Breaking News :

দক্ষ কর্মী তৈরিতে বিনিয়োগ, তাদের ধরে রাখা (পর্ব ১)

এত কষ্ট করে লোক তৈরি করি, লোক চলে যায় 🙁
কেন কর্মী প্রশিক্ষণে এত সময় দেব?
কি হবে নতুন লোককে কাজ শিখিয়ে?
এগুলো উদ্যোক্তার নিত্য দুঃখ। পুরানো প্রশ্ন।
উত্তরও হয়ত জানা। তারপরে স্বগক্তির মত বলা; বারবার বলা।

এটি এমন একটি সমস্যা – যার কোন সহজ বা আদর্শ সমাধান নেই। স্থান, কাল, পাত্র-ভেদে সমাধানও ভিন্ন হয়।

প্রথমে বুঝতে হবে কর্মী তৈরির বিষয়টিকে আপনি কিভাবে নেন?
– জনসেবা : আপনি মহান। আপনাকে হাজার সালাম। আমি দোআ করি যেন আপনি দুনিয়া ও আখিরাতে সম্মানিত হন। সেই প্রাপ্তি যদি আপনার কাছে মূল্যবান হয় তবে চালিয়ে যান। তবে যাকে তৈরি করবেন, তার কাছে কোন প্রত্যাশা রাখবেন না।
– খরচ : এই দৃষ্টিভঙ্গিটাই ভুল। বোকার মত আপনি কেন অকারণে খরচ করবেন। মানুষ খরচ করে ভোগে। কেউ খরচ করে জনসেবায় বা বিনিয়োগে।
– বিনিয়োগ : লোক তৈরির খরচটা বিনিয়োগ – সেভাবে ভাবাই যুক্তিযুক্ত। আর যেকোনো বিনিয়োগের ঠিকমত হিসেব রাখা দরকার। তার রিটার্ন অব ইনভেস্টমেন্ট এবং মুনাফা মডেল ঠিক করে বিনিয়োগে যাওয়া দরকার।

কিভাবে বিনিয়োগ, কিভাবে রিটার্ন:
কর্মী বিষয়ে বিনিয়োগের অসংখ্য নিয়ম আছে, মানদণ্ড আছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের জনসম্পদ ব্যবস্থাপনার জন্য তাদের সুবিধাজনক উপায়টি প্রয়োগ করে। আমার কাছে ফর্মুলাগুলো খুবই জটিল লাগতো। তাই নিজের মতো বিষয়টি বোঝার চেষ্টা করেছিলাম। নতুনদের জন্য সেই সহজপাঠ শেয়ার করলাম।

ধরুন একজন নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাজুয়েটে মাসিক বেতন চাইছে ১৮০০০ টাকা। আপনার এসেসমেন্ট অনুযায়ী তাকে দিয়ে মাসে ১২,০০০ টাকার বেশি কাজ করিয়ে নেয়া যাবে না। তবে কাজের পাশাপাশি তাকে ২ মাস (নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ে) প্রশিক্ষণ দিতে পারলে – সে মাসে ১৮০০০ টাকার পরিমাণ কাজ করে দিতে পারবে।

এবার ভাবুন আপনার প্রথম দুমাসে দেয়া প্রশিক্ষণের খরচ। ওই প্রশিক্ষণ মূল্য মাসিক ৬,০০০ টাকার সমপরিমাণ কি না। যদি সমপরিমাণ হয়, তবে তাকে আপনি অফার দেবার বিষয়টি ভাবতে পারেন।

অফারটি হতে পারে প্রশিক্ষণের শর্ত সহ। চুক্তি হতে পারে ৫ মাসের। শুরুতে তার বেতন হবে ১২,০০০ টাকা। ২ মাস কাজের পাশাপাশি সে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করবে। ৫ মাস পরে তার থেকে তার বেতন হবে ১৮,০০০টাকা।

তার মানে – আপনি ওই প্রার্থীর বেতন হিসেবে ১২,০০০ দিচ্ছেন (সেই টাকার টাকার সমান কাজ পাচ্ছেন)। এখানে আপনি ৬০০০ টাকা মাসে বাড়তি বিনিয়োগ করছেন। মানে পুরো বিনিয়োগ ১২,০০০ টাকা। সে আপনার সাথে পরবর্তী ২ মাস কাজ করলেই আপনার বিনিয়োগের টাকা উঠে যাচ্ছে। এরপর ১ মাস আপনার বিনিয়োগের লাভ। তার পরে তার সাথে আপনার লেনদেন চুকে যাচ্ছে।

এরপর যদি আপনি মনে করেন সে ভাল কর্মী, আপনার প্রতিষ্ঠানকে সে আরও অনেক কিছু দেবার ক্ষমতা রাখে। তখন তাকে ধরে রাখার জন্য আলাদা করে ভাবতে হবে। সেক্ষেত্রে তাকে কর্মবাজার অনুযায়ী মূল্যায়ন করতে হবে। দুজনের ভালোর জন্য – প্রশিক্ষণের কথা মনে করিয়ে সুবিধা নেবার চেষ্টা করবেন না।

তবে – প্রার্থীকে স্পষ্টভাবে জানাতে হবে এই দুই মাসে আপনি তাকে কি কি শেখাবেন। এই শিক্ষার মূল্য কেন ৬০০০ টাকা করে ধরা যৌক্তিক। এটা সে জানার পুরো অধিকার রাখে। কারণ ওই ৬ হাজার টাকা প্রার্থী মাসে সে বিনিয়োগ করছে। এগুলা প্রার্থীকে ভালভাবে জানতে হবে। প্রার্থীকেও মনেপ্রাণে মানতে হবে।

এখন আপনি বলতে পারেন – এখন তো কন্ট্রাক্ট লেবারের যুগ না। কর্মীকে তো চুক্তি দিয়ে বাঁধা যায় না। তবে ট্রেনিং এর বিনিয়োগের নিরাপত্তা কিভাবে নিশ্চিত করবো?

এক্ষেত্রে একটু কৌশলগত পরিবর্তন আনতে হবে। প্রথমে প্রশিক্ষন বিষয়টিকে চাকরির অংশ হতে পৃথক করুন। প্রশিক্ষণটিকে রীতিমত প্রডাক্ট হিসেবে প্যাকেজিং করুন । এরপর কর্মীর কাছে বিল ভাউচার করে বাঁকিতে বিক্রি করুন। আর বাঁকির টাকা যে কেউ না দিলে তাকে তো ধরা যাবেই। তবে মনে রাখবেন প্রতিদিনের ট্রেনিং এর ঠিকমত ডকুমেন্টেশন করতে হবে।

(২য় পর্বে আলাপ হবে ভাল কর্মী ধরে রাখার উপায় নিয়ে)

 

 

 

এডিট- এসএস

Read Previous

কারিগরি শিক্ষার্থীদের জন্য নোট (ইঞ্জিনিয়ারিং ড্রইং – ১ম পর্ব)

Read Next

মালিকানার পুরো দায়