Breaking News :

বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ গৃহীত দলীয় নতুন ঘোষণাপত্র নিয়ে তৃনমূলে মতবিনিময়

বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ এর ২০ তম জাতীয় কাউন্সিলে গৃহীত দলীয় নতুন ঘোষণাপত্র নিয়ে, বাগুলাট ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ এর মতবিনিময় সভা করেছেন কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামীলীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক, কুমারখালী-খোকসার কৃতি সন্তান গুরুকুল প্রমুখ তথ্যপ্রযুক্তবিদ সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর। সুফি ফারুক এর নিজস্ব বাড়ি “অন্নপূর্ণা” প্রাঙ্গণে উক্ত মত বিনিময় সভার আয়োজন করে কুমারখালী উপজেলার ৭নং বাগুলাট ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ।

সভার শুরুতে সুফি ফারুক বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ গৃহীত দলীয় নতুন ঘোষণাপত্র তৃনমূল নেতা কর্মীদের সাথে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি ঘোষণাপত্রের চুম্বক অংশগুলো পড়ে শোনান ও দলে এই যুগান্তকারি ঘোষণাপত্রের বাস্তবায়নে দলের নেতাকর্মীদের ভূমিকা রাখার বিষয়ে করনিয় ব্যাখ্যা করেন। ঘোষণাপত্রের বিষয়ে কর্মীদের প্রশ্নের উত্তর দেন।

এরপর ছিল তৃনমূলের নেতাকর্মীদের দুঃখ দুর্দশার অভিযোগ শোনার পালা। তিনি ধৈর্য সহকারে সব পর্যায়ের নেতা কর্মীদের বক্তব্য শোনেন। এরপর উত্তর পর্বে তিনি বলেন-
“মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন আপনারা তৃণমূল আওয়ামীলীগ এর নেতাকর্মীরা বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ এর প্রাণশক্তি। আপনারা বাংলাদেশ আওয়ামীলীগকে ধরে রেখেছিলেন, ভবিষ্যতেও রাখবেন।

আমার মতো তরুণদের অনেককেই বিশেষায়িত কাজে দলের পদ বা অফিস দেয়া হয়েছে। কিন্তু আমরা এখনও আওয়ামীলীগ নামের বিল্ডিঙের ফার্নিচারের মতো। আমরা দরকারি বটে, তবে বদল যোগ্য। কিন্তু আপনাদের মতো তৃনমূলের দীর্ঘ সময়ের ত্যাগী নেতাকর্মীরা হলেন সেই বিল্ডিং এর পিলার। পিলার ছাড়া বিল্ডিং চিন্তা করা সম্ভব নয়। আমাদের আপনাদের মতো পিলার হতে অনেক দিন লাগবে।

জননেত্রী শেখ হাসিনার মনোনয়নে আজ অনেকেই চেয়ারম্যান-এমপি-মন্ত্রী হয়েছেন। তারা দলের দায়িত্ব সততার সাথে পালন না করলে, রাতের অন্ধকারে আবার হারিয়েও যাবে। বহু উদাহরণ আছে আমাদের চোখের সামনে। আপনারা বললেন নির্বাচিত হবার পরে কেউ কেউ দলীয় কর্মীদের সমান চোখে দেখছে না, কর্মীদের মধ্যে পক্ষপাতিত্ব করে, আন্ত-কোন্দলকে প্রশ্রয় দেয়, মাই ম্যানের রাজনীতি করে, কর্মীদের দু:খ দেয়, দুর্নীতি-স্বজনপ্রিয়তা করে, আওয়ামীলীগের পরিক্ষিত কর্মীদের সরিয়ে হাইব্রিড-বিএনপি-জামাত-শিবির কে প্রশ্রয় দেয়। আপনারা জেনে রাখবেন তার আয়ু হবে দলে বা সরকারে ৩ বছর বা ৫ বছর। এত গুরুত্বের সরকারি পোস্ট হারিয়ে যাবে। এলাকায় আসার মুখও থাকবে না।

আপনারা জানেন নেত্রী চাননা দলকে সরকারের সাথে মিশে যেতে। বিগত ২০ তম জাতীয় সম্মেলনে দলকে আলাদা স্বত্তা হিসেবে শক্তিশালী করার দায়িত্ব দিয়েছেন তিনি আপনাদের। তাই আপনাদের অভিভাবক সরকারের চেয়ারম্যান, এমপি, মন্ত্রী নয়। দলের নেতারাই আপনাদের অভিভাবক। তাই আপনাদের দলীয় নেতাদের নেতৃত্বে চলতে হবে। যিনি দলের নেতা নন, এরকম কোন জনপ্রতিনিধির সাথে হয়ে দলের নেতাদের বিরুদ্ধাচরণ করা আমাদের দলের শৃঙ্খলা পরিপন্থী।

আপনারা বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ এর কর্মী, বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক, কাণ্ডারি শেখ হাসিনার কর্মী। আপনাদের বিশ্বস্ততা শুধুমাত্র দল এবং কাণ্ডারির প্রতি। তিনি যখন কাউকে দলীয় নেতা হিসেবে আপনাদের দেখভালের দায়িত্ব দেবেন, আপনারা তার প্রতি আস্থা রেখে শৃঙ্খলাবদ্ধ ভাবে দল চালাবেন, দেশের কাজ করবেন।

আমরা নেত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই যে তিনি আমাদের জননেতা মাহবুবুল আলম হানিফ কে তৃতীয় বারের মতো দলের কেন্দ্রের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মনোনয়ন দিয়ে আমাদের গর্বিত করেছেন। তার হাত দিয়ে কুষ্টিয়া বাসীর দীর্ঘকালের স্বপ্ন ও বারবার হতাশ হওয়া সকল বড় উন্নয়ন প্রকল্প আজ বাস্তব রূপ নিয়েছে। আমরা তার এই অবদানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি। পাশাপাশি আমাদের প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হতে হবে যেন আমাদের কোন আচরণ তাকে নেত্রীর সামনে বিব্রত না করে।”

শনিবার ০৫/১১/১৬ আয়োজিত সভার সভাপতিত্ব করেন বাগুলাট ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ এর সভাপতি আজিজুল হক নবা। সভা পরিচালনা করেন বাগুলাট ইউনিয়নের বিশিষ্ট আওয়ামীলীগ নেতা প্রভাষক আলী। বক্তব্য রাখেন বাগুলাট ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ এর সাধারণ সম্পাদক আকরাম হোসেন বক্কর, ৬ নং ওয়ার্ড এর ইউপি সদস্য আয়ুব আলী, যুবলীগ এর আহবায়ক গোলাম মোস্তফা, যুবলীগ নেতা রফিকুল ইসলাম, আওয়ামীলীগ নেতা আমিনুর রশিদ, শফিকুল ইসলাম, ৪,৫,ও ৬ নং ওয়ার্ড এর সংরক্ষিত ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বিউটি খাতুন, ২ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি আব্দুল খালেক, বাগুলাট ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সদস্য ওলিদুর রহমান, আওয়ামীলীগ নেতা মাহমুদুল্লাহ হাসান আনিছ, দক্ষিণ মনোহরপুর এর আওয়ামীলীগ নেতা ওয়াহিদুল ইসলাম, দুধ-কুমড়া আওয়ামীলীগ নেতা শরিফুল ইসলাম, বাঁশগ্রাম আওয়ামীলীগ নেতা আবু তালেব বিশ্বাস। উপস্থিত ছিলেন- বঙ্গবন্ধু পরিষদ এর প্রচার সম্পাদক আনোয়ার হোসেন, বাঁশগ্রাম আওয়ামীলীগ নেতা দেলোয়ার হোসেন, আদাবাড়িয়া আওয়ামীলীগ নেতা আক্তারুজ্জামান, বাঁশগ্রাম আওয়ামীলীগ নেতা লোকমান হোসেন জোয়াদ্দার, বাঁশগ্রাম পূর্বপাড়া আওয়ামীলীগ নেতা মখলেছুর রহমান মানিক, বাঁশগ্রাম আওয়ামীলীগ নেতা ইমদাদুল হক, বানিয়া-খড়ি আওয়ামীলীগ নেতা দুলাল, মনোহরপুর কালু-পাড়া আওয়ামীলীগ নেতা মিরাজুল ইসলাম, বানিয়া-খড়ি আওয়ামীলীগ নেতা দুলাল, মনোহরপুর কালু-পাড়া আওয়ামীলীগ নেতা ওসমান গনি, বাঁশগ্রাম আওয়ামীলীগ নেতা রোকনুজ্জামান, আওয়ামীলীগ নেতা জালাল উদ্দিন ও কাঞ্চন।

Read Previous

গুরুকুল থেকে প্রকাশিত “জয়তু জননেত্রী” বইটির উদ্বোধন করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী

Read Next

Countering Radicalization and Extremism : Role of Students & Teachers- শীর্ষক সেমিনার