Breaking News :

১০ নভেম্বর: শহীদ নূর হোসেন দিবস

নূর হোসেন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সবচেয়ে স্মরণীয় নাম। ১৯৮৭ সালের এই দিনে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে অবরোধ কর্মসূচী সফল করতে সংগঠিত হচ্ছিল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। ঢাকা মহানগর যুবলীগের বনগ্রাম শাখার পাব্লিসিটি সেক্রেটারি নুর হোসেনের গায়ে ‘স্বৈরাচার নিপাত যাক, গণতন্ত্র মুক্তি পাক’ লেখা দেখে জননেত্রী শেখ হাসিনা তাকে কাছে ডেকে বললেন, “তোমার গায়ের এই লেখাগুলোর কারণে তো পুলিশ তোমাকে গুলি করবে!”
নুর হোসেন নেত্রীর গাড়ির জানালার কাছে এসে বললেন, “আপা আপনি আমাকে দোয়া করুন, আমি গণতন্ত্র রক্ষায় আমার জীবন দিতে প্রস্তুত।”

জিরো পয়েন্টের কাছে আওয়ামী লীগের মিছিলে গুলিবর্ষণ করে পুলিশ। গুলিতে নুর হোসেন, যুবলীগ নেতা নুরুল হুদা বাবুল এবং আমিনুল হুদা টিটু নিহত হন।

আমরা দলীয় হীনমন্যতার ঊর্ধ্বে উঠতে পারি না বলে বোধহয় ১৯৯১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর সংসদে আ’লীগের প্রস্তাব সংশোধিত হয়ে ১০ নভেম্বরকে “ঐতিহাসিক ১০ই নভেম্বর দিবস” হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ১০ নভেম্বরকে “নূর হোসেন দিবস” ঘোষণা করা হয়। একই বছর হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ, নূর হোসেনের মৃত্যুর জন্য জাতীয় সংসদে ক্ষমা প্রার্থনা করে।

গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রতীক নুর হোসেনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে জিরো পয়েন্টের নামকরণ করা হয় “নূর হোসেন স্কয়ার”, তার নামে প্রকাশ করা হয় স্মারক ডাকটিকেট।

যতদিন বাংলাদেশ থাকবে, নুর হোসেন সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রেরণা হয়ে থাকবেন।

Read Previous

আমাদের সংগ্রাম- অভিজাত শাসকশ্রেণী বনাম বাংলার সাধারণ মানুষের ন্যায্যতার সংগ্রাম

Read Next

শাঁওতা স্কুল ভিজিট