উদ্যোক্তা সিরিজ- ব্রান্ডিং-০১

আমাদের দেশিয় কোম্পানিগুলো মাল্টিন্যাশনালদের সাথে প্রতিযোগিতা করে সাফল্যের সাথে মার্কেট শেয়ার ধরে রাখলেও, আমাদের দেশি ব্রান্ডগুলো রিকগনাইজ না।
যেখানে, brand is more than a product. সেখানে এই বিষয়ে আমরা অনেকটা এলোমেলো।
ব্রান্ড কত মূল্যবান হতে পারে তার একটা ছোট্ট উদাহরণ দিই। বর্তমানে ম্যাকডোনাল্ডসে সম্পত্তির বাজার মূল্য ৩৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আর ব্রান্ডভ্যালু ৩৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এ সময় কেও বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফাস্ট ফুড চেইন ম্যাকডোনাল্ডস টেক-ওভার করতে চায়লে, তাকে কমপক্ষে ৭৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার খরচ করে মাত্র ৩৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের দৃশ্যমান সম্পদের মালিক হতে হবে!
ব্যান্ড কিন্তু উদ্যোক্তা তৈরি করে না, তৈরি করে কাস্টমরা। কি ভাবে?
এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার আরে আমার এক প্রশ্নের উত্তর দিন। বলুন তো ঢাকার বেস্ট কয়েকটা বিরিয়ানির নাম?
আপনি কোন সময় না নিয়ে বলতে শুরু করবেন: হাজির বিরিয়ানি, ফখরুদ্দিনের বিরিয়ানি, নান্না বিরিয়ানি…।
ঢাকায় এত বিরিয়ানি থাকতে এই নামগুলো কেন বলেন?
আপনার উত্তরটা এমন হবে, এই বিরিয়ানিগুলোর স্বাদ ভালো, অন্যদের চেয়ে আলাদা, কোয়ালিটি মেইনটেন করে, কাস্টমর রিলেশন ভালো। এই রকম অনেকগুলো পজিটিভ কারণ দেখাবেন।
আপনি যখন এই পজিটিভ দিকগুলো সম্পর্কে রিলায়েজ করেছেন তখন কিন্তু আপনি নিজেই ব্রান্ডিং করছেন।
এই ভাবে কাস্টমর ব্রান্ড তৈরি করে।

১৮৮৬ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের আটলান্টা শহরে যাত্রা শুরু করে কার্বোনেটেড কোমল পানীয় কোকা-কোলা। সেই বছর তারা প্রতিদিন গড়ে ৯ বোতল পানিয় বিক্রি করে। আর বর্তমানে তা বিশ্বজুড়ে ১.৯ বিলিয়নে দাঁড়িয়েছে। এই ফলাফল কিন্তু ব্রান্ডিংয়ের কারণেই সম্ভব হয়েছে।

উদ্যোক্তা বা মার্কেটিয়ানরা প্রোডাক্টের যাবতীয় গুণাগুণ কনজ্যুমারের কাছে নিয়ে যাবে। তাদের পছন্দ হলে ব্রান্ড তৈরি হবে। না হলে মার্কেট থেকে হারিয়ে যেতে হবে।

আর একবার যদি ব্রান্ড প্রতিষ্ঠা পেয়ে যায় মার্কেটিংটা অনেকটা সহজ হয়ে যায়। কাস্টোমাররাই প্রোডাক্ট খুঁজে নিবে। বিজ্ঞাপনের খরচাও অনেকটা কমে যাসে। তখন, মাঝে আওয়াজ দিলেই চলে, ‘আমরা আছি।’

মন্তব্য করুন