Sufi Faruq (সুফি ফারুক)

তরুণ প্রজন্মকে তার নিজের স্বার্থে সিদ্ধান্ত নিতে হবে নোট

নরসিংদী ৫ (রায়পুরা) আসনে "শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমাদের উন্নয়ন" শীর্ষক প্রচারণা - সুফি ফারুক

২০০৮ সালে বাংলাদেশ ও বৈশিক আর্থ সামাজিক চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে, বিশেষকরে তারুণ্যের প্রত্যাশা বিবেচনায় নিয়ে আওয়ামী লীগ “ডিজিটাল বাংলাদেশ” এর শ্লোগানের পাশাাশি “রূপকল্প ২০২১” এর ঘোষণা দেয়। তৎকালিন অবকাঠামো, পরিকাঠামো ও জনশক্তি বিবেচনায় অনেকেই এই পরিকল্পনাকে অতি উচ্চাভিলাসী পরিকল্পনা বলে মত দেন। আওয়ামী লীগ নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করার পর থেকেই প্রতিটি চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে পরিকল্পিত প্রতিটি খাতেই অভাবনিয় অগ্রগতি করতে সামর্থ্য হয়। অবকাঠামো উন্নয়ন, তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে সরকারি পরিসেবা প্রদানে স্বচ্ছতা, দ্রুততা ও সহজলভ্যতা নিশ্চিত করণ, জনশক্তি উন্নয়ন সহ পরিকল্পিত প্রতিটি খাতে প্রথম ৪ বছরের মধ্যেই উন্নয়ন দৃশ্যমান হয়। এই ধারাবাহিকতায় আজ বাংলাদেশে প্রায় ৯ কোটি মানুষের কাছে ইন্টারনেট পৌছে গেছে। শুধু ইন্টারনেটের বিস্তৃতিই নয়, স্বল্পমূল্যে কেবল ব্রডব্যান্ডের পাশাপাশি জিপিআরএস থেকে কয়েকটি প্রজন্ম পেরিয়ে মোবাইল ইন্টারনেট আজ ৪ জি’তে উন্নীত হয়েছে। এই প্রযুক্তি বিপ্লব ও সহজলভ্যতার কারণে জনজীবনে বেশ কিছু তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তন ঘটে গেছে। এই পরিবর্তনের সবচেয়ে বেশি সুফলভোগী বর্তমান তরুণ প্রজন্ম। তারা বিরাট সুফল ভোগের পাশপাশি কিছু ঝুঁকির মুখোমুখিও হয়েছে। সেই ঝুঁকির মধ্যে কিছু ঝুঁকি মোকাবেলা সরকার এবং রাষ্ট্রের জন্যও নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।

ইন্টারনেটের সহজলভ্যতার কারণে বিগত এক দশকে তথ্যপ্রযুক্তি এবং সামাজিক গণমাধ্যমের অপ্রতিরোধ্য বিকাশ হয়েছে। এই মাধ্যমে জনগণের মতামত প্রকাশের জায়গাকে উন্মুক্ত করে দিয়েছে। মতামত প্রকাশের ক্ষমতাও বাড়িয়ে দিয়েছে। তাদের প্রতেকের হাতে একটি পত্রিকা, টেলিভিশন চ্যানেলের চেয়ে শক্তিশালি মাধ্যমে। যেখানে শুধামত্র মত প্রচারই নয়, অডিও, ভিডিও, টেক্সট সহ বিভিন্ন মাধ্যমে রিপ্লাই দেবারও সুযোগ রয়েছে। পাশপাপাশি দেশের সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে প্রায় পুরোটা তরুণ প্রজন্ম এখন সামাজিক গণমাধ্যমের সাথে যুক্ত। ফলে বর্তমানে প্রত্যন্ত গ্রামের মানুষও মুলধারার গণমাধ্যমের চেয়ে তাদের কন্ঠ হিসেবে সামাজিক গণমাধ্যমকেই গুরুত্ব দিচ্ছে। দেশের একপ্রান্তে ঘটা কোন একটি ঘটনা মুহুর্তে পৌছে যাচ্ছে আরেক প্রান্তে, ভিডিও সহ। সেই বিষয়ে জনগন সরাসরি প্রতিক্রিয়া দেখাবার সুযোগ পাচ্ছে। সরকার বা দলের সব কর্মকাণ্ডকে চুলচেরা বিশ্লেষণ করার সুযোগ হচ্ছে। শুধু তাই নয় যে কোন বড় ঘটনাই বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায় মুহূর্তেই। জনগণ প্রথমে সামাজিক গণমাধ্যমেই খবর পায়। এরপর ক্লারিফাই করার প্রয়োজন মনে করলে, প্রাতিষ্ঠানিক সংবাদমাধ্যমের কাছে যায়।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে সরব উপস্থিতি অধিক সংখ্যক তরুণদেরই। তারা ফেসবুক, টুইটার, লিঙ্কডইন, ইউটিউব ব্যবহার করে অনেক ভালো কাজের উদাহরণও তৈরী করেছে। শুধু তাই নয় ফেসবুক বা ইউটিউব ব্যবহার করে অনেকে বিকল্প মিডিয়া হিসেবেই নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছেন। এটার পাশাপাশি তরুণরা ফেসবুকে ই-কর্মাসের মডেল অনুসরণ করে এফ-কমার্স নামে বাংলাদেশে একটি নতুন ধারাই চালু করেছে। এখানে অনেক তরুণের কর্মসংস্থানেরও সুযোগ তৈরী হয়েছে।

এই পজিটিভ পরিবর্তনগুলোর উল্টো আরেকটি দিক রয়েছে। সরকার ইন্টারনেট বিপ্লব করেছে বলে শুধুমাত্র তার সমর্থক, আর সাধারণ জনগনকে তো ইন্টারনেট দেয়নি। বিরোধীদেরও দিয়েছে। এই দেশের অভ্যুদয়ের বিরোধিরাও পেয়েছে। তরুণদের অমিত সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবার এই প্রযুক্তির অস্ত্রটিকে তারা ব্যবহার করতে শুরু করেছে দেশের তারুণ্য, সরকার বা কিছু কিছু সময় দেশের বিরুদ্ধেও। তারা সামাজিক গণমাধ্যম ব্যবহার করে এমন কিছু পরিস্থিতি তৈরী করেছে যা বাংলাদেশে এর অভ্যুদয়ের পর থেকে কখনো কোন সরকারকে মোকাবেলা করতে হয়নি। তারা তাদের স্বার্থ হাসিলের জন্য দেশে চরম নৈরাজ্যকর পরিস্থিতিরও সৃষ্টি করে দেখিয়েছে।

কিভাবে সেই স্বার্থ হাসিল করতে তারা তৎপরতা চালায় তার কয়েকটা উদাহরণ দিলেই বিষয়টা স্পষ্ট হয়ে যাবে। ২০১২ সালে ফেসবুকে উস্কানি দিয়ে কক্সবাজারের রামুতে শত বছরের পুরাতন বৌদ্ধ মন্দিরে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। চরম সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টি করে বাংলাদেশের হাজার বছরের সাম্প্রীতির ঐক্য বিনষ্ট করার পায়তারা করা হয়েছিল। ঘটনা সেখানেই থেমে থাকেনি। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চলাকালেও স্বাধীনতা বিরোধীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকেই প্রধান হাতিয়ার বানিয়ে অপপ্রচার চালিয়েছে দেশে-বিদেশে। সেই সময় মেইন স্ট্রিমের একটি পত্রিকা আমার দেশ’ও সেই অপপ্রচারে অংশ নিয়েছিল। তারা প্রচার করেছিল জামায়াত নেতাদের মুক্তির দাবিতে পবিত্র ক্বাবা শরিফের আলেমরা মানববন্ধন করেছে। পরে ওই ছবির সত্যতার কোন প্রমাণ দিতে পারেনি সেই পত্রিকাটি। যুদ্ধাপরাধের মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামী জামায়াত নেতা দেলোয়ার হোসাইন সাঈদির রায় হলে দেশজুড়ে অরাজকতা শুরু হয়। ২০১৩ সালের মার্চের প্রথম সপ্তাহে এক মধ্যরাতে ফেসবুকে গুজব ছড়ানো হয় চাঁদে সাঈদিকে দেখা যাচ্ছে। এই গুজব সেই মহলটি মুহূর্তেই ভাইরাল করে দেশের মানুষকে ঘরের বাইরে নিয়ে আসে। তার পর তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী থানায় হামলা করে পুলিশকে হত্যা করাসহ বিভিন্ন অপকর্ম করে।

অতিসম্প্রতি, চলতি বছরে আমরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বেশ ভয়াবহ কুফল দেখতে পেয়েছি। এখানে বলে রাখা ভালো যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে সবচেয়ে বেশি বিপথে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে তরুণদেরকে। তারা বুঝতেও পারছে না আসলে তারা কার স্বার্থ হাসিলের জন্য রাস্তায় নেমে যাচ্ছে। এই বছরে কোটা সংস্কারের যে আন্দোলন শুরু হয় তাতে এক সময় রাজপথে নেমে আসে হাজারো তরুণ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনে নারকীয় হামলা চালানো হয় একজন আন্দোলনকারী মারা গেছে পুলিশের গুলিতে সেই গুজব ছড়িয়ে। পরে নিহত সেই ছাত্রটিই আবার ফেসবুকে পোস্ট নিয়ে নিশ্চিত করে যে, সে মারা যায়নি। পরের রাতে বলা হলো ছাত্রলীগের এক নেত্রী একজনের পায়ের রগ কেটে দিয়েছে। সেই গুজবকে পুঁজি করে রাস্তায় নামানো হয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় সব হলের ছাত্রীকে। ক্যাম্পাসে চরম এক নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল। কিন্তু এর পিছনে শুধু কোটা সংস্কার আন্দোলন কাজ করেনি। কাজ করেছিল সরকারকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলার জন্য যারা বিভিন্ন ছলছুতায় রাস্তায় নামতে চাই কিন্তু পারে না তারা। আবার গত আগস্টে যখন নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের স্বত:স্ফূর্ত আন্দোলন শুরু হলো তখনও একটি গোষ্ঠী মাঠে নামে গুজব সুষ্টি করতে। ওই আন্দোলনকে সরকার বিরোধী আন্দোলন বা সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ দিতে জোর চেষ্টা চলে সেই সময়।

পুরো আন্দোল চলাকালে পুলিশ একটি টিয়ারশেল বা লাঠি চার্জ না করারও পরেও গুজব রটে যায় এই আন্দোলনে ছাত্রলীগ ৪জন ছাত্রকে হত্যা করেছে, মেয়েদের রেপ করেছে এবং চোখ উপড়ে ফেলেছে। এমনকি এমন গুজবও ছাড়ানো হয় যে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগের পার্টি অফিসে লাশ গুম করে রাখা হয়েছে এবং সেখানেই মেয়েদের রেপ করা হচ্ছে। এই গুজবের উপর ভিত্তি করে আওয়ামী লীগরে পার্টি অফিসে হামলা চালানো হয়। এই গুজব ছাড়ানো হয় সমাজের বেশ কিছু পরিচিত মুখ দিয়। নওশাবা নামের একজন অভিনেত্রী তার ফেসবুক লাইভে এসে এই গুজব ছড়িয়ে তাকে বাস্তবসম্মতভাবে উপস্থাপন করে। মুহূর্তেই তা ভাইরাল হয়ে যায়। এখন কথা হচ্ছে যারা এই কাজ গুলো করছে তাদের কিন্তু একটা নির্দিষ্ট লক্ষ্য রয়েছে যে তারা কি করতে চায়। পৃথিবীর দেশে দেশে পত্র পত্রিকা, রেডিও বা টিভির মাধ্যমে প্রচার-প্রচারণা এমনকি প্রপাগান্ডা চালানোর রীতি বহুকাল থেকে চলে আসলেও বিগত এক দশকের ফেনোমেনা সোশ্যাল মিডিয়ায় অপপ্রচার নতুন আমাদের জন্য। আর এই বিষয়টা আমাদের দেশে একেবারেই নতুন হওয়াতে এর আগের কোন সরকারকে এই জটিল পরস্থিতি ফেস করতে হয়নি। তথ্যপ্রযুক্তিকে দেশের মানুষের জন্য সহজলভ্য করে দিয়েছে আওয়ামী লীগ সরকার কিন্তু দু:খজনক ব্যাপার হলো এই মাধ্যম ব্যবহার করে তার বিরোধীরা সব সময় আওয়ামী লীগরে বিরুদ্ধেই বেশিই অপপ্রচার করে আসছে।

১৯৯১ সালে খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব বিএনপি যখন প্রথমবার ক্ষমতায় আসে তখন বিনে পয়সায় সাবমেরিন কেবলে সংযুক্ত হওয়ার সুযোগ তথ্য পাচারের অজুহাতে হেলায় হারায়। পরে আমাদেরকে অনেক টাকা দিয়ে সেই সাবমেরিন ক্যাবলের সাথে যুক্ত হতে হয়। সেই যুক্ত হওয়ার কাজটাও শেখ হাসিনার সরকারের হাত ধরেই বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবলের সাথে যুক্ত হয়। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ তথ্যপ্রযুক্তি অনেক এগিয়ে যায়। সফটওয়ার খাতের নেতৃবৃন্দের বারবার অনুরোধেও কম্পিউটার সহ অন্যান্য তথ্য প্রযুক্তি সহযোগী পণ্য ও সেবা সরকারি নীতি সহযোগীতা পায়নি। কম্পিউটার হার্ডওয়ার কে শুল্কমুক্তি করা ছাড়াও সফটওয়ার শিল্পকে এগিয়ে নিয়ে বহুবিধ পলিসি সাপোর্ট দেন শেখ হাসিনা তার ৯৬ সরকারেই। আর বিগত এক দশকে তিনি বিশ্বের দৃষ্টিতে প্রযুক্তিতে বিল্পব করেছেন বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশ এখন ডিজিটাল বাংলাদেশের সাফল্যের গল্প।

শেখ হাসিনার সরকার এ পর্যন্ত সকল সরকারের আমলে তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ে যেসব উদ্যেগ নিয়েছে তার মুল সুবিধাভোগী তরুণ প্রজন্ম। তাই সঠিক বিবেচনা করার জন্য তাদের জানা দরকার যে – ২০২১ সালের মধ্যে আইসিটি পেশাজীবির সংখ্যা ২০ লাঘে উন্নীত করা, আইসিটি খাতে ৫ বিলিয়ন ডলার এবং জিডিপিতে এ খাতের অবদান ৫ শতাংশ নিশ্চিত করতে কাজ করছে বর্তমান শেখ হাসিনার সরকার। অবকাঠামো প্রতিষ্ঠা, মানব সম্পদ উন্নয়ন, ই-গর্ভমেন্ট এবং তথ্য প্রযুক্তি শিল্পের বিকাশ এই চারটি মূল স্তম্ভকে ভিত্তি করে ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের পথে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার ইতিমধ্যে টানা ২য় মেয়াদের ৪র্থ বছর অতিক্রম করেছে। অবকাঠামো প্রতিষ্ঠায় ইতোমধ্যে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ইন্টারনেট সংযোগের আওতায় আনা হয়েছে। ইউনিয়ন পর্যায়ে উচ্চ গতির ইন্টারনেট সেবা পৌছে দিতে গৃহিত হয়েছে ইনফো সরকার-৩ প্রকল্প। ইউনিয়ন পর্যায়ে উচ্চ গতির ইন্টারনেট সেবা পৌছে দেয়ায় ইউনিয়ন সেবা কেন্দ্র থেকে প্রত্যন্ত অঞ্চলের সর্বস্তরের সব মানুষ ঘরে বসে সকল সুবিধা সহজেই পাচ্ছে। তথ্য প্রযুক্তি খাতে বিশ্বমানের কর্মসংস্থান গড়ে তোলার পাশাপাশি আইসিটি শিল্পের বিকাশে কালিয়াকৈরে ৩৫৫ একর জমির উপরে বঙ্গবন্ধু হাইটেক সিটি পার্ক নির্মাণের কাজ এগিয়ে চলেছে। যশোরে ১২.১৩ একর জমির উপর গড়ে তোলা শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনলজি পার্কের কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। রাজশাহীতে বঙ্গবন্ধু সিলিকন সিটি, সিলেটে ইলেক্ট্রনিক সিটি প্রতিষ্ঠা সহ সারাদেশে মোট ২৮টি আইটি পার্ক গড়ে তোলা হচ্ছে। তথ্য ও প্রযুক্তি ডাটার নিরাপত্তায় ২০১৬ সালে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের জাতীয় টিয়ার-৩ ডাটা সেন্টার আইএসও ২৭০০১ সনদ লাভ করে। সরকারের ২৫ হাজার ওয়েব সাইট, মেইল হোস্টিং সার্ভিস, বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের জাতীয় পরিচয়পত্র ও ভোটার তালিকার তথ্য ভান্ডার সহ ও ই-সেবা কার্যক্রম এই ডাটা সেন্টার থেকে হোস্ট করা হচ্ছে। ই-গর্ভমেন্ট বাস্তবায়নে জনপ্রশাসন কর্মীদের জন্য আলাপন এপ্লিকেশন তৈরী, জরুরী প্রয়োজনীয় সব ধরনের সরকারি সেবা সহজলভ্য করতে পরীক্ষামূলকভাবে মোবাইল ফোন ভিত্তিন ন্যাশনাল হেল্প ডেস্ক ৯৯৯ চালু করা হয়েছে। জাতীয় পরিচয়পত্রকে স্মার্ট কার্ডে রূপান্তরের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ ডিজিটাল সিগনেচারের ব্যবস্থা করেছে। তরুনদের উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে কানেক্টিং স্টার্টআপ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে জনতা টাওয়ারে বিনামূল্যে এক বছরের জন্য উদ্যোক্তাদের স্পেস বরাদ্দ সহ সার্বিক সকল সুবিধা প্রদান করা হয়েছে। শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে প্রযুক্তিসেবী প্রজন্ম গড়ে তুলতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১ম থেকে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত ২১টি টেক্সট বইকে ডিজিটাল ইন্টারএ্যাক্টিভ মাল্টিমিডিয়া টেক্স বইয়ে রূপান্তর এবং ২০০১টি শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাবসহ স্কুল-কলেজ পর্যায়ে প্রায় ৬ হাজার কম্পিউটার ল্যাব প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। মানব সম্পদ উন্নয়নে এলআইসিটি প্রকল্প গুণগত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ৪৫ হাজার দক্ষ মানব সম্পদ গড়ে তুলেছে। আউটসোর্সিং এর উপর ইতিমধ্যে ৩০ হাজার তরুন- তরুণীকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে এবং ২৩ হাজার তরুণ- তরুণীকে ফ্রি ল্যান্সিং প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের আইটিতে দক্ষ করে গড়ে তুলতে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ল্যাব গড়ে তোলা হয়েছে। তরুনদের উৎসাহ, উদ্বুদ্ধ এবং তথ্য প্রযুক্তি শিল্পের সাথে সম্পৃক্ত করতে জাতীয় স্কুল প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। দেশের ৩০ হাজেররও অধিক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম। যার ফলে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বৃদ্ধি পেয়েছে পাঠ হয়েছে প্রানবন্ত। এমএমসি এ্যাপসের মাধ্যমে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম মনিটরিং ও মেনটরিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে। শিক্ষকবৃন্দের ওয়েব পোর্টাল “শিক্ষক বাতায়ন” ইতিমধ্যে ৩ লাখের অধিক সদস্য হয়ে নিয়মিত কনটেন্ট আপলোড করছেন। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী ২০২১ সালের মধ্যে ৯ লাখ শিক্ষককে বাতায়নের সদস্য করার কাজ এগিয়ে চলেছে। শিক্ষকবৃন্দকে উদ্বুদ্ধ করার জন্য জাতীয় কনটেন্ট প্রগিযোতিা সহ সপ্তাহের সেরা শিক্ষকদের নিয়ে শিক্ষক সম্মেলন করে সম্মাননা প্রদান করা হচ্ছে। কিশোরদের প্রতিভাকে বিকশিত করার লক্ষ্যে এবং পাঠ সংশ্লিষ্টতা বৃদ্ধির করার জন্য “কিশোর বাতায়ন” নামে একটি ওয়েব পোর্টাল চালু হয়েছে। যেখানে ‘আমার জেলা আমার অহংকার’ শ্লোগানকে নিয়ে জেলা ব্রান্ডিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে। একুশ শতকের শিক্ষার্ক্ষীদের জন্য একুশ শতকের শিক্ষা ব্যবস্থা বিনির্মাণ প্রয়োজন। এজন্য একুশ শতকের শিক্ষক তৈরীতে ‘গুণগত শিখন, টেকসই উন্নয়ন’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে শিক্ষা ব্যবস্থাকে বিশ্বমানের করে গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে। সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমকে তুলে ধরার জন্য জেলা উপজেলা পর্যায়ে মেলা, সেমিনার ও প্রতিযোগিতার আয়োজন করে চলেছে। গার্মেন্টস খাতের পর আইসিটি খাত সম্ভাবনাময় খাত বিবেচনা করা হচ্ছে। আইসিটি খাতে বাংলাদেশের এই স্বদর্প পদাচারনার স্বীকৃতি দিয়েছে বিশে^র বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান। প্রদান করেছে সম্মানজনক এওয়ার্ড। অবকাঠামো তৈরি, শিক্ষার মাধ্যমে জনসম্পদ তৈরি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং শিল্পের বিকাশ ঘটিয়ে রপ্তানি আয় বৃদ্ধির মাধ্যমে ২০২১ সালের মধ্যে এ খাতের আয় ৫ বিলিয়ন ডলার এবং ২০৪১ সালে ৫০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার সঠিক লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশ। বাস্তবায়িত হচ্ছে শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ। আমরা এগিয়ে চলেছি ১৬ কোটি মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির পথে এই মুক্তির মধ্যেই নিহিত জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠা।

ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়ন এবং দেশবিরোধী চক্রান্তের মোকাবেলা করতে গিয়ে কিছু আইন প্রনোয়ন করতে হয়েছে। যেটা নিয়ে কিছু সমালোচনা রয়েছে। তবে সমালোচনা করতে গিয়ে যেসব তুলনা আনা হয়, তার সাথে বাংলাদেশের অনলাইন ব্যবহারকারীদের গ্রোথ, সংখ্যা সেই তুলনায় ব্যবহারকারীদের অনলাইন আচরন, দায়িত্ববোদের তুলনা করা যায়না।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম যেহেতু গত এক দশকের নতুন সংযোজন তথ্যপ্রযুক্তিতে তাই এখানে এখনো আমরা খুব ভালোভাবে অভ্যস্ত হতে পারেনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও যে সামাজিক মানদণ্ড বজায় রাখা দরকার তা আমাদের অনেকেই বুঝে না বা জানে না। আর জানলেও অনেকেই ভিন্ন উদ্দেশ্যে তা মানতে রাজি থাকে না। এখানেই সমস্যা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম যেমনভাবে সবার মতামত জানানোর অধিকারকে উন্মুক্ত করেছে তেমনিভাবে এখানে অনেক সময় হেনস্থারও শিকার হতে হয়। একজনের স্বাধীনতা মানে অন্যজনের মতামতকে হেনস্থা করার অধিকার কারো নেই। এখানেই সমস্যা তৈরী হয়। মিছিলের সব হাত, সব পা যেমন একই উদ্দেশ্যে আসে না তেমনি অনলাইন প্ল্যাটফর্মেও সবাই একই কারণে বিচরণ করে না। এখানে ব্যক্তির ভিন্ন উদ্দেশ্যের পাশাপাশি বিশেষ কোন গোষ্ঠীরও স্বার্থের ব্যাপার থাকে। তাই প্রথম কথা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করার আগে একজনকে কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড সম্পর্কে ধারণা থাকতে হবে। এই বোধ থাকতে হবে কখন কোথায় থামতে হবে। অর্থাৎ সেল্ফ সেন্সরশিপ থাকা দরকার। কিন্তু সবার এই বোধ থাকবে না বা সবাই একই উদ্দেশ্যেও আসবে না। এই কারণেই আইনের দরকার। আমাদের মনে রাখা দরকার আইন মানেই নিপীড়ন না। আইন মানে সুশৃংঙ্খল থাকা। কেন আইনের দরকার তা বুঝতে আমাদের দুই একটা উদারহণ স্মরণ করলেই চলবে। ধরুণ যখন একজন মানুষ অনলাইনে এসে সাম্প্রদায়িকতা ছড়াচ্ছে এবং নিয়মিত উস্কানি দিয়ে যাচ্ছে। তাকে যদি আপনি না থামাতে পারেন তবে সমাজে একটা বিশৃংঙ্খলার সৃষ্টি হবে। তাই সে যদি তার নিজের মত প্রকাশের দোহায় দিয়ে এই সব কর্মকাণ্ড করতেই থাকে তবুও আমাদেরকে এর একটা প্রতিকারের জন্যই আইনের আশ্রয় নিতে হবে। সাইবার বুলিং এর শিকার থেকে আমাদের জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা পর্যন্ত রক্ষা পাই না। সেখানে যদি আমরা একটা ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহারের সীমা-পরিসীমা নির্ধারণ না করি তাহলে দিন শেষে সমাজে বিশৃংঙ্খলারই সৃষ্টি হবে। এর বাইরেও রাষ্ট্রের কিছু গোপনীয় নিয়ম রীতি রয়েছে তা সবার সামনে প্রকাশ্যে না আসাটাই সমীচীন। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবরহার করে কেউ যদি রাষ্ট্রের গোপনীয় কোন তথ্য প্রকাশ করে ফেলে তার দায় তো সেই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকেই নিতে হবে। কারণ রাষ্ট্র যেমন চরম ক্ষমতাবান প্রতিষ্ঠান তেমনি খুবই স্পর্শকাতরও বটে। তাই ব্যক্তি বা রাষ্ট্রের নিরাপত্তা এবং মর্যদা ক্ষুন্ন না করে সবাই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করবে এমনাই প্রত্যাশা সবার। কিন্তু সবার প্রত্যাশার সাথে তো অন্ধকারে বসবাসকারী প্রাণীরা বসে থাকে না। তাদেরকে নিয়ন্ত্রণের জন্য তাই আইনের প্রয়োজন।

সামনে ১১ তম জাতিয় সংসদ নির্বাচন। জাতিকে অস্তিত্ব রক্ষায় আবার সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সেই সিদ্ধান্ত মুলত তরুণ প্রজন্মের হাতে। তারাই নির্ধারণ করবে যে আমরা প্রযুক্তি নির্ভর সমৃদ্ধির রাস্তা জ্ঞান ভিত্তিক অর্থনীতির ২০৪১ সালে ভিশনের নিতে আগাবো, নাকি সন্ত্রাসী, জঙ্গী, শিক্ষা-শান্তি-প্রগতি বিরোধি, দেশ বিরোধি জোটের হাত ধরে মৃত্যু উপতক্যার দিয়ে আগাবো।

দল হিসেবে আওয়ামী লীগকেও বোঝা দরকার – ২০০৬ সালে, বিএনপি-জামাত যখন ক্ষমতা ছাড়ল, তখন বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী কত ছিল আর এই সময়ে কত হয়েছে। সেই সময় ইন্টারনেটের মাধ্যমে আক্ষরিক অর্থে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানো সম্ভব ছিল না। সেসময় ইমার্জেন্সির কারণে, গণমাধ্যমে যখন কোন রাজনৈতিক বক্তব্য রাখা যাচ্ছিল না, তখন সজীব ওয়াজেদ ইন্টারনেটে, যতদূর মনে পড়ে ব্লগস্পটে একটি আবেদন করেছিলেন, সেটাও কিন্তু আমরা, দেশের খুব বেশি মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারিনি। ইন্টারনেট মাধ্যম দিয়ে গণ মানুষের কাছে প্রচার বা অপপ্রচার কোনটারই খুব একটা সুযোগ ছিল না। এজন্য সেসময় সামাজিক গণমাধ্যম রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহতে তেমন ভূমিকা রাখেনি। এখনকার বাস্তবতা কিন্তু একেবারেই আলাদা। সার্বিক বিবেচনায় আগামী নির্বাচনে প্রচারের ক্ষেত্রে সামাজিক গণমাধ্যম সবচেয়ে শক্তিশালি ভূমিকা পালন করবে। এই বিষয়ে কোন সন্দেহ করার সুযোগ নেই। শুধুমাত্র সামাজিক গণমাধ্যমই না, প্রচারে সব ধরনের তথ্য প্রযুক্তিরই ব্যবহার হবে। নেগেটিভ নিউজ যেহেতু পপুলার, তাই প্রচারের সুযোগ যেমন থাকবে, অপপ্রচারের সুযোগ তারচেয়ে অনেক বেশি থাকবে। তাই সত্যব্রতের গর্ব থেকে অনলাইন প্রচার প্রচরনা নিয়ে আমাদের অনেক নেতাকর্মীর এক ধরনের complacency (কমপ্লিসেন্সি) রয়েছে, সেটা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। অনলাইন কেন্দ্রীক প্রচার প্রচারণায় আরও সোচ্চার হতে হবে। উন্নয়নের পজেটিভ কাজের প্রচারনার পাশাপাশি অপপ্রচরের জবাব দিতে হবে, গুজব মোকাবেলা করতে হবে, পাশাপাশি জনগণকে বিএনপি-জামাতের সময়ের ভয়াবহ স্মৃতি ও তখনকার তথ্য উপাত্ত দিয়ে বোঝাতে হবে। কেন্দ্রীয়ভাবে নেয়া উদ্যোগের বাইরেও দলীয় স্বেচ্ছাসেবকদের যেসব উদ্যোগ রয়েছে সেগুলোকে সহায়তা করতে হবে। প্রতিটি নির্বাচনি এলাকার প্রতিটি গ্রাম থেকে কর্মী সংগ্রহ করে, তাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে তৈরি করে, একত্রিত করে, নিয়মিত প্রচার প্রচারণা করতে হবে। নিয়মিত প্রশিক্ষণ অব্যহত রাখতে হবে।

সুফি ফারুক
তথ্য প্রযুক্তিবীদ, আওয়ামী লীগ কর্মী