Breaking News :

অত্যন্ত নিম্নরুচির নাস্তিকেরাই ধর্মরক্ষকের পোশাক পরে ধর্মব্যবসায়ী হয়

অত্যন্ত নিম্নরুচির নাস্তিকেরাই ধর্মরক্ষকের পোশাক পরে ধর্মব্যবসায়ী হয়।

তবে প্রচলিত অর্থের নাস্তিক আর ধর্মের লেবাসপরা নাস্তিকদের মধ্যে পার্থক্য আছে। একজন খোলাখুলিই সৃষ্টিকর্তা আর ধর্মে অবিশ্বাস করে। আর অন্যজন বাইরে ঝুলিয়ে রাখে ধর্মের নূরানী সাইনবোর্ড, কিন্তু তার আড়ালে চলতে থাকে সব ধরনের অধর্মের কাজ। নাস্তিকের বাহাদুরি যুক্তি-বুদ্ধিতে, আর লেবাসধারীর বাহাদুরি সত্যিকারের ধর্মপ্রাণ মানুষদেরকে নানা ধরনের ভীতির মধ্যে রেখে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধিতে।

আমি জানি এই কথা বিশ্বাস করা কঠিন। তেমন অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে না গেলে মেনে নেয়াও কষ্টকর। তবে এ প্রসঙ্গে “কাসাসুল আম্বিয়া” থেকে একটা উপাখ্যান বললে বোঝার পথটা সহজ হতে পারে।

রাসুলুল্লাহ (সাঃ) তাঁর সাহাবিদের নিয়ে স্থানান্তরে যাচ্ছিলেন। তপ্ত দুপুরে একটা খেজুরবাগানে বসে হালকা আহারাদির পর তাঁরা বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। এমন সময় গায়ে কাঁটা দেয়া একটা দৃশ্য দেখা গেলো। অপূর্ব সুন্দর একটা পাখি, তার বুকে “আল্লাহু আকবর” লেখা, তার সারা শরীরে পাঁচ কলেমা, আয়াতুল কুরসি লেখা। কিন্তু পাখিটা গু খাচ্ছে। এই দৃশ্য দেখে সাহাবিরা শিউরে উঠলেন। শুধু হযরত আবু জর গিফারি (রাঃ), যিনি ছিলেন নির্ভীক ‘গিফর’ সম্প্রদায়ের সদস্য, রাসুলুল্লাহ (সাঃ)-এর উরু স্পর্শ করে প্রশ্ন করলেন, “ইয়া হাবিবুল্লাহ, এটার অর্থ কী?” রাসুলুল্লাহ (সাঃ) শান্তস্বরে উত্তর দিলেন, “এটা আমার আখেরি জামানার উম্মত। লেবাস ঠিক থাকবে, কিন্তু তারা অপবিত্র কাজ করবে।”

চারপাশে নজর ফেললে আমরা রাসুলুল্লাহ (সাঃ)-এর কথারই বাস্তব রূপ দেখি। একজন নাস্তিক মনে করে, সৃষ্টিকর্তা নেই, আখেরাত নেই এবং ধর্মগ্রন্থ মানুষের তৈরি (নাউজুবিল্লাহ); ফলে কর্মফল বলে যদি কিছু থাকে, তা ইহকালেই পাওয়া যাবে। আবার একজন পাকা ধর্মব্যবসায়ীরও কিন্তু ঠিক একই রকম… সে-ও পরকাল মানে না (পরকাল মানলে সে এতো ধরনের অন্যায়-অনাচার করতে পারতো না)। সে-ও মনে করে, ইসলামের যেমন খুশি ব্যাখ্যা দেয়া যায়, আর ইসলামের নামে খুন-ধর্ষণসহ যেকোনো অন্যায়ের বৈধতা দেয়া যায়; কোরআন-হাদিসের ভ্রান্ত ব্যাখ্যা দিয়ে তরুণদের বিপথগামী করা যায়; কুৎসিত সব কাজ শেষ করে “সুবহানআল্লাহ” বলে আল্লাহর প্রশংসা করার মাধ্যমে কুকর্মের সব দায়ভার ধর্ম বা মহান আল্লাহর ওপরে চাপিয়ে দেয়া যায় (নাউজুবিল্লা)। নাস্তিকদের মতো তারাও মনে করে, পরকাল একটা অলীক বিষয়; এসবের কোনো বিচার-আচার হবে না। আর পরকালে যার বিশ্বাস নেই, সে আস্তিক হবে কীভাবে? আর আস্তিক হলে এসব কুকর্ম করবে বা করাবে কী করে, সেটা কোনো সুস্থচিন্তার মানুষের মাথায় ঢোকার কথা নয়।

আমাদের মতো সাধারণ মুসলমানদের পক্ষে এমন একজন নূরানী লেবাসপরা বিরাট মোল্লাকে নাস্তিক ভাবতে গেলেই বুক কেঁপে ওঠে। আর এই ভয়টাই, জেনে রাখুন, ওদের প্রধান অস্ত্র আর সবচেয়ে বড়ো পুঁজি। একবার সেই ভয়টা ত্যাগ করে ভেবে দেখুন, গোলাম আজম বা দেলোয়ার হোসেন সাইদী আপনার পাপমোচনের জন্য কিছুই করতে পারবে না, আপনাকে বেহেস্তে নিয়ে যাবারও কোনো ক্ষমতাই তাদের নাই, এমনকি তার বদদোয়াতে আপনি দোজখেও যাবেন না। কেয়ামতের দিনে আপনি, আমি, সে− সবাই সমান। সবাই ‘ইয়া নফসি’। তাই তাদের দাড়ি-টুপি-আওয়াজ-ওয়াজের কথা মাথা থেকে সরিয়ে তাদের অতীত-বর্তমানের কাজকর্ম আর কথাবার্তা নিয়ে একটু ভাবুন।

Read Previous

যুদ্ধাপরাধী কামারুজ্জামানের ছেলে -ওয়ামির প্রতি

Read Next

আপনার মূল্যবান মতামত জানান ‘পেমেন্ট সিস্টেমস অ্যাক্ট’ সম্পর্কে