Sufi Faruq (সুফি ফারুক)

কুষ্টিয়া-৪ কুমারখালী-খোকশা আসনে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমাদের উন্নয়ন শীর্ষক প্রচারণায় তারকারা বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ

সংসদীয় আসন ৭৮, কুষ্টিয়া-৪  কুমারখালী-খোকশা আসনে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমাদের উন্নয়ন শীর্ষক প্রচারণা করলেন তারকারা। গত শুক্রবার  কুমারখালী-খোকশা এলাকার কুমারখালী বাসস্ট্যান্ড, যদুবয়রা ইউনিয়ন, পান্টি ইউনিয়ন, শিলাইদহ ও চাপড়া ইউনিয়নের লালন শাহ মাজার এলাকায় দিনব্যাপী, ইয়্যুথ বাংলা কালচারাল ফোরামের কেন্দ্রীয় সভাপতি সুফি ফারুক ইবনে আবুবকরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পথসভায় জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকারের নানা উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের চিত্র তুলে ধরেন বাংলাদেশের সুনাম ধন্য অভিনেত্রী তানভীন সুইটি, তারিন জাহান, নওশীন নাহারীন মৌ, আদনান ফারুক হিল্লোল, মাজনুন মিজান, আমান রেজা, প্রণীল জাহিদ, সুমা, প্রমা, নমিরা, প্রত্যয় খান, কমল চৌধুরী, আরহাম চৌধুরী ও মুনা চৌধুরী।

বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, আসন্ন নির্বাচন প্রধানমন্ত্রীত্বের নির্বাচন, এই নির্বাচনে নৌকায় ভোট দিয়ে আমরা প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন করব। স্থানীয় নৌকার প্রার্থী যে নেতাই হোক, আপনারা যখন ভোট দিবেন তখন তাকাবেন জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতীক, নৌকা প্রতীকের দিকে, ভোট দিবেন নৌকায়। নৌকায় ভোট দিয়ে শেখ হাসিনাকে নির্বাচিত করুন।

বক্তরা বলেন, বর্তমানে দেশের ৭০ ভাগ মানুষ জননেত্রী শেখ হাসিনাকে সমর্থন করেন তার উপর আস্থা রাখেন। সংসদ নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী কে হচ্ছেন সেটা বড় কথা নয়, আপনারা দয়া করে কোন নেতার প্রতি ক্ষুব্ধ হয়ে নৌকার বাহিরে ভোট দিবেন না। আপনাদের রাগ ক্ষোভ থাকতেই পারে,  দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনা করেন জননেত্রী শেখ হাসিনা আপনারা নৌকায় ভোট দিয়ে শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন করুন।  আসুন  আমাদের নিজেদের জন্য কাজ ও উন্নয়নের ধারা অব্যহত রাখতে নৌকা প্রতিকে শেখ হাসিনাকে ভোট দিয়ে পুনরায় প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন করি। জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এখনও আপনাদের কথা চিন্তা করে দিনে ১৮ ঘণ্টা কাজ করেন। আসুন আমরা নৌকায় ভোট দিয়ে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখি।

বক্তারা আরো বলেন, আপনারা আগামী নির্বাচনে শেখ হাসিনাকে যে ২০টি কারনে নৌকা মার্কায় ভোট দেবেন— সে গুলো হলো:

১. শেখ হাসিনার সরকার কৃষকদের কৃষি যন্ত্রপাতি কেনার জন্য ৩০ শতাংশ ভর্তুকি দিচ্ছে। কৃষকদের উৎপাদন বাড়াতে আওয়ামী লীগ সরকার এ পর্যন্ত ৪০ হাজার ৩০০ কোটি টাকা নগদ সহায়তা প্রদান করেছে। শেখ হাসিনার উদ্যোগে ২ কোটি ৬ লাখ কৃষকের মাঝে কৃষি উপকরণ কার্ড বিতরণ করা হয়েছে।

২. শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ বর্তমানে মধ্যম আয়ের দেশের পথে।

৩. শেখ হাসিনার উদ্যোগে গ্রামের মানুষের স্বাস্থ্য সেবার জন্য প্রতিটি ইউনিয়নে কমিউনিটি ক্লিনিক হয়েছে।

৪. শিক্ষার্থীদের জন্য উপবৃত্তির সংখ্যা বাড়িয়েছেন শেখ হাসিনা।

৫. শেখ হাসিনার উদ্যোগে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় ৫০ লাখ পরিবারের জন্য ১০ টাকা কেজি  দরে চাল প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

৬. বাংলাদেশে দারিদ্র্যের হার শতকরা প্রায় ৫০ ভাগ থেকে মাত্র ২২ ভাগে কমিয়ে আনতে সফল হয়েছেন শেখ হাসিনা।

৭. শেখ হাসিনার প্রচেষ্টায় বছরের প্রথম দিনে শিক্ষার্থীদের হাতে ৪ কোটিরও বেশি বই বিনামূল্যে পৌঁছে যাচ্ছে।

৮. শেখ হাসিনা সাহস দেখিয়ে নিজেদের টাকায় পদ্মা সেতু তৈরি করে বিশ্বের বুকে আত্মমর্যাদাশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

৯. আমাদের কুষ্টিয়াসহ সারাদেশে ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল হচ্ছে যেখানে ১ কোটি লোকের কর্মসংস্থান হবে।

১০. শেখ হাসিনার প্রচেষ্টায় মুক্তিযোদ্ধারা প্রতিমাসে নূন্যতম ১০ হাজার টাকা মুক্তিযোদ্ধা ভাতা পাচ্ছেন।

১১. শেখ হাসিনা সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় ৩২ লাখ বয়স্ক মানুষকে ভাতা দিচ্ছেন।

১২. ডিজিটাল বাংলাদেশ ধারণাকে বাস্তবে করে দেখিয়েছেন শেখ হাসিনা।

১৩. শেখ হাসিনার প্রচেষ্টায় ৭২৭টি কৃষি তথ্য ও পরামর্শ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা হয়েছে।

১৪. শেখ হাসিনা স্ব-নির্ভর বাংলাদেশ গড়তে একটি বাড়ি একটি খামার প্রতিষ্ঠা করেছেন।

১৫. শেখ হাসিনার উদ্যোগে সারাদেশে প্রতিটি উপজেলাসহ ৫০০টি আধুনিক মসজিদ নির্মাণ হচ্ছে।

১৬. শেখ হাসিনার সরকারই প্রথমবারের মতো মসজিদের ইমামদের জন্য জাতীয় পে-স্কেলে বেতন-ভাতা চালু করছে।

১৭. একটি মানুষও গৃহহীন থাকবে না এটা শেখ হাসিনার অঙ্গীকার। তাই গরীব ও দুস্থদের জন্য সরকার ঘর বানিয়ে দিচ্ছে।

১৮. নির্যাতিত মুসলিম রোহিঙ্গাদের মানবিক কারণে আশ্রয় দিয়ে শেখ হাসিনা বিশ্বে উদার মানবিকতার মডেল হিসেবে আমাদের মুখ উজ্জ্বল করেছেন।

১৯. শেখ হাসিনার উদ্যোগে আজ ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ। প্রতিটি গ্রামে তিনি বিদ্যুৎ পৌঁছে দিয়েছেন।

২০. চাকরিরত মায়েদের বেতনসহ মাতৃত্বকালীন ছুটি ৬ মাস নিশ্চিত করেছেন শেখ হাসিনা।

২০০৯ থেকে বর্তমান পর্যন্ত শেখ হাসিনার সরকারের সফলতম পদক্ষেপগুলোর মধ্যে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের ব্যাপারটিকে আমি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে চাই। একাত্তরে সংঘটিত যুদ্ধাপরাধ কিংবা মানবতাবিরোধী অপরাধের প্রত্যক্ষ শিকার যারা হয়েছেন কেবল তারাই সম্যক উপলব্ধি করতে পেরেছেন_ এ বিচার এবং বিচারের রায় কার্যকর হওয়া তাদের জন্য কতটুকু কাঙ্ক্ষিত ছিল আর মুক্তিযুদ্ধপন্থী সবার জন্য জাতীয় কলঙ্ক/দায় মোচনের এই আয়োজন ছিল স্বস্তিদায়ক। মানবতাবিরোধীদের বিচারের এই আয়োজন অব্যাহত থাকুক এটা সবারই প্রত্যাশা।

সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, ধর্মীয়, অগ্রবাদ, প্রভৃতি অমানবিক সামাজিক ব্যাধি মোকাবিলায় শেখ হাসিনা সরকারের সাহসী পদক্ষেপ প্রশংসার দাবিদার। যে দক্ষতা ও ক্ষিপ্রতায় গুলশান হলি আর্টিজান এবং শোলাকিয়া ঈদগাহ জঙ্গিদের দমন করা হয়েছে, সংগঠিত নাশকতা-পরিকল্পনাকারী জঙ্গিদের দমন করা হয়েছে, জঙ্গিবাদের সহিংস পথ পরিহার করে সুস্থ স্বাভাবিক জীবন ফিরে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে, সর্বোপরি জঙ্গিবাদী মানস সৃষ্টির সম্ভাবনা বন্ধ করার জন্য সামাজিক সাংস্কতিক আন্দোলনের ডাক দেয়া হয়েছে তা সত্যিই প্রশংসনীয়।

হাসিনা সরকারের সাফল্য মুকুটের একটি বড় পালক হলো নারীর ক্ষমতায়ন। স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশি নারীর ক্ষমতায়নের এমন দৃষ্টান্ত আর খুঁজে পাওয়া সম্ভব নয়। নোবেল বিজয়ী ভারতীয় অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন তার নিজের দেশ ভারতের তুলনায় বাংলাদেশে নারীর ক্ষমতায়নের এই চিত্র দেখে গভীর সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। একটি সম্পূর্ণ পুরুষতান্ত্রিক সমাজ হওয়া সত্ত্বেও, সমাজে ধর্মান্ধতা, কুসংস্কার থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশের নারীরা যে শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং আর্তনির্ভরশীলতার পথ ধরে ক্রমাগত ক্ষমতায়িত হচ্ছে তাতে সরকারের ভূমিকাও কম নয়।