রাজনীতিতে কেন এবং কিভাবে অংশ নেবেন?

দেশের অনেক যায়গায় ঘুরে বেড়াই। কাজের কারণেই অনেক তরুণ তরুণীদের সাথে মেশার সুযোগ হয়। কাজ শেষে এক দুই কথায় দেশের কথা আসে। সংগত কারণেই আসে রাজনীতির কথা। ভেবে অবাক লাগে – এই রাজনৈতিক অকালেও কিছু তরুণরা রাজনীতিতে আগ্রহ দেয়ায়। জিজ্ঞেস করে – রাজনীতি বুঝতে চাই, করতে চাই, কিভাবে সম্পৃক্ত হব, কিভাবে এগিয়ে যাব, ভবিষ্যৎ কি, ইত্যাদি।

আমরা একটি ভয়ানক সময়ের মধ্য দিয়ে চলেছি। বুঝে না বুঝে যেভাবেই হোক – এখনকার তরুণদের বড় অংশটাই রাজনীতি বিমুখ। রাজনীতি করার ভাবনা তো দুরের কথা, তারা রাজনীতি নিয়েই ভাবতে চায় না। “আই হেট পলিটিক্স” শব্দ গুচ্ছ এখন স্টাইল এর অংশ। এর পক্ষে-বিপক্ষে হাজার যুক্তি আছে। তবে বাস্তবতা হল, দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে, তরুণ প্রজন্মের সরাসরি রাজনীতিতে অংশগ্রহণ জরুরী। এ নিয়ে অনেক কথা হচ্ছে, লেখা হচ্ছে, বক্তৃতা হচ্ছে। সমাজ সচেতনতা মানুষদের এটাই সম্ভবত এখন সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক উদ্বেগ। সে কারণেই কিছু তরুণের এরকম আগ্রহ মাঠে মারা যাবে দেখলে মন খারাপ হয়।

আমি বিশ্বাস করি – সচেতন ও দেশপ্রেমিক মানুষ মানেই, রাজনীতি নিয়ে তার মাথাব্যথা থাকবেই। আমার মত তথ্য-প্রযুক্তি পেশার, শুকনো মানুষগুলোও চিন্তা করবে – কোন পথে গেল বাংলাদেশের তথ্য প্রযুক্তি, কোন পথে যেতে পারত, এখন কোন পথে যাওয়া দরকার? তাই কেউই রাজনীতির বাইরে না। যিনি বাংলাদেশে – থাকবেন, কাজ করবেন, নিজের ভবিষ্যৎ চিন্তা করবেন – তিনি দায়িত্ববান হলে, কোন ভাবেই রাজনীতির বাইরে চিন্তা করতে পারবেন না।

আমি রাজনৈতিক বিষয়ে নিতান্তই অজ্ঞ। তাই গুছিয়ে উত্তর দিয়ে সন্তুষ্ট করাও সম্ভব হয় না। যেকোনো কারিগরি বিষয়ের মত কোন বিশেষজ্ঞর কাছে রেফার করতেও পারি না। নিজে মিনমিন করে দুটো একটা উত্তর দিয়ে পরে যোগাযোগ করতে বলে চলে আসি। ফিসে আসার পথে মনে হয় কাজটা অন্যায় হল। একটা কিছু সমাধান না দিতে পারলে মনের মধ্যে সবসময় এরকম খচখচ করে।

বিপদের বিষয় হচ্ছে – আমার কাছে যে খুব ভাল সমাধান আছে তাও না। তবে রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের কাছ থেকে দেখে বোঝার চেষ্টা করেছি। ঠুক ঠাক লেখাপড়া করার চেষ্টা করি। সেখান থেকেই প্রাথমিক ধাঁচের একটি লেখা লেখার সাহস করলাম। একটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক পরিবেশে থাকা, দলে যুক্ত হওয়া, কাজ করা, অবদান রাখা, মূল্যায়ন, ইত্যাদির প্রাথমিক দিক নির্দেশনা নিয়ে এই লেখা। এটা কোন প্রামাণ্য থিওরির বিশ্লেষণ না। এই খসড়াটি মতামতের ভিত্তিতে সংশোধন করা হবে।

১. রাজনীতি সচেতন দায়িত্ববান নাগরিক: “I hate politics” or “I don’t care” অবস্থা থেকে – রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হবার এটাই প্রথম ধাপ। এর মানে সরাসরি রাজনীতিতে যুক্ত হওয়া না। রাজনীতির বোধবুদ্ধি সম্পন্ন হওয়া ও চলমান রাজনীতি সম্পর্কে সচেতনতা।

এরা দীর্ঘ মেয়াদের উন্নয়নের রাজনীতিতে (ডেভেলপমেন্ট পলিটিক্স) বিশেষ কোন প্রভাব ফেলেন না। তবে স্বল্প মেয়াদি উন্নয়নের রাজনীতিতে এদের প্রভাব আছে। বিশেষকরে ভোটের ক্ষেত্রে (ইলেকট্রোরাল পলিটিক্সে) তারা সচেতন ভাবে নিজের ক্ষমতা প্রয়োগ করেন।

তাদের রাজনৈতিক অবস্থান সচরাচর নিরপেক্ষ। কোন নির্দিষ্ট নীতি আদর্শের একনিষ্ঠ সমর্থক নন। সচরাচর কোন দলকে স্থায়ীভাবে সমর্থন করেন না। তবে সচেতনতার এক পর্যায়ে নিজের প্রত্যাশার কাছাকাছি দলটির জন্য মানসিক সমর্থন তৈরি হতে পারে।

এ অবস্থাতে যাবার জন্য – অর্থনীতি, রাজনীতি, রাজনৈতিক দল, রাজনৈতিক নীতি আদর্শ, ইতিহাস – ইত্যাদি সম্পর্কে জানার চেষ্টা করতে হবে। এছাড়া রাষ্ট্রব্যবস্থা, সরকারি মেশিনারি, বিভিন্ন ধাপ, কিভাবে চলে, কারা চালায়, তাতে আমাদের কি এসে যায়, ইত্যাদি সম্পর্কে জানার চেষ্টা করতে হবে। এগুলো সম্পর্কিত ঘটনাগুলোর বিষয়ে খোঁজ খবর রাখতে হবে। বেশি পড়া না থাকলেও অন্তত উইকি এবং সংবাদপত্র জ্ঞান থাকা দরকার। নিজের কাজের ফাঁকে এ বিষয়ে লেখাপড়া করতে হবে। সুযোগ হলে বন্ধুদের সাথে আলোচনা করতে হবে।

২. রাজনৈতিক কর্মী: সচেতনতার পরের ধাপ রাজনৈতিক কর্মী হওয়া। রাজনৈতিক কর্মীর প্রতিটি রাজনৈতিক বিষয়ে – সুস্পষ্ট, যৌক্তিক এবং নিজস্ব মতামত থাকে। সেটা প্রকাশের চেষ্টা থাকে। দেশে এখন এরকম রাজনৈতিক কর্মী এখন সবচেয়ে বেশি দরকার।

এর জন্য কোন দলিয় কর্মী হওয়া জরুরী না। তিনি একজন স্বতন্ত্র রাজনৈতিক কর্মী হতে পারেন। এরা সঠিকভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগের পাশাপাশি; যেকোনো আদর্শ বা সিদ্ধান্তের – পক্ষে/বিপক্ষে জনমত তৈরিতে ভূমিকা রাখেন। নিজের মতামত প্রকাশের মাধ্যমে অন্যদের প্রভাবিত করেন।

এ ধরনের কর্মী কোন দলের না হলেও তার একটি আদর্শিক অবস্থান থাকে। সেই অবস্থানের কাছাকাছি যেসব রাজনৈতিক দল থাকে, তার কার্যক্রমের প্রভাব সেই দলের পক্ষে যায়। তবে তিনে সেই দলের সকল কার্যক্রম সমর্থন নাও করতে পারেন। মন্দ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করবেন।

সবচেয়ে কঠিন কাজ – ভাল রাজনৈতিক কর্মী হওয়া। এ পর্যায়ে যেতে হলে – “রাজনীতি সচেতন নাগরিকের” সকল যোগ্যতার পাশাপাশি আরও কিছু যোগ্যতা অর্জন করতে হয়। জানতে হবে সকল পরিচিত রাজনৈতিক তন্ত্রের (গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, সাম্রাজ্যবাদ, ইত্যাদির) মূলনীতি সম্পর্কে। এছাড়া সকল গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দলের – তন্ত্র, নীতি, আদর্শ, কর্মকাণ্ড ও পরস্পরের পার্থক্য বুঝতে হবে। জানতে হবে প্রতিটি দলের নেতৃত্বের যোগ্যতা সম্পর্কে। এছাড়া রাজনীতির জন্য সামর্থ্য অনুযায়ী সময় (বা অর্থ বা দুটোই) দেবার মানসিকতা থাকতে হবে। এসব যোগ্যতার অর্জনের এক পর্যায়ে একজন মানুষ রাজনৈতিক কর্মী হয়ে উঠবে।

৩. দলিয় রাজনৈতিক কর্মী: রাজনৈতিক কর্মী হবার পরে, কেউ চাইলে একটি দলের কর্মী হিসেবে যোগ দিতে পারেন। একজন দলিয় রাজনৈতিক কর্মী মানে, ওই দলের আদর্শ ও কার্যক্রমের উপর পূর্ণ আস্থা ও সমর্থন। দলের জন্য নিবেদিত থেকে কাজ করা।

কোন দলে যোগ দেবার আগে ওই দলের নীতি, আদর্শ, বর্তমান + ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব, শক্তি, দুর্বলতা, ইত্যাদি বিষয়ে জানাশোনা থাকা দরকার। দলের গঠনতন্ত্র ও পরিচালনা পদ্ধতি পরিষ্কার জানা থাকা দরকার।

ঝামেলার বিষয় হচ্ছে – এখন বড় কোন রাজনৈতিক দল ওভাবে কর্মী খোঁজে না। ফরম দিয়ে কর্মী সংগ্রহের সংস্কৃতির প্রচলন নাই বললেই চলে। সেক্ষেত্রে – সেই দলের নেতাদের সাথে যোগাযোগ করে, দলে যোগ দিতে হয়।

৪. সুশীল সমাজ প্রতিনিধি: এই গ্রুপটি রাজনীতির বড় প্রভাবক। এরা নিজেরা সামাজিক কাজের মধ্য দিয়ে সমাজে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেন। রাজনৈতিক দলের আদর্শ ও কার্যক্রমের পক্ষে/বিপক্ষে জনমত তৈরি করতে এরা ব্যাপক ভূমিকা রাখেন।

এরা মূলত কোন একটি বিষয় বিশেষজ্ঞ হবেন। তার পাশাপাশি একজন রাজনৈতিক কর্মী হবার মত রাজনৈতিক জ্ঞান থাকতে হবে।

এ অবস্থান দীর্ঘ মেয়াদে ধরে রাখতে হলে দলের বিষয়ে নিরপেক্ষ থাকতে হয়। যেকোনো প্রশ্নে দেশ ও জনগণের পক্ষে অবস্থান নিতে হবে।

তবে আদর্শিক অবস্থান এক থাকতে হবে। তা না হলে পচে যাবার সম্ভাবনা থাকবে।

কোন নির্দিষ্ট দলের কাছ থেকে এদের বিশেষ দলিয় সুবিধা পাবার সুযোগ কম। তবে সব দল তাদেরকে সমঝে বা খাতির করে চলে।

৫. দলিয় বুদ্ধিজীবী: কোন একটি দলের বুদ্ধিজীবী হিসেবে কাজ করা। এরা দলের পক্ষে প্রকাশ্যে বা নীরবে কাজ করেন। প্রতিটি দলের আদর্শ, নীতিমালা, কার্যক্রমের রূপরেখা তৈরিতে এরা ভূমিকা রাখেন। এছাড়া বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রমের মাধ্যমে দলের পক্ষে জনমত তৈরি করেন। কোন আদর্শ ও কার্যক্রমের পক্ষে/বিপক্ষে জনমত তৈরি করতে ভূমিকা রাখেন। দলের জন্য এরা খুবই গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।

আগে দলীয় বুদ্ধিজীবীরা সর্ব বিষয়ে বিশেষজ্ঞ মতামত দিতেন। তবে সর্ব বিষয়ে বিশেষজ্ঞর যুগ শেষ হতে চলেছে। এখন দলিয় বুদ্ধিজীবী হবার জন্য পূর্ণ রাজনৈতিক জ্ঞানের পাশাপাশি একটি বিষয় বিশেষজ্ঞ হওয়া দরকার।

এরা স্বাভাবিক ভাবেই তার নিজের রাজনৈতিক দলের কাছে সমাদর পাবেন। তাই দলের মাধ্যমে কিছু সুবিধা পেতে পারেন।

৬. দলিয় পেশাজীবী সংগঠনের সংগঠক/নেতা: একজন রাজনৈতিক কর্মী যদি কোন বিশেষ পেশার ভাল পেশাজীবী হন তবে তিনে দলিয় পেশাজীবী সংগঠক হিসেবে কাজ করতে পারেন। তিনি তার দলের পক্ষের পেশাজীবীদের সংগঠিত করার কাজ করবেন। ওই সংগঠিত পেশাজীবীদের নেতৃত্ব দেবেন। রাষ্ট্র যেন ওই পেশাকে ন্যায্য সুযোগ থেকে বঞ্চিত না করে, তিনি সেটা নিশ্চিত করতে কাজ করবেন।

এর জন্য রাজনৈতিক কর্মী হবার জন্য প্রস্তুতির পাশাপাশি, তার নির্দিষ্ট পেশা সম্পর্কিত – সরকারি/বেসরকারি পলিসি, আইন ইত্যাদি সম্পর্কে জ্ঞান থাকা দরকার। পেশাজীবীদের সংগঠিত করা ও পেশাজীবীদের স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য নিয়মিত – বিষয়ভিত্তিক লেখাপড়া, এক্টিভিজম এর মধ্যে থাকতে হয়।

৭. শুধুমাত্র রাজনৈতিক সংগঠক/নেতা এবং রাজনৈতিক অফিস হোল্ডার: এরকম কিছু রাজনৈতিক থাকেন যারা শুধুমাত্র রাজনৈতিক সংগঠক/নেতা এবং রাজনৈতিক অফিস হোল্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরা রাজনৈতিক পদে থাকেন তবে সরাসরি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন না, বা সরকারি অফিস হোল্ডার হন না।

এরা দলিয় সংগঠন তৈরি এবং পরিচালনার কাজ করেন। এরা দলের জন্য নিবেদিত রাজনৈতিক কর্মী এবং দলকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই এদের প্রধান কাজ।

এদের ব্যয়ভার দলের আয় থেকে পরিচালনা হবার কথা (যদিও অনেকক্ষেত্রে তা হয় না)। দল সুবিধাজনক অবস্থানে থাকলে এরা কিছু সুযোগ সুবিধা পান।

৮. রাজনৈতিক ও সরকারি অফিস হোল্ডার: ৭ নম্বর এর পাশাপাশি, যারা নির্বাচনের অংশগ্রহণ করতে চান, বা কোথাও চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের মাধ্যমে দলের ইশতেহার বাস্তবায়নে কাজ করতে চান – তারা এই ক্যাটাগরিতে পড়তে পারেন।

এরা রাজনৈতিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার মাধ্যমে সরকারি অফিসিয়াল দায়িত্ব পালনে অংশগ্রহণ করেন।

যাদের রাজনৈতিক দক্ষতার পাশাপাশি অন্য কোন বিষয়ে দক্ষতা আছে, তারা এই ভূমিকায় কাজ করতে পারেন।

৯. সরকারি অফিস হোল্ডার: এই ক্যাটাগরির লোকজন নিজে রাজনীতিতে ভাবে খুব বেশি সময় দেন না। তারা নিজেদেরকে সরকারি অফিস হোল্ডার হিসেবে তৈরি করেন। নির্বাচনের মাধ্যমে হোক বা চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের মাধ্যমে হোক – এরা দলের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে কাজ করেন।

এদের দলের আদর্শের প্রতি বিশ্বস্ত এবং বিশেষ কোন বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হবার প্রয়োজন আছে।

১০. রাজনৈতিক পরগাছা : যেকোনো রাজনৈতিক দলের কাঁধে ভর করে নিজের স্বার্থ সিদ্ধিতে কাজ করা। এটাকে রাজনীতি করা বলে না। বরং রাজনীতিতে চড়া বলে। এটার সংখ্যাই দেশে এখন সবচেয়ে বেশি।

১০ নম্বর ক্যাটাগরি (রাজনৈতিক পরগাছা) ছাড়া, সব ধরনের ক্যাটাগরিতে লোক দরকার। শিক্ষিত, দক্ষ এবং মানবিক লোক দরকার। যারা সত্যিকার অর্থে দেশের পরিবর্তনে রাজনীতির মাধ্যমে অংশগ্রহণ করতে চান তাদের ২ থেকে ৯ পর্যন্ত কোন একটি দায়িত্ব কাঁধে নিতে হবে।

আমার লেখার মধ্যে – দায়িত্ব, প্রয়োজনীয় দক্ষতা, বা মূল্যায়ন সম্পর্কে যা লেখা হয়েছে তা থেকে অনেক এক্সেপশন পাওয়া যাবে। তবে সেটা শুধুমাত্র বিশেষ বিবেচনায় হয়েছে। অন্যায়, ন্যায় বলবো না। শুধু এটুকু বলব – রাজনীতি যত ম্যাচিউর, জন-সম্পৃক্ত হতে থাকবে – তত এসব এক্সেপশন কমতে থাকবে।

আপনার বক্তব্য যোগ করার অনুরোধ রইলো।

 

————
সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর
শিক্ষানবিশ রাজনৈতিক কর্মী

 

 

 

এডিট- এসএস

Read Previous

যেকোনো অভিযোগ- আমাদের প্রতিক্রিয়া ও শেষপর্যন্ত ফল – ১

Read Next

প্রযুক্তিতে বাংলাদেশের জন্য থিম গানের প্রস্তাবনা ১ – গীতিকার: তাজবীর সজীব