Breaking News :

আমাদের যে কওম ২ টাকার দুনিয়া নিয়ে দিশেহারা, তারা আখিরাতের জন্য কোন হাতি শিকার করবে? কি জবাব দেব?

আমাদের যে কওম ২ টাকার দুনিয়া নিয়ে দিশেহারা, তারা আখিরাতের জন্য কোন হাতি শিকার করবে? কি জবাব দেব?

প্রতিটি সন্ত্রাসী হামলার পরে আমরা অভিযোগ করি – আন্তর্জাতিক মিডিয়ার মাধ্যমে ইহুদী-নাসরারা আমাদেরকে অর্থাৎ মুসলিমদের সন্ত্রাসী হিসেবে ব্র্যান্ডিং করেছে।

তো তাদের কাছ থেকে কি আশা করবো?
পরিশ্রম তাদের, উদ্ভাবন তাদের, বিনিয়োগ তাদের। আর কাজ করবে আমাদের?
তার উপরে আমরা তাদের আজীবনের শত্রু ঘোষণা করি।
এসবের পরে তারা তাদের মালিকানার মিডিয়ার দিয়ে, আমাদের পক্ষে বলে/লিখে, আমাদের ইমেজ রিকভার করে দেবে!
মামাবাড়ি?

আমারা নিজেদেরকে কেন প্রশ্ন করিনা- আমরা কেন আন্তর্জাতিক মিডিয়ার মালিক হতে পারলাম না? আমাদের কে বাধা দিয়েছে? কি বাধা দিয়েছে?

আমাদের প্রথম “রাব্বানা অতিনা ফিদ্দুনিয়া …..”, এর পরে “ওয়া ফিল আখিরাতি হাসানা”। আমাদেরকে কি দুনিয়াকে গুরুত্ব কম দিতে বলা হয়েছে? তাদের কাছে লিজ দিতে বলা হয়েছে? নাকি বুদ্ধি, আখলাক, নিয়ত, আমল দিয়ে জয় করতে বলা হয়েছে?

আমরা করেছি কি? করছি কি?
ওদের পয়সাওয়ালা বিল গেটস, ওয়ারেন বাফে বহু বছরের পুরনো গাড়ি চড়ে। আর আমাদের বড়লোকরা সিজনাল টয়লেটে সোনার কমোড লাগাই। ওরা লেখাপড়া করে, গবেষণায় বিনিয়োগ করে, উদ্ভাবন করে, পেটেন্ট বানায়, মন-প্রাণ দিয়ে বাণিজ্য বাড়ায়। আমরা সেসব কিনে বিলাসবহুল জীবনযাপন করি, ওড়াই। আমাদের মধ্যে যারা লেখাপড়া করে, গবেষনা করে, তাদের বিভিন্ন ছুতোয় বিপদে ফেলি।

মহান আল্লাহ আমাদের দুনিয়াও দিয়েছেন, আখিরাতের ওয়াদাও দিয়েছেন।
আমাদের যাদের দুনিয়া দিয়েছেন, তারা দায়িত্বহীন ভাবে অপচয় করি। যাদের দেননি তাদের আখিরাতের কথা বলে সান্ত্বনা দেই। কিন্তু সবার জন্য নিয়মমাফিক দুনিয়া জয় করার পথ খুলে দেই না। লেখাপড়া করা মুসলিমের প্রথম এবং অবশ্য কর্তব্য বলে প্রচার করি না। বড়জোর নিষ্ফল বিদ্রোহ করার মন্ত্রণা দেই, মরতে যাবার জন্য হাতে অস্ত্র তুলে দেই।

এসব মোনাফেকি নয় তো আর কি?
কেউ যদি প্রশ্ন করে- যে কওম ২ টাকার দুনিয়া নিয়ে দিশেহারা, তারা আখিরাতের জন্য কোন হাতি শিকার করবে? কি জবাব দেব?

এসব শুনে হাই তুলে বলব- আল্লাহ মাফ করুক। এরপর কাঁথা মুড়ি দিয়ে ঘুম দেব।
মনে রাখতে হবে- আল্লাহ ব্যক্তির অপরাধ মাফ করেন। কিন্তু কওমের সমন্বিত অপরাধ মাফ করেন না। ইতিহাস তাই বলে।

Read Previous

আর একটি আশুরা চলে গেল।

Read Next

Sufi Faruq visits Durga Puja Pandals of Kumarkhali-Khoksa