Sufi Faruq Ibne Abubakar (সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর)

স্থানীয় সফটওয়ার ইন্ডাস্ট্রির চ্যালেঞ্জ – ক্রেতার “টেকনোলোজি একুজিশন স্কিল” দিনপঞ্জি, নোট, বিজ্ঞান, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি

স্থানীয় সফটওয়ার ইন্ডাস্ট্রির চ্যালেঞ্জ - ক্রেতার "টেকনোলোজি একুজিশন স্কিল"

আমাদের দেশি মার্কেটে আইটি সলিউশন (বিশেষ করে সফটওয়ার) বিক্রির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল কাস্টমারের “টেকনোলোজি একুজিশন স্কিল”।

“টেকনোলোজি একুজিশন” এর জন্য এক ধরনের দক্ষতা লাগে, লেখাপড়া লাগে। সেই বিষয়টা ক্রেতা পক্ষকে বোঝানে একটা বিরাট চ্যালেঞ্জ। আর সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রথম ঝুঁকি হল কাষ্টমারের বিরাট “ইগো”।

ক্রেতাকে বলা মুশকিল- কেনাকাটা কিভাবে করতে হয় সেটা আগে শিখে আসেন। তার উপরে যার হাতে টাকা, তিনি সাধারণভাবেই একটু বেশি বোঝেন (আমিও যখন টেবিলের ওই দিকে বসতাম, মানে ক্রেতা ছিলাম, তখন হয়ত কাছাকাছি দোষে দুষ্ট ছিলাম)।

ফলাফল দেখা যায় রিকোয়ারমেন্টটা ঠিকমতো তৈরি হয় না, বারবার অকারণ পরিবর্তন হয়, বিক্রেতা সেটা যৌক্তিক কারণে না মানতে চাইলে অকারণ সম্পর্ক নষ্ট হয়, প্রজেক্ট উভয় পক্ষের আশানরুপভাবে শেষ হয় না, সলিউশনের চেয়ে ইন্টারফেসে নিয়ে অবসেসড্ থাকার কারণে মুল কাজটা ব্যবহৃত হয়, এসব কারণে অনেক যোগ্য বিক্রেতা কাজটাও পায় না।

না শিখে কেনাকাটায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় আমাদের মতো উদ্যোক্তারা। তবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন কিন্তু ক্রেতা বা ক্রেতার পিছনের বিনিয়োগকারী। আইটি সলিউশন এমন জিনিস নয় যে এক কাজে না লাগলে অন্য কাজে লাগানো যাবে। তাই এই কাজটা দক্ষতার সাথে করতে না পারলে পুরোটাই অপচয়।

তাই যারা কেনাকাটা করছেন তারা দয়া করে “টেকনোলোজি একুজিশন স্কিল” টা নিতে মাস খানেক সময় ব্যয় করুন। প্রয়োজন হলে কোর্স-ফোর্স করে কিছু অর্থ ব্যয় করুন। আখেরে বিরাট লসের হাত থেকে বাঁচবেন।

সরকারের নীতি নির্ধারকদের অনুরোধ করবো, আপনাদের যেসব কর্মকর্তা কেনাকাটার কাজে সিদ্ধান্ত দেবার প্রসেসের সাথে জড়িত, তাদেরকেও এই স্কিলটা তৈরি করে দিন। দেশের টাকা অপচয়ের হাত থেকে বাঁচবে।

ব্যর্থতার গল্প শুনে শেখার জন্য আমাদের সামনে আমেরিকার কেনাকাটার আশি-নব্বইয়ের দশকের প্রচুর ব্যর্থতার গল্প আছে। আসুন নিজে এক্সপেরিয়েন্স করে শেখার বদলে সেগুলো পড়ে-শুনে শিখি। সব কিছু নিজে এক্সপেরিয়েন্স করে শেখা ভালো না। বারবার চাকা আবিষ্কারের কোন মানে হয় না।