• ২২/১০/২০২০

Breaking News :

মুক্তিযোদ্ধাদের মুল্যায়নের সময়কাল – মুক্তযুদ্ধকালীন সময়ে সিমাবদ্ধ রাখুন

বাংলাদেশের ৩৯ তম বিজয়ের মাসে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও তার বস্তবায়নের কথা রেখে, কিছু লোকের মুখে গতানুগতিক ভাবে আলোচিত হচ্ছে কিছু মুক্তিযোদ্ধার স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কথা। কে চুরি করেছে, কে ডাকাতি করেছে, কে অমুক কাজ তমুক কাজ করেছে। মুক্তিযোদ্ধাদের মুল অবদান মুক্তিযুদ্ধকে বাদ দিয়ে তাদের কারও কারও ব্যক্তিগত, সামাজিক বা রাজনৈতিক জীবনের পরবর্তী কর্মকাণ্ড নিয়ে সমালোচনা করাটাই তাদের কাছে মুখ্য। এর পিছনে মুল লক্ষ হচ্ছে কিছু মুক্তিযোদ্ধার বিতর্কিত কর্মকাণ্ড সমালোচনার মাধ্যমে ক্রমশ সকল মুক্তিযোদ্ধাকে সাধারণের কাতারে নিয়ে আসা এবং তারই মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধকে খাট করে তাদের ভাষায় “গোলমাল এর বছর” বানানো। এতে যে সবচেয়ে বেশি লাভ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধীদের সেটা সহজেই বোঝা যায়। চেতনাবিরোধীরা তাদের বিভিন্ন কলার মাধ্যমে সাধারণ জনগণকে এগুলো মাথায় ঢোকাতে তৎপর। এ ধরনের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে আমাদের ভাবনা স্বচ্ছ ও অবস্থান পরিষ্কার থাকা দরকার।
আমাদের মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সমুন্নত রাখতে সকল মুক্তিযোদ্ধার সম্মান সমুন্নত রাখার কোন বিকল্প নাই । স্বাধীনতা সংগ্রামে অগ্রণী শহীদ নেতা, সশস্ত্র সংগ্রামের সূর্য সন্তান শহীদ মুক্তিযোদ্ধা, সহস্রাধিক শহীদ বুদ্ধিজীবী, লক্ষাধিক শহীদ সামাজিক নেতা, ৩০ লক্ষ জানা-অজানা শহীদ, সকল মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক রাজনৈতিক নেতৃত্ব, সকল সশস্ত্র মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধকালীন চিকিৎসা, সংস্কৃতি, সাংবাদিকতা, কূটনৈতিক, প্রশাসন সহ গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রের সকল মুক্তিযোদ্ধা, সকল বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্র ও রাষ্ট্রনায়ক, সকল বিদেশি মুক্তিযোদ্ধা, সকল সহযোগী মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধকালীন মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষে মানসিক সমর্থন রাখা অসংখ্য সাধারণ জনতার প্রাপ্য সম্মান রক্ষা আমাদের জাতীয় দায়িত্ব। কারণ তাদের জন্য আজ আমরা গর্বিত স্বাধীন বাংলাদেশের নাগরিক। তাদের প্রত্যেকের স্ব স্ব অবস্থানের পবিত্র কত্যবপরায়নতা, দেশপ্রেম ও নজিরবিহীন ত্যাগ আমাদের জন্য স্বাধীনতা এনে দিয়েছে। স্বাধীনতা অর্জন হবার আগে পর্যন্ত প্রত্যেকের লক্ষ ছিল এক, একটি স্বাধীন দেশ, যা তারা দিতে পেরেছে। তাদের কাছে আর আমাদের কোন চাওয়া নেই, পেলে তা অবশ্যই উপরি।

জাতি সে সকল মুক্তিযোদ্ধার কাছে আমরা বাড়তি কৃতজ্ঞ যারা মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তি সময়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নে সক্রিয় ছিল। তাদেরকে সেই মহানুভবতার জন্য আমরা তাদের আলাদা করে স্বরণ করবো । যারা বিপথগামী হয়েছেন, সময়ের সাথে সাথে ঐতিহাসিক মুল্যায়ন ছাড়িয়ে তাদেরকে মানুষ হিসাবে মুল্যায়ন হবে । একইভাবে যারা চেনতা বিরধীদের পৃষ্ঠপোষকতা করেছিলেন, আগত প্রজন্মের নিরপেক্ষ বিচারে তারা তাদের প্রাপ্য পেয়ে যাবে। মেজর জিয়ায়ুর রহমানের মুক্তিযুদ্ধের অবদানের জন্য মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে সঠিক সম্মান দিতে হবে। আর তার পরবর্তিকালে বিপথগামী হয়ে স্বাধীনতা চেতনাবিরোধীদের পৃষ্ঠপোষকতাকে মুল্যায়ন করতে হবে একজন সামরিক শাসক ও পরবর্তিকালে রাজনীতিক হিসাবে। ব্যাক্তি এক হলেও দুটো বিষয়ে ভিন্ন করে দেখাই নিরপেক্ষতা, যা পরবর্তী প্রজন্মের দাবী হবে।

মুক্তিযোদ্ধাদের অবদান মুল্যায়ন করতে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধের পরবর্তিকে কে কি করেছে সেটাকে মুক্তিযুদ্ধেকালীন অবদানের সাথে মেলানো অযৌক্তিক। তাদের মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে অবদান মুল্যায়নের সময়টুকু মুক্তযুদ্ধকালীন সময়ে সিমাবদ্ধ রাখতে হবে । কারন তাই যুক্তিযুক্ত। – জয় বাংলা ।

 

এডিট- এসএস
Read Previous

অখিলবন্ধু ঘোষ (১৯২০-১৯৮৮)

Read Next

কর্মসূচি – ফ্রিল্যান্স আউটসোর্সিং জনপ্রিয়করণ