এনার্জি [ Energy ] – শচীন ভৌমিক

এনার্জি [ Energy ]  : এতদিনে মানুষ কথাটার সন্ধিবিচ্ছেদ করতে পেরেছি আমি। ছোটবেলায় পূর্ববঙ্গে আমাকে এক চাষা বলেছিল, মানুষ কারে কয় জানস্‌ না? যে মনিষ্যির মন আর হুস আছে সেই অইল মানুষ, বুঝলি? মন আর হুস যোগ কর, কি অয়? মানুষ। মন আর হুসটাই অইল সব, বাকি সব তালিবালি। বুঝলি।

এনার্জি [ Energy ] - শচীন ভৌমিক - Sachin Bhowmick, Story Script Writer, 800px-Hindi Film Cinema by Mustafa Khargonewala, alias Camaal Mustafa Sikandera
Sachin Bhowmick [ শচীন ভৌমিক ]
আমাকে এ হেন জ্ঞান দিয়ে যে হুঁকোয় একটা জব্বর টান দিয়েছিল। সে টানে চাষার কি কাসি। হুঁস যাবার উপক্রম। মানুষ থেকে তার আত্মারাম প্রায় ফানুস হয়ে যাচ্ছিল আর কি। শেষ পর্যন্ত বেঁচে গেল বেচারা। তার ফুসফুসে হুঁস ফিরে এসেছিল। যাই হোক,এতদিনে জানলাম তার সন্ধিবিচ্ছেদে ব্যাকরণ ভুল ছিল। চাষার ভাষাজ্ঞান সঠিক ছিল না। এতদিনে মানুষের সন্ধিবিচ্ছেদ সঠিক করেছি আমি। মন+Anus =মানুষ। হ্যাঁ মশাই, নাক সিঁটকোবেন না। মন আর এনুষ রয়েছে বলেই আমরা মানুষ।

কাব্যে উপেক্ষিতা উর্মিলার মত আমাদের শরীরের যে অঙ্গটা একান্ত অবহেলিত ও ঘৃণ্য সেটা হল এই মলদ্বার। কিন্তু এইবার সেই ধারণা বদলে ফেলুন। ইংরেজীতে একটা কথা আছে Every dog has his day – সব কুকুরেরই একটা দিন আসে। সেরকমই আজ বলতে হবে- সব অঙ্গেরই একদিন জবরজঙ্গ মূল্য হয়। মলদ্বার নয়, এখন এর নাম হওয়া উচিত অমলদ্বার। এখন বুঝতে পারছি, পায়ূ আছে বলেই আমাদের আয়ু আছে। দুর্গন্ধময় colon না থাকলে সুগন্ধময় ও-ডি কোলনের জীবন যাপন করা যাবে না। ধাঁধা লাগছে? আসুন বুঝিয়ে বলি।

প্রথমে কয়েকটি খবর বলি। ‘ব্লিৎস’-এ ৫ই জানুয়ারী ১৯৭৪ ছাপা হয়েছে—Power from Garbage-An Endless source of clean energy . Consequent upon the oil squeeze and hike in oil price by Arab countries efforts are to find out the alternative sources of energy. In India,tones of refuse are dumped in open spaces to decay and spread disease. Why can’t we tap this easily available source, Blitz. Page-14 Dt.5.74

আরব দেশের তেল অস্ত্রের প্রয়োগ বিশ্বে ত্রাহি ত্রাহি. বর পড়ে গেছে। পেট্রলের দাম ক্রমে আকাশচুম্বী হচ্ছে। উপায় কী? পেট্রল হচ্ছে শক্তির মূল উৎস। কিন্তু উপায় হল আবর্জনা। আবর্জনাকে বৈজ্ঞানিক প্রণালীতে শক্তিতে রূপান্তরিত করতে পারলে এনার্জি ক্রাইসিস বা শক্তির দৈন্য দূর করা যায়। আবর্জনা থেকে অর্জন করা সম্ভব এনার্জি। আর ভারতবর্ষে সবচেয়ে যা সহজলভ্য, তা হল এই অসীম ঐশ্বর্য, যার নাম আবর্জনা। এবার পড়ুন আরেকটা খবর। মার্কিন নিউজউইক কাগজে প্রকাশিত।

[ এনার্জি [ Energy ] – শচীন ভৌমিক [ Sachin Bhowmick ]

Chicken power. A process that promises to power cars on chicken manure has, in fact, been developed by Harold Bate of Devon, England. Called the methane Gas Digester, the systm consists of a sealed, heated drum containing the manutr and gas feeder device that fits over the carbureter. The manure filled drum produces methane gas, while the carbureter deyice mixes the methane and air and rams it directly into the engine cyinders,-Newsweek 7.1.74

বুঝলেন তো? টোটর চলবে পেট্রলের বদলে মুরগীর দেহজ অপচয় দিয়ে। ইংলন্ডের জনৈক হ্যারল্ড বেট এই নতুন শক্তির আবিষ্কার করেছেন। মুরগীর পুরীষ ম্যাথেন গ্যাস হয়ে যাবে আর তাতে চলবে মোটরগাড়ি। খরচও কম। কেননা উনি বলছেন The fuel tank needs to be filled only once every six months. ছ’মাসে মাত্র একবার এই নতুন পেট্রল বদলাতে হবে। ভাবুন! স্রেফ মুরগীর নোংরা সংগ্রহ করার ঝামেলা। মুরগীর বদলে মানুষের দেহজ অপচয় থেকে পেট্রল বানাতেও বেশি দেরি হবে কি?

মোটেই না। কেননা প্রক্রিয়া একই। শুধু উপযোগ করা বাকি। আবর্জনা থেকে বিদ্যুৎ শক্তি সংগ্রহ করা সম্ভব হবে সেটা আগের উদ্ধৃতিতেই পড়েছেন। আর আবর্জনার সত্তর ভাগ তো মানুষের মলমূত্র দ্বারা সৃষ্ট। কেবলমাত্র মানুষের মলমূত্র থেকেও ইতিমধ্যে বিদ্যুৎ প্রস্তুত হয়ে গেলে। নিচের খবরটা পড়ুন। ঐ নিউজউইকেরই খবর।

TOTAL LIVING
Finally the supreme solution to the energy crisis may lie in a set up designed by two University of California scientists called Algal Regeneration system, it is a circular house replete with a livestock shed to house steady supply of high protein food for its inhabitants.

[ এনার্জি [ Energy ] – শচীন ভৌমিক [ Sachin Bhowmick ]

এ তো গেল আত্মনির্ভরশীল বাড়ির খাবার ব্যবস্থা। বিদ্যুৎ সমস্যা? দেখুন তার সমাধান। It generates its own gas and electricity from human waste. মানে এই অভিনব বাড়ির বিদ্যুৎ ও জ্বালানী গ্যাস তৈরি হবে যাঁরা থাকবেন তাঁদেরই দেহজ অপচয় থেকে। সব অটোমেটিক। সুতরাং রান্নার গ্যাস আর রাতের আলোর চিন্তা নেই। ‘এই আত্মনির্ভরশীল অভিনব গৃহ’ ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের দুজন বৈজ্ঞানিক প্রস্তুত করেছেন।

তাদের হিসাবে বাড়ির দাম পড়বে মাত্র ২০০০ হাজার ডলার। মানে ধরুন গিয়ে হবে মাত্র কুড়ি হাজার টাকার মত। দেখলেন তো? এই পেট্রল সমস্যার দিনে মানুষের সবচেয়ে ঘৃণ্য কর্মফলের কি গুণ। কে জানত বলুন, এত গুণ রয়েছে এই ‘গুণ’ কথাটার প্রথম অক্ষরে? এরপরও বলবেন আমার ‘মানুষ’ এর সন্ধিবিচ্ছেদে ভুল? মানলেন তো যে, মন+ Anus =মানুষ। সময় বদলাচ্ছে। সঙ্গে সঙ্গে ব্যাকরণ বদলাবে না? বদলাতে বাধ্য। মল শুধু অমল হয়ে যাচ্ছে না, অমূল্যও হয়ে যাচ্ছে। শক্তির সব প্রয়োগ সম্ভব হবে এই উপকরণ থেকে। গাড়িও চলবে, উনুনও জ্বলবে, বাতিও জ্বলবে।

বিদ্যুৎ তো শুধু ঘরের বাতি জ্বালায় না, বিদ্যুৎ ট্রাম ট্রেন থেকে কারখানা সবকিছু চালায়। কে জানত,এত প্রচণ্ড শক্তি লুক্কায়িত ছিল আমাদেরই নিতম্বের পুচ্ছে। আমাদেরই বর্জনক্ষেত্রে যে একদিন রূপান্তরিত হবে অর্জনক্ষেত্রে, সে কথা কি স্বপ্নেও কোনদিন ভাবতে পেরেছিলেন? এতদিন কবিরা কি ভুলই না বকতেন। সুন্দরী মেয়ের বর্ণনায় বলতেন তার নয়নে বিদ্যুৎ, অধরে বিদ্যুৎ। বাজে কথা। বিদ্যুতের উৎস ওদের নয়নেও নয়, অধরেও নয়। মেয়েদের সঙ্গে ফ্লার্ট করবার স্টাইলও বদলাবে। পশ্চিমে নাকি ইতিমধ্যেই বদলে গেছে।

ছেলেরা আগে সরু-কোমর মেয়ে দেখলেই গদ্‌গদ কণ্ঠে বলত,Darling, I love your waist. এখন এতে আর মেয়ে পটছে না। বলতে হচ্ছে, Iam in love with your waist, more so with waste.
বাংলায় হয়তো এরকম বলতে হবে-তোমার হ্রস্ব কোমরকে আমি ভালবাসি অঞ্জলি, তার চেয়েও বেশি ভালবাসি তোমার কোষ্ঠাঞ্জলি। ঠিক অনুবাদ হয় নি? না হলে বলতে পারেন, তোমার সরু নিবি দেখাই ছিল আমার হবি। কিন্তু শর্মিষ্ঠা, আজ অনেক লোভনীয় তোমার বিদ্যুৎবাহী বিষ্ঠা। অবাক কাণ্ড আর কাকে বলে, মেয়েরাও কি কোনদিন ভাবতে পারত যে তার স্বামী তার নিষ্ঠার চাইতে তার বিষ্ঠার বেশি দাম দেবে?

[ এনার্জি [ Energy ] – শচীন ভৌমিক [ Sachin Bhowmick ]

ভারতবর্ষ অনেক ব্যাপারে পিছিয়ে আছে জানি। কিন্তু কতগুলো ব্যাপারে পশ্চিম দেশের চাইতে এগিয়ে আছে। যেমন হিপি আন্দোলন। করায়ুক গিন্সবার্গ এঁরা শুরু করেছেন বলে যতই ওরা চেঁচাক আসলে বিশ্বের প্রথম হিপি হলেন আমাদের শিবে ঠাকুর। নয়? বমভোলা, চান-টান, দাড়ি কামানোটামানোর বালাই নেই। ষাঁড়ের গায়ে হেলান দিয়ে অর্ধমুদ্রিত নেত্রে গাঁজার কলকেয় টান মেরে যাচ্ছেন। বলুন, এর চেয়ে হিপি আন্দোলনের প্রতীক কি আর হতে পারে। তাহলে মানলেন তো, হিপি ধর্মের সূত্রপাত আমাদের শিব ঠাকুরই করেছেন?

এবার শুনুন আমাদের আরেক কীর্তির কথা। এই যে সারা বিশ্বে আজ ‘পাওয়ার ক্রাইসিস’ বলে আবর্জনাকে শক্তিতে রূপান্তরিত করার হিড়িক চলেছে, জন্তু-জানোয়ার ও মানুষের অপচয়কে জ্বালানী গ্যাস বা বিদ্যুতে পরিণত করা হচ্ছে,-এটা আমাদের দেশে কি নতুন কিছু ঘটনা? না। বহুযুগ থেকে আমরা কি জন্তু বিশেষের অপচয়কে জ্বালানী হিসেবে ব্যবহার করে আসছি না? বলা বাহুল্য, আমি গোবলের কথাই বলছি। ঘুঁটে কি জ্বালানী হিসেবে আমরা ব্যবহার করি না? তাহলে? পশ্চিম আর আমাদের নতুন কি জ্ঞান দিলে? বলুন?

তফাত শুধু এই যে, আমাদের জ্বালানী প্রস্তুত প্রণালী স্থূল হাতের কাজ, বলা যায় কটেজ ইণ্ডাষ্ট্রি বা হ্যাণ্ডিক্রাফ্‌ট, আর পশ্চিমের এই নব আবিষ্কার যান্ত্রিক ব্যাপার, বৈজ্ঞানিকদের মস্তিষ্ক-প্রসূত বিরাট এনার্জি মেকিং সিসটেম। গালভরা নাম বাদ দিলে মোদ্দা কথটা ভোলা যাবে না যে আমরা অনেক আগেই গোময়কে এনার্জিতে রূপান্তরিত করেছি। সেজন্যেই মনে হয় গোময়কে গোবর বলা হয়। ‘গো’এর তরফ থেকে মানবসমাজকে এটা বরদানই। গরুর দান এই ‘বর’ বলেই এর নাম গোবর। মানছেন কিনা?

মানুষের দেহজ অপচয়ের নাম বদলে এখন গোবর-এর মতই রাখা হোক ‘নরবর’। নড়বড়ে প্রপোজাল ভেবে আমার সুপারিশ অগ্রাহ্য করবেন না। সভ্যতার অগ্রগতিতে নবসমাজের এই নোংরা যখন বরদানের মতই মহৎ শক্তি রূপে প্রতিভাত হচ্ছে তখন কেন এর নাম বদলে নরবর রাখা হবে না। পণ্ডিতরা ভেবে দেখুন। নারী সমাজ যদি আপত্তি তোলেন,কেন নামকরণে শুধু ‘নর’ থাকবে। এ কল্যাণ কর্মে আমাদের দান কি কম? তাহলে অবশ্য আরেকটু ভাবতে হবে। ভাষা-বিদ্‌রা অচিরাৎ ভাবতে শুরু করে দিন। ‘পায়ুধ’ কেমন নাম? পায়ূ নিঃসৃত আয়ুধ তো বটে। ভাষা ব্যাকরণ ভুল থাকলে শোধরাবেন ভাষাবিদ্‌রা। আমি নাগরিক হিসাবে শুধু আমার সামান্য সাজেসান জানালাম।

[ এনার্জি [ Energy ] – শচীন ভৌমিক [ Sachin Bhowmick ]

সব পুরুষরাই জানেন এমন একটা বয়স আসে ছেলেদের জীবনে, যাকে বলা হয় বয়ঃসন্ধি। তখন সব মেয়েদের ভাল লাগতে শুরু হয়। সে এত বেশি ভাল লাগা যে মেয়ে মাত্রই মনে হয় পবিত্র সুন্দর নম্র সৌন্দর্যের এক দেবী। আমাদের ছেলেদের মত মেয়েরাও এইসব দৈনন্দিন নোংরা কাজগুলো করে ভাবাই যায় না? মনে হয়, অসম্ভব, মেয়েরা এসব কখনই করতে পারে না। রূপের স্বর্গীয় সুষমার আধার ওরা। আর সে স্বর্গে মলমূত্রের প্রবেশ নিষেধ। ওরা সুন্দর, সুন্দর আর সুন্দর। ভাবতেই পারা যায় না আমাদের মত মেয়েদেরও লোয়ার ইণ্টেস্টাইন, কলোন, বাওয়েল, রেকটাম্‌ ও এনুস আছে।

ভাবাই যায় না ওদেরই কিডনি, ব্লাডার ও য়ুরেখা আছে। ছিঃ ছিঃ অসম্ভব। আমি অবশ্য মেরিলিন মনরো, এলিজাবেথ টেলর, এসথার উইলিয়ম্‌স, মধুবালা, মীনাকুমারী, সুরাইয়া, সন্ধ্যারাণী সম্পর্কে ভাবতেই পারতাম না। সে কতদিন আগের কথা। এ যুগেও হয়তো আপনি এমন সরল নিষ্পাপ বয়ঃসন্ধির ছেলে পাবেন যারা মমতাজ, শর্মিলা, আশা পারেখ, হেমা মালিনী, জিনত আমন বা ডিম্পল্‌ সম্পর্কে এমন কথা ভাবতেই পারে না!

‘রাত ভ’রে বৃষ্টি’ উপন্যাসে বুদ্ধদেব বসু এই বয়ঃসন্ধির যন্ত্রণার বাস্তব একটি চিত্র এঁকেছেন। ছেলেদের সেই বেদনার্ত মানসিকতার কথা আর কোন লেখক এমন সঠিক বর্ণনা করেছেন বলে আমার মনে হয় না। উনি লিখেছেন “জানি না সব ছেলেরই ওরকম হয় কিনা, কিন্তু বয়ঃসন্ধির সময়টাতে আমি বড্ড কষ্ট পেয়েছিলুম।” চৌদ্দ বছরের নায়কের প্রথম প্রেম, ঠিক প্রেম নয়, প্রথম স্বপ্ন-রঙিন প্রেয়সী হল কুসুম। উনি একদিনের কথা লিখেছেন -“কিন্তু ভোলা যায় না সব মেয়েরই শাড়ি জামার তলায় শরীর আছে। কুসুম-এমন কি কুসুমেরও।

হয়তো ক্লাশে বসে আছি, মাস্টারমশাই ফরাসী বিপ্লব পড়াচ্ছেন, হঠাৎ আমার মনের সামনে ভেসে উঠল একটি ছবি : বাথরুমে কুসুম খুব নির্দোষ ও প্রয়োজনীয় ও স্বাস্থ্যকর কাজ করছে, ওসব কাজ তাকেও করতে হয়,আর অমনি করেই শাড়ি তুলে ধরতে হয় তখন! আমি মনে মনে চিৎকার করি-‘না, না। এ আমি মানব না, এ মিথ্যে, এ অসহ্য।’ দুই হাতে আঁকড়ে ধরি বাতাসের মত অন্য এক কুসুমকে- শাদা লম্বা পোশাক তার পরনে। এক পুরোন বাড়ির বড় বড় অন্ধকার ঘরে স্বপ্নের মত তার ঝিলিমিলি।” ‘রাত ভ’রে বৃষ্টি’ -বুদ্ধদেব বসু।

[ এনার্জি [ Energy ] – শচীন ভৌমিক [ Sachin Bhowmick ]

চমৎকার। সত্যি, সে বয়েসে ভাবাই যায় না যে মেয়েরাও ‘ওসব কাজ’ করে। তখন হৃদয়ের চোখ দিয়ে দেখি পৃথিবী, আর সে কাঁচা হৃদয়ের সমস্ত আকাশটাই রূপ, গন্ধ, আর বর্ণে স্বর্গীয়। মেয়েরা তখন তিলোত্তমা। আর তিলোত্তমারা কি কোনদিন বাথরুমে যেতে পারে? কক্ষনো না।

সাহিত্য আলোচনা করতে গিয়ে মনে হল, এই দুঃসাহসিক বন্ধনহীন পারমিসিভ সমাজে সেক্স সাহিত্যে শিল্পে সিনেমায় ঢুকে পড়েছে বাঁধভাঙা বন্যার মত। নগ্নতা ও যৌবনতার ছড়াছড়ি সর্বত্র, কিন্তু বাথরুমে বেচারা ‘নান’-ও ঢুকতে পারে নি সেখানে। জন আপডাইকের ‘কাপল্‌স্‌’-এ, হ্যারল্ড রবিন্স-এর ‘দি বেটসী’তে উল্লেখ আছে এক-আধটু, তাও বেশ ভয়ে ভয়ে। কারণ আমাদের জীবনেও এই কর্ম দুটির গোপনীয়তা অস্বীকার করা যায় না। সেজন্য ‘ল্যাট্রিন’ বা ‘ল্যাভেটরী’ কমই লেখা থাকে। তার বদলে দেখবেন-টয়লেট, ক্লোক রুম, রেস্ট রুম, পাউডার রুম, জেণ্টস্‌, লেডিজ, কিংস্‌, কুইন্স, হিজ, হারস্‌, ইত্যাদি হরেক রকম লেখা থাকে। আগে বলা হত আউট-হাউস।

ইংরেজী শ্ল্যাং-এ ও লু, ক্যান, থোন বলা হয়। সবগুলোই শ্লীলতার মুখোশ আঁটা নাম। ছেলেরা যদি বা ‘বাথরুম যাব’ বলে কখনও, মেয়েরা অন্যদের বাড়িতে ব্লাডার ফেটে গেলেও বলবে না যে বাথরুম পেয়েছে। সেজন্যেই একজন ডাক্তার বলেছেন, ছেলেদের কিডনি খারাপ হয় অ্যাল্‌কোহলে, মেয়েদের খারাপ হয় লজ্জায়। খাঁটি সত্যি কথা। বিদেশী মেয়েদের চাইতে আমাদের দেশের মেয়েরা আরও বেশি লাজুক। আমাদের দেশের মেয়েরা মেমসাহেবদের মত ফ্রাঙ্ক নয়।

অবশ্য একদিন কি বেচারীরা জানত যে একদিন এই ফ্রাঙ্ক থেকে বিরাটা শক্তির দানব ফ্রাঙ্কেস্টাইন জন্ম নেবে। কেরোসিনের বদলে মূল্য পাবে এই মূত্রশক্তি যা অবসিন্‌। এটমের চাইতেও শক্তিশালী হয়ে উঠবে আমাদের বটম্‌! Tale of two Cities এর চাইতে বড় হয়ে উঠবে আমাদের এই Tail of Electricity! জেনিটাল-ই হয়ে উঠবে আমাদের ক্যাপিট্যাল। নিতম্ব হয়ে উঠবে শক্তির জয়স্তম্ভ। নেশনের জন্য একদিন প্রয়োজন হবে প্যাশনের নয়, নেহাতই পেছনের।

[ এনার্জি [ Energy ] – শচীন ভৌমিক [ Sachin Bhowmick ]

এই নবশক্তির আর্বিভাব হবে অচিরাৎ-আগে থেকে এই সত্য যে দেখতে পায় সে-ই তো দার্শনিক, সত্যিকারের শিল্পী, সত্যদ্রষ্টা। বার্নাডো বার্টোলুসি কি সেইজন্যই প্রস্তুত করেছেন তাঁর বিখ্যাত বিতর্কমূলক চিত্র ‘লাস্ট ট্যাঙ্গো ইন প্যারিস’? কেননা শিল্পীর অন্তর্দৃষ্টি দিয়ে উনি বুঝতে পেরেছিলেন যে নতুন যে কাল আসছে তাতে নায়ক নায়িকাকে হৃদয় দেখাবে না, পেছন দেখাবে। নায়ক নায়িকা পার্কে বা বাগানে সাক্ষাৎ করবে না, সাক্ষাৎ করবে বাথরুমে। কেননা, কর্মক্ষম হার্টের চাইতে, কর্মচঞ্চল ব্লাডারের দাম বেড়ে যাবে। সেইজন্যেই আগামী কালের সেই নায়িকা জেনি বাড়ি ভাড়া নিতে এসে দেখে সেখানে নায়ক পলও বাড়ি ভাড়া নেওয়ার জন্য ঘর-টর ঘুরে ঘুরে দেখছিল। দুজন দুজনের নাম জানে না। জিজ্ঞেসও করে নি।

পল (মার্লন ব্রাণ্ডো) মেয়েটার, মেয়েটার মানে জেনির (মারিয়া স্নাইডার) শরীরের প্রতিবিম্ব দেখছিল কাঁচের ওপর। জেনি ওতে লজ্জা পাচ্ছিল আবার ওর ভালও লাগছিল। এইবার আসুন লেখকের ভাষায়-

I wonder who Lived here, She said, It’s been empty for a long time. She stepped out in the corridor, and walked back towards the bathroom. She thought he would follow, but she heard the footsteps in the direction of the kitchen.(গাধা কোথাকার!) Jeanne paused to pat her hair, and to glace at her make up in the mirror.(মেয়ে আয়না দেখে দাঁড়াবে না,এ হতে পারে ?) Then in asudden daring moment, she pulled down her pant, raised her coat and skirt, and sat on the toilet.

(বুঝুন কি কাণ্ড! কি ফ্রাঙ্ক মেয়ে দেখুন।)

She know it was outrageous thing to do without locking or even closing the door, that possibility exhilarated her. She was terrified that he might find her there, at same time hoped that he would. The Last Tango in paris by Robert Alley. Page 10

[ এনার্জি [ Energy ] – শচীন ভৌমিক [ Sachin Bhowmick ]

জেনি আতঙ্কিত ছিল যে খোলা দরজা দিয়ে পল এক্ষুনি ঢুকে পড়ে তার এই কাণ্ডটা দেখে ফেলতে পারে। কিন্তু মনে মনে আশাও করছিল যে পল এসে দেখুক তার কাণ্ডখানা। এবার বলুন, এই মেয়ে এত নির্লজ্জ হয়েছে কেন? কারণ সে একালের মেয়ে। সে জানত এই বর্জনীয় জলই কিছুদিন পরে হয়ে উঠবে গর্জনীয় গজল, হিসিই একদিন হিষ্ট্রি তৈরি করবে, এই ইউরিনই হয়ে উঠবে ইউনিক। পস্টেরিয়রই একদিন হয়ে উঠবে সুপিরিয়র।

এখন আমি বুঝতে পারছি ‘লাস্ট ট্যাঙ্গো ইন প্যারিস’ ছবি হিসেবে সারা জগতে এত হৈচৈ কেন ফেলে দিয়েছে। কারণ সোজা। এই প্রথম মোশন পিকচার তৈরি হয়েছে যাতে নায়িকার ইমোশন নয়, মোশন দেখানো হয়েছে ছবিতে। নায়িকার নগ্ন পাছা মানে bum দেখিয়ে পরিচালক বলছেন যে আগামীকালের নরনারী বামপন্থী হবে না, হবে bum পন্থী। Assই হবে আমাদের Asset, আমাদের back ই হবে আমাদের bank. প্রতি মানুষের বস্তিদেশে রয়েছে এক একটি শক্তির ঐরাবত, রয়েছে হস্তী। পাঁকেই রয়েছে পদ্ম।

দেখবেন এইবার পেটরোগ মেয়েদের বিয়ের বাজারদর বেড়ে যাবে। ডাইবেটিস ছেলেদের গুণাবলীর মধ্যে গণ্য হবে। হয়তো কাগজে পাত্রপাত্রী সংবাদে পড়বেন -“পাত্রী ব্যানার্জী। উজ্জ্বল শ্যামবর্ণ, স্বাস্থ্যবতী বি এ। বয়সে কুড়ি। ইঞ্জিনিয়ার, চার্টার্ড অ্যাকাউণ্টেণ্ট বা সরকারী নাম্বার ওয়ান অফিসার পাত্র চাই। পাত্রীর বিশেষ গুণ হল জন্মাবধি ক্রনিক ডিসেন্টির রোগী। ডাক্তারের সার্টিফিকেট দেখাতে প্রস্তুত।”

[ এনার্জি [ Energy ] – শচীন ভৌমিক [ Sachin Bhowmick ]

বা পাত্রী চাই কলামে বিজ্ঞাপন থাকবে-

“পাত্র ত্রিশ বৎসর বয়স্ক। কলকাতায় নিজস্ব বাটী আছে। ব্যবসায়ী। মাসিক আয় দু’হাজার টাকা। পূর্ব স্ত্রী মৃত। একটি মাত্র কন্যা রয়েছে। হেরিডিটরী ডায়াবেটিস। পাত্রের এই ডায়াবেটিসের জন্য মাসে উপার্জন আরও তিনশত টাকা। পাত্রী ডায়াবেটিস রোগিণী হইলে অসবর্ণেও আপত্তি নেই। নিজস্ব ফোটো ও একটি শিশিতে ছ’আউন্স ইউরিন সহ পত্র লিখুন। অঘ্রানেই বিবাহ। পোস্ট বক্স ৪২০। লোকবার্তা, কলকাত-০”

হাসবেন না, এই যুগ এল বলে। ডায়ারিয়া আর ডায়াবেটিস বর ও কনের বিশেষ উপার্জন ক্ষমতা হিসেবে ধরা হবে। রূপ বর্ণনায় মেয়েদের ৩৬´´ ২২´´৩৬´´ ইঞ্চিতে চলবে না, আরও দুটো অঙ্ক যোগ হবে। হয়তো ছাপা হবে– বুক ৩৬´´ ইঞ্চি, কোমর ২২´´ ইঞ্চি নিতম্ব ৩৬´´ ইঞ্চি। দৈনিক স্থুল আবর্জনা বর্জন : ৫ কেজি। দৈনিক জলীয় আবর্জনা বর্জন : ১৫ লিটার।

স্বভাবত এই মেয়েই বিউটি কমপিটিশনে ‘বিউটি কুইন’ হবে। হয়তো দেখবেন কনস্টিপেটেড সুন্দরী। মেয়েদের জন্য পাত্রই জুটছে না। হঠাৎ কোষ্ঠকাঠিন্য রোগে আক্রান্ত হওয়ার অপরাধে স্বামী স্ত্রীকে ডাইভোর্সই করে বসল। সব সম্ভব। পার্গেটিভ, লাক্সিটিভ ব্লাকে কিনতে হবে। বিয়ার ও ডাবের দাম বেড়ে যাবে।

হাসপাতালে হাসপাতালে ব্লাড ব্যাঙ্কর কত থাকবে Stool Bank. পথে পথে বিজ্ঞাপন দেখতে পাবেন We need your stool give them generously. হয়তো আপনাকে উৎসাহিত করার জন্য বিষ্ঠার অসীম ক্ষমতার কথা পদ্যেও ছাপা হবে। তাই পথের মোড়ে মোড়ে দেখবেন বোর্ড।

তাতে লেখা – More stool meanmore school.

অথবা ক্যানেডী স্টাইলে—

Don’t ask how mech water the Government can supply,Ask how much water you can supply to the Government

অথবা

Don’t be in haste
And waste your waste
Unload your load
In energy commode.

[ এনার্জি [ Energy ] – শচীন ভৌমিক [ Sachin Bhowmick ]

প্রেম করবার ধারাও বদলে যাবে। ধরুন সমীর ও বিশাখার বেশ ভাব, কিন্তু সমীর এখনো বিয়ের প্রপোজাল দিয়ে ওঠে নি। সাহস হচ্ছে না। একদিন সমীর বিশাখাকে তার ব্যাচেলার ঘরে ডেকে পাঠাল। ইচ্ছে, আজ তার হৃদয় উজার করে ভালবাসা জানাবে। বিয়ের প্রস্তব রাখবে। অফিস থেকে ফিরে বাড়িতে সমীর বসে আছে। বিশাখার দেখা নেই। এমন সময় সমীরের বাধরুমের দরজা খুলে বেড়িয়ে এল বিশাখা।

সমীর : তুমি এখানেই ছিলে?
বিশাখা :এক ঘণ্টা আগে এসেছি। বাথরুম গিয়েছিলাম।

সমীর : সত্যি তোমার চোখ-মুখ উজ্জ্বল লাগছে। লাক্স ব্যবহার করেছ বুঝি?
বিশাখা : না গো, পার্গোলাক্স ব্যবহার করেছি। এই গত এক ঘণ্টায় তিনবার গিয়েছি তোমার বাথরুমে।

সমীর : সত্যি? বিশাখা, এ ঋণ আমি কি ভাবে শোধ করব? আমার কমোডের কি সৌভাগ্য আজ যে তুমি বসেছিল। তিন তিনবার। বিশাখা,এমন হয় না যে সারা জীবন তুমি আমার কমোড আলো করে বসে থাক?
বিশাখা : সমীর মাই ডার্লিং, তুমি কি আমাকে বিয়ের প্রস্তাব দিচ্ছ?

সমীর : হ্যাঁ, তোমার উত্তর কি? হ্যঁ কি না?
বিশাখা : বাচ্চা ছেলে, যেন আমার মন তুমি বুঝতে পার নি। আমি তোমাকে ভালবাসি। তোমাকে বিয়ে করতে চাই।

সমীর : বিশাখা—
সমীর বিশাখাকে জড়িয়ে ধরে ঠোঁটের উপর ঠোঁট নামিয়ে আনল এয়ার পোর্টে ল্যাণ্ডিং-এর জন্যে নেমে আসা জেট বিমানের মত। কিন্তু বিশাখা ওকে সরিয়ে দিয়ে বলল, একটু পরে সোনামণি, আমি আরেকবার বাথরুম ঘুরে আসি।

বিশাখা বাথরুমে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দিল। আর মুগ্ধ নয়নে সে বন্ধ দরজার দিকে তাকিয়ে রইল সমীর। দেখে বোঝা যায় যে বিশাখার বাচনযন্ত্রের চাইতে রোচনযন্ত্রেরর চমৎকারিতায় বিমুগ্ধ ও।
দেখলেন তো লাভ-সিন্? সে যুগ এল বলে। অন্ধের মত আমরা স্থলে, জলে, মাটির নিচে, অন্তরীক্ষে শক্তির উৎস খুঁজে বেড়াচ্ছিলাম।জানতামই না যে ধুমকেতুর মত আমাদের পুচ্ছে এত শুক্তি ছিল, ছিল এত অগ্নি।

[ এনার্জি [ Energy ] – শচীন ভৌমিক [ Sachin Bhowmick ]

হনুমান পুচ্ছাগ্নির তেজ দেখিয়েছিলেন তো ত্রেতা যুগে? এবার কলি যুগে সব মানুষই এক একটি হনুমান। কন্তুরী মৃগের মত এতদিন শুধু বৃথা হন্যে হয়ে খুঁজে মরেছি। এখন সে শক্তি আয়ত্তগত হয়েছে। অপচয়ের জয় হোক। নিষ্ঠার সঙ্গে বিষ্ঠা করুন। রিফুইজীর মত পেট্রলের জন্য হাত পাতব না আমরা। আমরা নিজেদের refuse থেকেই তৈরি করব huge energy.
আমরা stoolকেই tool বানিয়ে এগিয়ে যাব।

Arse কে ঘৃণা না করে আমরা ভাবব আমাদের Arseই মহাকাব্যের varse, কোন ডাইনীর curse নয়। সুতরাং মাভৈ।

[ এনার্জি [ Energy ] – শচীন ভৌমিক ]

শচীন ভৌমিক কে আরও পড়ুন:

মন্তব্য করুন