Sufi Faruq (সুফি ফারুক)

উদ্যোগ, উদ্যোক্তা এবং লিডারশীপ- হিন্দুস্থানি ম্যানেজমেন্ট এপ্রোচ! নোট

আমরা গ্রীক+বিবলিকাল ফিলসফি/এপ্রোচ থেকে আসা ম্যানেজমেন্ট পড়ে বড় হয়েছি। সব ভাবনা সেই স্ট্রাকচার মতোই ছিল। শুরুর দিকে অন্য ফিলসফির ম্যানেজমেন্ট স্টাইলগুলো শুনে এ্যবসলিউটলি ভুয়া মনে হতো। কিন্তু গত কয়েকবছর বিভিন্ন বন্ধুদের চাপাচাপিতে পৃথিবীর বিভিন্ন যায়গার ম্যানেজমেন্ট ফিলসফি/এপ্রোচ সম্পর্কে ঠুকঠুক জানার সুযোগ হচ্ছে। এর মধ্যে দুটো এপ্রোচ তো খুবই ইন্টারেস্টিং। চাইনিজ এবং হিন্দুস্থানি।

আবার কিছুদিন যাবত খেয়াল করছি পৃথিবীর সব বড় বড় মাল্টি ন্যাশনাল কেন যেন হিন্দুস্থানি বা চাইনিজ সিইও নিয়োগ দিচ্ছে। ইন্দ্রা নুই তো পেপসিকোর মতো কোম্পানিতে প্রায় এক যুগ নেতৃত্ব দেবার রেকর্ড গড়লেন। যিনি এখনও স্বামী বাচ্চা নিয়ে রীতিমতো সংসার করছেন। যার মা এখনও আমাদের মায়ের মতই এই বয়সে তার উপরে হুকুম চালায়। মাইক্রোসফট, গুগুল, নোকিয়া এ্যডবও হিন্দুস্থানি সিইওর দখলে।

হিন্দুস্থানি ম্যানেজমেন্ট স্টাইল নিয়ে এর আগে কিছু লেখা পড়েছি। সম্প্রতি দেবদূত পাটনায়েকের বিজনেস সূত্র বইটি দারুণ মজা নিয়ে শেষ করলাম। উদ্যোগ, উদ্যোক্তা এবং লিডারশীপকে হিন্দুস্থানি মিথলজির সাথে এলাইন করেছে দেবদূত পাটনায়েক তার বিজনেস সূত্র বইতে।

এর আগে যেসব পড়েছিলাম তাতে এই বিষয়ে শ্রীরাম আর শ্রীকৃষ্ণ নিয়েই আলোচনা হয়েছিল, কনটেক্সট ছিল অর্গানাইজেশন। দেবদূত শুরু করেছে “পরশুরাম” থেকে, শেষ করেছে “বুদ্ধ”তে (বা অন্য অপশন “কালকি”তে)। অর্গানাইজনকে রাজ্য আর উদ্যোক্তাকে রাজার কনটেক্সটে দেখেছে।

উদ্যোক্তার জীবনে প্রতিষ্ঠানকে একটি মহান লক্ষে পৌঁছানোর যাত্রা হিসেবে দেখেছে। যাকে বিভক্ত করেছে মূলত কাল (সময়) দিয়ে। সে সময়ের কর্তব্যকে যজ্ঞে (রাজসূয়, বাজপেয়, অশ্বমেধ, নরমেধ প্রভৃতি)র সাথে। সেখানে ম্যানেজমেন্ট “ঋত্বিকগণ”, প্রধান নির্বাহী/প্রমুখ “ব্রহ্মা”, এক্সটারনাল ষ্টেক হোল্ডাররা “দেব” আর বিনিয়োগ “আহুতি”। প্রিন্সিপ্যালকে “ধর্ম” আর তার সাথে এলাইন্ড করে “রুলস”।

প্রধান নির্বাহী/প্রমুখ এর আদর্শ যথারীতি বিষ্ণু। ম্যানেজমেন্টের বিভিন্ন কাল/সময় কে রিলেট করেছে তার অবতারগুলো দিয়ে। মৎস্য, কূর্ম, বরাহ, নৃসিংহ, বামন নিয়ে মাঝে মধ্যে আলোচনা এলেও মূলত অর্গানাইজেশনের শুরু হয়েছে পরশুরামের অবতার দিয়ে।
শুরুতে উদ্যোক্তা/প্রমুখ/প্রধান নির্বাহীর ভূমিকা হবে পরশুরাম এর মতো। নিয়মের বিষয়ে কঠোর। ধর্ম ব্যাখ্যা তার মতো।
অর্গানাইজেশন দাড়িয়ে যাবার পরে আদর্শ সময়ে শ্রীরাম। যেখানে প্রিন্সিপ্যাল এবং রুলস নিজে থেকেই এক। লিড বাই এক্সাম্পল।
অর্গানাইজেশন যখন ম্যাচিওর এবং আরও বড় হচ্ছে, জটিল হচ্ছে, এক্সটারনাল স্টেক হোল্ডার (পাবলিক শেয়ার হোল্ডার, রেগুলেটর ইত্যাদি) বাড়ছে, জটিল করাপশন শুরু হচ্ছে, তখন রোল হবে শ্রীকৃষ্ণের। এসময় থেকে উদ্যোক্তার ভূমিকা কোচের। নতুন লিডারশীপ তৈরি করে ক্রমশ নিজের গুরুত্ব কমিয়ে ফেলার। …………..

খুবই ইন্টারেস্টিং। কখনও সময় পেলে বিস্তারিত লিখব ….