১৯৭২ সালের ৯ এপ্রিল ছাত্র ইউনিয়নের ত্রয়োদশ কাউন্সিলে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ

ভদ্র মহোদয় ও ভদ্রমহিলাগণ,

আপনারা আমার ধন্যবাদ গ্রহণ করুন। আপনারা আমাকে প্রধান অতিথি করেছেন, আমার ব্যক্তিগত পক্ষের থেকে আমি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। মতের যেখানে মিল আছে, মনের যেখানে মিল আছে। আপনাদের কাছে আমি দু’চারটি কথা বলতে চাই, আপনাদের কাছে ইতিহাস বলে লাভ নাই। বাংলাদেশের সাড়ে সাত কোটি মানুষ ইতিহাস সৃষ্টি করছে। রাজনৈতিক স্বাধীনতা অর্জন যেমন মুক্তির শর্ত, অর্থনৈতিক মুক্তি করাও তেমনী শর্ত। রাজনৈতিক স্বাধীনতা আমরা পেয়ে থাকলেও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা বৃথা হয়ে যায় যদি এদেশের দুঃখী মানুষের জন্য কিছু না করা যায়। এদেশে শোষণহীন সমাজ যদি প্রতিষ্ঠিত না হয়, এবং শোষণহীন সমাজ প্রতিষ্ঠিত করতে হলে সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতি একমাত্র পথ বলে আমরা বিশ্বাস করি।

স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস বাঁচে, যেদিন লেখা হবে অনেক দুঃখের ইতিহাস। স্বাধীনতা সংগ্রাম অনেক দিন থেকে শুরু হয় এবং ধাপে ধাপে এই সংগ্রামকে এগিয়ে নিতে হয় কারণ শোষণ এবং শোষক শ্রেণী হুঁশিয়ার ছিল। বাংলাদেশের সাড়ে সাত কোটি মানুষ ওদের স্বাধীনতা ভোগ করেন আর আমরাও পাকিস্তানের জন্য সংগ্রাম করেছিলাম। কিন্তু সে স্বাধীনতা যে এই স্বাধীনতা হবে ১৯৪৭ সালে আমরা বুঝতে পেরেছিলাম। এ স্বাধীনতা মিথ্যা, এ স্বাধীনতা বাংলাদেশকে লুট করার ষড়যন্ত্র। বাংলাদেশের মানুষের চিরদিনের মতো গোলাম করার ষড়যন্ত্র। কেন্দ্রে বসে নেতারা স্বাধীনতা ভোগ করেন। বাংলাদেশকে ভাগ করেন। বাংলাদেশকে ভাগ করে পশ্চিম পাকিস্তান থেকে তারা বাংলাদেশকে শাসন করার চেষ্টা করেন। তারা শোষণ করতে চেয়েছিলেন আমার সংস্কৃতির উপর আঘাত করে। আমরা ভাষার উপর আঘাত করে। আমার শিক্ষা ব্যবস্থার উপর আঘাত করে। সামাজ্যবাদী শক্তি যেমন একটা কলোনীকে তার নিজস্ব স্বাধীকার থেকে বঞ্চিত করে। শোষণ করার ষড়যন্ত্র করে ঠিক একইভাবে আমাদের এই পশ্চিম পাকিস্তানের শোষক শ্রেণীরা এই বাংলার মানুষকে শোষণ করার ষড়যন্ত্র করেছিল এবং তরা কলোনিতে পরিণত করেছিল।

আমার ছোট ছোট ভাই ও বোনেরা,

এই স্বাধীনতার আন্দোলন গোড়াপত্তন হয় ১৯৪৭ সালের জুন মাসে, যখন ঘোষণা হয় তারপর থেকে। আমাদের অনেক এদিক দিয়ে, ওদিক দিয়ে, এপাশ দিয়ে, ওপাশ দিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রের মতো মেনুয়াল করে চলতে হয়েছে এবং সেজন্য আমাদের জাতীয়তাবাদ আন্দোলনকে এগিয়ে আনার চেষ্টা করা হয়েছে। জাতীয়তাবাদ আন্দোলন শুরু না করতে পারলে দেশের বিপ্লব করা কষ্টকর হয়ে যায়। এজন্যই আমরা জাতীয়তাবাদের আন্দোলনের দিকে বেশী এগিয়ে পড়েছিলাম। এজন্যই সে সময় আমাদের অনেক বন্ধু-বান্ধবরা আমাদের অনেক সময় আমাদের এই প্রোগ্রামকে মানতেন না বা সমালোচনা করতেন। তারা ভুল বুঝতেন। তারা আমাদের উদ্দেশ্যের উপর কটাক্ষ করতেন কিন্তু আমরা জানতাম যে জাতীয়তাবাদের আন্দোলনের সঙ্গে সঙ্গে, অনেক সময় জাতীয়তাবাদ আন্দোলন তার সঙ্গে যদি একটা পরিস্কার কর্মপন্থা না থাকে। তখন জাতীয়তাবাদের আন্দোলন শুরু করার সঙ্গে সঙ্গে সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতির আন্দোলন আমরা সাথে চালিয়ে দিয়েছিলাম। তখন এই যে স্বাধীনতা আমরা পেয়েছি। এর পরে সমাজ থেকে অর্থনীতি করতে আমাদের কোন দিন দ্বিধা বা কষ্ট হতে পারে না। কিন্তু ষড়যন্ত্রকারীরা….।

সাম্প্রদায়িকতার উর্ধ্বে রুখে দাঁড়ানো বড় কষ্টকর ছিল। আমাদের দেশের মানুষ ছিল ধর্মভীরু মানুষ। ধর্মভীরু মানুষকে ধর্মের নামে শ্লোগান দিয়ে এগিয়ে নেয়া বড় সোজা। তাদের প্রধান অস্ত্র ছিল এই ধর্ম। নিজেরা কিন্তু কোনদিনও ধর্ম পালন করতেন না কিন্তু ধর্মকে ব্যবহার করতেন। এমনভাবে ব্যবহার করতেন, যেটা ধর্মকে ব্যবহার করে রাজনীতি, তাদের যে উদ্দেশ্য ছিল সেটাকেই ফলো করতে চেষ্টা করতেন।

আপনারা ইতিহাস জানেন, ইতিহাস বলতে চাই না, আপনারা জানেন আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার ইতিহাস, আপনারা জানেন ৫২ সালের ইতিহাস, আপনারা জানেন ৫৮ সালের মার্শাল ল, আপনারা জানেন ৬২ সালের ইতিহাস। আপনারা জানেন ৬৪ সালের ইতিহাস, আপনারা জানেন ৬৯ সালের ইতিহাস। আপনারা জানেন এই সরকারকে।

স্বাধীনতা পেয়েছেন, আপনারা ত্রিশ লক্ষ লোক জীবন দিয়েছেন। ত্রিশ লক্ষ লোক শুধু রক্ত দেয় নাই, প্রায় দুই কোটি আড়াই কোটি লোকের ঘর বাড়ি ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। শুধু তাই করে নাই বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করা হয়েছে। বড় বড় সরকারী কর্মচারীকে হত্যা করা হয়েছে। পাকিস্তানের আক্রমনে বাংলাদেশের পুলিশ বাংলাদেশের ইপিআর (তখনকার ইপিআর, বর্তমানের বিডিআর, বাংলাদেশ রাইফেল্স) সামরিক বাহিনীর লোকদের হত্যা করা হয়েছে। তারা প্লান করেছিল, সে প্লান অনুযায়ী যা চলেছিল, এদেশে যারা কথা বলার মতো মাথা তুলে দাঁড়াবার মতো ছিল-তাদের সবাইকে হত্যা করে শেষ করে দাও। আমরাও জানতাম, আমরাও বুঝতাম। তারাও সময় নিচ্ছিল, আমরাও সময় নিচ্ছিলাম। আমার অনেক বন্ধু-বান্ধব বলতেন নির্বাচন করনা, আমরা নির্বাচন বয়কট করলাম। আমি বললাম না নির্বাচন করব। দুনিয়াকে দেখাতে হবে যে আমার এই প্রোগ্রামের পক্ষে বাংলাদেশের সাড়ে সাত কোটি জনসাধারণ এবং সেটা পরিস্কারভাবে দেখা গেছে যে সেটা আমাদের যে একটা শক্তি ছিল। যদি বেঈমানী করতাম প্রধানমন্ত্রী হওয়ার লোভে। তাহলে ইলেকশনের রেজাল্ট ফেজাল্ট নষ্ট হয়ে যেতো কিন্তু নির্বাচন শুধু ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য নয়। আমি ইলেকশনের পূর্বের ঘোষণা করেছিলাম এটা আমার গণভোট, স্বাধীকারের গণভোট, যদিও সাথে সাথে এই শ্লোগানও ছিল-এবারের সংগ্রাম, স্বাধীনতার সংগ্রাম। আমাকে বন্ধু-বান্ধবরা বলতেন ঘোষণা করে দাও। আমি বলি ঘোষণা করে আমি নিশ্চয়ই দিয়েছি কিন্তু ঘোষণা করার কায়দা আছে। দস্তকে বেকায়দায় ফেলতে হয়, দস্তকে নিয়ে বেকায়দায় পড়তে নাই। ওটা একটা যুদ্ধ। ওটা এটা আন্দোলন, আন্দোলন না করলে আন্দোলন শিখা যায় না। বই পড়ে আন্দোলন হয় না, ও থিয়োরিশিয়ান হয়ে যায়, চৌকস হয়ে যায় নেতৃত্ব করে তারাই জানে আন্দোলন কি জিনিস। আন্দোলন কি ভাবে করতে হয়। বই পড়া থিয়োরিশিয়ানরা জীবন ভরে বই পড়েই খালি খবরের কাগজে লিখেন কিন্তু প্যাকটিকাল জিনিস কিভাবে আন্দোলন পরিচালিত করতে হয় সে শিক্ষা তাদের হয় নাই। মাঝে মাঝে সেজন্য ফাউল  প্রিন্ট করে ফেলে। আন্দোলনের একটা ধারা আছে। যেটার মাধ্যমে আস্তে আস্তে এগিয়ে নিতে হয় মানুষকে। মানুষকে এমন কিছু বলতে নাই, যেটা দেখলে মানুষ চমকে উঠে। এমন কিছুতে মানুষকে এগিয়ে নিতে হয় যেখান থেকে মানুষ ফেরত আসতে পারে না এবং শত্রুকে খেলতে দিতে হয় না।

ভাইয়েরা আমার,

স্বাধীনতা আপনারা পেয়েছেন, স্বাধীনতা আমরা পেয়েছি। দস্যুর দল বাংলা থেকে বিতাড়িত  হয়েছে। দস্যূর দল বিতাড়িত হয়েছে সত্য কিন্তু ২৪ বৎসর যে বন্ধু ছিল সে বন্ধুকে বিতাড়িত করতে পেরেছেন আপনারা? পারেন নাই। তাদের বন্ধত্ব রয়েছে, তাদের বন্ধু রয়েছে, তাদের সঙ্গে যাদের সম্পর্কে তারা রয়েছে, তাদের সঙ্গে যারা পয়সা লুটত তারা রয়েছে। তাদের সঙ্গে আতাত করে যারা প্রমোশন পেয়েছে তারা রয়েছে। স্বাধীনতা পেলেও এদের হাত থেকে এখনও আমরা রক্ষা পাই নাই। তারা আমার কাছে, আমার এক ছোট ভাই সেদিন বলল, যে এত তাড়াতাড়ি না করলেও তো হতো। এত তাড়াতাড়ি ব্যাংক, ইন্সুরেন্স ন্যাশনালাইজ করলেন কেন? এখন পর্যন্ত ভসিমভূত একটা দেশ- পয়সা নাই, অর্থ নাই, টাকা নাই, ল্যান্ডিং করতে পারছেন না। তা আমাদের অর্থনীতি ভেঙ্গেচুরে চুরমার হয়ে গেছে। এই মুহুর্তে কেমন করে আপনারা এ জিনিসটা করতে যাচ্ছেন। কি হবে? সর্বনাশ হতে পারে এদেশের। আরে সর্বনাশের কিছুই বাকী নাই। সর্বনাশের উপরে আরেকটু সর্বনাশ করে ভবিষ্যৎ বংশধরদের উপর একটা পথ দেখিয়ে দিয়ে যান।

তাই যদি হয়, কারণ তারাও চেষ্টা করেছিল যে দেরী হয়ে গেলে দূর্বলতায় আসলে তারাও নড়ে উঠলে দাড়ালে এবং সমাজতন্ত্র অর্থনীতি পিছনে আঘাত করতে পারে। আমার সহকর্মীরা এবং আমি এ সম্বন্ধে খুবই হুশিয়ার। প্রায় সাড়ে সাত কোটি লোক ৭৪ হাজার বর্গমাইল। এত অল্প জায়গায় এত বেশি লোক কোথাও বাস করে না দুনিয়ায়। জমি আমাদের নাই বলতে গেলে। যা আছে তাতে কয় পার্সেন্ট লোকের জায়গা হয়। শিল্প-কারখানা যা আছে তার মধ্যে আমাদের কত লোকের বেকার সমস্যা দূর হয়। অর্থনীতি এমনভাবে ২০০ বছর ইংরেজ, চব্বিশ বছর পশ্চিম পাকিস্তানের শোষক শ্রেণী বাংলার অর্থনীতিকে ভেঙ্গে চুরে চুরমার করে দিয়ে গেছে। আমিতো কোনদিন আপনাদের কাছে মিথ্যা ওয়াদা করি নাই। আমি তো একথা বলি নাই আপনাদের যে স্বাধীনতা পেয়েছেন এখন এই পাবেন, কই পাবেন, ওটা পাবেন এটা দেয়া হবে, ওটা দেয়া হবে চাকুরী দেয়া হবে। আমিতো পরিস্কার বলি, তিন বৎসরের মধ্যে কিছু দিবার পারিবনা। যদি বলেন পারিব-আমি বিদায় নিতে রাজী আছি। যদি কেউ বলেন, এগিয়ে আসেন, আমার আপত্তি নাই। আমি ছেড়ে দিতে রাজী আছি ক্ষমতা। কিন্তু যারা সত্যিকারের প্রগতিশীল, যারা সমাজতন্ত্রে বিশ্বাস করে, যারা পড়ে পড়ে সমাজতন্ত্রের কথা বলে না, তারা নিশ্চয়ই আমাকে পূর্ণ সমর্থন দিচ্ছে-এ সম্বন্ধে বিন্দু মাত্র সন্দেহ আমার নাই।

কিন্তু যারা সমাজতন্ত্রের বই পড়ে কথা বলেন, যারা সমাজতন্ত্রের অর্থ বুঝেন না। যাদের উদ্দেশ্য অন্যদিকে। যারা অতি বিপ্লবের কথা বলে বেড়ান এবং অতি বিল্পবের সমর্থনে কথা বলেন। যারা আমার দেশের লক্ষ লক্ষ ভাই বোন যখন স্বাধীনতার সংগ্রাম করতেছিল, তখন যারা পাকিস্তানের সৈন্য বাহিনীদের অস্ত্র দিয়ে সাহায্য করেছেন, তারা আবার প্রগতিশীল বলে দাবী করেন। তারা আবার বক্তৃতা করেন। এই আমি বক্তৃতা করতে দিচ্ছি বলে তারা যেন মনে না করেন, তাদের আমি সম্পূর্ণ ছেড়ে দিয়েছি। দরকার  হলে আবার সংগ্রাম শুরু হতে পারে। আমি কারো বিরুদ্ধে বলতে চাই না। কোন জনগণের বিরুদ্ধে আমি নই। আমি আমেরিকার বিরুদ্ধে নই। আমি দুনিয়ার কোন মানুষের বিরুদ্ধে নই। আমি তাদের সমাজ ব্যবস্থা এবং তাদের শাসনের বিরুদ্ধে। এশিয়ার শ্রেষ্ঠ দেশ, বহু দেশ দুনিয়ার, চায়না আমাকে এখনো স্বাধীনতা স্বীকৃতি দেন নাই। তিনি বন্ধুত্ব করেছেন পশ্চিম পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর শাসকদের সাথে এবং যেখানে স্যোসালিজমের নামগন্ধ পর্যন্ত নাই। তারা স্যোসালিষ্ট কান্ট্রি নিশ্চয়ই একথা তারাও বলেন আমরাও বলি। তারাও রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মাধ্যমে সংগ্রাম করে স্বাধীনতা পেয়েছিল।

বাংলাদেশের জনসাধারণ আশা করেছিল আমরা যেহেতু রক্তক্ষয়ী বিপ্লবের মাধ্যমে স্বাধীনতা এনেছি নিশ্চয়ই তারা আমাদের সমর্থন করবেন। সমর্থন যদি নাও করেন আমাদের বিরোধীতা করবেন না। কিন্তু দুঃখের বিষয় তারা অস্ত্র দিয়েছেন টিক্কা খান, ইয়াহিয়া খানের কাছে। যখন বাংলাদেশের মানুষ সংগ্রাম করতে ছিল, মরতে ছিল তাদের মেশিনগানের সামনে এবং আমার ছেলেরা আমার মুক্তিযোদ্ধারা যে অস্ত্র কেড়ে নিয়েছে তার মধ্যে শতকরা ৬০টি অস্ত্র চায়নার, শতকরা ৪০টি অস্ত্র আমেরিকার। বলেনতো আপনারা স্যোসালিষ্ট কান্ট্রি হয়ে আপনারা মানুষের জন্য যুদ্ধবিরোধী কথা বলে, আপনারা কেমন করে, যে দেশ সমস্ত সংগ্রাম করছে, মুক্তিকামী দেশ অধিনতার বিরুদ্ধে স্বাধীনতার জন্য কেমন করে তাদের অস্ত্র দিলেন রাতের অন্ধকারে। আমি চায়না সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করি- আপনারা অনেক বোধ হয় সেকথা জানেন এবং জানেন না। তাই আন্দোলন যখন শুরু হয়, আমরা যখন জয়লাভ করি এই রেসকোর্স ময়দানে, আওয়ামী লীগের সদস্যরা শপথ নিলাম। তাদের ঘুম গেল। তারা মনে করেছিল আমরা আপোষ করব ক্ষমতার জন্য। নীতির সঙ্গে আপোষ হয় না, সেটা আমি বারবার তাদের বলে দিয়েছিলাম। সেই দিন যখন আমরা শপথ নিলাম এই রেসকোর্স ময়দানে এম সিদের নিয়ে যে আমরা আমাদের নীতির সঙ্গে কোন আপোষ করবনা। তারপরই এক জাহাজ অস্ত্র সোয়াত নামে চট্টগ্রামে বন্দরে চায়না থেকে আসে এবং ১লা তারিখের পূর্বেই অস্ত্র আইসা পৌঁছে এবং সে অস্ত্র নামতে দেয় নাই আমার শ্রমিক ভাইরা, কর্মীরা, ছাত্ররা। ২৪ তারিখে আমাদের উপর আক্রমণ করার দিন সামরিক বাহিনীর লোকেরা এরোপ্লেনে যেয়ে বাঙ্গালী সৈন্যদের কাছে অস্ত্র কেড়ে নিয়ে তখন তারা মাল নামানোর চেষ্টা করে। আমি জানতাম, আমি পারতাম সে জাহাজকে ধ্বংস করতে এবং সে সামর্থ আমাদের ছিল কিন্তু করি নাই, তাহলে চট্টগ্রাম পোর্ট আমার উড়ে যায় এবং চট্টগ্রাম শহর আমার জ্বলে যায়। এত বিষাক্ত অস্ত্র তারা আমাদের বাংলাদেশে পাঠিয়েছিল তখন। বলেন কি করে তাদের আমি ধন্যবাদ জানাব? তবে জানাব এখন জানাতে পারলাম না। ভবিষ্যতে যদি বাংলার জনসাধারণের পাশে তারা দাড়ান তা নিশ্চয়ই তারা দাড়ান-প্রাণ খুলে জানাব, মন ভরে জানাব, দু-হাত তুলে জানাব। এখন পারলাম না, দুঃখিত।

যাই হোক আমেরিকা অস্ত্রপাতি দিয়েছেন, বিশেষ কারণে ধন্যবাদ দেই নাই। রিকোগনেশন দিয়েছেন- ভাল, সুখী হলাম, তাহলে ধন্যবাদ দিচ্ছি। মেহেরবানী করে আপনাদের প্রতি অনুরোধ রইল যে আর দামবাজির খেলা আর খেইলেন না, বাংলার মাটিতে তা হবে না। আমরা সকলে সংঘাত ছাড়া বন্ধুত্ব করতে চাই। আমরা চোট দেশ, অস্ত্র দিয়ে কারো সাথে যুদ্ধ কামনা করতে পারি না। আমরা চাই একটা শান্তিপূর্ণ একটা সহ অবস্থানে আমরা বিশ্বাস করি। আমরা যুদ্ধে বিশ্বাস করিনা। আমাদের দেশে অস্ত্রপাতি নাই। আমরা আনপ্রোডাক্ট এক্সপেনডেসার করতে চাইনা। আপনাদের মতো শক্তির সঙ্গে যুদ্ধ করার ক্ষমতা আমাদের নাই। মেহেরবানী করিয়া আপনারা রিকোগনেশন দিয়েছেন, আপনাদের জনগণের সঙ্গে আপনাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব আমিও কামনা করি। আমার ভিতরের ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করার চেষ্টা করিবেন না। তাহলে বুঝতেই পারছেন অবস্থা আবারো খারাপ হইয়া পড়িবে। যারা আমাদের রিকোগনেশন দিয়েছেন-তাদের আমরা আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই বিশেষ করে ভারত ও রাশিয়াকে আন্তরিক ধন্যবাদ। ভারতবর্ষ যদি আমার এক কোটি লোককে খাবার না দিত, ভারতের সৈন্যরা যদি আমার মুক্তিবাহিনীর সৈন্যদের পাশাপাশি যুদ্ধ না করত, ভারতের অধিবাসিরা তাদের ঘরবাড়ি চেড়ে দিয়ে আমাদের নাগরিকের না খাওয়াত। তাহলে আমাদের এ সংগ্রাম অনেকদিন চলত। স্বাধীনতা নিশ্চয়ই আসত। কিন্তু আমাদের কি হতো বলা যায় না। এজন্য নিশ্চয়ই আমি শ্রীমতি গান্ধী, ভারতের জনসাধাণ বিশেষ করে পশ্চিম বঙ্গ, ত্রিপুরা, মেঘালয়া ও আসামের জনসাধারণের ধন্যবাদ জানাই এবং তিনি আসছিলেন, আমিও ভারতে গিয়েছিলাম আপনারা জানেন আপনাদের পক্ষ থেকে কলকাতায় আমি লেখাপড়া করেছি। কেহ আপনারা জানেন কলকাতার গলি রাস্তা আমি সবই চিনি। কলকাতায় আমি রাজনীতিকর্মী ছিলাম। সাইকেল নিয়ে পথে ঘাটে ঘুরতাম। এর আগে ১৯৩৮ সালেও আমি একবার জেলে গিয়েছিলাম। যাক সে কথা। তারপরে আমরা মৈত্রি চুক্তিতে আবদ্ধ হয়েছি ভারতের সঙ্গে। কারণ ভিতরের ব্যাপারে কেউ হস্তক্ষেপ করিবে না। বহু রাষ্ট্রের সাথে আমরা পাশাপাশি বাস করব।

আমি সোভিয়েতে গিয়েছিলাম। সোভিয়েতের জনসাধারণ এবং সরকার, শুধু যে আমাদের সাহায্য করেছিলেন তাই নয়। যখন সংগ্রাম করতেছিল জনসাধারণ। যখন আমাকে এখান থেকে গ্রেফতার করে নিয়ে যাওয়া হয়, মেশিন গান দিয়ে। তখন প্রথম দেশ, প্রথম দেশের প্রথম নেতা হিসেবে গ্রেফতারের প্রতিবাদ করে ইয়াহিয়া খানের কাছে অনেক চিঠি পাঠান এবং মানুষ খুন বন্ধ করার আবেদনও করেন। সোভিয়েত রাশিয়াকে বিশেষ করে ধন্যবাদ দিব এবং যে বিশেষ সম্মান ও ভালবাসা আমাকে দেখিয়েছেন আমি মস্কোতে যাবার পরে। সেজন্য আমি তাদের আন্তুরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

যে সমস্ত দেশ আমাদের ফলোআপ দিচ্ছেন তাদেরও আমি আন্তুরিক ধন্যবাদ জানাই। তবে আমার আমাদের বৈদেশিক নীতি পরিস্কার আয়নার মতো। কোন কিন্তু ফিন্তু এর মধ্যে নাই। ইংরেজীতে বলি ইন্ডিপেন্ডেন্ট নিউট্রুয়াল ফরেন পলিসি পূর্ণ সহঅবস্থানে আমরা বিশ্বাস করি। আমরা যে সমস্ত দেশ সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে জাতীয় মুক্ত আন্দোলন করবে। বাংলাদেশের জনসাধারণ তাদের সমর্থন জানাবে। আমরা সাম্রাজ্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে এটা পরিস্কার যে কারো বিরুদ্ধে আমাদের শত্রুতা নাই। আমরা শান্তিপূর্ণ সহঅবস্থানে বিশ্বাস করি। আমার নতুন দেশ, আমার ভস্মিভূত অর্থনীতি, ধ্বংসস্তুপের মধ্যে আমার দেশ হয়েছে। লক্ষ লক্ষ কোটি কোটি মানুষ না খাওয়া, গ্রামে গ্রামে হাহাকার গৃহহারার আর্তনাদ। বেকার গ্রামে গ্রামে ঘুরে বেড়াচ্ছে। পয়সা নাই, ট্যাক্স ধরতে পারিনা, সরকার চালানো কষ্টকর, মানুষকে খুশী করতে পারিনা, নানা অসুবিধার মধ্যে আমরা চলছি। এই সুযোগ নিয়ে একদল ষড়যন্ত্রকারী যারা কোনদিন আমাদের সাথে স্বাধীনতা সংগ্রামে যোগদান করে নাই। যারা আমাদের গণআন্দোলন বানচাল করার চেষ্টা করছিল, যারা ছলে বলে আমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করার চেষ্টা করছিল, তারা সুযোগ নেবার চেষ্টা করছে।

আমার ভাই ও বোনেরা, আপনাদের কাছে আমার আবেদন-ছাত্র-ছাত্রী ভাই ও বোনেরা, আমি আশা করব যে কথা আপনাদের সভাপতি বলেছেন। তার সঙ্গে আমি সম্পূর্ণ একমত। যারা আমরা সমাজতন্ত্রে বিশ্বাস করি, তারা হাতে হাত মিলিয়ে গলায় গলা মিলিয়ে সমাজতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করে এগিয়ে যেতে হবে। এ সম্বন্ধে কোন সন্দেহ নাই। আমি সকলের কোন-অপারেশন ও সহযোগিতা চাই। সকলের কাছে যদি দরকার হয় বুদ্ধি হাওলাত নেব-তাতে আমি রাজি আছি। যদি কেউ গোপনে গোপনে আমাকে এডভাইস দিতে চান, তাতেও আমি রাজি আছি। যদি কেউ প্রকাশ্যে বন্ধ দেবার চান তাতেও আমি রাজি আছি। যারা তলে তলে গুজগুজ খুচখুচ করেন, তাদের সাথে আমি পারব না। সেটা আমার দ্বারা হবে না, আমি একগোয়া মানুষ ফট করে নেমে যাব ময়দানে, আবার রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম শুরু হয়ে যাবে, কেউ ঠেকাতে পারবে না।

আজ সুযোগ পেয়ে গেছেন, আশ্চর্য হয়ে যাই। বিপ্লবী বিপ্লবী বিপ্লবীদের উপর ঘৃণা এসে গেছে মাঝে মাঝে। এক বিপ্লবীদের নামে রাজাকার আর আল-বদর যোগ হয়ে গেছে জায়গায় জায়গায়। বিপ্লবীদের আগে রেখে আলবদর, রাজাকার পেছনে লাইন দেছে। এটা হলনা, ওটা হলনা- তোমার বাবার মাথা হবে, আরে এখনও যে বাংলাদেশ ব্যাঁইচ্যা রইছে এও ভাগ্য ভালো। তোমাদের যে এখন পর্যন্ত আমরা যে ৭১ সালে স্বাধীনতা নিয়ে এসেছি, তারপরেও যে গুলি করে মারি নাই-এটা আমার দূর্বলতা নয়। দরকার হলে হতে পারে জনগণ করবে। আমি ঠেকাতে পারব না।

মনে করনা যে সমাজতন্ত্র করতে যাচ্ছি। সেজন্য সমাজতন্ত্র করতে যদি যে কোন পথ আমাদের অবলম্বন করতে হয়, করবই। কেউ ঠেকাতে পারবেনা। এটা আমার এবং আমার দলের বিশ্বাস এবং জনগণের বিশ্বাস।

ছাত্র ভাইদের ও বোনেরা,

এক ভাই বলেছে যে শিক্ষা তিন মাসের শিক্ষা দিয়ে কি করব? স্কুল নাই, কলেজ নাই, ল্যাবরেটরি ভেঙ্গে দিছে, টিচার মাইরা ফেলে দিছে, কিচ্ছু নাই। তিন মাসের মধ্যে যে আপনারা এখানে বসে সভা করছেন আল্লাহর কাছে ধন্যবাদ দেন। কারণ যে অস্ত্র আপনারা নিয়ে যুদ্ধ করছেন, আমার কাছে কাগজ আছে, সে কাগজ এখন বাইর করব না, ভবিষ্যতে করব। জেনারেল ফরমান আলী খানের হাতের লেখা। এ অস্ত্র আমি অমুকের কাছে দিয়ে দিচ্ছি। একটা গ্রুপ, তারা সম্মানে এখন পর্যন্ত দেশের মধ্যে আছে এবং তিনিও বলেছেন, তার হাতের লেখা পেয়েছি। সবুজ বাংলার উপর লাল রং প্রিন্ট করে দাও। তার নিজের হাতের লেখা। তাহলে বুঝতেই পারছেন ষড়যন্ত্র কিভাবে হচ্ছে।

শিক্ষা কমিশন গঠন করা হবে। শিক্ষা হবে গণমুখি শিক্ষা এবং সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতির সঙ্গে মিল রেখেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে গড়ে তুলতে হবে। সেজন্য শীঘ্রই একটি শিক্ষা কমিশন গঠন করা হবে এবং সেখানে আপনাদের প্রত্যেকেরই অধিকার থাকবে আপনাদের মতামত দেওয়ার। অনেকে বলেন যে শিক্ষা কমিশনের এই প্রতিনিধি নিতে হবে, এই প্রতিনিধি নিতে হবে, তথ্য প্রতিনিধি নিতে হবে। শিক্ষক প্রতিনিধি নিতে হবে। ওমুক প্রতিনিধি নিতে হবে। এগ্রিকালচার নিতে হবে, কলেজ নিতে হবে। সব নিলেতো আর কমিশন হয়না আবার এসেম্বলি হয়ে যায়। কমিশন থাকবে, যদি আপনারা যে দল, যে মত, যে ছাত্র প্রতিষ্ঠান যা আছেন, আপনাদের মতামত দিয়ে আপনারা লেখেন, তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন-কমিশনকে সময় দেয়া হবে। আপনাদেরকে সময় দেয়া হবে। আপনাদের মত দেয়া হবে। আপনাদের সব সুবিধা দেয়া হবে। আপনারা বলেন-তারপরে কমিশন যখন রিপোর্ট সাবমিট করবে জনগণের কাছে পেশ করব। আমরাও এর মধ্যে ইন্টারফেয়ার করবনা। আমরা চাই গণমুখি শিক্ষা। আমরা আর ভবিষ্যতে আল্লাহর ওয়াস্তে কেরানী সাহেব পয়দা করার শিক্ষা আর চাই না। আমাদের শিখতে হবে গণমুখী শিক্ষা এবং আমাদের নিচের তলার লোক যারা গ্রামে গ্রামে বাস করে তারা যেন শিক্ষার সুযোগ পায়-সেদিক নজর রাখতে হবে। আমি আশা করি আমার বন্ধুরা তা স্বীকার করবে, যে প্রস্তাব দিয়েছিলাম সম্পাদক সাহেব, আশা করি তিনি তা গ্রহণ করবেন এবং গ্রহণ করা উচিৎ হবে। তারপরে আমাদের বক্তব্যে আমরা বৈদেশিক নীতি বলেছি, অর্থনীতি বলেছি। গণতন্ত্র? হ্যাঁ গণতন্ত্রও বলেছি। গণতন্ত্র না হলে কেমন করে হয়। এমন দেখেন সহজে লিখেও ফেলে নাই। আমরা যে বাংলাদেশ এবং ভারতবর্ষের মৈত্রী করেছি দু’একটা পত্রিকা এও গণতন্ত্র হয়ে গেছে! সার্বক্ষণিক কটাক্ষ লেখা শুরু হয়ে গেছে এবং তারা এখানে বসে ইন্টারকন্টিনেন্টালে বসে একটু কিছু গরম পানি খান আর বাইরের কাছে বাংলাদেশ সম্বন্ধে অনেক কথা বলিয়া দেন। তার মানে গণতন্ত্র নয়। যে গণতন্ত্র হ্যাঁ…..নিশ্চয়ই…..। কিন্তু আমরা নতুন না যে যে মাত্র তিন মাস অনধিক আমরা রক্তক্ষয়ী সংগ্রামে স্বাধীনতা পেয়েছি। এখন বন্দুক নিয়ে ঘরবেন, বন্দুক নিয়ে গুন্ডামী করুক, নিশ্চই আপনারা তা চান না। নিশ্চয়ই চান না, কেউ চান না। কেউ চায় না। এটা গণতন্ত্র না। তাদের দমন করার জন্য নিশ্চয়ই আপনারা সাহায্য করবেন। এই সমাজ প্রতিরোধ এবং সেটা পুলিশের চেয়েও জনগণের বিশেষ করে ছাত্র সমাজ, সুধি সমাজ এবং কৃষক সমাজের এগিয়ে আসতে হবে। যাতে শান্তি দেশের মধ্যে বজায় থাকে। শান্তি বজায় না থাকলে কোন কাজই দুনিয়ায় করা যায় না।

ভাইয়েরা বোনেরা আমার,

আমি আপনাদের আর মূল্যবান সময় নষ্ট করতে চাইনা। যে আমাকে আপনারা যে সমর্থন দিচ্ছেন এবং আন্দোলনে সমর্থন দিয়েছেন এবং ভবিষ্যতে দিবেন, এই সম্বন্ধে নিশ্চিৎ বিশ্বাস আছে। এই জন্য বিশ্বাস আছে, এটা আগেও বলেছি-আপনাদের সঙ্গে যে আদর্শ নিয়ে আমরা এগিয়ে চলেছি, তাতে আপনারা বিশ্বাস করেন এবং নিশ্চয়ই সমর্থন করবেন; এ সম্বন্ধে আমার কোন সন্দেহ নাই। তবে আপনাদের হুশিয়ার করে দিতে চাই যে, যারা এদেশকে নষ্ট করতে চায়। বানচাল করতে চায়, দেশের মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চায়, যারা এদেশে মাঝে মাঝে গোপনে পোষ্টার ছাপিয়ে, লিপলেট ছাপিয়ে এবং বিদেশী দালাল হিসেবে কাজ করে তাদের কাছে সুবিধা নেয়ার চেষ্টা করেন- আমিতো আপনাদের সাথে আছি। নিশ্চয়ই তাদের দমন করতে হবে- এ সম্বন্ধে কোন সন্দেহ নাই।

আমার ভাইয়েরা ও বোনেরা,

যে চারটি স্তম্ভের উপর বাংলাদেশ স্বাধীনতা আন্দোলন হয়েছে। এই চারটি স্তম্ভের উপর বাংলা স্বাধীনতা চলবে। আপনারা জানেন জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র এবং ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র। এটা আমি বিশ্বাস করি, আমার দল বিশ্বাস করে, জনগণ বিশ্বাস করে, আশা করি আপনারাও বিশ্বাস করেন। আমি আপনাদের আবারো ধন্যবাদ দিচ্ছি, তবে আমার এক ভাই প্রস্তাব দিয়েছেন যে দুই ছাত্র প্রতিষ্ঠান নিয়ে একসঙ্গে এগিয়ে নিয়ে কাজ করব কেমন করে। আমি নিশ্চয়ই আশা করব যে ছাত্র ইউনিয়ন বা ছাত্রলীগ ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান এবং আমি জানি ছাত্রলীগের সঙ্গে আগে জড়িত ছিলাম, হ্যাঁ প্রতিষ্ঠাতাও ছিলাম। আমি আশা করি নীতির সঙ্গে যেহেতু আপনাদের মিল আছে। আদর্শের যেহেতু মিল আছে-আপনারা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশে সমাজতন্ত্র গঠন করার জন্য দুস্কৃতিকারীদের বিরুদ্ধে এবং দেশের মানুষকে নিয়ে দেশে শোষণহীন সমাজ গঠন করার জন্য কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে, গলায় গলা মিলিয়ে, অগ্রসর হবেন-এটাই আমি আশা করি। আপনাদের মধ্যে সামান্য বিষয় নিয়ে যেন ভূল বোঝাবুঝি না হয়, সেটাই আমি আশা করি।

 

Read Previous

১৯৭২ সালের ৯ এপ্রিল ঢাকায় আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে সভাপতি হিসেবে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ

Read Next

১৯৭২ সালের ১০ এপ্রিল বাংলাদেশ গণপরিষদে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ