Breaking News :

পেশা পরামর্শ সভা- সফলতার ৯ টি শর্ত!

প্রিয় ভাই-বোনেরা,
কুমারখালীর বিভিন্ন ইউনিয়নে “পেশা পরামর্শ সভায়” সেসব বিষয়ে কথা বলেছি তার কিছু বিষয় এখানে পয়েন্ট আকারে লিখে দিলাম।

সত্যি কথা বলতে কি সফলতার নির্দিষ্ট কোন শর্ত বলা কঠিন। মানুষ হাজারো দোষ-গুন নিয়ে সফল হতে পারে। তবে অনেক সফল মানুষদের সম্পর্কে জানার পরে আমার মনে হয়েছে, কিছু বিশেষ গুন না থাকলে সফল হওয়া সত্যিই কঠিন, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অসম্ভব। তার মধ্যে আমার কাছে এই ৯ টি গুন খুবই গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়।

১. স্বপ্ন:
স্বপ্ন ছাড়া সফল হওয়া যায় না। স্বপ্ন থাকতেই হবে। সেই স্বপ্ন সুনির্দিষ্ট, স্থায়ী ও জীবন্ত হতে হবে। তোমাকে জানতে হবে তুমি কিসে সফল হতে চাও। কার মতো বা কার চেয়ে বড় হতে চাও। অনেক ভাবনা চিন্তা করে, নিজের মনের সাথে বোঝাপড়া করে সেই স্বপ্ন ঠিক করতে হবে। পরমাণু বিজ্ঞানী আব্দুল কালামের সেই বিখ্যাত উক্তিটি মনে রাখতে হবে “স্বপ্ন সেটা নয় যেটা তুমি ঘুমিয়ে দেখো। স্বপ্ন সেটা যেটা তোমায় ঘুমোতে দেয় না।”। তোমাকে সর্বক্ষণ জীবিত স্বপ্নের সাথে বসবাস করতে হবে। তাকে ছেড়ে এক মুহূর্তও নয়। তাকে নিয়েই সব ব্যস্ততা, তাকে সফল করতেই সব আয়োজন। সেই স্বপ্ন সফলের কাজগুলোর চেয়ে আর কোন কাজই জরুরী নয়। স্বপ্ন ঠিক করায় গোলমাল হলেই সব গোলমাল। সেই স্বপ্নের যায়গাটি অর্জন করার আগ পর্যন্ত সেই স্বপ্নে স্থায়ী হতে হবে। কারণ বিভিন্ন ধরনের বাধার মুখে বারবার যার স্বপ্ন বদলায়, তিনি কখনও সফলতার চেহারা দেখেন না। অর্জনের রাস্তা বদলাতে পারে, কিন্তু স্বপ্ন বা লক্ষ্য বদলানো যাবে না।

২. প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব:
সফল হবার জন্য প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব খুবই জরুরী। তার মানে এই না যে, যেকোনো ভাবে শুধুই জেতার চেষ্টা। বরং অন্য প্রতিযোগীদের চেয়ে কাজটা আরও ভালো করে করার চেষ্টা। আর যখন অন্যের চেয়ে ভালো হবে, বিজয় হবে অনিবার্য।

৩. শেষ করার অভ্যাস:
সফল হবার জন্য, যেকোনো কাজ টার্গেট পর্যন্ত শেষ করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। মাঝ পথে হাল ছেড়ে দেয় যাবে না। সেটা ছোট-বড় যেকোনো কাজের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। নিজের ছোট খাট অভ্যাস খেয়াল করে দেখতে হবে। যেমন একটি বই পড়া শুরু করা, কোন যায়গায় যাবার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করা, কারও সাথে সম্পর্ক তৈরির চেষ্টা শুরু করা। এসব ক্ষেত্রে যদি দেখ তুমি মাঝ রাস্তায় হাল ছেড়ে দিচ্ছি, তবে তোমার সেই অভ্যাস অবশ্যই বদলাতে হবে। দৌড়ে জিতি আর না জিতি, দৌড় আমাকে শেষ করতেই হবে।

৪. সুসম্পর্ক:
সফল হবার জন্য তোমার স্বপ্নের খাতের সিনিয়রদের (অগ্রজদের) সাথে সুসম্পর্ক থাকা খুবই জরুরী। পরিকল্পনা করে, শ্রম দিয়ে সেই সম্পর্ক তৈরি করতে হবে। আপাতত কোন কাজে লাগুক বা না লাগুক সেটা রক্ষা করে যেতে হবে। পাশাপাশি জীবনে যেকোনো কাজে যাদের সাথে পরিচয় হবে, সেই পরিচয়টা নিয়মিত যোগাযোগের মাধ্যমে ধরে রাখতে হবে। একজন মানুষের সাথে সম্পর্ক থাকলে, যোগাযোগ থাকলে, যেকোনো প্রয়োজনে তার কাছে যাওয়া যায়।

৫. রেপুটেশনের চিন্তা:
সব কাজের মধ্যে রেপুটেশনের চিন্তা থাকাটা সফলতার জন্য অত্যন্ত জরুরী। অর্থাৎ মর্যাদা বোধ থাক এবং সেটা বজায় রাখতে সচেতন থাকা। তার মানে এই না যে, সবসময় পিছু লোকে কি বলে সেই চিন্তা করা। তার মানে হচ্ছে, যেসব কাজে তোমার পেশাদারী দুর্নাম হয়, পেশার সাতে জড়িত মানুষের বিশ্বাস নষ্ট হয়, সেসব কাজের প্রতি ভয় থাকতে হবে। তোমার পেশার সাথে জড়িত লোকজন যদি তোমার প্রতি আস্থা না রাখতে পারে তবে তোমার সফল হবার সম্ভাবনা কম।

৬. সার্বক্ষণিক শিক্ষার্থী:
সফলতার সার্বক্ষণিক শিক্ষার্থী হতে হবে। তার মানে শেখার জন্য সবসময় মনের জানালা খোলা রাখতে হয়। পেশাদারি বিষয়ে নিয়মিত পড়াশোনা এবং তা নিয়ে আলোচনা সফল হবার একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। মনে রাখবে- যেদিন তোমার শেখা বন্ধ হবে, সেদিন থেকে তোমার নিচে নামা শুরু। আর যতদিন তুমি নতুন নতুন বিষয়ে শিখতে থাকবে, ততদিন তোমার উন্নতি।

৭. “না” বলার অভ্যাস:
অনেকেরই “না” বলার অভ্যাস থাকে না। যে কারণে তারা অনেক অ-গুরুত্বপূর্ণ বা অপ্রাসঙ্গিক বিষয়ে জড়িয়ে গিয়ে অকারণ মূল্যবান সময় নষ্ট করে। সফল মানুষদের এ ধরনের কাজ এড়িয়ে যাবার দক্ষতা থাকতে হয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর যায়গা থেকে যদি একবার ভাব তাহলে বুঝবে। তিনি হয়ত দিনে ২০ টা গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেন। কিন্তু তার পাশাপাশি তিনি অন্তত দিনে ১০০ অ-গুরুত্বপূর্ণ কাজকে “না” বলেন। উনি যদি অ-গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোকে “না” বলতে পারেন বলেই গুরুত্বপূর্ণ কাজ গুলোর জন্য সময় দিতে পারেন। তাই মনে রাখবে- সব কাজে হ্যাঁ করা যাবে না। শুধুমাত্র তোমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ, তোমার স্বপ্নের সাথে যুক্ত বিষয়গুলো যুক্ত হও। সব কাজে যুক্ত হওয়া দরকার নাই। আর “না” বলাটা বিনীত ভাবে সামনা সামনি বলবে। সরাসরি না বলে ঘুরালে রেপুটেশন নষ্ট হয়, সম্পর্ক নষ্ট হয়।

৮. অন্যকেও জেতানো:
জীবন এমন একটি অদ্ভুত খেলা, যেখানে শুধু নিজে জিতলে হয় না, অন্যকেও জেতাতে হয়। শুধু নিজের লাভ খুঁজলেই হয় না, অন্যের লাভটাও দেখতে হয়। শুধু নিজের জিততে চাওয়া, নিজের লাভ খোঁজা মানুষগুলো বেশিদূর আগাতে পারে না। তাই সফলতার জন্য নিজের পাশাপাশি অন্যের লাভটাও দেখতে হবে। যেকোনো ব্যবসা বা লেনদেনে দেখতে হবে পার্টনারেও তোমার মতই লাভ হচ্ছে কি না। সেই ব্যবসা বা লেনদেন স্থায়ী হয় যেখানে দুই পক্ষেরই জিত হয়। এক পক্ষ যদি হেরে যায় তবে সেটা স্থায়ী হয় না। আর বারবার তা ঘটলে একসময় সব দরজা বন্ধ হয়ে যায়।

৯. স্বপ্নের রাস্তায় যাত্রাতেই আনন্দ:
তোমার স্বপ্নের রাস্তায় যে যাত্রা, অর্থাৎ তার জন্য যে কাজকর্ম, ধ্যান-যজ্ঞ, ত্যাগ ইত্যাদি- সব কিছু আনন্দের সাথে করতে হবে। যাত্রা আনন্দময় না হলে সফলতার সম্ভাবনা কমে যায়। তোমাকে জানতে হবে- তুমি একটা মহান লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে চলেছ, এই রাস্তায় যাত্রা সফল করার উদ্দেশ্যে, ভালো নিয়তে তুমি যে কাজটিই করছ, তাতেই পুণ্য হচ্ছে, সওয়াব হচ্ছে।

তোমার সব স্বপ্ন সফল হোক।
দীর্ঘায়ু হও, সুখী হও।

 

তোমার ভাই,

সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর

পেশা পরামর্শ সভা - সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর : Career consultation for Rural Youth! - Sufi Faruq Ibne Abubakar
পেশা পরামর্শ সভা – সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর : Career consultation for Rural Youth! – Sufi Faruq Ibne Abubakar
Read Previous

বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী তুলে দেয়া হল অভিনেত্রী শারমীন জোহা শশীর হাতে

Read Next

উদ্যোগ, উদ্যোক্তা এবং লিডারশীপ- হিন্দুস্থানি ম্যানেজমেন্ট এপ্রোচ!