রাগ জৈনপুরী

রাগ জৈনপুরী বা জনপুরী- শ্রোতা সহায়িকা নোট (১)

*** এই আর্টিকেলটির উন্নয়ন কাজ চলমান ……। আবারো আসার আমন্ত্রণ রইলো।

রাগ জৈনপুরী হিন্দুস্থানি শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের সকাল দশটার দিকে গানবাজনা করার একটি রাগ। আশাবরী ঠাটের এই রাগটির রাগ অঙ্গও আশাবরী। সকালে কনসার্ট হয়না বলে কনসার্টে এই রাগটি শোনা যায়না। তবে পুরনো দারুণ সব কম্পোজিশনের অডিও পাওয়া যায়, প্রচুর ফিল্মের গানও কম্পোজ হয়েছে এই রাগে। এর আরোহণে গান্ধার বর্জিত। অবরোহণে সকল স্বরই ব্যবহৃত হয়। লোকে কলে, এই রাগটি সুলতান হোসেন শর্কী (জৈনপুরী) প্রচার করেছিলেন।

আরোহণ: স র ম প দ ণ র্স।
অবরোহণ : র্স ণ দ প ম জ্ঞ র স।
ঠাট : আশাবরী।
জাতি : ষাড়ব-সম্পূর্ণ।
বাদীস্বর : পঞ্চম।
সমবাদী স্বর : ঋষভ।
অঙ্গ : উত্তরাঙ্গ।
সময় : দিবা দ্বিতীয় প্রহর।
পকড় : ‌স র মর ম প, ণ দ প, মপজ্ঞ, র ম প।

আরোহ-আবরোহ এই লিঙ্ক গুলোতে গিয়ে শুনে নিতে পারেন । লিংক ১  ।

“দরবারী কানাড়া” ও “আড়ানা (Adana)” রাগের সাথে জৈনপুরী রাগের পার্থক্য:
জৈনপুরী দরবারী রাগের খুব একই নোট, আবার চলাফেরাতেও কিছু মিল থাকার কারণে শুরুর দিকে শ্রোতাদের কাছে মাঝে মধ্যে একটু মিশিয়ে যেতে পারে। তাই পার্থক্যটা লিখে রাখলাম। মুল পার্থক্যগুলো হল:

  • দরবারী কানাড়া বেশিরভাগ সময় মন্দ্র এবং মধ্য সপ্তকে বিকশিত হয়, আর জৌনপুরী মাঝারি এবং উপরের সপ্তকে বেশি বিকশিত হয়। আড়ানা মূলত তার সপ্তকে খোলে।
  • দরবারী কানাড়ার আবেদন খুব গভীর এবং এক ধরনের মহিমান্বিত বিষয় আছে। অন্যদিকে জৌনপুরী অনেকটা হালকা মেজাজে তৈরি হয়। এদিকে আড়ানা একটু অস্থির মেজাজ তৈরি করে।
  • জৈনপুরী রাগটি আশাবরী রাগ-অঙ্গের রাগ হবার কারণে এটার চলাফেরা আশাবরীর মূর্ততার কাছাকাছি অবয়বে আসে। অন্যদিকে দরবারী কানাড়া রাগটি “কানাড়া” রাগ অঙ্গের মূর্ততার কাছাকাছি অবয়বে আসে।
  • এই দুটি রাগগুলির মধ্যে সবচেয়ে বড়, কিন্তু সূক্ষ্ম পার্থক্যটি হল, কোমল গান্ধারের ব্যবহার। দরবারি কানাড়ার আন্দোলিত অতি কোমল গান্ধার একেবারেই আলাদা (আরোহের সময় রিশব এই দিকে ঝোঁক আর অবরোহণের সময় মধ্যম এর দিকে ঝোঁক), দীর্ঘ, খুবই সাবধানতার সাথে করা হয়, যেটা অন্যান্য রাগ স্পষ্ট ভাবে আলাদা করে।

এই অঙ্গের কারণে দরবারি কানাড়া ও আডানার মধ্যে শুরুতে বেশি মিল বেশি মনে হবে। পরে মিল মনে হবে জৈনপুরীরর সাথে। তবে শুনতে শুনতে সব পরিস্কার হয়ে যাবে। এছাড়া আরও অনেক সূক্ষ্ম পার্থক্য রয়েছে যেগুলো বোঝার জন্য বিভিন্ন কম্পোজিশন শোনার কোন বিকল্প নেই।

এই ভিডিওটিতে ওস্তাদ মেহদি হাসান খান দরবারী রাগের “কুবাকু ফ্যায়ল গ্যায়ে” গজলটি গাইবার আগে জৈনপুরী ও দরবারীর পার্থক্য দেখিয়েছেন:

 

কাজী নজরুল ইসলামের গানে জৈনপুরী:

নজরুলের অনেক গান রাগাশ্রয়ী। নির্দিষ্ট রাগের আশ্রয়ে যে গানগুলোতে সুর করা হয়েছে, সেগুলোর পুরো সুরে রাগের অবয়ব বজায় রাখার চেষ্টা থেকেছে; খুব বেশি রাগভ্রষ্ট হয়নি। তাই নজরুলের গানগুলো কান তৈরিতে বেশি উপযোগী বলে আমার কাছে মনে হয়।

১.

 

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের গানে জৈনপুরী:

কবিগুরু তার অনেক কম্পোজিশনে প্রচলিত রাগের আশ্রয় নিলেও অনেক সময় রাগের কাঠামোতে তিনি আটকে থাকতে চাননি। তাঁর সুরের পথ রাগের বাইরে চলে গেছে প্রায়শই। আমার কাঁচা কান যা বলে, তাতে বিশুদ্ধ রাগাশ্রয়ী গান হিসেবে তাঁর গান অনেক ক্ষেত্রেই খুব ভালো উদাহরণ নয়।

১.

 

আধুনিক গানে জৈনপুরী:

১.

 

গজলে জৈনপুরী:

১.

 

ভজনে জৈনপুরী:

১.

 

ঠুমরিতে জৈনপুরী:

১. রাগ জৈনপুরীতে পতিয়ালার ওস্তাদ বড় ফাতেহ আলী খাঁ সাহেবের বিখ্যাত  “লাগান লাগে মরি” :

 

অন্যান্য:

১.

 

যন্দ্রে জৈনপুরী:

সেতার:

১. ইমদাদখানী ঘরানার শহীদ পারভেজ খানের সেতারে – জৈনপুরী।

 

সরদ:

১.মাইহার ঘরানার খলিফা ওস্তাদ আলী আকবর খানের সরদে- জৈনপুরী।

২. পণ্ডিত বুদ্ধদেব দাশগুপ্তের সরদে- জৈনপুরী।

 

খেয়াল:

 

১. রামপুর সহসওয়ান ঘরানার ওস্তাদ রশিদ খানের – জৈনপুরী।

২. আমীর খান সাহেব এর- জৈনপুরী।

৩. পণ্ডিত কুমার গান্ধর্বের কেদার – জৈনপুরী।

৪. জয়পুর ঘরানার শিল্পী কিশোরী আমনকারের গলায় – জৈনপুরী।

৫. পণ্ডিত মুকুল শিবপুত্রের- জৈনপুরী।

৬. বিদুষী শোভা মুডগালের- জৈনপুরী।

 

টিউটোরিয়াল:

যেকোনো রাগের স্বরের চলাফেরা বোঝার জন্য ২/৫ টি স্বর-মালিকা বা সারগম-গীত শোনা দরকার। স্বর মল্লিকার পাশাপাশি দু একটি  লক্ষণ গীত (বা ছোট খেয়াল) শুনলে সহজ হতে পারে। লক্ষণ গীত মূলত শেখানো হয় রাগের লক্ষণগুলো সহজে ধরতে। লক্ষণ গীত ছোট খেয়াল প্রায় একই কাজ করে। অনলাইনে অনেক গুলো আছে। একটু খোঁজাখুঁজি করলে পেয়ে যাবেন। স্যাম্পল হিসেবে নিচের দুটো লিংক দেয়া হল।

১. রাগ জৈনপুরীর স্বরমল্লিকা

২. এনিসিআরটির টিউটোরিয়াল

 

রিলেটেড রাগ:

 

জৈনপুরী সম্পর্কে আরও জানার জন্য:

১. উইকি আর্টিকেল

২. অটোমেটেড ট্রান্সক্রিপশন প্রজেক্ট এর- কাফি কেদার

 

সিরিজের বিভিন্ন ধরনের আর্টিকেল সূচি:

গান খেকো সিরিজ- সূচি
শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের ব্যাকরণ বা শাস্ত্র সূচি
রাগ শাস্ত্র- সূচি
রাগ চোথা- সূচি
রাগের পরিবার ভিত্তিক বা অঙ্গ ভিত্তিক বিভাগ
ঠাট ভিত্তিক রাগের বিভাগ
সময় ভিত্তিক রাগের বিভাগ
ঋতু ভিত্তিক গান (ঋতুগান) এর সূচি
রস ভিত্তিক রাগের বিভাগ
উত্তর ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের রীতি/ধারা
সঙ্গীতের ঘরানা- সূচি
সুরচিকিৎসা- সূচি
শিল্পী- সূচি
প্রিয় গানের বানী/কালাম/বান্দিশ- সূচি
গানের টুকরো গল্প বিভাগ

Declaimer:

শিল্পীদের নাম উল্লেখের ক্ষেত্রে আগে জ্যৈষ্ঠ-কনিষ্ঠ বা অন্য কোন ধরনের ক্রম অনুসরণ করা হয়নি। শিল্পীদের সেরা রেকর্ডটি নয়, বরং ইউটিউবে যেটি খুঁজে পাওয়া গেছে সেই ট্রাকটি যুক্ত করা হল। লেখায় উল্লেখিত বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত যেসব সোর্স থেকে সংগৃহীত সেগুলোর রেফারেন্স ব্লগের বিভিন্ন যায়গায় দেয়া আছে। শোনার/পড়ার সোর্সের কারণে তথ্যের কিছু ভিন্নতা থাকতে পারে। আর টাইপ করার ভুল হয়ত কিছু আছে। পাঠক এসব বিষয়ে উল্লেখে করে সাহায্য করলে কৃতজ্ঞ থাকবো।

*** এই আর্টিকেলটির উন্নয়ন কাজ চলমান ……। আবারো আসার আমন্ত্রণ রইলো।

Read Previous

রাগ দরবারী ও দরবারী-কানাড়া

Read Next

রাগ কাফি