Sufi Faruq (সুফি ফারুক)

কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার কয়া ইউনিয়নের বানিয়া পাড়া গ্রামে সুফি ফারুকের ‘মা-বোনদের বিশেষ পরামর্শ সভা’ অনুষ্ঠিত বানিয়াপাড়া গ্রাম, ১ নং কয়া ইউনিয়ন, কুমারখালী, কুষ্টিয়া, মা-বোনদের বিশেষ পরামর্শ সভা

কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার কয়া ইউনিয়নের বানিয়া পাড়া গ্রামে সুফি ফারুকের "মা-বোনদের বিশেষ পরামর্শ সভা" অনুষ্ঠিত

কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার কয়া ইউনিয়নের বানিয়া পাড়া গ্রামে সুফি ফারুকের "মা-বোনদের বিশেষ পরামর্শ সভা" অনুষ্ঠিত২০৪১ সালের জ্ঞান ভিত্তিক অর্থনীতি বিনির্মাণের সম্ভব্য সকল চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য, মা-বোনদের তাদের নিজ ভূমিকায় প্রস্তুত করতে ‘মা-বোনদের বিশেষ পরামর্শ সভা’ শিরনামে এক বিশেষ কর্মসূচির উদ্যোগ নিয়েছেন সুফি ফারুক। এই কর্মসূচির আওতায়- স্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতন করার পাশাপাশি এই কর্মসূচির আওতায় মা-বোনদের বিনামূল্যে স্বাস্থ্য সেবা, স্বাস্থ্য পরামর্শ ও চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

এই কর্মসূচির উদ্যোক্তা, গুরুকুল বাংলাদেশের প্রমুখ, ইয়ুথ বাংলা কালচারাল ফোরাম এর কেন্দ্রীয় সভাপতি, কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামীলীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক, সুফি ফারুক বলেন, গ্রামের খেটে-খাওয়া সাধারণ মানুষ যদি কোন কারণে বছরে একবার ৭ দিনের জন্য হাসপাতালে ভর্তি হয়, তবে তার বাৎসরিক সঞ্চয়ের প্রায় অর্ধেক খরচ হয়ে যায়। বড় টাউটের হাতে পড়লে পুরো সঞ্চয় খরচ হয়, কখনো দেনা হয়ে যায়। যেসব রোগ/বালাইয়ের শেষ পরিণতি হিসেবে তারা ভর্তি হয়, তার একটা বড় অংশ এড়ানো যায় ‘সচেতনতা’ দিয়ে। খরচটাও অনেকখানি বাঁচানো যায় সামান্য কিছু খরচ আর পরিকল্পনা দিয়ে। বড় বাজেট লাগবে না, বিরাট প্রকল্প লাগবে না। লাগবে আন্তরিকতা, একটু বোধ আর একটু স্বেচ্ছা শ্রমের মানসিকতা। স্থানীয় সকল জনপ্রতিনিধিগণ, রাজনীতিকগণ, বিশিষ্ট জন (বিশেষকরে শিক্ষক সমাজ) একত্রে চাইলে এই কাজটির সিংহভাগই করে ফেলতে পারেন। শুধু শারীরিক বা মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়য়েই নয়, আমাদের দেশের প্রান্তিক মা ও বোনেরা এখনো আমাদের ধারনার বাইরে মানসিক ভাবে পিছিয়ে আছে। পরিবারের নিউক্লিয়াস হিসেবে তার ভূমিকা, ছেলেমেয়েদের বড় করা-লেখাপড়া-পেশা, পরিবারের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, পরিবারের ও নিজের আর্থিক নিরাপত্তা, শেষ বয়সের পরিকল্পনা বিষয়ে তার ভাবনা একেবারেই সীমিত। এই জ্ঞান ও দক্ষতা সম্পন্ন মা নিয়ে আমাদের ২০৪১ সালের জ্ঞান ভিত্তিক সমাজ নির্মাণে অনেক অনাকাঙ্ক্ষিত চ্যালেঞ্জর মুখে পড়বো। সেসব চ্যালেঞ্জের উপযোগী করে প্রস্তুত করতেই আমার এই বিশেষ পরামর্শ সভার কার্যক্রম। এই সভাতে গ্রামের সাধারণ মা-বোনেরা অংশগ্রহণ করেন। তাদের সাথে আলোচনা হয় মূলত চারটি মৌলিক বিষয়ে গুরুত্ব দেয়া হয়- ১. মা-বোনদের মৌলিক স্বাস্থ্যবিধি (শারীরিক ও মানসিক)। ২. পরিবারের রোগ প্রতিরোধ সম্পর্কে ধারণা। ৩. সন্তানকে সুশিক্ষিত, দক্ষ, কর্মঠ, রুচিশীল ও মানবিক করে গড়ে তুলতে মায়ের করনীয়। ৪. প্রতিটি মা বোনের আর্থিক নিরাপত্তা। ওই ৪ টি মৌলিক বিষয়ের পাশাপাশি আরও যে বিষয়গুলো নিয়ে পরামর্শ দেয়া হয় সেগুলো হল – ১। প্রসূতি মা এবং শিশুর যত্ন। ২। শিশু/কিশোরের শারীরিক ও মানসিক যত্ন। তাদের সাথে ছেলেবেলা থেকে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরির প্রয়োজনীয়তা। ৩। পুষ্টি সমৃদ্ধি খাদ্য অভ্যাস সম্পর্কে অবগত করণ। ৪। সন্তানের ক্যারিয়ারে লক্ষ্য উদ্দেশ্য সম্পর্কে অবগত হওয়ার চেষ্টা করা এবং সে অনুযায়ী তাকে অনুপ্রেরণা দেয়া। ৫। সন্তান মাদকাসক্ত কি না! হলে তৎক্ষণাৎ কি ধরনের ব্যবস্থা নিতে হবে সে বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা দিয়া। ৬। সন্তান যাতে মাদকাসক্ত না হয় সেদিকে আগে থেকে খুব সতর্ক থাকা এবং সন্তানের সঙ্গদের সাথে মায়ের নিয়মিত যোগাযোগ রাখার প্রয়োজনীয়তা। ৭। বাড়ন্ত বয়স পর্যন্ত সন্তানদের যথেষ্ট পরিমাণ খেলাধুলার উপকারিতা সম্পর্কে ধারণা দেয়া। ৮। সন্তানদের একাডেমিক লেখাপড়ার খোঁজ নেয়ার গুরুত্ব বোঝানো। একাডেমিক লেখাপড়ার পাশাপাশি সৃজনশীল লেখাপড়ার গুরুত্ব মায়েদের সামনে তুলে ধরা।

সুফি ফারুক এর কুমারখালী উপজেলার রাজনৈতিক বিভাগের সমন্বয়কারী, কুমারখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক সুভাষ দত্ত বলেন, সুফি ফারুক ভায়ের বহুবিধ কার্যক্রমের মধ্যে এটি একটি। এটি আমাদের শিক্ষিত, দক্ষ, কর্মঠ, রুচিশীল ও মানবিক প্রজন্ম তৈরি করার সকল কর্মসূচিগুলোর গুলোর মধ্যে, প্রাথমিক ধাপের কর্মসূচি। এই কর্মসূচির মাধ্যমে মা-বোনদের সচেতন করে প্রয়োজনীয় আরও কর্মসূচিতে যুক্ত করা হয়। আমাদের এই কর্মসূচির কার্যকারিতা সমাজে ইতিমধ্যে অনুভূত হচ্ছে।

সুফি ফারুক এর কুমারখালী উপজেলার তরুণ বিভাগের সমন্বয়কারী, শিলাইদহ মহিলা কলেজের প্রভাষক আব্দুস সালাম বলেন, সুফি ফরুক ভায়ের গ্রামীণ সুবিধা বঞ্চিত মানুষের জন্য তার ব্যক্তিগত উদ্যোগের অনেকগুলো কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। এসব উদ্যোগের কারণে গ্রামের মা ও বোনেরা আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি নিজের স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন হচ্ছেন। আগে থেকে স্থানীয় পর্যায়ে অন্যরা এই উদ্যোগ গ্রহণ করলে কুষ্টিয়া আজ দেশের মডেল জেলায় পরিণত হত।

১৩ আগস্ট, ২০১৮ খৃষ্টীয় তারিখে, কুষ্টিয়া জেলার, কুমারখালী উপজেলার, কয়া ইউনিয়নের, বানিয়া পাড়া গ্রামের অশোক গলিতে উক্ত সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সভায় উপস্থিত ছিলন সমাজকর্মী আলেফা খাতুন এবং পেশাদার নার্স গুলশান আফরোজ জুঁই।

দীর্ঘ দিনের অভিজ্ঞ সমাজকর্মী আলেফা খাতুন বলেন, আমাদের পথ প্রদর্শক সুফি ফারুক ভাই সমাজকর্মী, শারীরিক ও মানসিক রোগের বিশেষজ্ঞ ডাক্তার, অর্থনীতিবিদ, উন্নয়নকর্মী সহ বিভিন্ন পেশাজীবীদের সাথে পরামর্শ করে, কুমারখালী-খোকসার সকল মা-বোনকে, ২০৪১ সালের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায়, বিভিন্ন বিষয়ে দক্ষ করে গড়ে তুলতে, একটি ‘গাইড লাইন’ তৈরি করে দিয়েছেন। আমরা প্রতিটি সভায় সেই গাইড লাইন অনুযায়ী মা-বোনদের প্রশিক্ষণ দেই, মোটিভেশন দেই। আমরা দারুণ সাড়া পাচ্ছি। প্রতি গ্রামে পঞ্চাশ থেকে দুশো জন মা-বোনেরা বিভিন্ন ভাবে আমাদের কর্মসূচির অংশ হচ্ছেন। আমরা আশা রাখি অন্যদের উপকার দেখে বাকিরাও অংশগ্রহণ করবেন। এছাড়া বিভিন্ন কুসংস্কার সহ সামাজিক বাধা রয়েছে। সেগুলো অতিক্রম করেই আপাদের কাজ করতে হয়। তবে ১/২টি সভায় অংশগ্রহণের পরে মা-বোনরা নিজে থেকেই তাদের বিভিন্ন সমস্যায় আমাদের সাথে যোগাযোগ করে। আমরা তাদের উৎসাহ দেই ও সহায়তা দেই। আমাদের বিভিন্ন ধরনের কর্মমুখী প্রশিক্ষণগুলোতে ক্রমশ এদের যুক্ত করি।

স্বাস্থ্যকর্মী আফরোজ জুঁই বলেন, পরামর্শ সভার পাশাপাশি আমি তাদের স্বাস্থ্যের পরীক্ষা করি। কোন ঝুঁকি দেখলে তাদের অবহিত করি ও করনীয় বিষয়ে পরামর্শ দেই। প্রাথমিক চিকিৎসার প্রয়োজন হলে সেগুলো আমরা দেই ও কিছু ওটিসি (ওভার দা কাউন্টার) ওষুধ দিয়ে থাকি। আসলে আমাদের দেশের নারীরা নিজের বিষয়ে মোটেও সচেতন নন। আর এ কারণেই তারা তাদের বিভিন্ন শারীরিক সমস্যাগুলো কাউকে জানায় না। সারা জীবন পরিবারের জন্য শ্রম দিয়ে একজন মা কাউকে তার সমস্যার কথা না জানিয়ে এক সময় কঠিন অসুখে মারা যান। কুমারখালী-খোকসায় তেমনটি যেন না হয় সে কারণেই আমাদের এই উদ্যোগ। ক্যালসিয়াম ঘাটতি, হরমোন সমস্যাসহ নানা রোগ মেয়েদের হয়ে থাকে। প্রায় প্রত্যেক নারীরই রয়েছে এ ধরনের সমস্যা। কিন্তু তারা এর কোন চিকিৎসা করান না। পাশাপাশি সন্তানকে ঠিকভাবে বুকের দুধ খাওয়ানো শুধু শিশুর জন্য নয়; মায়েদের জন্যও মঙ্গলজনক। শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ালে স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমে। প্রত্যেক মেয়েরই বিয়ের পর ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলে পরিবার পরিকল্পনার বিষয়টি ঠিক করা উচিত। নইলে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হয়। সময়মত খাওয়া, সঠিক পুষ্টি, পরিচ্ছন্নতা এবং কিছু নিয়ম-কানুন মেনে চললে অনেক রোগ থেকে দূরে থাকা সম্ভব। আমাদের দেশের মায়েদের পুষ্টি বিষয়ে তেমন ধারণা নেই। তারা স্বামী-সন্তানকে খাওয়ানোর পরে নিজের খাওয়ার কথা ভাবেন। গর্ভবতী মায়েদের স্বাভাবিকের চেয়ে প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার বেশি খাওয়া প্রয়োজন। কিন্তু সাধারণত তা হয় না। এক্ষেত্রে পরিবারের অন্য সদস্যদের বিশেষ করে স্বামীকে যত্নশীল হতে হয়। অপরিষ্কার থাকার কারণে মহিলাদের জরায়ুতে ক্ষতের (ইনফেকশন) সৃষ্টি হয়। পানি কম খেলেও প্রস্রাবের রাস্তায় সমস্যা দেখা দেয়। ময়লা কাপড় ব্যবহারের কারণে হাত-পায়ে চুলকানি হয়; যা শিশুকেও আক্রান্ত করতে পারে। অথচ এসব ব্যাপারে আমাদের দেশের মহিলারা যথেষ্ট সচেতন নন। এসব সচেতনতা বাড়ানোতে আমাদের কাজের পাশাপাশি গণমাধ্যম সবার নিজের জায়গা থেকে সচেতনতা বাড়ানো দরকার।

এছাড়া সভায় স্থানীয় সংগঠকরা উপস্থিত ছিলেন।

 

 

 

 

এডিট- এসএস