Sufi Faruq (সুফি ফারুক)

উদ্যোক্তা সিরিজ- মার্কেটিংয়ে ভিশন উদ্যোক্তা উন্নয়ন, নোট

মার্কেটিংয়ে ভিশন

আমার পরিচিত এক ছোট ভাই, গ্রাজুয়েশন শেষ করে ব্যবসার উদ্যোগ নিয়েছে। উদ্যোক্তা হিসেবেই ক্যারিয়ার করতে চায়। এব ওর প্রডাক্ট ভাল। আবার কাছাকাছি প্রডাক্ট আরও মার্কেট এ আছে। তবে ওর প্রডাক্টের কিছু ইউনিক ফিচারের জন্য ও কনফিডেন্ট। এদিকে ওর বাজারটা অনেক বড়, তাই বেশি মাত্রায় প্রচার-প্রচারণা নির্ভর। ওর ভবিষ্যৎ সফলতার জন্য, প্রডাক্টটির একটি নিজস্ব পরিচিতি খুব জরুরী। সেটা করতে পারলে ওকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হবে না।

ও ইনবক্সে কথায় কথায় জিজ্ঞেস করছিল – মার্কেটিংয়ে কোথায় বেশি ফোকাস করবো?। আমি মার্কেটিং এর ছাত্র না। কিন্তু চাকরির সূত্রে এবং ব্যবসা করতে গিয়ে ধাক্কা গুঁতা খেয়ে অনেক কিছু শিখতে হয়েছে। উদ্যোক্তাদের নিয়ে কাজ করার কারণে এরকম বহু প্রশ্ন সামনে আসে। অভিজ্ঞতা থেকে উত্তর দিতে চেষ্টা করি। না জানা থাকলে এ খাতের পেশাজীবীদের রেফার করি। তবে এই প্রশ্ন প্রায়ই আসে বলে, আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে উত্তরটা পবলিকলি দিলাম। যারা উদ্যোক্তা হিসাবে ক্যারিয়ার শুরু করতে চায় তাদের সাহায্য করতে পারে এই আশায়।

আমরা প্রডাক্ট মানে পড়ে/শুনে এসেছি product = commodity + value (core value + other value)। যেটার commodity দেহ, আর value জীবন। যারা এযুগের মার্কেটিং ট্রেন্ড ফলো করেন, তারা খুব ভাল ভাবে জানেন যে, মার্কেটিং আর ভ্যালুতে আটকে নেই। এখন মার্কেটিংয়ের ফোকাসটা চলে গেছে কনজ্যুমারের মিশনের দিকে।

গত শতাব্দীতে অনেক খানি বদলে গেছে মার্কেটিং এর কনসেপ্ট। এখন প্রতি বছরে প্রযুক্তির কারণে বদলে যাচ্ছে আরও দ্রুত। আগে মার্কেটিং ছিল অনেকটা এরকম – উৎপাদকের পণ্যের খবর সবাইকে বিভিন্ন মাধ্যমে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে জানিয়ে দাও। যেই ক্রেতার সেটা প্রয়োজন, তিনি কিনে নেবেন। সেসময় প্রডাক্ট ভ্যারাইটি ছিল লিমিটেড, প্রচারের চ্যানেলও ছিল হাতে গোনা। তাই গ্রাহকের সময় ছিল, নিজের অভাব বিবেচনা করে, টিপে-শুঁকে-বেছে-তুলনা করে প্রডাক্ট কেনার সিদ্ধান্ত নেবার।

আজ প্রচুর অল্টারনেট প্রডাক্ট, প্রচুর প্রচার মাধ্যম, বিভিন্ন মাত্রার বিজ্ঞাপন। তাই আপনার দারুণ প্রডাক্ট এর খবরটি মুহূর্তে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাহকের মন থেকে। যায়গা করে নিচ্ছে অন্য কারও বিজ্ঞাপন। আজকে মার্কেটিং থিউরি দাঁড়াচ্ছে – উৎপাদকের এর প্রডাক্ট উৎপাদন বা বিক্রির উপরে নয়, বরং কনজ্যুমাররা প্রোডাক্ট কেনার উপরে। এখান মার্কেটিংয়ের কাজটা হল- কনজ্যুমারদের মোটিভেট করা। কনজ্যুমারকে বিভিন্ন ভাবে বুঝিয়ে দেওয়া- আপনার সমস্যার এবং সমাধানের সাথে আমরা একমত। আর তার পাশে খুব আলতো করে নিজের প্রডাক্টটিকে এ্যলাইন করে দেয়া।

একটু খেয়াল করুন। এয়ারলাইন্সের প্রোডাক্ট বা সার্ভিস কি? ওদের সার্ভিস হল আকাশপথে এক স্থানে অন্যস্থানে অন্যস্থানে নিয়ে যাওয়া। এর সাথে VAS (value-added service) হিসাবে আছে, আরামদায়ক চেয়ার, সুন্দরী-স্মার্ট এয়ারহোস্টেস, সুস্বাদু খাবারসহ অনেক কিছু। আমার লেখাটা যখন ইন্টারনেটে পড়ছেন। তখন ছোট্ট একটা কাজ করুন। গুগল সার্চে গিয়ে ‘The World’s Top 10 Airlines’ লিখে সার্চ দিন। বিশ্বের সেরা এয়ারলাইন্সগুলোর ওয়েবসাইটগুলোতে একটু চোখাবুলিয়ে আসুন। দেখবেন ওরা ওদের সাইটগুলোতে নিজস্ব বিমান, পাইলট, এয়ারহোস্ট, চেয়ার, ডেকোরেশন, খাবারের চেয়ে বেশি ফোকাস করেছে গন্তব্যের সেরা সেরা টুরিস্ট স্পটগুলোতে। নিজেদের সার্ভিসের ছবির চেয়ে আকর্ষণীয় ভাবে তুলে ধরেছে গন্তব্যের ইতিহাস, ঐতিহ্যে আর পর্যটনের ছবি দিয়ে। কারণ এইগুলোই তো যাত্রীর আল্টিমেট ভিশন।

লক্ষ্য করুন, নব্বইয়ের দশকে টুথপেস্টের বিজ্ঞাপনে বল হত, তাদের পেস্টে কি কি আছে এবং তা কিভাবে দাঁতকে সুরক্ষা দিবে। আর এখন ‘ক্লোজআপ’ শোনায় “কাছে আসার গল্প”, ‘সেনসোডাইন’ বলে “আপনার ডেন্টিস্ট”। কারণ, কাস্টমর জানে প্রোডাক্টের ভ্যালু সম্পর্কে।

এইটাই হচ্ছে কাস্টমারের মিশনকে ফোকাস করা। গ্রাহকের চাওয়াটাকে আরও আকর্ষণীয় ভাবে উপস্থাপন করা এবং পাশে আস্তে করে জানিয়ে যাওয়া প্রডাক্ট বা সার্ভিসটির নাম।

সময়ের চাহিদার সাথে এই ফোকাস বদলায়। যারা এই বদলটা ধরতে পারে না, তারা Myopia (দৃষ্টিক্ষীণতা)তে আক্রান্ত। আশাকরি, আমাদের তরুণরা এই দলে যাবে না। তারা তাঁদের নতুন দৃষ্টি দিয়ে এতদূর পর্যন্ত দেখবে, যা আমরা অনেক ধাক্কা গুঁতো খেয়ে দেখেছি।

সবার উদ্যোক্তা মিশন সফল হোক।

#উদ্যোক্তা #Entrepreneurship



আপনার মন্তব্য দিন