Breaking News :

শুভ জন্মদিন মোহাম্মদ হানিফ

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের তাঁর স্নেহভাজন মোহাম্মদ হানিফকে বলতেন ‘আমার হানিফ’। মাত্র ১০ বছর বয়সেই তিনি বঙ্গবন্ধুর সানি্নধ্যে আসেন। সেই কিশোর বয়স থেকে সারাজীবন জাতির পিতার বিশ্বস্ত সহচর ছিলেন। ছিলেন বঙ্গবন্ধু পরিবারের আজীবন সুখ-দুঃখের সাথী।
মোহাম্মদ হানিফ ১৯৬৫ সালে বঙ্গবন্ধুর একান্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পান। তিনি একান্ত সচিব থাকাকালীন ছয় দফা আন্দোলনের প্রস্তুতি, ছয় দফা মুক্তি সনদ প্রণয়ন ও প্রচারে বিশেষ ভূমিকা রাখেন। ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ৭০-এর নির্বাচন ও মহান মুক্তিযুদ্ধে তাঁর বলিষ্ঠ ভূমিকা চিরস্মরণীয়। ১৯৭২-এর ১২ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেয়ার পরের দিন তিনি সরকারিভাবে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সচিব হিসেবে নিয়োগ লাভ করেন। ১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধুর ছেড়ে দেয়া ঢাকা ১২ আসন থেকে জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন এবং পরবর্তী সময়ে প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় হুইপের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৬ সালে মোহাম্মদ হানিফ ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত প্রায় ২৮ বছর তিনি এ দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের প্রথম সরাসরি ভোটে নির্বাচিত মেয়র হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন ১৯৯৪ হতে ২০০২ সাল পর্যন্ত। স্বাধীনতা পরবর্তীকালে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সব আন্দোলনে তিনি রাজপথে প্রথম কাতারে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
২০০৪ সালের ভয়াল ২১ আগস্ট রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশের ট্রাক মঞ্চে জননেত্রী শেখ হাসিনার ওপর নারকীয় গ্রেনেড হামলার সময় নিজের জীবন তুচ্ছ করে মানবঢাল রচনা করে তাকে রক্ষার প্রাণান্তকর চেষ্টা করেন মোহাম্মদ হানিফ। ওই ঘটনায় বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রাণে রক্ষা পেলেও তিনি মারাত্মকভাবে আহত হন। তার মস্তিষ্কসহ দেহের বিভিন্ন অংশে অসংখ্য স্পি­ন্টার ঢুকে পড়ে। দীর্ঘদিনের চিকিৎসাতেও কোনো ফল হয়নি। মাথার গভীরে বিঁধে থাকায় তা অস্ত্রোপচার করেও অপসারণ করা সম্ভব হয়নি। সেই দুঃসহ যন্ত্রণা সহ্য করেই রাজনৈতিক জীবনে সক্রিয় থেকেছেন। তীব্র যন্ত্রণা ভোগ করে দীর্ঘদিন চিকিৎসা শেষে ২৮ নভেম্বর ২০০৬ সালে ৬২ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
উদার চিন্তা-চেতনা ও সংবেদনশীল মনোভাবের কারণে দলমত নির্বিশেষে সব মানুষের কাছেই তার গ্রহণযোগ্যতা ছিল।
মোহাম্মদ হানিফ ১৯৪৪ সালের পয়লা এপ্রিল পুরনো ঢাকার সম্ভ্রান্ত এক মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা আবদুল আজিজ ও মা মুন্নি বেগমের ছোট ছেলে হানিফ ১৯৬৭ সালে ঢাকার প্রখ্যাত পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি আলহাজ মাজেদ সরদারের কন্যা ফাতেমা খাতুনের সাথে পরিণয় সূত্রে আবদ্ধ হন। তাঁর একমাত্র ছেলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বর্তমান মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন।

Read Previous

গোবরা চাঁদপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড় মুজিব কর্মসূচির অনুষ্ঠান

Read Next

আল্লারদর্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড় মুজিব কর্মসূচির অনুষ্ঠান