জিন্দাবাদের ডাকাত দল কি আমাদের অল্টারনেট রাজনৈতিক অপশন হতে পারে ?

পাকিস্তানের সিয়াসাতি খাদেম “কসাই কাদের মোল্লা”, ৭৫ পরবর্তী সময়ে তার মুক্তিযোদ্ধা সহপাঠীকে বলেছিল – তোদের জয় বাংলার দিন শেষ, আমাদের জিন্দাবাদের দিন শুরু, জয় বাংলা আর কোনদিন ফিরবে না।

অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধা সেনা অফিসারদের সাজানো মামলায় ফাঁসি, সিভিল সার্ভিসে জোরপূর্বক অবসর, সব প্রতিষ্ঠান দখল, দাগী যুদ্ধাপরাধীদের পুনর্বাসন, চারদিকে শুধু জিন্দাবাদের চিৎকার, জয়-বাংলা শ্লোগান ট্যাবু হয়ে যাওয়া – অনেকের বিশ্বাস জন্মাতে শুরু করেছিল, জয় বাংলা সত্যিই কোনদিন ফিরবে না।

একদল ডাকাত একটি এলাকা দখল নিতে পারে। ঘোষণা দিতে পারে – এই এলাকা আমার, প্রকৃত মালিকরা আর কোনদিন ফিরবে না। সেটা সাময়িক বাস্তবতা হলেও, দখল কি স্থায়ী হয়?
মালিক যখন ফেরে, তখন ডাকাতদের বিচার হয়, সাজা হয়।
মালিক ক্ষমাশীল হলে, তারা বেঁচে যেতে পারে। মালিকের দয়া ভিক্ষা করে, এক কোনায় পড়ে থাকতে পারে।
সেই ডাকাতদল আবার যখন মালিক সাঁজতে চায়, তখন প্রকৃত মালিকদের কি করা উচিৎ?

কোন সামরিক শাসক, ক্ষমতা টেকানোর জন্য, ডাকাতদের পুনর্দখল দিতে পারে। যেমনটি কোন শেকড়-বিহীন হাইব্রিড নেতা, নিজের ক্ষমতা প্রতিষ্ঠার জন্য, সন্ত্রাসীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয়।
সেই হাইব্রিড্রের প্রস্থানে, সেই সন্ত্রাসীর ভাগ্যে কি জেটে? জেলবাস বা ক্রসফায়ার!

এটাই বাস্তবতা যে -বাংলাদেশের জন্মের সাথে সাথে জিন্দাবাদ পরাজিত হয়েছে। এই মাটি থেকে তাদের মালিকানা চিরতরে খারিজ হয়ে গেছে।
তাই জিন্দাবাদের রাজনীতি আর এদেশের বাস্তবতা নয়। বড়জোর সাময়িক ডাকাত রাজত্ব হতে পারে।

এখন জিন্দাবাদ নিয়ে টানাটানি মনে, অকারণ খুনাখুনি। মালিকদের সাথে ডাকাতদলের যুদ্ধ। একে রাজনীতি বলে না।

যারা ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের রাজনীতি করতে চান, তাদের বুঝতে হবে – জিন্দাবাদের রাজনীতি বাংলাদেশে কোনদিন স্থায়ী হবে না। ওই রাজনীতির শেকড়-শুদ্ধ ৭১-এ তুলে ফেলা হয়েছে।
বাংলাদেশের রাজনীতি করতে হলে – জয় বাংলার রাজনীতি করতে হবে, বাংলাদেশের রাজনীতি করতে হবে।

আমি আওয়ামীলীগ করতে বলছি না। বলছি – পারলে আওয়ামীলীগের অল্টারনেট জয়-বাংলার রাজনীতি তৈরি করুন।
না পারলে আওয়ামীলীগের সাথে থাকুন। অন্তত যতদিন অল্টারনেট না হচ্ছে।

কারণ – জিন্দাবাদের ডাকাত দল, আমাদের অল্টারনেট রাজনৈতিক অপশন হতে পারে না।

মন্তব্য করুন