Sufi Faruq Ibne Abubakar (সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর)

সজীব ওয়াজেদ জয়-এর স্টার্টআপ এবং আমাদের হীনমন্যতার গল্প আর্টিকেল ওপিনিয়ন, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, নোট

আমাদের দেশে প্রথমে যে ব্রান্ড সাকসেসফুল ব্রান্ডিং করতে পারে প্রোডাক্টের নাম সেই ব্রান্ডের নামেই চালু হয়ে যায়। যেমন সেলাই মেশিন ‘সিঙ্গার মেশিন’, মোটরসাইকেল ‘হোন্ডা’, মোবাইল ব্যাংকিং ‘বিকাশ’। এখানে ব্যক্তি ইমেজেও কিন্তু এর বাইরে নয়।

১৯৯১ সালের ১৯ মার্চ দেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব নেন খালেদা জিয়া। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচন কে ধরলে তৃতীয় দফায় ক্ষমতায় আসেন ২০০১ সালে। এই লম্বটা সময়টায় তার দুই পুত্র কি করেছে দেশবাসীর অজানা নয়। সেনাপ্রধান-সামরিক আইন প্রশাসক-প্রেসিডেন্টের এবং প্রধানমন্ত্রীর ছেলেরা একাডেমিক ভাবে উচ্চ শিক্ষিত নয় – এই রকম উদাহরণ বোধহয় এদেশেই আছে। যেহেতু প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রীর ছেলেরা পড়াশুনা করেনি, ‘হাওয়া ভবন’-এ বসে ক্ষমার অপব্যবহার করে দুর্নীতি-চাঁদাবাজি করে যেহেতু পরবর্তী প্রধানমন্ত্রীর ছেলেও এমন করতে হবে। এটাই মেন্টালি সেট-আপ।

সজীব ওয়াজেদ জয়ের নেতৃত্বে দেশ বিশ্বের মাঝে উদাহরণ করে ডিজিটালাইজেশনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। ইন্টারনেটের কল্যাণে যে কোন তথ্য এখন হাতের মুঠায়। কমন সেন্স থাকলে যে কোন বিষয়ে তথ্য খুঁজে পেতে সময় লাগে কয়েক মিনিট। কিন্তু সেই সময় কৈ সোশ্যালনেটওয়ার্ক ভাসে বিএনপি-জামাতের প্রোপাগান্ডা আর সস্তা ফানে।

সজীব ওয়াজেদ জয়ের গুগলের আগেই তিনি একটা সার্চ ইঞ্জিন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, এবং সেটির যাত্রাও শুরু হয়েছিলো সিলিকন ভ্যালি (ক্যালিফোর্নিয়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র) থেকে। মানতে এত অনাগ্রহ কেন? না কি মগজের ভেতরে সেই একটাই কথা বাজছে, খালেদা জিয়ার ছেলেরা অল্প শিক্ষিত দুর্নীতিবাজ হলে শেখ হাসিনার পুত্রকেও তাই হতে। আমাদের মিডিয়াতে ফলাও খবর আসে আরব শেখেদের ছেলেদের বিলাসবহুল প্রজেক্টের, তারা কেনে- বড়বড় কোম্পানির শেয়ার, ফুটবল ক্লাব, হলিউড সুন্দরীর সময়। কিন্তু শেখ হাসিনার ছেলের সজীব ওয়াজেদ জয় বুদ্ধিবৃত্তিক কিছু করলে ফেসবুক প্রজন্ম সেটা মানবো না। বিএনপি-জামাতের কাতুকুতুতে হাসা হাসি করবো। এর মধ্যে বঙ্গবন্ধুকে টেনে আনবে। আমাদের এত হীনমন্যতা কেন? নিজেদের উপর কোন বিশ্বাস নাই যে আমরা অনেক বড় কিছু করতে পারি।

গুগল প্রথম সার্চ ইঞ্জিন ছিল না, এটি শেষ সার্চ ইঞ্জিনও না। গুগলের আগে আমার ইয়াহু, এমএসএন, ইয়াহু, লাইকোস ব্যবহার করাতাম। (সার্চ ইঞ্জিনের টাইমলাইন https://goo.gl/NpDilp)। ডোমেইন নাম গুগল নিবন্ধিত করা হয় ১৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৯৭ সালে এবং কর্পোরেশন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে ৪ সেপ্টেম্বর, ১৯৯৮ সালে। এটি চালানো হত ল্যারি পেইজ ও সের্গেই ব্রিনের এক বন্ধুর গ্যারেজ থেকে। (সূত্র: https://goo.gl/Ddy0OU) (গুগলের ইতিহাসের ইফোগ্রাফ http://goo.gl/Lf2z8p)। গুগলের মত মাইক্রোসফট-এপলও শুরু কিন্তু গ্যারেজ থেকে। আমেরিকার স্টার্টআপগুলো কিন্তু শুরু করে আন্ডার গ্রাজুয়েট স্টুডেন্টরা। প্রজেক্ট ক্লিক করলে ছুটে আসে এঞ্জেল ইনভেসটার। উদ্যোক্তা কখনও এই প্রতিষ্ঠানে থাকেন, কখনও শেয়ার বিক্রি করে নতুন প্রজেক্ট নিয়ে কাজ শুরু করেন। ইউটিউবের সহপ্রতিষ্ঠাতা বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত জাভেদ করিম কিন্তু পরবর্তীতে ইউটিউবে থাকেননি।

১৯৯৮ সালের দিকে সজীব ওয়াজেদ জয় সিলিকন ভ্যালি তে যে স্টার্টআপ কোম্পানির প্রতিষ্ঠা করে ছিলেন তার নাম ছিল Mvion Inc. তাঁরা ওয়্যারলেস ডিভাইসে ডাটা সার্চ এর নতুন কৌশল নিয়ে কাজ করেছিল (সূত্র: http://goo.gl/yVo81q)। যেটার কারণেই Google Big Tent Activate Summit New Delhi 2013 তে তিনি একজন কি স্পিকার হিসেবে আমন্ত্রণ পেয়েছিলেন। (সূত্র: http://goo.gl/FrvD3W)। ২০০৭ সালে ওয়ার্ল্ড ইকোনোমিক ফোরামের ২৫০ জন ইয়াং লিডার নমিনিদের একজন ছিলেন তিনি।

আজ বিএনপি-জামায়াত সেই স্টার্টআপ কোম্পানি’র কথায় মুচকি হাসি দিয়ে অস্বীকার করে ইতরামি করলেও সেই সময় তারা কিন্তু যথেষ্ট নেতিবাচক প্রচারণা চালিয়েছিল সজীব ওয়াজেদ জয়ের উদ্যোগ নিয়ে। ছেলেবেলায় আমাদের শেখানো হয়েছিল- তুমি অধম হলে আমি উত্তম হইবো না কেন? বিএনপি-জামায়াত এখানে উল্টো- তারেক যা, জয়কেও তাই হতে হবে।

আপসোস করে বলতে হয়, বঙ্গবন্ধু যেমন এক অনিচ্ছুক জাতিকে স্বাধীনতা এনে দিয়েছিলেন। সজীব ওয়াজেদ জয় তেমন এক অনিচ্ছুক জাতিকে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির উৎকর্ষতা এনে দিচ্ছেন।



আপনার মন্তব্য দিন