Sufi Faruq (সুফি ফারুক)

আমাদের #InternetEquality ক্যম্পেইন আর্টিকেল/ওপিনিয়ন সংগ্রহ, তথ্য প্রযুক্তিতে ন্যায্যতা, বিশেষ

ইন্টারনেট আমাদের জন্য বিলাসদ্রব্য নয়। ইন্টারনেট পাকা রাস্তা বা সেতুর মতো একটি প্রয়োজন। সভ্যতার অগ্রগতি, জন-দুর্ভোগ কমানো বা দেশের আর্থিক উন্নয়নের জন্য, যেমন গ্রামের কাঁচা রাস্তা পাকা করার দরকার হচ্ছে, বিদ্যুৎ পৌঁছে দিতে হচ্ছে, ঠিক একই ভাবে এই প্রজন্মের শিক্ষা ও কাজের প্রয়োজনে, গ্রামে গ্রামে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট পৌঁছে দেয়া দরকার। পাকা রাস্তা-সেতুর প্রয়োজন যদি ন্যায্য এবং যৌক্তিক হয়, সরা দেশে ন্যায্য দামে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের দাবীও যৌক্তিক।

এজন্যই ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট গ্রামে নিয়ে যাবার বিনিয়োগের ক্ষেত্রে, ব্যবসায়ী দৃষ্টিভঙ্গির বদলে, জাতিয় বিনিয়োগের দৃষ্টিভঙ্গি নিতে হবে। অবকাঠামো এবং শিক্ষা খাতের মতো, জাতির ভবিষ্যতের জন্য দীর্ঘ মেয়াদের বিনিয়োগ ভেবে করতে হবে। এর মুনাফা আসবে দীর্ঘ মেয়াদে এবং বহুমুখী। আর এই কারণেই – এই প্রয়োজনটির ক্ষেত্রে খরচে-আয়ে পোষানোর প্রশ্নটা অবান্তর মনে করি।

 

বাংলাদেশকে এখনই সিদ্ধান্ত নিতে হবে, বাংলাদেশে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট কোন পথে আগাবে:
১. এটাকে ভোগ্যপণ্য হিসেবে বিবেচনায় নিয়ে, ক্রয় ক্ষমতাকে চাহিদার ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করে, সম্পূর্ণ বাণিজ্যিক ভিত্তিতে সম্প্রসারণ হবে?
২. এটাকে জাতিয় বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করে, শিক্ষা-বিদ্যুৎ খাতের মতো, রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় সম্প্রসারণ হবে?
৩. এটাকে জাতিয় বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনায় নিয়ে, রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় অবকাঠামো গড়ে দেবার পরে, তৃনমূলে সেবা-দানের ক্ষেত্রে, সেরা সেবা নিশ্চিত করার জন্য বাণিজ্যিক প্রতিযোগিতা সৃষ্টি করা হবে?

আমরা যারা এই আন্দোলনটি শুরু করেছি, তারা এখনও ৩ নম্বর পয়েন্ট টি তে বিশ্বাস রাখি।
আমরা জানি সরকার ইউনিয়ন পর্যন্ত ফাইবার অপটিক নেটওয়ার্ক তৈরিতে বিনিয়োগ করছে। সে পর্যন্ত ইন্টারনেট নিয়ে যাবার বাঁকি ব্যবস্থা সরকারের পক্ষে করা সম্ভব। এই ব্যাক-বোনের জন্য বিনিয়োগ বা ব্যাক-বোনের নিয়ন্ত্রণ বেসরকারি খাতে ছাড়লে, দামের সমতা রক্ষা করা সম্ভব হবে না। বিভিন্ন উন্নত দেশে বেসরকারি খাতে ব্যাক-বোন তৈরির লাইসেন্স দেয়া হলেও, সরকারি ব্যাকবোনটিই প্রধান ব্যাক-বোন হিসেবে রাখা হয়েছে।

তবে গ্রাহক পর্যায়ে উন্নত সেবা দেয়া, সরকারি কোম্পানির পক্ষে একটু কঠিন (আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে)। সেটা আমরা বুঝি। তাই আমরা মনে করি, সরকারের ব্যাক-বোন বেসরকারি খাতের সেবাদাতা (ISP বা টেলিকম) দের এর কাছে এমন একটি শর্তে ভাড়া দিতে হবে, যেন প্রতিটি ইউনিয়ন সেন্টারে একই দামে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট পাওয়া যায়। এরপর প্রতিটি গ্রামে ন্যায্য দামে ব্রডব্যান্ড পৌঁছানোর কাজটা বাণিজ্যিক উদ্যোক্তাদের। বাণিজ্যিক উদ্যোক্তাদের প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি করলে, দাম এমনিতেই কমে যাবে। আর বাণিজ্যিক উদ্যোক্তারা সিন্ডিকেট করে ঠকাতে চাইলে, স্থানীয় কোওপারেটিভ ভিত্তিক উদ্যোগেই সেটা সমাধান হবে।

এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য যতটুকু বিনিয়োগ দরকার, তারচেয়ে হাজার গুন বেশি দরকার গণমুখী সিদ্ধান্ত এবং সেই সিদ্ধান্তের আলকে নীতিমালা।
সরকার সহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে অনুরোধ- আপনারা বর্তমান দেখার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা দেখুন। বর্তমানে সামান্য পয়সার বিনিয়োগের ভয়ে ভবিষ্যৎ বড় সম্ভাবনাকে নষ্ট করবেন না।

আমরা জানি, আমরা যা চাইছি- সেটা বাস্তব, যুগোপযোগী এবং ভবিষ্যতমুখী। তাই যেকোনো পর্যায়ে যৌক্তিক বিতর্কের জন্য আমরা প্রস্তুত।

শ্লোগান চলবে:
ইন্টারনেটের দামের ন্যায্যতা চাই।
আমার গ্রামে, ঢাকার দাম, ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট চাই।

#InternetEquality

 

গ্রামে গ্রামে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট পৌঁছানো কি সম্ভব?

অবশ্যই সম্ভব। বাড়তি খুব বেশি খরচ ছাড়াই সম্ভব। কারণ সরকার উপজেলা পর্যন্ত ফাইবার বসাতে বিনিয়োগ করেছে। ইউনিয়ন পর্যায়ে ফাইবার পৌঁছানোর কাজ হাতে নিয়েছে। রেল, বিদ্যুৎ, বিটিসিএল ছাড়া সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ফাইবার নেটওয়ার্ক রয়েছে। তাই ইন্টারনেট পৌঁছানোর মুল কাজের অনেকখানি শেষ। এখন দরকার এই ব্যাক-বোনগুলো ব্যাবহারের জন্য কমার্শিয়াল সেবা-দাতাদের সাথে একটি সুষ্ঠু সমন্বয়। সারা দেশে একই মূল্যে ব্রডব্যান্ড সেবা দেয়ার লক্ষ্য নিয়ে – NTTN Policy সহ সম্পৃক্ত সব আইন, নীতিমালা, প্রবিধানমালা সংশোধন করা দরকার। প্রয়োজনে বিটিআরসির সোশাল অবলিগেশন ফান্ড থেকে অপারেটরদের মফস্বলে ইন্টারনেট দেবার ক্ষেত্রে প্রণোদনা দেয়া যেতে পারে।

 

আন্দোলনের ফেসবুক পাতা: https://www.facebook.com/InternetEquality/



আপনার মন্তব্য দিন