জানাজায় হাজির মানুষের সংখ্যা দিয়ে কি হিসাব হয়?

গোলাম আজমের জানাজায় সত্যিই অনেক মানুষ ছিলো। বায়তুল মোকাররম ছাড়িয়ে জনসমুদ্র উপচে পড়েছিলো পাশের রাস্তাগুলোতেও। দেশে-বিদেশে গায়েবানা জানাজা হয়েছে। জানাজার জনসমাগম দেখে পণ্ডিতেরা নানা ধরনের বিশ্লেষণ করলেন আর সিদ্ধান্ত টানলেন। কেউ আবিষ্কার করলেন ব্যক্তি হিসেবে তার জনপ্রিয়তা, কেউ খুঁজে পেলেন নেতা হিসেবে তার উচ্চতা, কেউ মেপে দেখলেন মুসলমান হিসেবে তার উচ্চতা, আবার কেউ বুঝলেন পেয়ারা বান্দা হিসেবে তার উপরে আল্লাহর রহমতের ওজন।

এসব বলে তারা যে উদ্দেশ্যে, তা একটু পরেই পরিষ্কার হয়ে যায়। অবধারিতভাবে তারা টেনে আনেন বঙ্গবন্ধু, জাতীয় নেতাসহ জাতীয় বীরদের প্রসঙ্গ। কীভাবে তাঁদের মৃত্যু হয়েছে, তাঁদের জানাজায় কতো কম সংখ্যক মানুষ হয়েছিলো, সেইসব বলে তাঁদের জানাজায় উপস্থিত মানুষের সংখ্যা দিয়ে তাঁদের জনপ্রিয়তার অভাব প্রমাণ করার চেষ্টা করে। এই পণ্ডিতেরা আরো বলে নেতা হিসেবে তাঁরা কতোটা অজনপ্রিয়, মুসলিম হিসেবে আল্লাহ তাঁর রহমত থেকে তাঁদেরকে কতোটা বঞ্চিত করেছেন, ইত্যাদি।

ধর্ম যাদের রাজনীতির হাতিয়ার, তাদের তো অন্তত ধর্মটাকে ভালোভাবে জানা উচিত। ধর্ম ব্যবহার করে বড়ো নেতাদেরকে ছোট বা পলাতক সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে মহামানব প্রমাণ করার চেষ্টা করে তারা যে ধর্মের কতোটা অবমাননা করছে, সেই বিষয়টাই একটু তুলে ধরতে চাই।

এই ধর্মব্যবসায়ীরা কি জানে যে, আল্লাহর সবচেয়ে পেয়ারা বান্দা আমাদের প্রিয় বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর জানাজায় কতোজন মানুষ হয়েছিলো? নাকি জেনেও তারা ইচ্ছাকৃতভাবেই এ ধরনের অসত্য কথা বলে?

মহানবী (সাঃ)-এর ওফাতের পর তাঁর দেহ মোবারক প্রায় দেড় দিন পড়ে ছিলো। এরপর অল্প কয়েকজন কুরাইশ ও খুব নিকটস্থ কয়েকজন অন্য বংশীয় সাহাবা তাঁকে দাফন করেন। একটি ছোট্ট ঘরে তাঁর জানাজা হয়। দেশে-বিদেশে কোথাও গায়েবানা জানাজা হয়েছে বলে জানা যায়না। প্রায় নীরবে নিভৃতে দাফন হয় পৃথিবীর সবচেয়ে জনপ্রিয় মানুষ, সবচেয়ে বড়ো নেতা, শেষ নবী এবং আল্লাহর সবচেয়ে প্রিয় বান্দার। তাতে কি তাঁর সম্মান সামান্যতমও ক্ষুণ্ণ হয়েছে? মহামানব হিসেবে তাঁর উচ্চতা নিয়ে কেউ কোনো প্রশ্ন তুলতে পারবে?

তাই জানাজায় উপস্থিত লোকসংখ্যা দিয়ে ব্যক্তির উচ্চতা মাপা হলে আমাদের মহানবীকে কি ছোট করা হয় না (নাউযুবিল্লাহ)? এই কথার মধ্যে দিয়ে তারা কি এটাই বলতে চায় যে, তাঁর চেয়ে গোলাম আজম বড়ো (আস্তাগফিরুল্লাহ)?

আমাদের মতো সাধারণ মানুষ, যারা ধর্মকে ব্যক্তিগত জীবনাচরণের বাইরে টেনে আনেন না, তাঁরা আলেম-ওলামা নন বলে হয়তো কখনো কখনো ভুল করে ফেলেন নিজের অজ্ঞাতেই। কিন্তু তাঁরা জানেন, আল্লাহ মহান, পরম দয়ালু ও ক্ষমাশীল; তিনি ক্ষমা করে দেবেন তাঁর সৃষ্টির তুচ্ছ অপরাধ।

কিন্তু জামাত-বিএনপির যারা স্বঘোষিত ইসলামের ধারক-বাহক, মানুষকে যারা আস্তিক-নাক্তিক-মুরতাদ বলে রাত-দিন রায় দেয়, তারা মাফ পাবে কীভাবে? কোন অজুহাতে?

 

ফেসবুক লিংক: https://www.facebook.com/Sufi.Faruq.Ibne.Abubakar/posts/1035541373129628

Read Previous

প্রযুক্তিতে বাংলাদেশের হাট কর্মসূচির লিফলেট

Read Next

কারিগরি শিক্ষার্থীদের জন্য নোট (ইঞ্জিনিয়ারিং ড্রইং – ১ম পর্ব)