Breaking News :

পেশা পরামর্শ সভা | পেশা পরিচিতি | ফার্মাসিস্ট

দেশের সম্ভাবনাময় খাতগুলোর মধ্যে সবার আগে যে ক’টি শিল্পের নাম আসে তার মধ্যে অন্যতম হলো ওষুধশিল্প। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গার্মেন্টসের পরই ওষুধশিল্পের অবদান। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ছাড়াও বিশ্বের ১০৯ দেশে পৌঁছে যাচ্ছে বাংলাদেশে তৈরি ওষুধ। তাই মানসম্মত ওষুধ উৎপাদন করতে প্রয়োজন দক্ষ ফার্মাসিস্টের। এ বিষয়ে পড়ালেখা শেষ করার আগেই মিলে যেতে পারে চাকরি। তবে এ ক্ষেত্রে দক্ষতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। খুব অল্প সময়ে এখানে মেলে প্রতিষ্ঠা ও সফলতা। ওষুধশিল্পের জন্য দক্ষ জনশক্তি তৈরির লক্ষ্যেই বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে চালু রয়েছে ফার্মেসি বিভাগ। তরুণ শিক্ষার্থীদের কাছে ক্যারিয়ার হিসেবে ফার্মেসি একটি জনপ্রিয় বিষয় হয়ে উঠেছে। লিখেছেন- শামস্ বিশ্বাস

কেন ফার্মেসি?
এখন উচ্চ মাধ্যমিকের পরই একজন শিক্ষার্থী তার ক্যারিয়ার নিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়। এ জন্য কাঙ্ক্ষিত পেশা নিয়ে পরিপূর্ণ ধারণা থাকা একান্ত আবশ্যক। পছন্দের ক্যারিয়ারের জন্য কোথায় কোন বিষয়ে ভর্তি হতে হবে, ভর্তির যোগ্যতা, ফলাফল, ভর্তি পরীক্ষা প্রক্রিয়া এসব জানার প্রয়োজন। আর পড়াশোনা শেষে দেশ-বিদেশে চাকরির সুযোগ আছে কিনা, সংশ্লিষ্ট চাকরিতে বেতন বা অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা কেমন, এসব বিষয়কেও বিবেচনায় রাখতেই হবে। এসব বিষয় বিবেচনায় বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে এবং দেশের বাইরে ফার্মাসিস্ট হিসেবে ক্যারিয়ার অত্যন্ত সম্ভাবনাময় ও সমৃদ্ধ পেশা। তবে এ পেশায় আসতে হলে অবশ্যই মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে জীববিজ্ঞানসহ বিজ্ঞান থেকে অবশ্যই ভালো ফল থাকতে হবে।

পড়াশোনা :
দেশে স্নাতক পর্যায়ে ফার্মেসি শিক্ষা সবার আগে চালু হয় ১৯৬৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। এ বিশ্ববিদ্যালয় ফার্মেসি ডিপার্টমেন্ট প্রতিষ্ঠা করে দেশে নতুন ধারার পেশাভিত্তিক শিক্ষার যুগোপযোগী বিষয়ের আবির্ভাব ঘটায়। ১৯৬৪ সালে প্রতিষ্ঠিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগ পরে তিনটি বিভাগে বিভক্ত হয় এবং গড়ে ওঠে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ফার্মেসি অনুষদ হিসেবে। ১৯৮৭ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ফার্মেসিতে স্নাতক কোর্স চালু করে। এরপর একে একে প্রায় সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এই পথে হাঁটে। এ ছাড়া অধিকাংশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ফার্মেসিতে ডিগ্রি নেওয়ার সুযোগ আছে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) অনুমোদিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকা ও তথ্যের জন্য ইউজিসির www.ugc.gov.bd ওয়েবসাইটে ভিজিট করা যেতে পারে।

কাজের ক্ষেত্র :
ফার্মাসিস্টদের যে কেবল ওষুধশিল্পেই কাজের সুযোগ আছে, তা নয়; স্বাস্থ্য খাতেও তাদের সুযোগ রয়েছে কাজ করার। যেসব কাজ পাওয়া যাবে সেগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো- ওষুধ গবেষণা, প্রস্তুত, মান নিয়ন্ত্রণ, সংরক্ষণ, সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিতকরণ, বিপণনসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কাজ। ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্পে ওষুধের ফর্মুলেশন, উৎপাদন, ওষুধের মানোন্নয়ন, নিয়ন্ত্রণ ও নিশ্চিতকরণ, স্থিতিশীলতা, গবেষণাসহ নানা ক্ষেত্রে ফার্মাসিস্টরা কাজ করেন। এ ছাড়া ফার্মাসিউটিক্যাল মার্কেটিংয়ে তাদের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এর বাইরে সরকারি অফিসগুলোর মধ্যে কমিউনিটি স্বাস্থ্যসেবা, আর্মড ফোর্সেস, সরকারি হাসপাতাল, ঔষধ প্রশাসনসহ প্রশাসনিক বিভিন্ন উচ্চ পদে ফার্মাসিস্টরা চাকরি পায়। বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ফার্মাসিস্ট পদে, ক্লিনিক্যাল ফার্মাসিস্ট, ফার্মেসি ম্যানেজার ছাড়াও প্রশাসনিক ও তথ্য বিভাগে তাদের কাজের সুযোগ রয়েছে। আবার যারা শিক্ষাক্ষেত্রে জড়িত থাকতে চায়, তারা শিক্ষকতা, গবেষণা, স্বাস্থ্য রক্ষা ও উন্নয়নবিষয়ক প্রশাসনিক দপ্তরেও কাজের সুযোগ পায়।

যোগ্যতা :
ফার্মাসিস্ট হতে যে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে চার বছর মেয়াদি ফার্মেসি কোর্স ডিগ্রি নিতে হবে। এরপর এক বছর মেয়াদি মাস্টার্স শেষ করে কাজে নামতে পারে। তবে মাথায় রাখতে হবে, স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি না নিলে ফার্মেসি কাউন্সিল অব বাংলাদেশ কর্তৃক প্রফেশনাল সনদপত্র পাওয়া যাবে না!

ক্যারিয়ার বিস্তৃতি :
দেশের ফার্মাসি গ্র্যাজুয়েটরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিশেষ করে আমেরিকা, কানাডা, মধ্যপ্রাচ্য, জাপানসহ ইউরোপের নানা দেশে সম্মানের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন। বাংলাদেশ ফার্মেসি কাউন্সিলের রেজিস্টার্ড ২ হাজার ৩০০-এর ওপর ফার্মেসি গ্র্যাজুয়েটদের মধ্যে মাত্র ১ হাজারের মতো দেশের বিভিন্ন ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিতে কাজ করছে। আর বাকি প্রায় ১ হাজার ৩০০ জন ফার্মাসিস্ট পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ওষুধ বিশেষজ্ঞ হিসেবে ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করে যাচ্ছে। তাদের ৬৩ শতাংশ আবার আমেরিকায় কাজ করছে। ফার্মাসিস্টরা ড্রাগ এক্সপার্ট। তারা ড্রাগ কনসালট্যান্ট হিসেবেও কাজ করতে পারে।

আয়-রোজগার :
ফার্মেসিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে চার বছর মেয়াদি বি ফার্ম শেষে যে কোনো ওষুধ প্রস্তুত ও বিপণনকারী কোম্পানিতে এক মাসের ইন্টার্নি সম্পন্ন করতে হয়। এরপর বাছাই পরীক্ষায় যোগ্যতা প্রমাণ করতে পারলেই কাঙ্ক্ষিত চাকরি মেলে। শুরুতেই বেতন পাওয়া যায় ২৫-৩০ হাজার টাকা। তারপর আস্তে আস্তে তা ছয় মাসের মাথায় ৫০-এ গিয়ে ঠেকে। কাজ দিয়ে দুই থেকে তিন বছরের মাথায় ১ লাখ টাকাও বেতন পাওয়া সহজ এখানে!

সুযোগ-সুবিধা :
বাংলাদেশ ওষুধশিল্পে স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং ক্রমবর্ধমান এ শিল্পের মূল চালিকাশক্তি ফার্মাসিস্টদেরই হাতে। দেশে বর্তমানে প্রায় ৩০০-এর মতো ওষুধ প্রস্তুত ও বিপণনকারী কোম্পানি সক্রিয়। এসব কোম্পানি দেশের চাহিদা পূরণ করে আন্তর্জাতিক বাজারেও ওষুধ রফতানি করছে। এসব কোম্পানির প্রডাকশন, প্রডাক্ট ম্যানেজমেন্ট, প্রডাক্ট ডেভেলপমেন্ট, কোয়ালিটি কন্ট্রোল, ট্রেনিংসহ বিভিন্ন বিভাগে গ্র্যাজুয়েট ফার্মাসিস্টদের চাহিদা রয়েছে। এ ছাড়া শিক্ষকতা, গবেষণা এবং দেশের বাইরে কাজ করার সুযোগ তো আছেই।

 

 

 

এডিট- এসএস

Read Previous

পেশা পরামর্শ সভা | পেশা পরিচিতি | ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং

Read Next

পেশা পরামর্শ সভা | পেশা পরিচিতি | সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্টে