Breaking News :

প্রসঙ্গ সিটি মেয়র – পরিবর্তনের ক্ষমতা না দিয়ে, পরিবর্তন আশা করার মতো বোকা আর আমরা কতদিন থাকব?

দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস কোলকাতা সিটি কর্পোরেশনের প্রথম নির্বাচিত হবার পরে এক অবাস্তব (ব্রিটিশদের দৃষ্টিতে) দাবী করে বসলেন!
 
তিনি গভর্নরকে লিখে জানালেন “আমি সরকারি অফিসারদের (ICS) থেকে কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী নিয়োগ দেব না। এই শহরের ভবিষ্যতের কথা ভেবে জনগণ তাদের প্রতিনিধি হিসেবে আমাকে নির্বাচিত করেছে। তাদের প্রত্যাশা পূরণে আমার স্বাধীনভাবে কাজ করার অধিকার থাকতে হবে। এই পদে আমি আমার বিশ্বস্ত এবং পছন্দের লোক নেব। আমি তাকেই নেব, যে আমার আদেশ সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে পালন করবে, যে শুধু সরকারি চাকুরী করবে না, আমার মতোই আন্তরিকতা নিয়ে এই শহরের ভবিষ্যৎ ভাববে। তাই আমি চাই আমার কর্মীদের মধ্য থেকে কাউকে নিয়োগ দিতে”।
 
তৎকালীন ব্রিটিশ আইনে এটা করা সম্ভব ছিল না। আবার রাজনীতিবিদ হিসেবে দেশবন্ধুর কথা ফেলা সহজ ছিল না। দেশবন্ধু অনড়। এই দাবী পূরণ না হলে রিজাইন দেবার সিদ্ধান্তে অটল।
 
শেষ পর্যন্ত আইন পরিবর্তন হল। গভর্নর দেশবন্ধুকে পছন্দসই নির্বাহী বেছে নেবার অনুমতি দিলেন। তবে আলাদা একটা নোটে লিখে দিলেন “দেশবন্ধুর প্রার্থী ফেল করার পরে ভালো দেখে একজন আইসিএস দেয়া হোক”।
 
সবাইকে অবাক করে দিয়ে দেশবন্ধু দায়িত্ব দিলেন ২৭ বছর বয়স্ক এক তরুণকে। এক বছরের মধ্যে সেই তরুণের কাজের সুনাম ভারত থেকে লন্ডনে গিয়ে পৌঁছল। জনতা এবং সরকারের শ্রদ্ধা রীতিমতো আদায় করে নিলেন। কিন্তু বছর ঘুরতেই স্বদেশী আন্দোলনের সাথে যুক্ত থাকার অভিযোগে সরকার তরুণকে আটক করলো।
 
এবার দেশবন্ধু আরও অসম্ভব এক দাবী রাখলেন ইংরেজ সরকারের সামনে!
 
তিনি বললেন আমার নির্বাহীকে তোমরা যে কারণে তাকে আটক করেছ, সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্ব পালনের সাথে তার কোন সম্পর্ক নেই। তাকে তোমরা আটকে রাখলেও, তার দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনের সুযোগ দিতে হবে।
 
এই ইস্যুটি সরকারকে বিরাট যন্ত্রণায় ফেলে দিলো। আইন তো নেই, ব্রিটিশ সাম্রাজ্যে এরকম কোন উদাহরণও নেই। তবুও শেষ পর্যন্ত সরকার মেনে নিতে বাধ্য হল। ব্রিটিশ রাজ আবারও অসম্ভব একটি অর্ডার ইস্যু করলো- এখন থেকে নির্বাহী জেলেই অফিস করবেন। প্রতিদিন সিটি কর্পোরেশনের ফাইল তার কাছে যাবে। তিনি জেলে বসে ফাইলে সিদ্ধান্ত দেবেন, কর্পোরেশনে সেই অনুযায়ী কাজ হবে।
 
সেই ছেলেটি আর কেউ নন। বাঙ্গালির হাজার বছরের স্বাধীনতা সংগ্রামের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের একজন, নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসু !!!
 
আজ নেতাজীর ১২১ তম জন্মদিন।

নেতাজীর প্রসঙ্গ আসলে এই গল্পটি মনে আসে।

সাথে এটাও মনে আসে- – বহু আগে ব্রিটিশ চলে গেছে। পাকিস্তান থেকে আমাদের স্বাধীন হবার সময়ও কম হল না। কিন্তু ইংরেজ রাজত্বে, একজন স্থানীয় সরকারের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে দেশবন্ধু যে স্বাধীনতা ভোগ করেছেন, তার কতটুকু আমরা আমাদের আজকের স্থানীয় সরকারের জনপ্রতিনিধিদের দিতে পারছি?

আমি আইন বিশেষজ্ঞ না। সাদা চোখে আইন দেখে যতটুকু মনে হয়েছে, তাতে স্থানীয় সরকারের জনপ্রতিনিধিদের অধিকাংশ অনেকখানি কাগজের বাঘ। ব্যক্তিত্বের জোরে কেউ যদি কিছু করাতে পারেন তো ভাল, আইনের জোরে খুব বেশি কিছু করতে পারেন না। দুর্নীতি গ্রন্থ সিস্টেম এবং জড়িত স্টাফরা যদি তাকে অকেজো করে রাখতে চায়, এর বিরুদ্ধে তার কার্যকর প্রায় কিছুই করার নেই।

নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা জাদুকর নন। নির্বাচিত হবার পরের দিন তাদের আরও দশ জোড়া বাড়তি হাত গজায় না। তারা আমাদের মতোই সাধারণ মানুষ। আমাদের মতই কম-বেশি তাদেরও – রাগ, ক্ষোভ, লোভ, অক্ষমতা আছে।
তাদের কাছ থেকে ভাল কাজ আশা করতে গেলে প্রথমে তাদেরকে পর্যাপ্ত ক্ষমতায়ন করা দরকার। ভাল কাজ করার জন্য মোটিভেশন দেয়া দরকার। ভাল কাজ করলে তার জন্য যথোপযুক্ত পুরস্কার দেয়া দরকার। এর পরে গিয়ে তার ভুল, ত্রুটি, সুবিধা, অসুবিধার বিচার করা যায়।
পরিবর্তনের ক্ষমতা না দিয়ে, পরিবর্তনের আশা কিভাবে করি?

Read Previous

মওদুদীর দেখানো পথে আযমী।

Read Next

বাংলাদেশের ক্রিকেটে পাকিস্তানের ভূমিকা!