Sufi Faruq (সুফি ফারুক)

সাতই জুন স্মরণে – বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান

Bangabandhu Sheikh Mujibur Rahman

৭ই জুন একটি অবিস্মরণীয় দিন।

১৯৬৬ সালের এই দিনটিতে টেকনাফ হইতে পঞ্চগড় পর্যন্ত সংগ্রামী বাংলার গণমানুষ স্বৈরাচারী শাসন ও শোষণের বিরুদ্ধে প্রচন্ড বিক্ষোভে ফাটিয়ে পড়িয়াছিল। এইদিনে পূর্ণ গণতন্ত্র, রাজবন্দীদের মুক্তি এবং ছয় দফা দাবী বাস্তবায়নের দাবীতে সংগ্রামরত বাঙ্গালির বুকের তাজা রক্তে রঞ্জিত হইয়া গিয়াছিল শ্যামল বাংলার মাটি। অপরাজেয় বাংলার সূর্য সন্তানেরা সেদিন স্বৈরতন্ত্রী রাজশক্তির নির্মম বুলেটকে বুক পাতিয়া গ্রহণ করিয়া প্রমান করিয়া গিয়াছে যে, ছয় দফা দাবী বাঙ্গালীর প্রাণের চাইতেও প্রিয়। তাই ৭ই জুন শুধুমাত্র তাৎপর্যহীন, গতানুগতিক একটি দিন নয়-৭ই জুন বাংলার স্বাধীকার প্রতিষ্ঠা আন্দোলনের প্রতীক দিবস। এই ঐতিহাসিক দিনটি অমোঘ নিয়তির মত যুগ যুগান্তর ধরিয়া স্বৈরতন্ত্রী ও শোষককুলকে স্মরণ করাইয়া দিবে যে, বুলেট আর বেয়নেটের ছত্রছায়ায় ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার করিয়া মন্ত্রিত্ব আর পারমিটের বিনিময়ে এক শ্রেণীর মীর জাফরকে ক্রয় করিয়া হয়তোবা বাঙ্গালীকে শাসন ও শোষণ করা যায়-কিন্তু সামগ্রিকভাবে বাঙ্গালী জাতিকে চিরতরে ক্রীতদাস বানাইয়া যায় না। ১৯৬৬ সালের ৭ই জুনের সেই দিনটির কথা মনে করিয়া আজ আমার বুক ব্যথায় ভারী হইয়া উঠে। দলীয় সহকর্মী এবং অগণিত ছাত্র-শ্রমিক-রাজনৈতিক কর্মীর মত সেদিন আমিও কারা প্রাচীরের অন্তরালে ছিলাম। সেদিন আমাদের মুক্তির জন্য, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও ছয় দফা আদায়ের জন্য শ্রমিক ভাই মনু মিয়া সহ বহুসংখ্যক শ্রমিক-যুবক আত্মহুত দিয়াছে। সরকারী হিসাবমতেই সেদিনের পুলিশ ও ই-পি-আর বাহিনীর গুলিবর্ষণে মৃত্যুর সংখ্যা এগার। ৭ই জুনের শহীদদের আত্মহুতি এবং এগার দফা আন্দোলন বীর সৈনিক আসাদ, মতিউরদের রক্তের বিনিময়ে আমরা মুক্ত আলো হাওয়ায় ফিরিয়া আসিয়াছি। কিন্তু আমার সেই ভাইয়া আর কোনদিন আমাদের মধ্যে ফিরিয়া আসিবে না।

আজ ৭ই জুনের প্রাক্কালে বাংলার স্বাধীকার আন্দোলনের সেই বীর শহীদদের স্মৃতির প্রতি আমার এবং আওয়ামী লীগের পক্ষ হইতে অকুণ্ঠ শ্রদ্ধা জানাইতে গিয়া আমি অন্তরের সবটুকু পবিত্রতার সঙ্গে ওয়াদা করিতে পারি, শহীদদের রক্তকে আমরা বৃথা যাইতে দিব না। প্রয়োজন বোধে বুকের রক্ত দিয়াই আমরা তাদের রক্তের ঋণ শোধ করিব।

এই ঐতিহাসিক দিনে আমি বাংলার গণমানুষকে স্মরণ করাইয়া দিতে চাই, শহীদদের অতৃপ্ত আত্মা আজ বাংলার মাঠে-ময়দানে বাঙ্গালীর দুয়ারে দুয়ারে ফরিয়াদ করিতেছে। শোষণ ও বঞ্চনার আবসান ও দাসত্বের শৃংখলমোচনের উদ্দেশ্যে মাতৃভূমি বাংলার স্বাধিকার প্রতিষ্ঠার যে মহান সংগ্রামে তারা আত্মাহুতি দিয়াছেন, সেই সংগ্রাম সফল করিয়া তোলাই হইতে তাদের স্মৃতির প্রতি সর্বশ্রেষ্ট শ্রদ্ধার্ঘ্য।



আপনার মন্তব্য দিন