উর্দু শের শায়েরী গজল [ সংগ্রহ ] শচীন ভৌমিক [ Favorite Urdu sher Shayari Ghazal Collection]

[উর্দু শের শায়েরী গজল [ সংগ্রহ ] শচীন ভৌমিক [ Favorite Urdu sher Shayari Ghazal Collection]]

উর্দু শের শায়েরী গজল [ Urdu sher Shayari Ghazal] বিষয়ক ঘোষণা [ Disclaimer ]:
এক বয়সে শচীন ভৌমিক দারুণ আনন্দ দিয়েছেন আমাদের। বয়স হবার আগে চুপি চুপি পড়ে ফেললাম তার “ফর এডাল্টস্ ওনলি”। এখন সময় বদলে গেছে। এখনকার যুবকেরা তো দুরে থাক, কিশোর তরুণরা এই সাহিত্যে কোন আগ্রহ পাবেন না জানি। তারপরে প্রিয় বলে সাইটে উঠিয়ে রাখলাম। হঠাৎ মনে পড়লে যেন একবার দেখা যায়। বা আমাদের সেই সময়ের কেউ যদি আবার পড়ে আনন্দ পান। এর সব শের যে আমার চুড়ান্ত পছন্দ, তা নয়। তবে পাঠক পুরোটা চাইতে পারেন বলে কিছু বাদ দিলাম না।

Table of Contents

শচীন ভৌমিক সংগৃহীত উর্দু শের, উর্দু শায়েরী, উর্দু গজল :

উর্দু শের, শায়েরী, গজল ১: হার তরফ ছা গয়ে পয়গামে-মুহব্বৎ [ har taraf chhā ga.e paiġhām ]

হার তরফ ছা গয়ে পয়গামে-মুহব্বৎ বান কার
মুঝসে আচ্ছি রহি কিসমৎ মেরে অফসানো কি।
–জিগর মুরাদবাদী

har taraf chhā gaye paiġhām-e-mohabbat ban kar
mujh se achchhī rahī qismat mere afsānoñ kī

–আমার প্রণয়-কাহিনীর চতুর্দিকে চর্চা হচ্ছে। মনে হচ্ছে আমার নিজের ভাগ্যের চেয়ে আমার প্রেমকাহিনীর ভাগ্য অনেক বেশী ভালো। আমার প্রেমের ব্যর্থতায় কারুর সমবেদনা নেই কিন্তু আমার কাহিনীর ট্র্যাজেডীতে সবাই বেদনামুগ্ধ।

উর্দু শের, শায়েরী, গজল ২: হুম ইসক্ কে মারোঁকা

হুম ইসক্ কে মারোঁকা ইৎনা হী ফসানা হ্যায়
রোনেকি নেহি কোই, হঁসনে কো জমানা হ্যায়।
–জিগর মুরাদাবাদী
–প্রত্যেক প্রেমিকের জীবনে একটাই সত্য রয়েছে—
প্রেমিকের দুঃখে কাঁদবার কেউ নেই; কিন্তু প্রেমিকের কীর্তিকথায় বিদ্রুপের হাসি হাসতে সারা জগৎ প্রস্তত হয়ে আছে।

উর্দু শের শায়েরী – শচীন ভৌমিক [ Urdu Shayari ]
ফর এডাল্টস্ ওনলি – শচিন ভৌমিক | For Adults Only – by Sachin Bhowmik

উর্দু শের, শায়েরী, গজল ৩: ইসক্ জিস্ কস্তীকা হো তু নাখুদা

ইসক্ জিস্ কস্তীকা হো তু নাখুদা
ওহ্ না আয়ে কিস্ তরাহ্ তুফান মেঁ।
–দাগ
–হে প্রেম, তুমি যে নৌকোর মাঝি সে নৌকো তুফান বাঁচিয়ে কি করে আসতে পারে বলো? প্রেম মানেই তো ঘুর্ণির আবর্ত, ঝড়ের ঠিকানা্ প্রেম মানেই তো যন্ত্রণার নিমন্ত্রণ, দুঃখের মোহনা। নয়?

উর্দু শের, শায়েরী, গজল ৪: কেয়া বুরী শয় হ্যায় মুহব্বৎ ভি ইলাহী

কেয়া বুরী শয় হ্যায় মুহব্বৎ ভি ইলাহী, তওবা
জুর্ম না কর ওহ্ খাতাবার বনে বৈঠে হ্যায়।
–জহীর
–ভালোবাসা কি অভিশপ্ত বস্তু হে ঈশ্বর তুমি সৃষ্টি করেছো। অন্যায় না করেও সর্বদা অপরাধী সেজে বসে থাকতে হয়। সত্যি ভাবলে আশ্চর্য হতে হয়।

উর্দু শের, শায়েরী, গজল ৫:

ম্যায় উফভি কর্তা হু তো হো যাতা হু বদনাম
ওহ্ কত্ল্ ভি করতেঁ হ্যায় তো চর্চা নেহি হোতে।
–অজ্ঞাত
–আমি যদি বেদনার্ত কণ্ঠে উফ্ করে উঠি তাহলেই বদনাম হয়ে যাই, আর প্রেয়সী আমার নির্মম নিষ্ঠুরতায় খুন পর্যন্ত করে ফেললেও তার বিন্দুমাত্র চর্চা হয় না্ সমাজের কি অভিনব বিচার পদ্ধতি! সব দোষ যেন পতঙ্গের, শিখার কোন দোষই নেই।

উর্দু শের, শায়েরী, গজল ৬:

তকিয়ে পে তেরে জুড়ে কা ভঁমর ঘুম রাহা হ্যায়
চাদরমেঁ তেরে জিসম্ কী ওহ্ সোন্ধী সী খুশবু
হাতোঁমে মহক্তা হ্যায় তেরে চেহেরে কা এহসাস্
মাথেপে তেরে হোঠোঁ কে বিশ্বাস্ কা তারা
তু ইৎনি করিব হ্যায় তুঝে দেখু তো ক্যায়সে
থোরি সি অলগ্ হো তো তেরে চেহেরো কো দেখু।

–গুলজার

–বালিশে তোমার চুলের ঘুর্ণিজাল, চাদরে তোমার শরীরের মদির সুগন্ধ, হাতে আমার তোমার মাদক চেহারার উত্তাপ, কপালে তোমার বিশ্বাসের চুম্বনের শুকতারা। প্রিয়া আমার তুমি আমার এত কাছে রয়েছো, তোমার সান্নিধ্য এত নিকটে যে তোমার মুখটা প্রাণভরে একবার দেখবো তারও উপায় নেই। সোনা আমার, একটু যদি সরে বসো, তাহলে তোমার মুখটা দেখতে পাই। একটু সরে বসবে? তোমাকে দু’চোখ ভরে দেখতাম।

উর্দু শের, শায়েরী, গজল ৭:

মুঝকো তো হোশ নেহি তুমকো খবর হো শায়দ
লোগ কহতে হ্যায় কি তুমনে মুঝে বরবাদ কিয়া।
–জোশ মলীহাবাদী
–আমার তো কোন হুশ নেই, হয়তো তুমি খবরটা শুনে থাকবে—লোকে বলাবলি করছে তুমিই আমার সর্বনাশ করেছো, সর্বসান্ত করেছো।

উর্দু শের, শায়েরী, গজল ৮:

প্যায়ার করনে কা যে খুবাঁ রখতে হ্যায় হাম পর গুনাহ্
উনসে ভি তো পুছিয়ে, তুম ইৎনে পেয়ারে কিঁউ হুয়্
–মীর
–আমি যে এত বেশী ভালোবেসে ফেলেছি বলে আমাকে তোমরা পাপী, অপরাধী ভাবছো, একবার ওকে তো জিজ্ঞেস করে দেখো, হে নারী, তুমি এত রূপসী , এত সুন্দরী, এত লাবণ্যময়ী কেন হয়েছো? এক অঙ্গে এত রূপ এটা কি অপরাধ নয়? অপরাধ শুধু সে রূপের পূজারীর? রূপের নয়?

উর্দু শের, শায়েরী, গজল ৯:

নজর সে উনকি পহলী হী নজর ইউ মিল গই অপনি
কি যৈসে মুদ্দতোঁ সে থি কিসি সে দোস্তি আপনি।
–জিগর মুরাদাবাদী
–প্রেয়সীর সঙ্গে প্রথম দৃষ্টি বিনিময়েই মনে হল যেন বহুদিনের পুরনো বন্ধু দীর্ঘ বিচ্ছেদের পর আবার মিলিত হল। এ যেন নতুন পরিচয় নয়, পুনর্মিলন মাত্র।

উর্দু শের, শায়েরী, গজল ১০:

ম্যায় যাত হুঁ দিল কো তেরে পাস ছোড়ে
মেরী ইয়াদ তুমকো দিলাতা রহেগা।
–দর্দ
–এবার তাহলে যাই। যাবার আগে তোমার কাছে আমার হৃদয়টাকে রেখে যাচ্ছি। মাঝে মাঝে সে তোমাকে আমার কথা মনে করিয়া দেবে।

[উর্দু শের শায়েরী গজল [ সংগ্রহ ] শচীন ভৌমিক [ Favorite Urdu sher Shayari Ghazal Collection]]

উর্দু শের, শায়েরী, গজল ১১:

আও তুমকো উঠালুঁ কন্ধে পর
তুম উচক কর শরীর হোঁঠো সে
চুম লেনা এ চাঁদ কা মাথা
আজ কি রাত দেখা না তুমনে
কৈসে ঝুক ঝুক কে কোহনিয়োঁক বল্
চাঁদ ইৎনে করীব আয়া হ্যায়।

–গুলজার

–এসো প্রিয়া, আজ তোমাকে কাঁধে তুলে নিই, তুমি মুখটা তুলে তোমার দুষ্টু ঠোট দিয়ে চাঁদের মাথায় চুমু খেয়ে নাও। আজ রাত্তিরে চাঁদটাকে দেখো, কুনইর ওপর ভর দিয়ে চাঁদটা আমাদের কত কাছে চলে এসেছে। এত কাছে যে তুমি উঁচু হয়ে মুখ বাড়ালেই তার ঠাণ্ডা কপালে ছোট্ট একটা চুমু এঁকে দিতে পারো। এসো প্রিয়া, এসো তোমাকে তুলে ধরি।

উর্দু শের, শায়েরী, গজল ১২:

কন্ধে ঝুক যাতে হ্যায় সব বোঝসে ইস লম্বে সফরকে
হাঁপ যাতা হুঁ ম্যাঁয় যব চড়তে হুয়ে তেজ চট্টানে
সাসঁ রহ্ যাতী হ্যায় যব সিনেমে ইক্ গুচ্ছা-সা হোকর
ঔর লাগতা হ্যায় কি দম টুট হী যায়েগা এঁহি পর

এক নন্থী সী মেরি নজম্ মেরে সামনে আকর
মুঝসে কহতী হ্যায় মেরা হাত পাকড়কর, মেরে শায়র
লা, মেরে কন্ধে পে রখ দে, ম্যায় তেরা বোঝ উঠালু।

–গুলজার

–দীর্ঘ পথ চলতে চলতে যখন আমার কাঁধ ঝুকে আসে, চড়াই-র উচ্চতায় যখন হাঁপিয়ে উঠি, যখন নিঃশ্বাস বুকের একপাশে জড়ো হয়ে ফুলে ওঠে আর মনে হয়, আমার চলবার শক্তি নেই, এখানেই থেমে যেতে হবে আমার,–তখন আমারই লেখা ছোট্ট একটা কবিতা আমার সামনে এস বলে,–হে কবি, হে আমার স্রষ্টা, এসো, আমার কাঁধে হাত রাখো, এসো, আমি তোমার সমস্ত বোঝা তুলে নিই।

উর্দু শের, শায়েরী, গজল ১৩:

দিল হী কি বদৌলত রঞ্জ ভী হ্যায়, দিল হী কি বদৌলত রাহত ভী
এহ্ দুনিয়া যিস্কো কহতে হ্যায়, দোজখ্ ভী হ্যায় ঔর জন্নৎ ভী।
–চকবস্ত্ লক্ষ্ণৌবী
–হৃদয়ের জন্য বেদনা রয়েছে, হৃদয়ের জন্য আনন্দও। এই যে পৃথিবী, এখানেই নরক রয়েছে, এখানেই স্বর্গ। সফল প্রেমই স্বর্গ, বিফল প্রেমই নরক।

উর্দু শের, শায়েরী, গজল ১৪:

দিলমে অব্ ইউ তেরে ভুলে হুয়ে গম ইয়াদ আতে হ্যাঁয়
য্যয়সে বিছুড়ে হুয়ে কাবেমে সনম ইয়াদ আতে হ্যাঁয়।

–ফৈজ আহম্মদ ফৈজ

–হৃদয়ে তোমার বেদনাময় স্মৃতি মাঝে মাঝে এসে হাজির হয়। যেন ভুলে যাওয়া কোন মন্দিরে পুরনো প্রেমের, অতীতের কোন আপনজনের কথা মনে পড়ে যায়। হৃদয় তো মন্দিরে মতোই, প্রেম তো পূজা, স্মৃতি তো পুণ্যময়তা।

উর্দু শের, শায়েরী, গজল ১৫:

আদম কা জিসম্ যব্ কি অনাসর সে মিল বনা
কুছ আগ্ বাচ্ রহী থী সো আশিকাকা দিল বনা।
–সৌদা
–মানুষের শরীর ঈশ্বর সৃষ্টি করেছেন পঞ্চভূত দিয়ে। কিন্তু খানিকটা আগুন তার থেকে বেঁচে গিয়েছিল। সে আগুনটা কোথায় গেল? সেই আগুনটা গিয়েই তৈরি হয়েছে প্রেমিকের হৃদয়। সেজন্যেই প্রেমিকের হৃদয়ে সর্বদা ধিকিধিকি আগুন জ্বলে।

উর্দু শের, শায়েরী, গজল ১৬: দিলে বরবাদ কী ভী কহনেওয়ালে

দিলে বরবাদ কী ভী কহনেওয়ালে দিল হী কহতে হ্যায়
খিজাঁ-দীদা চমন কী ভী চমন কহনা হী পড়তা হ্যায়।
–নজম নদভী
–যে হৃদয় থেকে প্রেম বিদায় নিয়েছে, যে হৃদয় শূন্য হয়ে গেছে, সে হৃদয়কেও হৃদয়েই বলতে হয়! যেন যে বাগান শুকিয়ে গেছে, তৃণপত্রপুষ্প হীন হয়ে পড়ে রয়েছে তাকেও ‘বাগান’ই বলতে হবে। প্রেমহীন হৃদয় কি হৃদয় পদবাচ্য? মরুভুমিকে কি নন্দনকানন বলা উচিত?

সতেরো:
দেখো আহিস্তা চলো, ঔর ভী আহিস্তা জরা
দেখ্ না সোচ্ সমঝকর্ জরা পাঁও রাখ্ না
জোর সে বজ্ না উঠে পয়রোঁ কি আওয়াজ কঁহী
কাঁচ কে কাব হ্যায় বিখরে হুয়ে তনহাই মেঁ
খাব টুটে না কোই, জাগ না যায়ে দেখো
জাগ জায়েগা কোই খাব তো মর যায়েগা।
–গুলজার
–দেখো, ধীরে চলো, আরও আস্তে। দেখো, ভেবে চিন্তে পা ফেলব। লক্ষ্য রেখো, কোথাও জোরে যেন পায়ের শব্দ বেজে না ওঠে। এ নির্জনতায় কাঁচের তৈরি সব স্বপ্নরা ঘুমিয়ে আছে। দেখো, তোমার পায়ের শব্দে না ভেঙে যায় কোন স্বপ্ন, যেন না জেগে ওঠে। মনে রেখো যে স্বপ্ন জেগে উঠবে সে তক্ষুনি মরে যাবে। ঘুমুতে দাও ওদের, জাগিও না। নিদ্রার জগতেই ওদের বিচরণ, নিদ্রাই ওদের জীবন আর জাগরণই ওদের মৃত্যু। তাই বলছি, ধীরে চলো, খুব ধীরে।

আঠারো:
দেখো জওয়ানৗকা উভার।
য্যায়সা নদীকা মৌজ, য্যায়সা তুর্কী কা ফৌজ,
য্যায়সা শূলগতে বম্, য্যায়সা বালক উধম্।
য্যায়সা স্বপ্নোকা গাগর, য্যায়সা রূপকা সাগর।
য্যায়সা চন্দনকা মুরথ্, য্যায়সা যৌবনকা তীরথ্।
দেখো জওয়ানীকা উভার।
–নেপালী
–নারী দেহবল্লরীতে উরজের উল্লাস দেখো। দেখো স্তনের অপরূপ শোভা। নারীর স্তন যেন নদীর ঢেউ, যেন তুর্কীর গর্বিত সৈন্যবাহিনী, যেন বিস্ফোরণপুর্বের বোমা, যেন একটি উল্লসিত স্বাস্থ্যোজ্জ্বল বালক, যেন স্বপ্নসলিলে ভরা একটি কলস, যেন রূপলাবণ্যের এক সমুদ্র, যেন চন্দননির্মিত এক মূর্তি, যেন যৌবনের এক তীর্থক্ষেত্র।

উনিশ:
কিসিনে মোল না পুছা দিলে সিকস্তা কা
কোই খরিদ কে টুটা পেয়ালা কয়া করতা।
–আতিশ
–আমার ভাঙা হৃদয়ের কত দাম কেউই জিজ্ঞেস করল না।কেন করবে? ভাঙা পেয়ালা কে কিনতে যাবে? কি কাজে আসবে?

কুড়ি:
সকুনে-দিল জহানে বেশী-কম্ ম্যায় ঢুঢ়নে ওয়ালে
ইহাঁ হর চীজ্ মিলতি হ্যায়, সুকনে দিল নহীঁ মিলতা।
–জগন্নাথ আজাদ
–বেশী হোক কম হোক ‘হৃদয়ের শান্তি’ আমি অনেক খুঁজেছি, কিন্তু পাই নি। সবাইকে তাই আমি জানিয়ে দিতে চাই,– এ পৃথিবীতে সব পাওয়া যায় কিন্তু হৃদয়ের শান্তি কোথাও পাওয়া যায় না। সারা জীবন খুঁজে যাবেন কিন্তু কোনদিন তার নাগাল পাবেন না।

[উর্দু শের শায়েরী গজল [ সংগ্রহ ] শচীন ভৌমিক [ Favorite Urdu sher Shayari Ghazal Collection]]

একুশ:
দুশমনি জমকর্ করো, এ গুঞ্জাইশ রহে
যব্ কভি হাম্ দোস্ত হো যায়েঁ তো শরমিন্দা না হো।
–অজ্ঞাত
–শত্রুতা করবার সময় হে বন্ধু, একটু ভেবেচিন্তে করো। দেখো, এত নিষ্ঠুর ভয়ংকর শত্রুতা করো না যে পরে যদি আমরা আবার বন্ধু হয়ে যাই তখন লজ্জিত হতে হয়। তোমার শত্রুতার মধ্যে একটু ছেদ রেখো, সুযোগ রেখো বন্ধু। যতির পর পুরনো বন্ধুত্ব ফিরে পেলে লজ্জা নেই, কিন্তু শত্রুতার চরমে যদি আজ বন্ধুত্ব ছিন্ন করে ফেল, পুনর্মিলনের সময় লজ্জায় মুখ তোলা যাবে কি করে? সুতরাং হে বন্ধু, শত্রুতা করবার সময় সম্পর্কে ছেদ রেখো, ছিন্ন করে ফেলো না।

বাইশ:
ম্যায় আপনে ঘর মে হী আজনবী হো গয়া হুঁ আকর
মুঝে ইহাঁ দেখকর্, মেরি রুহ্ ডর গয়ি হ্যায়
সহমকে সব আরজুওঁ কোণে মেঁ যা ছুপী হ্যায়
লবেঁ বুঝা দি আপনে চেহেরোঁ কী হসরতোঁনে
কি সৌকঁ পহচানতা নহী হ্যায়
মুরাদেঁ দহলীজ হী পে সর্ রখ কে মর্ গই হ্যায়
ম্যায় কিস্ বতন্ কী তলাশে মে ইউঁ চলা থা ঘর সে
কি আপনে ঘর মেঁ ভী আজনবী হো গয়া হুঁ আকর।
–গুলজার
–নিজের ঘরে এসে দেখছি আমি নিজের ঘরেই পর হয়ে গেছি। অপরিচিত হয়ে গেছি। আমাকে দেখে আমার আত্মা ভয় পেয়ে গেছে, আমার ইচ্ছাগুলো ভয়ে কোণে গিয়ে লুকিয়েছে, আমার আশা মুখ বন্ধ করে মৌন হয়ে রয়েছে, আমার সখগুলো আমাকে চিনতেই পারছে না আর আমার আকাঙ্ক্ষার স্বপ্নেরা ঘরের চৌকাঠে মাথা রেখে মরে পড়ে রয়েছে।
এ আমি কোন দেশের তালাশে ঘর ছেড়ে বেরিয়েছিলাম যে নিজের ঘরে ফিরে এসে আমি এখন অপরিচিত, এমন পর হয়ে গেলাম?

তেইশ:
আচ্ছা হ্যায় দিলকে পাস রহে পাসবানে-অকল্
লেকিন কভি কভি ইসে তনহা ভী ছোড়িয়ে।
–ইকবাল
–হৃদয়ের কাছে বুদ্ধির বাস সেটা ভালো কথা। কিন্তু মাঝে মাঝে হৃদয়ের ওপর থেকে বুদ্ধির শাসন তুলে দিতে হয়, হৃদয়কে স্বাধীন করে দিতে হয়, মুক্ত করে দিতে হয়। স্বাধীন মুক্ত হৃদয়ের ধর্মকে সবসময়ে বু্দ্ধি দিয়ে বিচার করতে নেই।

চব্বিশ:
জিনে না দেঙ্গী আখঁ তেরী দিলরুবা মুঝে
ইন খিড়কিয়োঁ সে ঝাঁক রহী কজা মুঝে।
–শস্মস লক্ষ্ণৌবা
–তোমার এই দু’নয়ন আমাকে বাঁচতে দেবে না। তুমি যখন তাকাও তখন তোমার ঐ দু’চোখের জানালার ভেতর থেকে আমি মৃত্যুকে উঁকি মারতে দেখেছি।
হে প্রেয়সী, তোমার চোখেই আমি দেখেছি আমার সর্বনাশ।

পঁচিশ:
টুটতে হ্যায় রাত ভর তারে, এ রুআবে-হুস্ন হ্যায়
বেখবর ইউঁ আপ কোঠে পর না সোয়া কিজিয়ে।
–নাসরী
–হে অনন্যা রূপকন্যা তিলোত্তমা প্রেয়সী আমার, তুমি খোলা ছাদে এভাবে আর শুতে যেও না। তুমি টের পাও নি, তুমি তো নিদ্রার কোলে সুপ্ত ছিলে কিন্তু তোমার রূপের আগুনে পাগল হয়ে সারা রাত কত তারা যে তোমার কাছে আসতে গিয়ে কক্ষচ্যুত হয়ে ছুটে ছুটে আকাশ থেকে খসে গিয়ে ভস্ম হয়ে গেছে। সে খবর তুমি জানো কি? না, তুমি জানো না।

ছাব্বিশ:
রোঁয়ে না অভী অহলে-নজর হাল পে মেরে
হোনা আভি মুঝকো খাবার্ ঔর জিয়াদা।
–মজাজ
–আমার বিফল প্রেমের দুর্দশা দেখে এখনই কাঁদবেন না। বন্ধুগণ, আমার সর্বনাশ হবার আরও অনেক বাকি। দুঃখের এই তো শুরু। আমার অধঃপতনের সীমা আরও অনেক নিচে। আরও খারাপ হবার বাকি আছে, আরও তলিয়ে যেতে হবে আমাকে অনেক গভীরে।

সাতাশ:
আপকে বিসরে তো হাম খোয়াবোঁমে মিলে
যিসতরা শুখি হুই ফুল কিতাবোঁমে মিলে।
–ফৈজ
–বিচ্ছেদের পর আমাদের দু’জনের মিলন কোথায় হবে? কোথায় তোমায় পাবো? জানি, পাবো শুধু স্মৃতিস্বপ্নের আকাশে। যেমন পুজোর পবিত্র শুকনো ফুল অনেকদিন পর মানুষ হঠাৎ খুঁজে পায় বইয়ের পাতার ভাঁজে। তোমার পবিত্র সুখস্মৃতির ফুল তেমনি হঠাৎ খুঁজে পাবো আমার স্বপ্নায়ণের পাতার ভাঁজে। কালগ্রাসে বিবর্ণ, শুল্ক। কিন্তু পবিত্র, সংরক্ষিত।

আটাশ:
হর্ মুসিবৎকো দিয়া এক তবসুমসে জবাব
ইস্তরাহ গরদিসে দৌড়োঁকো রুলায়া হ্যায় ময়নে।
–অজ্ঞাত
–দুর্দিন-কে আমি খুব কাঁদিয়েছি। দুঃসময় ভেবেছিলো সে আমাকে কাঁদাবে। ভেঙে ফেলবে। কিন্তু পারে নি। বিপদের প্রতিটি আঘাতের জবাব আমি দিয়েছি হাসিমুখে। আমার সে স্মিতহাস্যের ফুলের কাছে হেরে গেছে দুঃসময়ে ভ্রূকটি।

উনত্রিশ:
টুক্ রে টুক্ রে দিন বিতা, ধয্যি ধয্যি রাত মিলি
যিসকা যিৎনা আঁচল থা, উৎনিহী সওগাৎ মিলি।
যব্ চাহা দিলকো সমঝে হাসনেকা আওয়াজ শুনি
যয়সে কোই কহতা ওহ্ লে ফির তুঝকো মওৎ মিলি।
মওৎ কেয়সি, ঘাতে কেয়া, জ্বলতে রহনা আট পহর
দিলসা সাথী যব্ পায়া বেচানিভী সাথ মিলি।
–মানাকুমারী
–কঠিন যাতনাময় ছিন্নভিন্ন দিন, বিনিদ্র ভগ্নাংশ রাত, এই আমি পেয়েছি। জীবন এই রকমই। যার আঁচল যতটুকুই ততটুকুই ভাগ্যদেবী তাকে দিয়ে থাকেন। হৃদয়কে যতবার বোঝবার চেষ্টা করেছি ততবারই শুনেছি কেউ যেন হেসে উঠেছে আর বলছে,-হৃদয় বুঝে তুই কি করবি? নে, তোকে মৃত্যু দিলাম, এটা বুঝে নাও। মৃত্যু? মৃত্যু কি সেটাও কি ছাই আমি বুঝতে পেরেছি?
না। মৃত্যু কি তাও বুঝলাম না। শুধু জানি আট প্রহর ধিকি ধিকি জ্বলে যেতে হবে। হৃদয়ের মতো সঙ্গী যখন জুটে গেছে জানি হৃদয়যন্ত্রণার হাত থেকেও নিষ্কৃতি নেই আমার। হৃদয় মানেই হৃদয়যন্ত্রণা,এটুকু জানি। এর চেয়ে বেশী আর আমি জীবন, হৃদয়, মৃত্যু সম্পর্কে কিছুই না্ কিছুই না।

ত্রিশ:
শমা হুঁ, ফুল হুঁ ইয়া কদমো কা নিশা হুঁ
আপকো হক্ হ্যায় মুঝে যো ভী চাহে কহনে।
–মীনাকুমারী
–আপনার প্রেমে আমি আত্মদান করেছি, সর্বস্ব বিলিয়ে দিয়েছি। এখন আপনি আমাকে প্রেমের প্রদীপ, পুজোর ফুল বা পায়ের দাগ যা ইচ্ছে বলতে চান বলতে পারেন। আপনার সে অধিকার রয়েছে। আপনার শ্রদ্ধা, আপনার প্রেম, আপনার ধিক্কার সব কিছুই শিরোধার্য। সব কিছুই আমার গ্রহণীয়, সব কিছুই আমার পরম প্রাপ্য।

একত্রিশ:
ফকির হো কে ভী শাহী কা খু নহীঁ যাতি
জমিপে গিরনেসে ফুলোঁকা বু নহী যাতি।
–অজ্ঞাত
–সর্বহারা, দরিদ্র হয়েও আমি আমার আভিজাত্যের অভ্যেস পরিত্যাগ করতে পারছি না। পারা যায় না। কিছুতেই না।
গাছ থেকে মাটিতে ঝরে পড়লেও ফুল কি তার সুগন্ধ হারিয়ে ফেলে? বৃন্তচ্যুত হলেই কি গন্ধরাজ কোন ফুল সৌরভহীন হয়ে যায়?
না, যায় না। যেতে পারে না।

 

শচীন ভৌমিক কে আরও পড়ুন:

মন্তব্য করুন