বিআইআইসি – প্রাণন এন্টারপ্রেনারসিপ ইনকিউবেটর আগামী সফল উদ্যোক্তার প্রসারিত পথ

বিশ্বব্যাপী প্রযুক্তির আলো উদ্যোগী মনকে স্বপ্ন দেখায় নিজের প্রতিভাকে পূর্ণ মাত্রায় প্রকাশ করার। বিআইআইসি – প্রাণন এন্টারপ্রেন্টারসিপ ইনকিউবেটর আগামী সম্ভাব্য উদ্যোক্তাদের জন্য প্রতিযোগিতা মূলক আই টি বাজরে এক নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে। একটি সফল উদ্যোগ যেমন আত্মকর্মসংস্থান নিশ্চিত করে তেমনি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে বেকারত্ব সমস্যার সমাধানে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। বিআইআইসি – প্রাণন এন্টারপ্রেন্টারসিপ ইনকিউবেটর উদ্যোক্তা তৈরীর কারিগর হিসেবে পথ চলতে শুরু করেছে। প্রাথমিক পর্যায়ে খুলনা মহানগরীতে IT এবং ITES সেক্টরে দক্ষ উদ্যোক্তা তৈরীর মাধ্যমে বৃহৎ কর্মসংস্থান সৃষ্টি তথা আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগীতামূলক পরিবেশে সমান দক্ষতা নিয়ে অংশগ্রহণ করাই এর মূল লক্ষ্য। পরবর্তীতে দেশব্যাপী এই কার্যক্রম প্রসারিত হবে এবং দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

বাংলাদেশে আইটি ফ্রিল্যান্সারদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে। দক্ষতার দিক থেকেও বাংলাদেশী ফ্রিল্যান্সাররা বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে সন্তোষজনক ভাবে এগিয়ে চলেছে। শিক্ষাজীবন শেষ করে IT এবং ITES সেক্টর কে ভিত্তি করে কেউ কেউ প্রতিষ্ঠান তৈরী করছেন। তবে এই সংখ্যা এখনও অনেক কম। কিন্তু দেশের অর্থনীতিতে সুপরিকল্পিত ও শক্তিশালী অবদান রাখার জন্য এই সেক্টরের দক্ষ এবং সম্ভাবনাময় জনবলকে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় সংঘবদ্ধ করা এখন একান্ত প্রয়োজন। এই উদ্দেশ্যেই এই বিআইআইসি – প্রাণন এন্টারপ্রেন্টারসিপ ইনকিউবেটরের পথ চলা শুরু হয়েছে জানুয়ারি, ২০১২ থেকে।

খুলনা মহানগরীতে IT এবং ITES এ আগ্রহী পোটেনশিয়াল জনবল রয়েছে। প্রতিবছরই বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যেমন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা প্রযুক্তি ও প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা পলিটেকনিক কলেজ, ইলাক্স, খুলনা বি এল কলেজ, কমার্স কলেজ সহ আরো অনেক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে IT এবং ITES এ আগ্রহী একদল মেধাবী তরুন সফল ভাবে শিক্ষাজীবন সম্পন্ন করছে। যাদের আগ্রহ রয়েছে সফল উদ্যোক্তা হবার। কিন্তু সুনির্ষ্ট দিকনির্দেশনা, প্রশিক্ষণ, যোগাযোগ, সঠিক পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনা জ্ঞান না থাকায় অনেকেই প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করে সফল উদ্যোক্তা হয়ে উঠতে পারছে না। এই ইনকিউবেটর এই সমস্যাগুলো সমাধান কল্পে কাজ করে দক্ষ জনবল ও সফল উদ্যোক্তা তৈরীতে নিয়ামকের ভূমিকা পালন করছে। এছাড়াও সমগ্র বাংলাদেশে এই কার্যক্রম আস্তে আস্তে বিস্তৃত হবে।

প্রাথমিকভাবে এই ইনকিউবেটরের যাত্রা শুরু হয়েছে ১২ জন সম্ভাব্য উদ্যোক্তা নিয়ে। ইনকিউবেশনের মেয়াদ ১ বছর। ১ বছরে ৩ টি ব্যাচ এই কার্যক্রমে অংশগ্রহন করবে। প্রতিটি ব্যাচে ১২ জন উদ্যোক্তা থাকবে। প্রতি ৪ মাস অন্তর ১ টি নতুন ব্যাচ এই কার্যক্রমে অন্তর্ভূক্ত হবে। এভাবে প্রতি ৪ মাস অন্তর নতুন ১২ জন সম্ভাব্য উদ্যোক্তার অংশগ্রহনে এই কার্যক্রম নিয়মিত ভাবে চলতে থাকবে। ৩ জন উদ্যোক্তা নিয়ে একটি গ্রুপ তৈরী করবে যারা ইনকিউবেশন সময়কালের মধ্যে একটি প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি তৈরী করবে। অর্থাৎ ১ বছরে ৩৬ জন উদ্যোক্তা তৈরী হবে এবং ১২ টি কোম্পানি তৈরী হবে যার মাধ্যমে একটা বিশাল কর্মক্ষেত্র বাংলাদেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখবে।

এই ইনকিউবেটর সম্ভাব্য উদ্যোক্তাদের বিভিন্ন ধরনের সেবা ও সহযোগিতা প্রদান করছে। এর মধ্যে রয়েছে টেকনিক্যাল প্রশিক্ষণ, ব্যাবসা পরিকল্পনা ও ব্যাবস্থাপনা সংক্রান্ত সব ধরনের প্রশিক্ষণ, সার্বক্ষণিক কনসালট্যান্সি এবং সাধারণ অবকাঠামোগত সুবিধা। উদ্যোক্তাদের বিভিন্ন বিষয়ে দক্ষতা অর্জনের জন্য সার্বক্ষণিক অভিজ্ঞ প্রশিক্ষকের মাধ্যমে Software development, Web Application Development, web Design & Development, Graphic Design, Mobile Phone Application, Search Engine Optimization, Internet Marketing, E- commerce, Content writing সংক্রান্ত সকল বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে । ব্যাবসা পরিকল্পনা ও ব্যাবস্থাপনা সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ যেমন Effective Business Plan, Financial Projection, Administrative & Financial Management, Human Resource Management, Business Networking & Communication ইত্যাদি উদ্যোক্তাদের প্রদান করা হচ্ছে যাতে করে তারা নিজেদের প্রতিষ্ঠান সফলভাবে পরিচালনা করতে দক্ষ হয়ে ওঠে। একজন উদ্যোক্তাকে সাধারণ অবকাঠামোগত সেবা যেমন-কমন ওর্য়াকিং স্পেস, ল্যাপটপ সুবিধা, উচ্চগতি সম্পন্ন ইন্টারনেট সুবিধা, সিকিউরিটি সার্ভিস সহ ব্যবসা পরিচালনার জন্য সার্বিক লজিস্টিক সার্পোট (কমন ফার্নিচার, প্রিন্টার, ফটোকপিয়ার, স্ক্যানার, ফ্রন্ট ডেস্ক সার্ভিস, অফিস স্টেশনারিজ, সার্বক্ষণিক ইলেক্ট্রিসিটি ইত্যাদি) সার্বক্ষণিকভাবে প্রদান করা হচ্ছে।

এছাড়াও রয়েছে প্রেরণামূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে উদ্যোক্তাদের উৎসাহী করা যেমন বিভিন্ন আইটি প্রতিষ্ঠান, আইটি বিশেষজ্ঞ, সফল উদ্যোক্তাদের সাথে যোগাযোগ গড়ে তুলতে এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ করে দেয়া, আই টি সংক্রান্ত বিভিন্ন সভা-সেমিনারের মাধ্যমে তাদেরকে আরো তথ্য সমৃদ্ধ এবং আত্মবিশ্বাসী হতে সাহায্য করা।

এ সময় অর্থাৎ ইনকিউবেশনের সময় একজন উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণের পাশাপাশি অর্থ উপার্জন করছে। এক্ষেত্রে ইনকিউবেটর প্রোজেক্ট সোর্সিং সহ উদ্যোক্তাদের আয় নিশ্চিত করছে। একজন উদ্যোক্তা এই ১ বছরে চার লক্ষ বা তার অধিক অর্থ উপার্জন করতে পারবে। উদ্যোক্তার মুনাফার শতকরা ৩০ ভাগ বিআইআইসি-প্রাণন ইনকিউবেশনের লজিস্টিক সার্পোটের প্রয়োজনে ব্যয় করা হচ্ছে, ৪০ ভাগ উদ্যোক্তা মাস শেষে তুলে নিতে পারছেন এবং বাকি ৩০ ভাগ উদ্যোক্তার ব্যবসায়ের পুঁজি গঠনের জন্য সঞ্চয় করে রাখা হচ্ছে। একজন উদ্যোক্তার ব্যবসায়ের প্রথমেই যে প্রধান অভাব তৈরী হয় তা হল পুঁজি আর এ জন্যই উদ্যোক্তার উপার্জনের ৩০ ভাগ তার নিজস্ব কোম্পানির ব্যবসায়ে পুঁজি গঠনের জন্য সঞ্চয় করে রাখা হচ্ছে, যা তাকে তার কোম্পানি গঠনের শুরুতে পুঁজির জন্য বড় সহায়ক হিসেবে সহযোগিতা করবে। মূলত সম্পূর্ণ একজন উদ্যোক্তা তৈরীতে সকল প্রকার সেবা এবং সহযোগিতাই এই প্রজেক্টের উদ্দেশ্য। এমন কি উদ্যোক্তাদের নতুন কোম্পানি গঠনে ও সকল প্রকার সহায়ক ভূমিকা রাখা হবে। এক্ষেত্রে ইনকিউবেটর লিগ্যাল প্রসেসিং, ব্যবস্থাপনা, বিক্রয়, ব্যাংকিং, যোগাযোগ সহ প্রতিটি ক্ষেত্রে সহযোগিতা করবে।

বিআইআইসি – প্রাণন এন্টারপ্রেন্টারসিপ ইনকিউবেটর ব্যবসায়িক মুনাফা অর্জনের জন্য নতুন গঠিত কোম্পানিগুলোর ৫% শেয়ারের অংশীদার থাকবে প্রথম ৬ বছর ৬মাস পর্যন্ত ।

একজন সফল উদ্যোক্তা শুধু নিজেই আর্থিকভাবে লাভবান হয় না এর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাব গোটা অর্থনীতির চাকাকে সচল ও বেগবান করে। বি আই আই সি-প্রাণন এন্টারপ্রেন্টারসিপ ইনকিউবেটর প্রতিনিয়ত নতুন উদ্যোক্তা তৈরীর মাধ্যমে বিশাল কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বৃহৎ শক্তিশালী আই টি নেটওয়ার্ক গঠনে এক প্রসস্ত স্বপ্নের পাল মেলে দিল আই টি সাগরে। ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন আমাদের এক অন্য জগতে নিয়ে যায়। আর সেই স্বপ্ন পূরণে খুলনাই একদিন `আইটি উপত্যকা’ নামে পরিচিতি পাবে।

 

 

 

এডিট- এসএস

Read Previous

আমাদের ফ্যাশানেবলি লিবারেল বন্ধুরা

Read Next

নারায়নগঞ্জে আধুনিক পেশাজীবি ও উদ্যোক্তা তৈরী বিষয়ক কর্মশালা