• ২২/১০/২০২০

Breaking News :

১৯৭২ সালের ৫ এপ্রিল তারিখে বাংলাদেশ বেতারে দেশ আমার মাটি আমার অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু র বক্তৃতা

আজকে কি? আজ আমাদের কি অবস্থা? আজ আমাদের পপুলেশন, আজকে উৎপাদন বৃদ্ধি করতে হবে। আজ আমরা শ্রমিক আন্দোলন করব। কি বরব? কারখানায় কাজ হবে না। কারখানায় প্রোডাকশন না বাড়াইয়া ভীক্ষুকের জাতিতে উন্নীত হবো। দুনিয়ায় জীবনবরে ভীক্ষা-পাওয়া যায়? স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে হবে। সে জন্য কঠোর পরিশ্রমের প্রয়োজন রয়েছে। কাজ করব না ফাঁকি দিব, অফিসে যাব না, ফাঁকি দিব। ফ্রি ষ্টাইল। ফ্রি ষ্টাইল মানে গণতন্ত্র নয়। অফিসে দশটার আগে যাওয়ার কথা বললে বারোটার আগে যাব না। রাস্তায় কাজ করব না। কারখানায় কাজ করব না। আমার কৃষক খারাপ না। আমার শ্রমিকরা কাজ করতে চায়। আমার কৃষক উৎপাদনশীলতায় এগিয়ে গেছে। আমরা বাঁধার সৃষ্টি করি, আমরা ষড়যন্ত্র করি। আমরাই যেন ধোক দেই, আমরাই যদি লুট  করে খাই। আমরাই যদি দখল করে নিয়ে যাই, আমরা যারা বড় বড় এখানে আছি, তারাই প্রশ্ন করে। তারা কারা? তারা এদেশের তথাকথিত শিক্ষিত সমাজ। এদেশের তথাকথিত লেখাপড়া জানা মানুষ, যাদের পেটের মধ্যে দুই অক্ষর বুদ্ধি ঐ বাংলার দুঃখী মানুষের টাকায় শেখা। আমি কি পেলাম, আমি বারবার বলেছি আজকে আমার আত্মসমালোচনার প্রয়োজন। আজকে আমাদের আত্মবোধ প্রয়োজন, আজকে আমার আত্মশুদ্ধির প্রয়োজন। না হলে দেশকে ভালবাসা যায় না। দেশের জন্য কাজ করা যায় না এবং দেশের হিম্মত করা যায় না। কলে-কারখানায়, ক্ষেত-খামারে আমার প্রোডাকশন বাড়াতে হবে। তা না হলে দেশ বাঁচতে পারে না। কি করে আপনি করবেন? যদি পারেন ২০ লক্ষ টন খাবার যদি বৎসরে প্রয়োজন হয়, কত হয়? ৪৫০ লক্ষ মন। কে দেবে? প্রত্যেক বৎসর লোনের থেকে এই তিন বৎসরে বহুরাষ্ট্র সাহায্য দিয়েছে। লোন দিয়েছে, আনতাছি। কতকাল ধরে, কতদিন ধরে, মানুষ বাঁচবে না। বৎসরে ত্রিশ লক্ষ লোক আমার নতুন নতুন বাড়ে। আজকে আমাদের পপুলেশন প্লানিং করতে হবে। পপুলেশন কন্ট্রোল করতে হবে। না হলে বিশ বৎসর ২৫ বৎসর পরে ১৫ কোটি লোক হয়ে যাবে। ষোল হাজার স্কয়ার মাইল, বাঁচতে পারবেন না। যেই ক্ষমতায় থাকুক বাঁচার উপায় নাই। একটা পপুলেশন কন্ট্রোল আমাকে করতেই হবে। প্রোডাকশন বাড়াতে হবে, না হলে মানুষ বাঁচতে পারবে না এবং বাঁচার জন্য তাকে শৃঙ্খলাবদ্ধ হতে হবে। বিশৃঙ্খল জাতি কোনদিন বড় হতে পারে না। উশৃঙ্খল হয়ে গিয়েছিরাম আমরা। ফ্রি স্টাইল। এটা হবে না, ওটা হবে না। আর যাকে এ্যারেস্ট করবে-বলে যে, অমুক পার্টির লোক। খবরের কাগজে বিবৃতি। জিনিস এক জায়গায় একশ দশ টাকা হলে একদিন হঠাৎ এক জায়গায় কিছু দাম বাড়লে খবরের কাগজ চাপাইয়া দিল সমস্ত বাংলাদেশে বেড়ে গেল। যেখানে সমস্ত কিছুর অভাব, যেখানে দুনিয়া থেকে সব কিছু কিনতে হয়। আমরা কলোনি ছিলাম। আমরা কোন জিনিসে সাফিসিয়েন্ট না। আমরা কাগজে সেল্ফ সাফিসিয়েন্ট না । আমরা তেলে সেল্ফ সাফিসিয়েন্ট না। আমরা খাবারে সেল্ফ সাফিসিয়েন্ট না। আমাদের রড সিমেন্টে সেল্ফ সাফিসিয়েন্ট না। কোন বিষয়ে সেল্ফ সাফিসিয়েন্ট না। আমরা কলোনি ছিলাম পাকিস্তানীদের। আমাদের যা কিছু করতে হবে, সব কিছু আনতে হবে। কোথায় পাবেন বিদেশী মুদ্রা ছাড়া? দু হাতে কাজ করতে হবে, ইনকাম করতে হবে। স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে হবে। যে মানুষ ভিক্ষা করে, তার যেমন ইজ্জত থাকে না, যে জাতি ভিক্ষা করে তারও ইজ্জত থাকে না। ভিক্ষুকের জাতিকে প্রশ্ন করতে আমি চাইনা। আমি চাই আমার দেশ স্বয়ংসম্পূর্ণ হউক এবং সেজন্য কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। শৃঙ্খলা আনতে হবে।

তাই আত্মসমালোচনা করেন। আত্মশুদ্ধি করেন, তাহলেই হবে। সমাজ ঘুনে ভরে গেছে। এ সমাজকে আমি টালমাটাল করতে চাই। এমন আঘাত করতে চাই, যে আঘাত করেছিলাম পাকিস্তানীদের। সে আঘাত করতে চাই এই ঘুনে ধরা সমাজ ব্যবস্থাকে। আপনাদের সমস্যা নাই। আমি জানি আপনাদের সদস্যা আছে। কিন্তু একটা কথা, এই দেশ নতুনভাবে সাজাতে হবে। গ্রামে গ্রামে বহুমূখী কো-অপারেটিভ করা হবে। ভূল কইরেন না। আপনাদের জমি আমি নেব না। ভয় পাইবেন না, জমি নিয়া যাব তা নয়। বাংলাদেশের ৬৫  হাজার গ্রামে একটা করে কো-অপারেটিভ হবে, প্রত্যেক গ্রামে গ্রামে। এই কো-অপারেটিভ জমির মালিকের জমি থাকবে। কিন্তু তার আওতায় থাকবে বেকার প্রত্যেকটি মানুষ। যে মানুষ কাজ করতে পারে। তাকে এই কো-অপারেটিভের সদস্য হতে হবে এবং বহুমুখী কো-অপারেটিভ হবে। আলটিমেটলি প্রত্যেকটি ভিলেজে একটা করে কো-অপারেটিভ করা যাবে। তাদের কাছে পয়সা যাবে। কাছে বেতন যাবে। আস্তে আস্তে ইউনিয়ন কাউন্সিল….। তা না হলে দেশ এগুনো যাবে না। এজন্যই ভিলেজে কো-অপারেটিভ হবে। আমি ঘোষণা করছি আজকে, পাঁচ বৎসর মেয়াদি প্রত্যেকটি গ্রামে কয়েক হাজার লোক পাঁচশ থেকে হাজার ফ্যামিলি পর্যন্ত কম্বলসারি কমিউনিটি হবে। আপনার জমির ফসল আপনি নিবেন। অংশ যাবে কো-অপারেটিভ, ঐ অংশ গভঃর্ণমেন্টের হবে। দ্বিতীয় অংশ থানায় একটি করে কাউন্সিল হবে।

 

(অংশ বিশেষ)

Read Previous

১৯৭২ সালের ৫ এপ্রিল ময়মনসিংহ সার্কিট হাউজের জনসভায় বঙ্গবন্ধুর ভাষণ

Read Next

১৯৭২ সালের ৯ এপ্রিল ঢাকায় আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে সভাপতি হিসেবে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ