রাজনৈতিক ইসলামের অগ্নিমূল্য!

রাজনৈতিক ইসলাম কায়েমের আর কত মূল্য দিতে হবে আমাদের?
আমরা কি কোনদিন ভাবব না – এই পথ পরিক্রমায় কি পেলাম, আর কতটা হারালাম?
এসব কি এদেশে আদৌ সম্ভব? বা মোটেই কি দরকার আছে?

আমাদের ব্রিটিশ আমলের মুরুব্বীরা ইসলাম ও মুসলিমদের – হেফাজত – করতে বানিয়েছিল মুসলিম লীগ। ইসলামকে আমাদের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে পোক্ত করার জন্য (যেন আগে ইসলাম বা মুসলিম খুব নিরাপত্তাহীন ছিল)।

তার ফলাফল হিসেবে বিশেষ ধরনের ইসলামিক রাষ্ট্র পাকিস্তান জন্ম। এক ধরনের বিশেষ সিস্থেটিক ইসলামের ভিত্তিতে – অদ্ভুত এবং অবাস্তব এক রাষ্ট্র। এই অসম্ভব রাষ্ট্রকে টিকিয়ে রাখার জন্য, বেঁধে রাখার দড়ির নাম ছিল – ইসলাম।

জাতির ভিত্তি – এক বিশেষ ধরনের ইসলামিক জাতীয়তাবাদ। প্রতিটি বিষয়কে নামসর্বস্ব ইসলামিক করে তোলার এক অদ্ভুত জাতীয়তাবাদী সংগ্রাম। মজার বিষয় হচ্ছে – সেই জাতীয়তাবাদের স্রষ্টা নিজেই কোনদিন পশ্চিমদিকে হোঁচট খান নি। পোশাক ছাড়া তার জীবনের কোথাও ইসলাম ধর্মের নামমাত্র ছিল না।

নতুন পয়দা করা জাতীয়তাবাদ প্রতিষ্ঠা করার জন্য – ক্রমশ পাকিস্তান এবং ইসলামকে পরিপূরক করার চেষ্টা করা হল।
একসময় দেশপ্রেমের মাপ কাঠি হয়ে দাঁড়ালো – কে কতটা ইসলামিক। তারচেয়ে জরুরী – কে কতটা ইসলামিক হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করে।

ইমানে যাই হোক; চলায়, বলায়, খাওয়ায়, পরায়, সামাজিকতায় – ইসলাম প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
সর্বক্ষেত্রে ইসলাম জাহির করার এক অদ্ভুত ভ্রষ্টাচার।

মন্ত্রণালয়ে কাজ ঠিকমতো না করলেও চলতো, কিন্তু লোকজনের দেখিয়ে কুলুপ নিয়ে হাঁটাহাঁটি না করলে – চেয়ার চলে যেতে পারতো।
প্রতিটি সভা সেমিনারে ইসলাম ইসলাম করে না চেঁচালে, দেশপ্রেমিকতা নিয়ে সন্দেহ করা হতো।

ইসলাম প্রতিষ্ঠা এত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়ালো যে – দেশের মুল কাজগুলো করার সময় পাওয়া গেল না।
মানুষের জীবন, জীবিকা, শান্তি, স্বস্তি সব কিছুর চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠল – এক বিশেষ ধরনের ইসলাম প্রতিষ্ঠা।

* এক সাথে স্বাধীন হয়ে – ২ বছরের মাথায় ভারত কনস্টিটিউয়েন্ট এসেম্বলি গঠন করে ফেলল, ৩ বছরে জাতিকে সংবিধান উপহার দিল। পাকিস্তান ২৫ বছরেও পারল না। সংবিধানই যেখানে হল না, সেখানে প্রয়োজনীয় – নীতিমালা, আইন তো প্রশ্নাতীত।

* ভারতের প্রথম শিক্ষা মন্ত্রী মৌলানা আবুল কালাম আজাদ তার ৯ বছর কেবিনেট জীবনে যুগান্তকারী শিক্ষানীতি তৈরি করে গেলেন। মাত্র ৫ বছরের মধ্যে ইউজিসি সহ সকল পর্যায়ের শিক্ষার জন্য রেগুলেটরি কমিশন স্থাপন করে ফেললেন । পাকিস্তানের লাগল ২৮ বছর (মানে পূর্ব পাকিস্তানের কপালে আর সেটার ফল জুটল না)।

প্রতিটি ক্ষেত্রেই ইসলাম আনতে গিয়ে আমাদের সব কাজে দেরি হয়ে গেল। কিন্তু সেই বিশেষ ইসলাম এলো না 🙁
বিষফল হিসেবে এলো – বিভিন্ন সময়ে – রায়ট, হত্যা, গণহত্যা, অনাচার।

মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার পরে ১০৬ বছরে – বিভিন্ন ব্যানারে আজ পর্যন্ত সেই ইসলামী জাতীয়তাবাদ আনার সংগ্রাম অব্যাহত। এখনও সেই ইসলামিক জাতীয়তাবাদের নামে – দাঙ্গা হয়, হত্যা হয়, সকল ধরনের কোরবানি হয়।

কিন্তু এত কোরবানির পরেও সেই বিশেষ ইসলাম কেন আসে না?
বারবার কেন আমাদের সাথে ছিনিমিনি খেলে?
আমাদের ঘর কি তার পছন্দ না?
নাকি এ আবহাওয়া তার বাঁচার অনুকূলে না?

কি জানি 🙁

 

 

 

এডিট- এসএস

Read Previous

দিনপঞ্জি – ফেব্রুয়ারি মাস

Read Next

আমরা বিচার চাই না, বিচারের বাস্তবায়ন চাই, সব যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসি চাই …