Breaking News :

প্রিয় তারুণ্য, তোমরা যা প্রমান করতে চেয়েছিলে গত ৩ দিন আগেই তা সফলতার সাথে প্রমাণ করেছো।

প্রিয় তারুণ্য,
তোমরা যা প্রমান করতে চেয়েছিলে গত ৩ দিন আগেই তা সফলতার সাথে প্রমাণ করেছো।

আমার বারবার চোখে ভাসছে সেই চাবির গোছা!
তোমরা চোখে হাত দিয়ে দেখিয়েছ – সাধারণ জনতা, সমাজের নীতি-নৈতিকতার আয়না গণমাধ্যম, মাঠে আইন প্রয়োগকারী আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, কাগজে আইন প্রয়োগকারী আমলা, আইন প্রণয়নকারী রাজনীতিবিদ, আইনের রক্ষক বিচারপতি, সবাই প্রতিনিয়ত আইন ভাঙ্গছে। কেউই আইনের প্রতি শ্রদ্ধশীল নয়। সবারই ত্রুটিপূর্ণ কাগজের কারণে ধরা পড়া, অসংখ্য গাড়ির বিশাল চাবির গোছা দেখিয়ে, তারই নগ্ন প্রমাণ দিয়ে দিয়েছো।

তোমরা তোমাদের অভিভাবকদের ত্রুটিপুর্ণ কাগজের গাড়িও ধরে প্রমাণ করেছ। তোমাদের ঘরেও রয়েছে আইন অমান্যকারী। তোমরা বুঝিয়ে দিয়েছো– আমরা সবাই একজন অন্যজনের দিকে আঙ্গুল তুলে বলছি “তুমি ন্যাংটো”। কিন্তু নিজের নেংটো দেহের দিকে তাকাচ্ছি না।

আমরা সবাই অত্যন্ত লজ্জা নিয়ে এই জাতীয় সংকটটি স্বীকার করেছি, আমাদের সবার ব্যর্থতাকে অনুভব করেছি। আমি ব্যক্তিগত ভাবে তোমাদের আন্দোলনের দাবীর সমর্থনে লিখেছি। আমাদের দল বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের বহু নেতাকর্মী সমর্থন জানিয়েছেন। বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক নিজে রাস্তায় নেমে তোমাদের দাবীর প্রতি একাত্বতা প্রকাশ করেছেন। আমাদের অভিভাবক জননেত্রী শেখ হাসিনা তোমাদের দাবীর প্রতি একাত্বতা প্রকাশ করে তোমাদের সকল দাবী দাওয়া শুধু মেনেই নেননি, বেশি কিছু বাস্তবায়ন করেছেন, বাকিগুলোর জন্য যৌক্তিক সময় নিয়েছেন। এখন রাস্তায় থাকার আর কি প্রয়োজন আছে?

তুমি আরও রাস্তায় থাকলে বিভিন্ন রকম তিক্ততা হবে, ক্রমশঃ অনেক কিছু সহিংসতার দিকে আগাবে, রাস্তায় থাকার যৌক্তিকতার অভাবে তোমাদের আন্দোলন জনসমর্থন হারাতে থাকবে, একসময় তোমাদের এই শক্তিশালী মুভমেন্ট পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যাবে।

তার উপরে আমাদের সমাজে ও রাজনীতিতে বিভিন্ন ধরনের ইন্টারেস্ট গ্রুপ আছে। তোমাদের বীরত্বকে পূজি করে, তোমাদের মুষ্টিবদ্ধ হাতকে ব্যবহার করে, তারা বিভিন্ন ধরনের স্বার্থ হাসিল করতে চাইবে। সেই লোভের তালিকা বড়। লোভীর সংখ্যাও অনেক। তোমরা সেসব লোভের ক্রসফায়ারে পড়ে বিতর্কিত হবে, হতাহত হবে। আর ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের দায় কেউ নেয় না। তোমার ক্ষতি হবে, তোমার পরিবারের ক্ষতি হবে, তোমাদের দাবী যারা সমর্থন করেছে তারা কষ্ট পাবে, লাভ হবে শিকারির।

তোমরা বয়স্কদের চেয়ে অনেক জায়গায় উন্নত নৈতিকতার প্রমাণ দিয়েছো, প্রমাণ দিয়েছো আন্দোলনের সেরা কৌশলের।
আমি অনুরোধ করি আর একবার বাস্তবতা বিবেচনায় কুশলি হও।

এখন বাস্তবায়নগুলো ওয়াদা অনুযায়ী তোমরা দেখো। নিয়মিত চোখ রাখো। বাস্তবায়ন না হলে প্রয়োজনে আবার নামো। আর তোমার ঘরে যে আইন অমান্যকারী ব্যক্তি আছেন, তার বিরুদ্ধে যুদ্ধটা শুরু করো। যুদ্ধটা চলুক প্রতিদিন। নীতি নৈতিকতা ঠিক রেখে, সিস্টেমেটিক,অহিংস যুদ্ধ।

সেটা যদি কার্যকর না হয়। আবার দেখা হবে রাজপথে।
ওয়াদা করলাম, এক সাথে থাকবো।

মনে রেখো –
তুমি আর ভবিষ্যৎ হাত ধরে যাচ্ছ পরস্পর
সর্বত্র তোমার পদধ্বনি শুনি, দুঃখ তাড়ানিয়া
তুমি তো আমার ভাই, হে নতুন, সন্তান আমার

তোমাদের জয় হোক।
তারুণ্যের জয় হোক।
জয় বাংলা।
জয় বঙ্গবন্ধু।
বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।

#নিরাপদ_সড়ক_চাই

Read Previous

আমি একসময় আমার এলাকার টোল ব্রিজে টোল দিতাম না।

Read Next

প্রিয় তারুণ্য, এখন ঘরে ফিরে মুল যুদ্ধটা করো।