ধর্ম রক্ষায় প্রাণপাত করা লোকগুলো এখন কই?

কোথায় সব ধর্মের সেল্প প্রক্লেইমড রক্ষক?
ধর্ম-অনুভূতিতে আঘাতের বিরুদ্ধে – মামলা কই, মিছিল কই?

নাকি ভাবতে হবে জামাত ধর্ম নিয়ে যা খুশি করার লাইসেন্স পেয়েছে। তাই ওরা ধর্মকে প্রয়োজনে ধর্ষণ করলেও পাপ নাই।
অথচ অসংখ্য মুসলিমের সাথে – দু একজন – হিন্দু, বোধ্য, খৃষ্টান ও নাস্তিকের রাজাকারের বিচার চাওয়া অপরাধ।

আমাদের কি ভেবে নিতে হবে যে – নিচের কাজগুলোর একটাতেও ধর্ম-অনুভূতিতে আঘাত হয়নাই?

১. চাঁদে কারও চেহারা দেখা যাচ্ছে বলে মসজিদের মাইক থেকে চাঁদ দেখতে আহবান।
২. ধর্ম-অনুভূতির সুড়সুড়ি দিয়ে সাধারণ মানুষকে ঘর থেকে বের করা, সেই সমাবেশের পিছন থেকে পুলিশের দিকে গুলি চালানো। ধর্মীয় ধোঁকা দিয়ে সাধারণ মানুষকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়া।
৩. হয় রসূলে (সা:) এর পক্ষে, অথবা বঙ্গবন্ধুর দলের নাস্তিকদের পক্ষে – বলার মাধ্যমে জন-বিভক্তি করা। পরোক্ষভাবে রসুলের সাথে বঙ্গবন্ধুর তুলনা (নাউজুবিল্লা)।
৪. সাইদিকে বাঁচানো ইসলামিক দায়িত্ব বলে জাহির করা।
৫. শাহবাগের সমস্ত মানুষকে নাস্তিক বলে ফতওয়া দেয়া।
৬. মসজিদের মধ্যে সন্ত্রাসের উদ্দেশ্যে অস্ত্র নিয়ে প্রবেশ।
৭. মসজিদের মধ্যে দাড়িয়ে, মসজিদকে ঢাল হিসেবে ব্যাবহার করে, মানুষের উপরে হামলা (সেই হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় সবাই মুসলমান)।
৮. মসজিদের মধ্যে আগুন দেয়া, কার্পেট পোড়ানো।
৯. মুসলিম নারীদেরকে হিন্দু সাঁজায়ে মিছিল।
১০. জামাতের জঙ্গি যুদ্ধ – বদর, উহুদের যুদ্ধের সাথে তুলনা (নাউজুবিল্লা)।
১১. জামাতের প্রতিটি নেতাকে সুযোগ-মত মহানবী ও সাহাবীদের সাথে তুলনা (নাউজুবিল্লা)।

কেউ এসব বিষয়ে – বাইরে কথা বলা তো দুর, একটা ইন-বক্সও করলেন না।
অথচ শাহবাগের বিপক্ষের প্রতিটি ধর্ম বিষয়ক গুজব রটার সাথে সাথে ইন-বক্স ভরে ফেলেন।

আমি জানি, এসবের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর শক্তি আপনার নেই। আপনি এখনো ভাবেন:
– অন্যদের নিয়ে কথা বললে অন্তত পরকালের কোন ঝুঁকি নাই। জামাতিদের নিয়ে কথা বললে যদি পরকাল রিস্ক হয়ে যায়?
– শাহবাগিদের নিয়ে বাজে কথা বললে, ওরা বড়জোর ঝগড়া করে। জামাতিদের নিয়ে কথা বললে জানের রিস্ক হয়ে যায়।

কি আর বলবো?
আল্লাহ আপনাদের – সত্য বোঝা, সত্য ভাবা, সত্য বলা এবং সত্যের পাশে দাঁড়াবার হিম্মত দিন।
মিথ্যা লোভে এবং মিথ্যা ভয়ে – শয়তানের পেছনে দৌড়ানোর ওয়াসওয়াসা থেকে রক্ষা করুন।

 

 

এডিট- এসএস

Read Previous

নির্বাচনী ইশতিহারে তথ্য প্রযুক্তির ইশতিহার – ২০১৪

Read Next

রিজভী আহমেদের লেখা ডায়েরি