আইসিটি এন্ট্রারপ্রেনারশিপ ইনকিউবেটর [ বেসরকারি পর্যায়ে দেশের প্রথম ] যাত্রা শুরু

আইসিটি এন্ট্রারপ্রেনারশিপ ইনকিউবেটর [ বেসরকারি পর্যায়ে দেশের প্রথম ] যাত্রা শুরু : বিজনেস ইনোভেশন এ্যন্ড ইনকিউবেশন সেন্টার (বিআইআইসি) এবং প্রাণন লিমিটেড যৌথ ভাবে খুলনাতে বাংলাদেশের প্রথম “আইসিটি ইন্টারপ্রেনারশীপ ইনকিউবেটর” স্থাপনের ঘোষনা করেছে।গত ১৭ই নভেম্বর ২০১১ তারিখে বিআইআইসি হলে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে বিআইআইসি চেয়ারম্যান এম সাবির আহমেদ, প্রানন লিমিটেডের সিইও নাহিদুল ইসলাম রুমেলের হাতে বিনিয়োগের আনুষ্ঠানিক সম্মতি পত্র হস্তান্তর করেন।আইসিটি এন্ট্রারপ্রেনারশিপ ইনকিউবেটর [ বেসরকারি পর্যায়ে দেশের প্রথম ] যাত্রা শুরু : ICT entrepreneurship incubator

অনুষ্ঠানে বিআইআইসির পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান এম সাবির আহমেদ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর, এয়ারটেলের চিফ ইনফরমেশন অফিসার লুত্ফর রহমান, প্রাণন এর সিইও নাহিদুল ইসলাম রুমেল এবং দুই প্রতিষ্ঠানের উর্ধতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

বিআইআইসি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক সূফি ফারুক ইবনে আবুবকর বলেন “এটি বাংলাদেশে উদ্যোক্তা তৈরির ক্ষেত্রে সম্পূর্ন নতুন ধারনা। আমরা আমাদের ধারনাকে বাস্তবে রূপায়িত করবার জন্যই এইপ্রকল্পটি হাতে নিয়েছি। যদি আমাদের মডেলটি সফলভাবেকাজ করে, আমরা বাংলাদেশের প্রতিটি বিভাগে এর প্রতিরূপ তৈরি করা সম্ভবপর হবে।

প্রাণন লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদুল ইসলাম রুমেল বলেন “বস্তুত এখানে নতুন আইটি উদ্যোগক্তা তৈরী হবে। প্রতিবছর প্রায় চল্লিশটির মতো নতুন কোম্পানি এখান থেকে তৈরী হবে।যদি মডেলটি পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করে, প্রতি বছর আমরা এই সংখ্যাকে তিন – গুন পর্যন্ত বর্ধিত করতে পারবো। আমরা মনে করি, এভাবে কাজ করলে খুলনা হয়ে উঠবে এশিয়ার সিলিকন ভ্যালি। বাংলাদেশে আইটি ফ্রিল্যান্সারদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে।

[ আইসিটি এন্ট্রারপ্রেনারশিপ ইনকিউবেটর [ বেসরকারি পর্যায়ে দেশের প্রথম ] যাত্রা শুরু ]

দক্ষতার দিক থেকেও বাংলাদেশী ফ্রিল্যান্সাররা বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে সন্তোষজনক ভাবে এগিয়ে চলেছে। শিক্ষাজীবন শেষ করে পূর্ণকালীন ফ্রিল্যান্সার হিসেবে অনেকেই আত্মপ্রকাশ করছেন। কেউ কেউ আউটসোর্সিংকে ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠান তৈরী করছেন। তবে এই সংখ্যা এখনও অনেক কম। কিন্তু দেশের অর্থনীতিতে সুপরিকল্পিত ও শক্তিশালী অবদান রাখার জন্য এই সেক্টরের দক্ষ এবং সম্ভাবনাময় জনবলকে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় সংঘবদ্ধ করা এখন একান্ত প্রয়োজন। এই উদ্দেশ্যেই এই প্রাণন আউটসোর্সিং ইনকিউবেটরের পথ চলা।

প্রাথমিক পর্যায়ে খুলনা মহানগরীতে এই আউটসোর্সিং ইনকিউবেটর প্রজেক্টের কার্যক্রম শুরু হবে। খুলনা মহানগরীতে IT এবং ITES এ আগ্রহী পোটেনশিয়াল জনবল রয়েছে। প্রতিবছরই বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে সফল ভাবে শিক্ষাজীবন সম্পন্ন করে আগ্রহী একদল মেধাবী তরুন বের হচ্ছে। যাদের আগ্রহ রয়েছে সফল উদ্যোক্তা হবার।

কিন্তু সুর্নিষ্ট দিকনির্দেশনা, প্রয়োজনীয় দক্ষতা, যোগাযোগ, সঠিক পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনা জ্ঞান না থাকায় তারা প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করে সফল উদ্যোক্তা হয়ে উঠতে পারছে না। প্রাণন আউটসোর্সিং ইনকিউবেটর এই সমস্যাগুলো সমাধান কল্পে কাজ করে দক্ষ জনবল ও সফল উদ্যোক্তা তৈরীতে নিয়ামকের ভূমিকা পালন করবে। প্রাথম পর্যায়ে এই ইনকিউবেটরের যাত্রা শুরু হবে ৩৬ জন সম্ভাব্য উদ্যোক্তা নিয়ে।

[ আইসিটি এন্ট্রারপ্রেনারশিপ ইনকিউবেটর [ বেসরকারি পর্যায়ে দেশের প্রথম ] যাত্রা শুরু ]

উদ্যোক্তাকে আউটসোর্সিং সম্পর্কে প্রয়োজনীয় কৌশলগত ট্র্রেনিং, সার্বক্ষনিক কনস্যালট্যান্সি, সাধারন লজিস্টিকস সেবা, যোগাযোগ দক্ষতা বৃদ্ধি, মার্কেটিং ধারনা, আয় বৃদ্ধির কৌশল, বিজনেস ল এবং বিজনেস এ্যাডমিনিসট্রেশন সম্পর্কে সম্যক ধারনা দেওয়া হবে। এই সময়ের মধ্যে পর্যায়ক্রমিকভাবে কোম্পানী সৃষ্টিতে যাবতীয় পদক্ষেপ গ্রহণে উদ্যোক্তাদের সহযোগিতা করা হবে। ফলে উদ্যোক্তারা ব্যবসা শুরুর সময় যেসকল সমস্যার সম্মুখীন হন সেগুলো সমাধানে ইনকিউবেটর সহযোগীতা করবে।

এই ইনকিউবেটরের মাধ্যমে ঢাকার বাইরে কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে উৎসাহিত করা হবে। আইটি সেক্টরে সফলতা অর্জনের জন্য যে দক্ষতা, অবকাঠামো ও অন্যান্য বিষয়সমূহ দরকার সেগুলো আমাদের বিভাগীয় শহরগুলোতে আছে। সুতরাং এই সম্পদকে কাজে লাগিয়ে নিত্যনতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি সম্ভাবনাময় জনগোষ্ঠীর ঢাকামুখী হওয়ার প্রবণতা রোধ করবে, যা আমাদের দেশে বিকেন্দ্রীকরণের ধারাতে কার্যকরী ভূমিকা রাখবে।

ইনকিউবেশন সময়কালের শুরু থেকেই একজন উদ্যোক্তা আর্থিক মুনাফা অর্জন করবে। প্রথমে ইনকিউবেটর সহযোগিতা করলেও পরবর্তীতে আউটসোর্সিং মার্কেট প্লেসে বিড করা ও আউটসোর্সিং প্রজেক্ট পরিচালনা উদ্যোক্তা নিজেই করতে পারবে। একজন সফল উদ্যোক্তা শুধু নিজেই আর্থিকভাবে লাভবান হয় না এর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাব গোটা অর্থনীতির চাকাকে সচল ও বেগবান করে।

একটি সফল উদ্যোগের ফলে এর সাথে সংযুক্ত ব্যক্তিবর্গের পরিবারগুলো আর্থিকভাবে স্বচ্ছল হবে। এর প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়বে কৃষি পণ্য, শিল্প পণ্য সহ অন্যান্য পণ্য ও সেবাসমূহের ক্রয়-বিক্রয়ের উপর। যার বহুমুখী প্রভাবে সমগ্র এলাকার অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব হবে। ব্যক্তির আয় বৃদ্ধির সাথে সাথে এসব পণ্য ও সেবাসমূহের ক্রয়ের ক্ষমতা বাড়বে এবং বাজারে এর যোগান বৃদ্ধি পাবে।

একজন কৃষক কৃষি পণ্যের উৎপাদন বাড়াবে অধিক লাভের আশায়, কারণ ক্রেতার ক্রয় ক্ষমতা বাড়বে। একজন শিল্পপতি শিল্প পণ্যের উৎপাদন বাড়াবে কারণ বাজারে চাহিদা আছে। সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠান সমূহ আরো কার্যকর হবে। ফলে এসব উৎপাদনের সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠির আয়ও বৃদ্ধি পাবে। এর পরোক্ষ প্রভাবে নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, রাস্তা-ঘাট, আবাসন, নতুন কর্মক্ষেত্র ও প্রতিষ্ঠান সহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ও অবকাঠামো সৃষ্টি হবে যার বহুমাত্রিক প্রভাব অর্থনীতিতে ইতিবাচক অবদান রাখবে।

এর পাশাপাশি আয়ের একটি অংশ সঞ্চয় হিসেবে জমা থাকবে যা সামগ্রিকভাবে বিনিয়োগে অবদান রাখবে। এভাবে একটি এলাকার অবকাঠামোগত উন্নয়ন সহ আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন হবে যা দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে অবদান রাখবে।)

[ আইসিটি এন্ট্রারপ্রেনারশিপ ইনকিউবেটর [ বেসরকারি পর্যায়ে দেশের প্রথম ] যাত্রা শুরু ]

মন্তব্য করুন