চিফ বিলিফ অফিসার

চিফ বিলিফ অফিসার !

হা এরকম ডেজিগনেশন হয়।

কিশোর বিয়ানি যখন দেবদূত পাটনায়েক কে হায়ার করেন, তখন কিশোর জানতেন না দেবদূত কে কোথায় ব্যবহার করবেন।

কিশোরের শুধু মনে হয়েছিল লোকটা যেকোনো পরিস্থিতিকে ইতিহাস, মিথলজি, লোককাহিনী ফ্রেমে বসিয়ে ব্যাখ্যা করতে পারে, Contextualize করতে পারে।

সে চট করে রিলেট করে দিতে পারে – ঠিক সময়ে অফিসে আসা-যাওয়া করে, কিন্তু প্রতিষ্ঠানের ইন্টারেস্ট কাজ না করা লোকটা আসলে “দুর্যোধন”। সেজন্য তাকে নিয়ন্ত্রণ করতে হলে প্রয়োজনে মর্যাদার সীমা পার করা কেন জরুরী?

রিলেট করতে পারে – উদ্যোগ কিভাবে যজ্ঞ? তার জজমান কে, আর ঋত্বিক কারা?
প্রতিষ্ঠান কিভাবে রাজ্য? প্রধান নির্বাহী আসলে রাখাল রাজা, কেন ধৃতরাষ্ট্রর মত রাজা নায়?
প্রধান নির্বাহীকে কেন বিষ্ণু চরিত্রের হওয়া জরুরী?
ত্রেতার বিষ্ণু আর দ্বাপরের বিষ্ণু কেন-কিভাবে আলাদা? কেমন হওয়া দরকার আজ?

গ্রীক মনস্তত্ব, বিবলিকাল মনস্তত্ব, ভারতীয় উপমহাদেশের মনস্তত্বের মিল-পার্থক্য কোথায়? সেটা কিভাবে আমাদের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করে? রিলিজিয়ন, দ্বীন ও ধর্মের মুল বিশ্বাস ও সাংস্কৃতিক পার্থক্য কিভাবে আমাদের আচরণকে প্রভাবিত করে?

আমাদের আপেক্ষিক মনস্তত্বের সাথে বাইনারি শিক্ষার যুদ্ধ কোথায়?

কিশোর নাস্তিক। কিন্তু মিথলজির গল্প তাকে মুগ্ধ করতো, সাংস্কৃতিক কারণে ভারতীয় উপমহাদেশের অধিবাসীদের উপরে মিথলজির প্রভাবের শক্তি বুঝতেন।
তিনি দেবদূত কে দায়িত্ব দেন তার রিটেইল চেইনের স্বপ্নের গল্প কর্মীদের বিশ্বাস করানোর। ১০০০ আউটলেটের রিটেইল চেইন তখন ভারতে নতুন। রিটেইল এর ডিসিপ্লিন ৩০ হাজার কর্মীর মধ্যে ঢোকানো একটা বিরাট চ্যালেঞ্জ ছিল। সেটা সমাধান করতে বিশ্বাস বদলাতে হবে।
কারণ বিশ্বাস প্রভাবিত করবে ব্যবহারকে, তার প্রভাবে প্রভাব পড়বে করাবারে।

দেবদূত সেই কাজটা করতে দেয়া হয়, ডেজিগনেশন দেয়া হয় “চিফ বিলিফ অফিসার”।

কিশোর-দেবদূত সফল হয়েছিলেন। তারা ১০০০+ রিটেইল খুলে লাভজনক করেছিলেন। পরে করোনাকাল সার্ভাইভ করতে পারেনি সেটা ভিন্ন প্রসঙ্গ।

নতুন কোন কিছু নিয়ে ভয় পাওয়াটা আমাদের পশু প্রবৃত্তি। এই প্রবৃত্তি আমাদের টিকে থাকতে সাহায্য করেছে, তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। কিন্তু সামনে আগাবার জন্য বারবার এই প্রবৃত্তিকে পরাজিত করতে হয়েছে।
আদিম সেই প্রবৃত্তি আমাদের সবসময় স্ট্যাটাসকো রাখতে বলবে। কিন্তু তাকে পরাজিত করে নতুন নতুন ধারনা নিয়ে কাজ করলেই সামনে আগাবে।