Sufi Faruq (সুফি ফারুক)

নুসরাত ফাতেহ আলী খান : এক অনুপ্রেরণা আর্টিকেল ওপিনিয়ন, দিনপঞ্জি, নোট, পেশা পরামর্শ

নুসরাত ফাতেহ আলী খান; Nusrat Fateh Ali Khan

১৯৯৭ সালের এই দিনেই চলে গিয়েছিলেন বিশ্ববিখ্যাত কাওয়াল, খান সাহেব, ওস্তাদ নুসরাত ফাতেহ আলী খান।

তার একটি গল্প আমাকে দারুণ অনুপ্রেরণা দেয়:

নুসরাত ফাতেহ আলী খান সাহেবের পিতা, ওস্তাদ ফাতেহ আলী খাঁর ধারনা ছিল, তার ছেলেকে দিয়ে সঙ্গীত হবে না।
এজন্য তিনি ছেলেকে ডাক্তার বানাতে চাইতেন। লেখাপড়ার লাইনের সব বন্ধুদের সাথে নিয়মিত কথা বলতেন, বুদ্ধি পরামর্শ চাইতেন, শঙ্কা প্রকাশ করতেন।

নুসরাত লেখাপড়ায় ছিলেন এভারেজ। বাবাকে খুব একটা খুশি করতে পারতেন না।
একবার একাডেমিক ফল খুব খারাপ হওয়ায়, বাবা তার এক বন্ধুর কাছে নুসরাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিলাপ করছিলেন।
বন্ধু বললেন- তোমরা যেই কাজটাতে শ্রেষ্ঠ (মানে সঙ্গীত), সেটাই নুসরাতকে ঠিকমতো শিখিয়ে, প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করোনা কেন?

বাবা হতাশ গলায় বললেন – আমি নাহয় ওকে সব কিছু শেখালাম, কিন্তু আল্লাহ তো ওকে আওয়াজ দেন নি! অর্থাৎ সুরেলা কণ্ঠ দেন নি!
৬০০ বছর ধরে কাওয়ালী গেয়ে আসা পরিবারের খলিফা, ফাতেহ আলী খাঁর, নিজের প্রিয় সন্তানের বেলায় সিদ্ধান্ত ছিল এরকম!

নুসারাতের মেট্রিক ফল আসার কদিন পরেই হঠাৎ মারা যান তার বাবা।
আকাশ ভেঙ্গে পড়ে নুসরাতের মাথায়। তৎক্ষণাৎ আয়ের উৎস হিসেবে বাধ্য হয়ে গানটাকেই আঁকড়ে ধরেন।
পরিস্থিতি বিবেচনায় যখন বুঝলেন, গান করা ছাড়া পরিবার চালানোর আর কোন রাস্তা নাই, তখন গাওয়ার পাশাপাশি রেওয়াজ বাড়িয়ে দিলেন কয়েক গুন। অমানুষিক পরিশ্রম করতে লাগলেন নিজেকে তৈরি করতে, নিজের কণ্ঠ ভালো না জেনে, অন্যদের চেয়ে আরও কয়েক গুন বেশি শ্রম দিয়ে। পাশাপাশি চেষ্টা করতে লাগলেন, নিজের সঙ্গীতে আরও কতরকম রং যুক্ত করে, মানুষের কাছে আরও আকর্ষণীয় করা যায়।

পরের ইতিহাস তো আপনাদের জানা।
নুসরাত ফাতেহ আলী খান শুধু এই উপমহাদেশ জয় করেই ছাড়েন নি। তিনি জয় করেছিলেন সমগ্র বিশ্ব। এই উপমহাদেশের শিল্পীদের মধ্যে বিশ্ব সভায় সবচেয়ে জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী হয়েছিলেন তিনি। সেই ভাঙ্গা কণ্ঠেই তিনি ৬ সপ্তকের গাইয়ে হিসেবে পরিচিত হয়েছিলেন, যা বিশ্বে একেবারে হাতে গোনা। জন্মগত ভাবে সুললিত কণ্ঠের বহু শিল্পীদের বিনয়ের সাথে পিছনে রেখে, উঠে গিয়েছিলেন শীর্ষে।

গল্পের সারমর্ম কি?
আপনি কি বিষয়ে অযোগ্য, সেই সিদ্ধান্ত খুব সহজে নেবেন না। আগে ভালো ভাবে খতিয়ে দেখুন।
আপনার আপাতদৃষ্টিতে অযোগ্যতা আপনার সবচেয়ে বড় যোগ্যতা হতে পারে।
নিজেকে নিয়ে পরিশ্রম করুন, নিজেকে তৈরি করতে পরিশ্রম করুন। শুধুমাত্র মেধা দিয়ে কাজ হবে না।