Breaking News :

রাগ শোনার/ পরিবেশনের সময়, প্রহর

ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতে প্রতিটি রাগ দিনের নির্দিষ্ট সময়ে গাওয়া হয়। এর মুল কারণ – রসের পূর্ণতা। প্রকৃতিগত কারণে দিনের নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট রাগের পূর্ণ রূপ অনুভব করা সহজ হয়। সঠিক সময়ে শিল্পীর পক্ষে যেমন রাগের অবয়ব আঁকা সহজ হয় ঠিক তেমনই শ্রোতার মনে সহজেই রস জেগে ওঠে। রাগ পরিবেশন করা এবং শোনার উদ্দেশ্য পূর্ণ হয়।

সময় সঠিক না হলে, শিল্পী খুব ভাল পারফরমেন্স করেও হয়তো শ্রোতার হৃদয়ে রস  জাগবে না। আর শ্রোতার রস জাগা ছাড়া পারফরমেন্স বৃথা।

প্রধানত – বাদী, সমবাদী এবং অনুবাদী স্বরের উপর ভিত্তি করে রাগের সময় নির্ণয় করা হয়। এই স্বরগুলো সপ্তক (অকটেভ) এর কোন অংশে পড়েছে, তার উপরে ভিত্তি করে রাগের সময় নির্ধারণ করা হয়।

এছাড়া বছরের নির্দিষ্ট কিছু সিজন ভিত্তিক রাগ আছে। ওই রাগগুলো ওই ঋতুর প্রকৃতির সাথে সবচেয়ে ভালভাবে সাজতে পারে।

তবে শিল্পী খুব দক্ষ হলে অসময়েও রাগ জমাতে পারেন। তিনি শীতকালে তৈরি করতে পারেন গ্রীষ্মের অনুভব, আর গ্রীষ্মকালে আনতে পারেন মেঘের ছায়া ।

রাগের সময় নির্ধারণের জন্য প্রথমে দিনকে দু’ভাগে ভাগ করে নিতে হবে। প্রতিটি ভাগে ১২ ঘণ্টা। সপ্তক (অকটেভ) আধাআধি ভাবে এই দুটি ভাগে ফেলে দিতে হবে। আমরা এই উদাহরণের মধ্যে সপ্তক নিয়ে কথা বলছি।

– পূর্ব ভাগ : রাত ১২ টা (AM) থেকে দুপুর ১২টা (PM) পর্যন্ত সময়কে দিনের পূর্ব ভাগ বলা হয়। ষড়জ থেকে মধ্যম (সা রা গা মা) পর্যন্ত সুরগুলো এই “পুর্বাঙ্গ, poorvang, পূর্ব-অঙ্গ বা পূর্ব-ভাগ” বলে।

– উত্তর ভাগ : এরপর দুপুর ১২টা থেকে রাত ১২ টা পর্যন্ত সময়ে দিনের উত্তর ভাগ বলা হয়। মধ্যম থেকে তার সপ্তকের এর ষড়জ পর্যন্ত (মা, ধা, না, র্সা) সুরগুলোকে “উত্তরাঙ্গ, Uttar-ang, উত্তর-অঙ্গ, উত্তর ভাগ” বলে।

কোন রাগের বাদী স্বর যদি পূর্বভাগে পড়ে তবে সেই রাগ সাধারণভাবেই রাত ১২টা থেকে দুপুর ১২টার মধ্যের যেকোনো একটি সময়ে পড়বে।

সময় ১ম প্রহর (রাত ৩ টা থেকে – সকাল ৬ টা)
সময় ২য় প্রহর (সকাল ৬টা থেকে – সকাল ৯ টা)
সময় ৩য় প্রহর (সকাল ৯টা থেকে – দুপুর ১২ টা)
সময় ৪র্থ প্রহর (দুপুর ১২টা থেকে – বিকেল ৩ টা)
সময় ৫ম প্রহর (বিকেল ৩ টা থেকে – বিকেল ৬ টা)
সময় ৬ষ্ঠ প্রহর (বিকেল ৬ টা থেকে – রাত ৯ টা)
সময় ৭ম প্রহর (রাত ৯ টা থেকে – রাত ১২ টা)
সময় ৮ম প্রহর (রাত ১২ টা থেকে – রাত ৩ টা)

তবে ওস্তাদ পণ্ডিতদের সমন্বিত শাস্ত্র সিদ্ধান্তই রাগের প্রকৃত সময় নির্ধারণ করে। তবে ঘড়ির কাঁটার চেয়ে সূর্যের উদয়-অস্ত বা প্রকৃতির ভাবের উপরে শাস্ত্র সিদ্ধান্ত বেশি নির্ভর করে।

 

 

সিরিজের বিভিন্ন ধরনের আর্টিকেল সূচি:

গান খেকো সিরিজ- সূচি
শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের ব্যাকরণ বা শাস্ত্র সূচি
রাগ শাস্ত্র- সূচি
রাগ চোথা- সূচি
রাগের পরিবার ভিত্তিক বা অঙ্গ ভিত্তিক বিভাগ
ঠাট ভিত্তিক রাগের বিভাগ
সময় ভিত্তিক রাগের বিভাগ
ঋতু ভিত্তিক গান (ঋতুগান) এর সূচি
রস ভিত্তিক রাগের বিভাগ
উত্তর ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের রীতি/ধারা
সঙ্গীতের ঘরানা- সূচি
সুরচিকিৎসা- সূচি
শিল্পী- সূচি
প্রিয় গানের বানী/কালাম/বান্দিশ- সূচি
গানের টুকরো গল্প বিভাগ

Declaimer:

শিল্পীদের নাম উল্লেখের ক্ষেত্রে আগে জ্যৈষ্ঠ-কনিষ্ঠ বা অন্য কোন ধরনের ক্রম অনুসরণ করা হয়নি। শিল্পীদের সেরা রেকর্ডটি নয়, বরং ইউটিউবে যেটি খুঁজে পাওয়া গেছে সেই ট্রাকটি যুক্ত করা হল। লেখায় উল্লেখিত বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত যেসব সোর্স থেকে সংগৃহীত সেগুলোর রেফারেন্স ব্লগের বিভিন্ন যায়গায় দেয়া আছে। শোনার/পড়ার সোর্সের কারণে তথ্যের কিছু ভিন্নতা থাকতে পারে। আর টাইপ করার ভুল হয়ত কিছু আছে। পাঠক এসব বিষয়ে উল্লেখে করে সাহায্য করলে কৃতজ্ঞ থাকবো।

*** এই আর্টিকেলটির উন্নয়ন কাজ চলমান ……। আবারো আসার আমন্ত্রণ রইলো।

Read Previous

ভাব-রস

Read Next

তাল এর জাতি