Sufi Faruq Ibne Abubakar (সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর)

আজ পাকিস্তান নামের একটি রাষ্ট্রের জন্মদিন নোট

দুঃখ ভারাক্রান্ত আগস্ট মাসের এই দিনটিতে আমার মন আরও বেশি দুঃখ ভারাক্রান্ত হয়।

পাকিস্তান নামক ইসলামিক রাষ্ট্রের (নামে হলেও) জাতির পিতা মোহাম্মদ আলি জিন্নাহ – কোনদিন নামাজ কালামের ধার ধারেননি, রোজার মাসে সাহেবদের লাঞ্চের দাওয়াত করেছেন, হুইস্কি ছিল তার প্রিয় পানিয়, কুকুর ছিল প্রিয় প্রাণী, শুকরে বিষয়ে তিনি নেভার মাইন্ড ছিলেন।

এটা ঠিক যে তিনি দারুণ আইনজীবী ছিলেন, সংখ্যালঘুদের পক্ষে কথা বলতেন, নারী-পুরুষ সমতায় বিশ্বাস করতেন, ভাল বক্তা ছিলেন এবং সেনা-শাসন বিরোধী ছিলেন। এগুলো একজন সেন্সেবল মানুষ হিসেবে প্রশংসাযোগ্য। কিন্তু একজন মুসলিম সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রের জাতির পিতা হিসেবে এসবের আগে মনে প্রাণে মুসলিম হওয়া দরকার। ব্যক্তিগত জীবনে নাম ছাড়া যেটার তিন ১%ও ছিলেন না।

তিনি নেতা ছিলেন না বরং একজন খুব দক্ষ আইনজীবী ছিলেন। একজন দক্ষ আইনজীবী যেভাবে যেকোনো কেসের পক্ষে বা বিপক্ষে (তার মক্কেলের পক্ষ অনুযায়ী) গুছিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যুক্তি দিতে পারেন (ব্যক্তিগত বিশ্বাস সম্পূর্ণ উল্টো হলেও), তিনি তেমনই ছিলেন। সেজন্যই তার ব্যক্তিগত বিশ্বাস তার বেশিরভাগ একশনের বিপরীতমুখী। তিনি নিজেকে সেকুলার হিসেবে পরিচয় দিলেও, মুসলমান জমিদারদের উকিল হিসেবে, ব্রিটিশ প্রশাসনের কাছে, সাম্প্রদায়িকতার ভিত্তিতে মামলা লড়ে, মুসলিম ব্যবসায়ী-জমিদারদের জন্য একটি আলাদা দেশ বানিয়ে দিয়েছিলেন। তিনি আরবি (পরবর্তীতে উর্দু) কে রাষ্ট্র ভাষা বানানোর এ্যডভোকেসি করেছেন ইংরেজি ভাষায় (কারণ ওই দুটি ভাষার কোনটাই তিনি খুব একটা পছন্দ করতেন না বলে শেখার চেষ্টাও করেননি)। তিনি কমন পিপল এর রাষ্ট্রচিন্তাকে ফালতু মনে করতেন বলে, জনসম্পৃক্ততার ধার ধারতেন না। তিনি পাকিস্তানের স্বাধীনতার পরে প্রধানমন্ত্রী হতে চাননি, হয়েছিলেন গভর্নর। কিন্তু গভর্নর হলে প্রধানমন্ত্রীর মতো সরকার চালিয়েছেন।

সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত বিশ্বাসের বিপরীতে তিনি একটি অবাস্তব রাষ্ট্র তৈরি করে গেছেন। যেই রাষ্ট্র তৈরি হয়েছে মিথ্যা ওয়াদার উপর ভিত্তি করে। জনগণ যখন সেটা বুঝতে পেরেছে, তখন তাদের বল প্রয়োগে দমন করা হয়েছে। মিথ্যাকে প্রতিষ্ঠিত করতে আর মিথ্যাচার করা হয়েছে, আরও অত্যাচার আর নিপীড়ন করা হয়েছে। বাংলাদেশ ২৫ বছর সহ্য করে পাকিস্তান ভেঙ্গে বেরিয়ে এসেছে। বাকি বিভিন্ন ভাষাভাষীরা বাঙ্গালিদের মতো পাকিস্তান ভেঙ্গে বেরোতে চাচ্ছে (বেলুচিস্তান, সিন্ধ, ইত্যাদি)। তাদেরকেও একই ভাবে দমন করছে পাকিস্তান নামক রাষ্ট্রযন্ত্র। সেই অনাচারকে জাস্টিফাই তৈরি হচ্ছে মিথ্যা গল্প।

আমার পাকিস্তান ক্ষোভের কথা শুনলে অনেকেই বলেন- পাকিস্তানের সাধারণ মানুষের কি দোষ? আসলে পাকিস্তানের সাধারণ মানুষের প্রতি আমার কোন ক্ষোভ নেই। বরং পাকিস্তান রাষ্ট্রের ধোঁকায় পড়ে আটকে যাওয়ার কারণে তাদের জন্য সমবেদনা আছে। আমাদের মতো অত্যাচারিত হবার কারণে ফেলো ফিলিং আছে।
আমার ক্ষোভ এবং ঘৃণা পাকিস্তান নামক মেকি রাষ্ট্রযন্ত্রটির প্রতি। কারণ হাজার চেষ্টাতেও রাষ্ট্রটি কোনদিন গণরাস্ট্র হতে পারবে না। এই রাষ্ট্র কাঠামোতে কোনদিন শান্তি আসা সম্ভব হবে না। এই রাষ্ট্র যতদিন থাকবে, তখন সেটা শুধু পাকিস্তানি অধিবাসীদের দুঃখই না, সারা দক্ষিণ এশিয়া এমনকি সারা বিশ্বের জন্য দুঃখ হয়ে থাকবে।

পাকিস্তানের জন্মদিনে, পাকিস্তানের অস্ত্রের মুখে অসহায় প্রতিটি ভাষাভিত্তিক জাতিগোষ্ঠীর পাকিস্তান রাষ্ট্রের কবল থেকে মুক্তি কামনা করি।

প্রথম পাকিস্তানিদের দখল করা স্বাধীন রাষ্ট্র বেলুচিস্তানের (কালাত) এর স্বাধীনতা দিয়ে, এর শুভ যাত্রা শুরু হোক।



সর্বশেষ মন্তব্য

আপনার মন্তব্য দিন