায় এগিয়ে থাকার পিছনে এই প্রযুক্তি উৎসবগুলো ভূমিকা রেখেছে।



আপনার মন্তব্য দিন