Sufi Faruq (সুফি ফারুক)

কুমারখালীতে পেশা পরামর্শ সভার আউটসোর্সিং কর্মশালা অনুষ্ঠিত কুমারখালী উপজেলা, জনশক্তি উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান, পেশা পরমর্শ সভা, পেশা পরামর্শ, বিজ্ঞান, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পিছিয়ে পড়া তারুণদের এগিয়ে নিতে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলায় আউটসোর্সিং বিষয়ক কর্মশালার আয়োজন করেছে সুফি ফারুকের পেশা পরামর্শ সভা। বৃহস্পতিবার সকালে সভার প্রধান সমন্বয়ক প্রযুক্তিবিদ সুফি ফারুকের সভাপতিত্বে উপজেলা পাবলিক লাইব্রেরিতে এই কর্মশালার শুরু হয়। কর্মশালা পরিচালনা করেন আউটসোর্সিং বিষয়ক অভিজ্ঞতা সম্পন্ন প্রতিষ্ঠান আর আর ফাউন্ডেশন।

কর্মশালায় পেশা হিসেবে ফ্রিল্যান্স আউটসোর্সিংয়ের সম্ভাবনা, কাজের পরিধি, ঘরে বসে ইন্টারনেটের মাধ্যমে উপার্জনের কৌশল, আউটসোর্সিং কাজের জন্য বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠানগুলোর ওয়েবসাইটের সঙ্গে পরিচিতি, এসব প্রতিষ্ঠানের কাজের ধরণ, দলগতভাবে আউটসোর্সিং কাজের কৌশল, আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে উপার্জিত অর্থ উত্তোলন ও প্রতারণার ঝুঁকি এড়ানোর সহজ উপায়সহ নানা বিষয়ের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।

প্রযুক্তিবিদ সুফি ফারুক বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আউটসোর্সিংয়ের গুরুত্ব ও সম্ভাবনা তুলে ধরে বলেন, ‘এখন আমেরিকা গিয়ে কাজ করার প্রয়োজন পড়ে না। দেশে বসেই আমেরিকার কাজ করা যায়। এ জন্য প্রত্যেককে আত্মবিশ্বাস বাড়াতে হবে। বর্তমানের স্মার্ট ফোন, স্মার্ট টেলিভিশন, স্মার্ট পোশাক-আশাকের পাশাপাশি আমাদের মনোজগতের ভেতরটাতেও স্মার্টনেস তৈরি না হলে লাভ নেই। প্রত্যেক ব্যক্তির থাকতে হবে একটি পরিকল্পিত লক্ষ্য। সেই লক্ষ্যে যদি অটুট থাকে, তাহলে স্বপ্নের জায়গায় পৌঁছতে খুব একটা সমস্যা হয় না।’

পেশা পরামর্শ সভার সফল এই উদ্যোক্তা বলেন, আউটসোর্সিং সম্পর্কে ধারণা থাকলে বহির্বিশ্বে বিশাল ব্যবসার জায়গা রয়েছে। আর শিক্ষার্থীরা যদি দলবদ্ধ হয়ে কাজটি করতে পারে, তাহলে তারা প্রত্যেকেই সমানভাবে লাভবান হবে। তৈরি হবে দক্ষ জনশক্তি। ঘুচবে বেকারত্ব। আউটসোর্সিংয়ের কাজে প্রত্যেককে তিনি সৎ ও নিষ্ঠাবান থাকার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, সৎ না থাকলে এ পেশায় উন্নয়ন অসম্ভব।

আর. আর. ফাউন্ডেশনের রাসেল আহমেদ বলেন, আইসিটি সেক্টরে কাজের সুযোগ দিন দিন বাড়ছে। এর জন্য দরকার দক্ষ জনবল। প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের আউটসোর্সিংসহ আইসিটি খাতের নানামুখী কাজে কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে আমরা দেশের শিক্ষিত বেকারদের আইসিটি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে যোগ্য ও দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। তাদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা গেলে অনেকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারবে।

তিনি বলেন, আউটসোর্সিং বলতে কোন একটি ব্যবসায়িক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিজের কাজ অন্যকে দিয়ে করিয়ে নেয়াকে বুঝায়। আউটসোর্সিং বলতে কখনো কখনো এক প্রতিষ্ঠান থেকে অন্য প্রতিষ্ঠানে কর্মী হস্তান্তর করাকেও বুঝায়, কিন্তু সব সময় না। আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে সরকারি কাজ সমূহকে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বিদেশি এবং দেশি ঠিকাদারি উভয় আউটসোর্সিংয়ের অন্তর্গত, এবং কখনো আউটসোর্সিং এ দূরবর্তী দেশে নিজের প্রতিষ্ঠান স্থাপন (সমুদ্রবর্তী) অথবা পাশাপাশি কোন দেশে প্রতিষ্ঠান স্থাপন ও অন্তর্ভুক্ত থাকে। অনেক মানুষ আউটসোর্সিং এবং দূরবর্তী দেশে প্রতিষ্ঠান স্থাপনকে গুলিয়ে ফেলেন – তবে তারা ভিন্ন। একটি কোম্পানি আউটসোর্স করতে পারে (একজন আউটসোর্সিং সেবাদানকারী) দূরবর্তী দেশের কোন সাহায্য ছাড়াই। আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে আর্থিক ভাবে লাভবান হওয়া যায়। কারণ এতে স্থানীয় শ্রমিকদের চাইতে কম বেতন প্রদান করতে হয়। এটি আউটসোর্সিং এর ক্ষেত্রে একটি বড় অনুপ্রেরণা।

প্রশিক্ষণ কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা জানান, আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে অনেকেই অর্থ উপার্জন করা যায় বলে শুনেছেন। এ প্রশিক্ষণ কর্মশালায় উপস্থিত হয়ে তারা অনেক জ্ঞান অর্জন করেছেন। এই লব্ধ জ্ঞান কাজে লাগিয়ে নিজের পাশাপাশি বন্ধুদেরও অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলতে সাহায্য করবেন।

কথা হয় কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী আরেক প্রশিক্ষণার্থীর সঙ্গে। তিনি জানান, অনেক দিন ধরে তিনি এমন একটি প্রশিক্ষণের অপেক্ষায় ছিলেন। নিজের কোনো কম্পিউটার না থাকলেও বাবার ব্যবহৃত কম্পিউটারটি তিনি এখন ব্যবহার করবেন আউটসোর্সিংয়ের জন্য। আউটসোর্সিং সম্পর্কে এত দিন শুনেছি। আজ হাতে-কলমে শিক্ষা পেয়ে এই প্রোগ্রাম সম্পর্কে অনেক কিছু জানলাম। এ জন্য পেশা পরামর্শ সভার উদ্যোক্তা প্রযুক্তিবিদ সুফি ফারুক ভাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আজকের এই কর্মশালা বাস্তবজীবনে কাজে লাগবে বলে আশা করি। বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন বন্ধুকে নিয়ে আমি আউটসোর্সিংয়ের কাজ করব।’

পেশা পরামর্শ সভা কুমারখালীর কো-অর্ডিনেটর আব্দুস সালাম বলেন, প্রযুক্তিবিদ সুফি ফারুক যেকোনো ভালো কাজের সঙ্গে আছে। তরুণদের জ্ঞান অর্জনের তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, ‘এখন আমেরিকা গিয়ে কাজ করার প্রয়োজন পড়ে না। দেশে বসেই আমেরিকার কাজ করা যায়। এ জন্য প্রত্যেককে আত্মবিশ্বাস বাড়াতে হবে।