Sufi Faruq Ibne Abubakar (সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর)

সঙ্গীতের সিস্টেম/ধারার পার্থক্য গান খেকো

ওরকম শাস্ত্রীয় পার্থক্য করার মতো শ্রোতা আমি এখনও হয়ে উঠতে পারিনি। তবে আমার কম জানাশোনাতে যেই পরিবর্তনগুলো পেয়েছি, সেগুলোর কিছু নোট তুলে দিলাম।

ওই দুটি সিস্টেমে পার্থক্য করার আগে আমাদের (হিন্দুস্থানি) সাথে ওয়েস্টার্ন মিউজিকের পার্থক্যের বিষয়টা একটু দেখে নিলে বুঝতে সুবিধা হতে পারে। যেমন আমাদের “ষড়জ” মানে ওয়েস্টার্ন মিউজিকে DO। জিনিস একই কিন্তু নাম আলাদা। ব্যাবহারও আলাদা। আমাদের সঙ্গীত মনোফোনিক বা হোমোফোনিক (একক মেলোডি ফর্মেট, বা একটি বেসিক সুর ধরে গান বাজনা হয়), ওয়েস্টার্ন মিউজিক পলিফোনিক (একাধিক মেলোডি নিয়ে হারমনি তৈরি করা হয়)। ওদের সঙ্গীতে টেম্পো একই রকম (মানে টেম্পোর ইন্টারভ্যাল একই রকম, যেটা শুধু স্লো বা ফাস্ট হতে পারে)। ওদের থামা নির্ভর করে, সুর, হারমনি এবং অন্য মিউজিসিয়ানের গাওয়া/বাজাবার উপরে। আমরা তাল বিভিন্ন ধরনের (টেম্পোর ইন্টারভ্যাল তালের বোল অনুযায়ী একেক সময় একেক রকম), তাই আমাদের মিউজিকের টেম্পোও বিভিন্ন ধরনের। আমাদের শুরু করা, থামা – সবই সেই তাল নির্ভর।

হিন্দুস্থানি এবং কার্নাটিক সিস্টেমে মিলের যায়গা হচ্ছে – দুটিতেই সুরের ভিত্তি রাগ (কার্নাটিক সিস্টেমে রাগ কে “মেল” বলে)। দু ধরনের সঙ্গীতই মনোফনিক ।

পার্থক্যের যায়গা হচ্ছে – স্বরের নাম আলাদা, স্বরের ব্যাবহারও আলাদা, গাওয়ার ভঙ্গীও আলাদা। দুই ধরনের সঙ্গীতেই ২২ টি শ্রুতির ব্যবহার আলাদা। আবার দুটি সিস্টেমে – একই নামে, একই স্বর ব্যাবহার করা রাগ থাকলেও, গাওয়ার ভঙ্গীর কারণে শুনতে এক রকম হয় না। হিন্দুস্থানি প্রতিটি রাগ সময় নির্ভর। কার্নাটিক রাগে এরকম সময় নির্ভরতা নেই।

হিন্দুস্থানি সিস্টেমে অনেক বেশি ভারতের বাইরের সঙ্গীতে প্রভাবিত। বিশেষকরে মুসলিম গায়কদের বয়ে নিয়ে আসা পার্সিয়ান সঙ্গীত হিন্দুস্থানি সিস্টেমকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।

ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের ইতিহাস ৩ হাজার বছর পুরনো। এর মধ্যে কোন সিস্টেম বেশি পুরনো সেটা নির্ধারণ করা কঠিন। তবে পার্থক্য স্পষ্ট হতে শুরু করেছে সঙ্গীত রত্নাকর প্রকাশিত হবার সময় থেকে (১২১০-১২৪২)। খুব স্পষ্টভাবে বর্ণনা প্রথম এসেছে হারিপালদেবের সঙ্গীত-প্রভাবকর (১৩০৯-১৩১২) নামের প্রকাশনায়।

এছাড়া আরও কিছু পার্থক্য আছে। তবে রসিক হিসেবে, এই পার্থক্য এরচেয়ে বেশি জানারও প্রয়োজনও হয়তো এই পর্যায়ে হবে না।



আপনার মন্তব্য দিন