বাংলাদেশ, বঙ্গবন্ধু, একাত্তরের গণহত্যা, বঙ্গবন্ধুর হত্যা – বিষয়ে জেনারেল টিক্কা খানের সাক্ষাৎকার – মুসা সাদিক

২৫ মার্চ রাতে রেডিওতে শেখ মুজিবের কণ্ঠে স্বাধীনতার ঘােষণা শুনে আমি তাঁকে গ্রেফতার করি। তিনি পাকিস্তানের পরিবর্তে পাকিস্তানের মধ্যে বাংলাদেশ নামক নতুন আরেকটি দেশের ঘোষণা দেয়ায় তাঁকে গ্রেফতার করা ছাড়া আমার আর কোন বিকল্প ছিল না। -জেনারেল টিক্কা খান

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ গণহত্যার রাতে বাংলার আইখম্যান জেনারেল টিক্কা খান ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট থেকে ঘুমন্ত মানুষের ওপর হাজার-হাজার পাকসেনা লেলিয়ে দেয়। কামানের বারুদের দলায় মিশিয়ে দেয় হাজার হাজার বাঙালির রক্ত-মাংস। ১৯৮৮ সালের ৩১ ডিসেম্বরে পাঞ্জাবের গভর্নর হাউসে এই কুখ্যাত খুনি জেনারেলের সঙ্গে আমার সাক্ষাৎ হয়। বিশ্বব্যাপী কুখ্যাত গণহত্যার খলনায়ক টিক্কা খান পরিচালিত মহাহত্যাযজ্ঞের ওপর এদেশের কেউ বিষাদ সিন্দু, মেঘনাদ বধ বা ইলিয়ড-এর মতো মহাকাব্য রচনা করেননি। বাঙালির খুনে লাল হলো যেথা ক্লাইভের খঞ্জর বলে বিদ্রোহী কবি নজরুলের মতো কেউ কবিতাও লেখেননি। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই ক্ষুদ্র দেশটির রাজধানী ঢাকার ওপর আজ থেকে ৪৯ বছর আগে ২৫ মার্চের রাতে নিস্পাপ অসহায় লাখ-লাখ ঘুমন্ত আবালবৃদ্ধবণিতার ওপর হাজার হাজার রক্ত পিপাসু পাকিস্তানি হায়েনা যে হিংস্রতায় ঝাঁপিয়ে পড়ে রক্ত-মাংস- হৃৎপিণ্ড-স্তন ছিড়ে-খুড়ে খায় তা হিটলারের নাৎসি-গেস্টাপোর চালানো নৃশংসতাকেও হার মানায়।

৭১-এর ২৫ মার্চের কালরাতে ঢাকা নগরীর বুকে বিশ্বের ইতিহাসে সর্বকালের সর্বোচ্চ ট্র্যাজেডি সংঘটিত হয়। যে কথা লিপিবদ্ধ আছে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে, বাংলাদেশে বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩০ লাখ গণহত্যা সংঘটিত হয়। কিন্তু আমাদের সময়ে কোন হোমার,মধুসূদন-মশাররফ হোসেন নেই; যিনি বিশ্বের সর্বকালের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গণহত্যার ট্র্যাজেডিকে প্রজন্ম-প্রজন্মান্তরের জন্য জীবন্ত করে তুলে দিয়ে যাবেন তার মহাকাব্যে। যদি সেটা সম্ভব হত তাহলে বিশ্ববাসী ও ভবিষ্যৎ মানবজাতি পড়ে শিউরে উঠতো। বিংশ শতাব্দীতে বাংলাদেশ নামক দেশে মানবজাতির কী মহাট্র্যাজেডি, মহা-কারবালার ঘটনা সংঘটিত হয়েছিল! যে মহা-কারবালার নায়ক ইতিহাস ধিকৃত হালাকু খানের প্রেতাত্মা জেনারেল টিক্কা খান।

ইতিহাসের এই মহা-ট্র্যাজেডির খলনায়ক কুখ্যাত টিক্কা খানকে ১৯৮৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর আমি জীবন্ত দেখতে পাই। নরপিশাচ হালাকু খান কিংবা ৬০ লাখ ইহুদি হত্যার খলনায়ক আইখম্যানকে না দেখলেও পাঞ্জাবের গভর্নর হাউজে বাংলার লাখ-লাখ নর-নারী, যুবক-শিশু-বৃদ্ধ- বৃদ্ধা হত্যাকারী টিক্কা খানের সঙ্গে আমার দেখা হয়। প্রথম দেখায় আমি শিউরে উঠি। আমার শরীরের লোম শক্ত হয়ে যায়। আমার চোখ নিষ্পলক হয়ে পড়ে। চোখের ওপর ভেসে ওঠে হাজার হাজার মা- বােনের লাশ, ঢাকার নর্দমায় রক্তের স্রোত, নদ-নদী, খাল-বিলে ভাসমান গলিত ফুলে ওঠা অজস্র মৃতদেহ। ৬৮ হাজার গ্রামজুড়ে জ্বালাও-পোড়াও, ব্রাশফায়ার-ধর্ষণের নারকীয় দৃশ্য। জল্লাদ টিক্কা খানের মুখের দিকে তাকিয়ে লাহোর থেকে ২০০ কিলোমিটার দূরের জালিয়ানওয়ালাবাগের আরেক গণহত্যাকারী জেনারেল ডায়ারের মুখ মনে পড়ে যায়। বোম্বে (বর্তমানে মুম্বাই) থেকে জাহাজে চড়ে পাঁচ হাজার মাইল দূরের লন্ডনে গিয়ে জালিয়ানওয়াবাগের গণহত্যাকারী ডায়ারের বুকে গুলি চালিয়ে তাকে বধ করে শোধ নিয়েছিলেন ভারতীয় বীর উধাম সিং।

৩০ লাখ বাঙালির হত্যার নায়ক জেনারেল টিক্কা খানকে কোন বাঙালি বধ করতে পারেনি। তাদের কারো বিচারও করা যায়নি। তবে টিক্কা খানকে ‘৭১-এর মে মাসে দিনাজপুরে অ্যাম্বুশে ফেলেছিল বীর কমান্ডো মুক্তিযোদ্ধারা সামান্যর জন্য বেঁচে গিয়ে সে প্রাণ নিয়ে পালিয়েছিল। তার সামনে বসে সে কথা স্মরণ করে আমার ঠোটের কোণে তৃপ্তির হাসি উঁকি দিচ্ছিল আর দিনাজপুরের বীর বাঙালি কমান্ডো যোদ্ধাদের জন্য হৃদয় থেকে পুষ্পিত শ্রদ্ধা-ভালোবাসা ঝরে পড়ছিল।

Pakistani General Tikka Khan
Pakistani General Tikka Khan

এবার আসছি টিক্কার সঙ্গে আমার আলাপচারিতা বিষয়ে :

১৯৮৮ সালের ডিসেম্বর মাসে রাষ্ট্রপতির ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে একটি প্রেস টিম নিয়ে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত পঞ্চম সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে ঢাকা থেকে করাচি লাহোর হয়ে ইসলামাবাদে পৌছাই। বর্তমানে ঢাকা থেকে প্রকাশিত ইংরেজি দৈনিক দি ইনডিপেনডেন্ট পত্রিকার সম্পাদক মরহুম মাহবুব উল আলম এবং তদানীন্তন ঢাকা টিভির জনপ্রিয় ‘আইন-আদালত অনুষ্ঠানের পরিচালক অ্যাডভোকেট রেজাউর রহমান টিমের সদস্য ছিলেন। সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মানব ইতিহাসের বর্বরতম হত্যাযজ্ঞের জল্লাদ টিক্কা খানকে বিশিষ্ট অতিথিদের আসনে উপবিষ্ট দেখতে পাই। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ ঢাকায় কীভাবে তিনি সেই নিষ্ঠুর গণহত্যা শুরু করেছিলেন সেই তথ্য উঘাটনের উদ্দেশে আমি তার সাক্ষাঙ্কার গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিই। ২৫ মার্চ ঘুমন্ত ঢাকাবাসীর ওপর ওই আইখম্যান কীভাবে গণহত্যা শুরু করেছিল জানার জন্য উদগ্রীব হয়ে উঠি। সাংবাদিক দলের সদস্য সাপ্তাহিক ‘এখনই সময় পত্রিকার সাংবাদিক অ্যাডভোকেট রেজাউর রহমান ও আমি যৌথভাবে সিদ্ধান্ত নিই যে, এই সুযোগে গণহত্যাকারী জেনারেল টিক্কার একটি সাক্ষাৎকার আদায় করতে হবে। সিদ্ধান্তমতে আমরা দুজন সম্মেলন শুরুর পূর্বমুহূর্তে টিক্কা খানের কাছে একটা ইন্টারভিউ দেবার যৌথ অনুরোধ করি। রেজাউর রহমান এবং আমার প্রস্তাব শুনে জেনারেল টিক্কা দু’বার ‘না, না করে নাছোড়বান্দা আমাদের দিকে তাকিয়ে একটু ভেবে সাক্ষাৎকার দিতে সম্মত হলেন জল্লাদ টিক্কা খান। মনে মনে খুব উত্তেজিত হয়ে উঠলাম ইসলামাবাদের হোটেল ‘হলিডে ইন থেকে দুপুরের পরপরই আমরা দু’জনে রওনা হই। ৩১ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় পাঞ্জাবে অবস্থিত টিক্কার সরকারি বাসভবন গভর্নর হাউসের দোতলায় সাক্ষাৎকার গ্রহণের জন্যে উপস্থিত হই। তার একান্ত সচিব গাড়ি বারান্দায় আমাদের রিসিভ করে দোতলায় নিয়ে যায়। অবশ্য সিড়ির মুখেই আমরা জেনারেল টিক্কার দেখা পেয়ে যাই। ড্রয়িং রুমে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে তার বাবুর্চি খানসামারা পেল্লাই মেহমানদারি শুরু করে। থরে-বিথরে সাজানো সব খাবার এবং হরেক রকমের ফল এনে তারা আমাদের সামনে রাখে। যেন গলাধঃকরণ করে আমরা তাদেরকে ধন্য করি এবং নিজেরা ধন্য হই। সেসবের দিকে আমরা খুব একটা খেয়াল দিই না। আমরা আমাদের লক্ষ্যের দিকে এগোনোর চেষ্টা করি। আমাদের মূল লক্ষ্য বাংলাদেশে ২৫ মার্চ গণহত্যা শুরুর কারণ ও ভেতরের খবর জানা।

দীর্ঘ দু’ঘণ্টাব্যাপী তার ইন্টারভিউ থেকে বইয়ের প্রতিপাদ্যের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে তার বক্তব্যের অংশবিশেষ তুলে ধরছি। আমি আমার প্রশ্নগুলো ইংরেজিতে করলেও জেনারেল টিক্কা উর্দুতে উত্তর দিচ্ছিলেন। টিক্কার দেওয়া উর্দু উত্তরগুলো কৌতূহলোদ্দীপক। বইটির ভাষাগত সাযুজ্য রক্ষায় জেনারেল টিক্কার উর্দু উত্তরগুলোর সঙ্গে যথাসম্ভব বঙ্গানুবাদ সংযুক্ত করা হলো-

ইতিপূর্বে করাচি সফরকালে পাকিস্তান ফেডারেল ইউনিয়ন অব জার্নালিস্ট-এর সেক্রেটারি করাচি সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতা জনাব হাবিব খান ঘোরি এবং পাকিস্তানের প্রখ্যাত সাংবাদিক জনাব নিসার ওসমানীর সঙ্গে আলোচনার জের ধরে জেনারেল টিক্কা খানকে প্রশ্ন করি :

মুসা সাদিক : পাকিস্তান ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের জেনারেল সেক্রেটারি জনাব ঘোরি এবং লাহোরের বিশিষ্ট সাংবাদিক জনাব নিসার ওসমান আমাদের জানিয়েছেন যে, ১৯৭১ সালে পূর্ব পাকিস্তানে চালানো মিলিটারি কার্যক্রমকে পশ্চিম পাকিস্তানের সাধারণ জনগণ সমর্থন করেনি। দু’দশক অতিক্রান্ত হবার পর আপনি কী এখনো মনে করেন মিলিটারি গৃহীত পদক্ষেপসমূহ যথার্থ ছিল?

জেনারেল টিক্কা : সেভেনটি ওয়ান ক্রাইসিসকে বারে মে জ্যায়েসে পাকিস্তানছে মোখতালিব খ্যেয়ালাত হ্যায়, কুচ্ছ লোক আর্মিকো জিম্মাদার ঠাহরেতে, আউর কুচ্ছ লোক পলিটিশিয়ানসকো জিম্মাদার ঠাহরেতে হেয়। আউর এ্যাইসি তারা বাংলাদেশছে বহুত সারে লিডার হামারে সাথ মে থ্যে। বাংলাদেশকে আওয়াম অ্যাভি বি মায়সুস করতে হেঁ কে হামলোক স্যাহি থে। গোলাম আযম সাব আওর অ্যাম আদমাওনে কভি নেহি কাহা কে হাম লোগানে কুইয়ি গলতি কি।

(একাত্তরের সংকটের জন্য কিছু লোক সেনাবাহিনীকে দায়ী করেছে, আবার কেউ কেউ দায়ী করেছে রাজনৈতিক নেতৃত্বকে। বাংলাদেশের অনেক রাজনৈতিক নেতাও আমাদের সঙ্গে ছিলেন। এমনকি বাংলাদেশের মানুষ এখনো বিশ্বাস করে যে, আমরা সঠিক ছিলাম এবং তারা আজও আফসোস করে আমরা তাদের ছেড়ে চলে আসায়। গোলাম আযম সাহেবসহ সাধারণ মানুষ এখনো মনে করেন না আমরা ভুল করেছি।]

মুসা সাদিক : আপনি ঠিক কখন ঢাকায় গণহত্যা শুরু করেন?

জেনারেল টিক্কা : মায়নে কুইয়ি জেনোসাইড নেহি করো আয়া। জগন্নাথ হল মে কুচ্ছ সরপছন্দ আনাসির হামারি পেট্রোল ফোর্স কি উপার গোলাবারুদ ছে হামলা করনে কি তৈয়ার কর রাহে থ্যে। উসকে বাদ ম্যায়নে কুচ ফোর্স জগন্নাথ হল মে ভেজা। ইয়ে সহি হ্যেয় কে উসমে কুচ হিন্দু লোগ ম্যারে গ্যায়ে। উসকে বাদ বরাবর ঝড়প হোতা রাহি। উসমে হামারি লোক ভি মারে গ্যায়ে আওর মুক্তিবাহিনীকে লোক ভি মারে গ্যায়ে। যাহা দো গ্রুপ মে আমনে সামনে ঝড়প ইয়া লড়াই হোত্যি হ্যায় উও জেনোসাইড নেহি হ্যায়।

আমি কোন গণহত্যা চালাইনি। আমাদের টহলদার বাহিনীর ওপর গোলাবারুদ নিয়ে হামলা করার জন্য জগন্নাথ হলে কিছু অবাঞ্ছিত লোক প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এরপর আমি জগন্নাথ হলে কিছু সৈন্য পাঠাই। এটা সত্য যে তাতে কিছু হিন্দু লোক মারা যায়। এরপর কিছু কিছু সংঘর্ষ হয়। তাতে আমাদেরও কিছু লোক মারা গেছে এবং মুক্তিবাহিনীর লোকও মরেছে। সেখানে দুপক্ষের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়, তা তো গণহত্যা নয়।]

[ টিক্কার উত্তরে আমি ও রেজাউর রহমান পরস্পরের দিকে তাকাই। এ রকম জ্বলজ্যান্ত মিথ্যা তার পি এস (পিম, সুঠামদেহী সিভিল ড্রেস পরিহিত আমাদের পার্শ্বে দাঁড়ানো) পর্যন্ত বিশ্বাস করছে কি-না বোঝার জন্য আমি তার দিকে তাকাই। মনে হলো সেও আমাদের মতো কিছুটা বিস্মিত এবং এতকাল পরেও টিক্কার মিথ্যা ভাষণে বিব্রত। কেননা পাকিস্তানি আর্মি বাংলাদেশে লাখ লাখ লোক হত্যা করেছে যার শুরু জেনারেল টিক্কা করে গেছেন, তা কে না জানে? এ নিয়ে পাকিস্তানে কমিশন গঠিত হয় এবং ‘৭১-এ বাংলাদেশে জেনোসাইড ও ধর্ষণের সুনির্দিষ্ট কারণে উক্ত কমিশন পাকিস্তান আর্মির অনেককে কোর্ট মার্শাল করার সুপারিশ করে। যদিও তা কার্যকর হয়নি।

তার বক্তব্য অনুযায়ী ২৫ মার্চ রাতে তিনি গণহত্যা করেননি, তাহলে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানকে কেন গ্রেফতার করলেন সে। বিষয়টি মনে উদয় হওয়ায় আমি তাকে প্রশ্ন করি ]

মুসা সাদিক : তাহলে স্যার, ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে কেন তার ধানমন্ডির বাসা থেকে গ্রেফতার করলেন?

জেনারেল টিক্কা : মেরে কডনে দৌড়তে হুয়ে এক থ্রি ব্যান্ড রেডিও লা কর দিয়া, আওর কাহা স্যার, সুনিয়ে, শেখ সাব আজাদি কা এলান কর রাহে হেঁয়। আওর মাইনে খোদ শেখ সাব কো রেডিও পর এক ফ্রিকোয়েন্সিছে ইনডিপেনডেন্স কা এলান করতে হুয়ে সুনা। শেখ সাব পাকিস্তানকে আন্দরসে অওর এক নয়া স্টেট বাংলাদেশ ডিক্লার কর দিয়া। জিসকো বাগাওয়াত কাহা যা সেকতা হেঁয়। চুঁকে ম্যায়ে শেখ সাব কি আওয়াজ আচ্ছি তেরা পেহছান তা থা। And I had no option but to arrest him since he declared a new sovereign country in place of Pakistan!
[আমার কো-অর্ডিনেশন অফিসার একটি থ্রি ব্যান্ড রেডিও এনে বলল স্যার শুনুন, শেখ সাহেব স্বাধীনতার ঘোষণা করছেন। আমি নিজে রেডিওতে শেখ সাহেবকে স্বাধীনতার ঘোষণা দিতে শুনলাম, কারণ, শেখ সাহেবের কণ্ঠস্বর আমি ভালো করেই চিনতাম। যে ঘোষণা তখন দেশদ্রোহিতার শামিল ছিল। সেক্ষেত্রে শেখ সাহেবকে গ্রেফতার করা ছাড়া আমার কোন বিকল্প ছিল না।]

মুসা সাদিক : যদি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ভারতে পালিয়ে যেতেন, যেমন তাজউদ্দীন আহমদ ও অন্যরা গিয়েছিলেন, সেক্ষেত্রে আপনি কী করতেন?

জেনারেল টিক্কা : ম্যায় আচ্ছি তেরা জানতা থা মুজিব য্যায়সা লিডার আপনি আওয়াম কো ছোড়কে কোভি, কাহা নেহি যায়েঙ্গি। ম্যায় শেখ মুজিব কো গ্রেফতার করনে কে লিয়ে হামারি ফৌজ ঢাকাসে হার জাগা, তালাসি লেতা। আওর কোয়ি কোনা, কোয়ি ঘর নেহি ছোড়। তাজউদ্দীন আওর ইন য্যায়ছে দোসরে লিডারকে গ্রেফতার করনে কে মেরা কুই ইরাদা নেহি থা। ইস লিয়ে ও লোগ আহসানিসে ঢাকাসে চলে গ্যায়ে।

[আমি ভালো করেই জানতাম শেখ মুজিবের মতো নেতা নিজের লোকদের ছেড়ে কোথাও যাবে না। আমি শেখ মুজিবকে গ্রেফতার করার জন্য ঢাকার সমস্ত জায়গায় প্রতিটি বাড়িঘরে, এমনকি প্রতিটি কোনায় কোনায় তল্লাশি চালাতাম। তাজউদ্দীনের মতো অন্য কোন নেতাকে গ্রেফতার করার ইচ্ছা আমার ছিল না। এজন্য তারা সবাই খুব সহজেই ঢাকার বাইরে চলে যেতে পেরেছিল ।].

[ চেঙ্গিস-হালাকুর বংশধর টিক্কা খান দৃঢ় স্বরে ৭১-এর ২৬ মার্চ রাতের কথা বললেন, শেখ মুজিবকে সে রাতে না পাওয়া গেলে তার ফৌজ ঢাকায় এবং বাংলাদেশের ঘরে ঘরে কারবালার রক্তস্রোত বইয়ে দিতেন। শেখ মুজিবকে না পাওয়া গেলে হায়েনারা ২৬ মার্চের রাতে ঢাকার কোন ঘর এমনকি ক্ষুদ্র কোন কোনাও তারা ছাড়তো না। নয় মাসে তারা ত্রিশ লাখ লোককে হত্যা করে। কিন্তু ২৬ মার্চ শেখ মুজিবকে হাতের মুঠোয় না পেলে চেঙ্গিস খান-হালাকু খানের বংশধররা নয় মাসে নয় হয়তো নয় দিনেই কোটি লোক হালাক করে দিতো। পদ্মা-মেঘনা-যমুনার বুকে পানির ঢেউ থাকত না, রক্তের ঢেউ জেগে উঠত!

ইতিহাস সাক্ষী-বিশ্ববাসী সাক্ষী, সব ঝড়-তুফান থেকে বঙ্গবন্ধু বাঙালি জাতিকে রক্ষা করেছেন। ২৬ মার্চ তিনি গণহত্যাকারী টিক্কা খানের আক্রোশ ও ছোবল থেকে লাখ লাখ ঢাকাবাসী তথা দেশবাসীকে বাঁচানোর জন্য হিমালয়সম সাহস নিয়ে ৩২ নম্বর বাড়িতে অপেক্ষা করেছেন আত্মদানের জন্যে। কেউ জানত না সে রাতে তাকে গ্রেফতার করা হবে, না হত্যা করা হবে? ]

মুসা সাদিক : যখন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের মধ্যে রাজনৈতিক আলোচনা চলছিল, তখন আপনি কেন পশ্চিম পাকিস্তান থেকে হাজার হাজার সৈন্য পূর্ব পাকিস্তানে নিয়ে আসা জরুরি মনে করলেন?

জেনারেল টিক্কা : হামারে আর্ম ফোর্সেস রুটিন কে মোতাবেক কাম কর রাহে থে। ইস্ট পাকিস্তান আওর ওয়েস্ট পাকিস্তান কে দারমিয়ান ফৌজ কা মুভমেন্ট মামুল কে মোতবেক হো রাহা থা।

[আমাদের দুই ভূখণ্ডের মধ্যে সেনাবাহিনীর নিয়মিত চলাচল ও আসা- যাওয়া প্রথামাফিক অব্যাহত ছিল। পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে স্বাভাবিক বদলিজনিত মুভমেন্ট সব সময়ে যেমন হয়, তেমনভাবে হচ্ছিল।]

মুসা সাদিক : ২৫ মার্চ পূর্ব পাকিস্তানে চালানো সেনা অভিযানকে অনেকে পাকিস্তান ভাঙার কারণ বলে মনে করেন। এক্ষেত্রে আপনার দায় কতটুকু বলে মনে করেন?
জেনারেল টিকা : প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়ানে শেখ মুজিবুর রহমান কো। মুলক কে উজিরে আযম কা এলাহান পহেলে কর চুকে থে। মুঝে একিন থা কি শেখ মুজিবুর রহমান, আওর পুরি বেঙ্গলি কওম ইস এলাহান পার যে কে প্রেসিডেন্টনে কিয়া থা, উস পার বহুত খোস থে। কিউকে পহেলে দফা এক বেঙ্গলি লিডার, পাকিস্তানকা উজিরে আয়ম হোনে যা রাহা থা। লেকিন কুচ এক্সট্রিমিস্ট ইয়ং তার্ক নে শেখ সাব কো পুরে মুলকা উজিরে আযম কে বেজায় এক সুবাকে হেড বানানে কে লিয়া শেখ মুজিব পার দাবাও ডালা। স্টুডেন্ট ফ্রন্ট নে ইন্ডিয়া কে ইশারা পর পুরে সুবে মে এক লাকানুনিয়েত কি সুরেতে হাল পয়দা কর দিয়া। যব কে পাকিস্তানকা পুরে পাঁচ সুবাকে লোক শেখ মুজিবকে উজিরে আযম বননেকা এনতেজার কর রাহে থে, এ্যায়সে ওয়াক্ত ও কিউ এক সুবেকে হেড, ইয়া উজিরে আযম হোঙ্গে? ম্যায় সমোস্তো হু কে শেখ মুজিব পুরে মুলক কা ইয়া পাকিস্তানকা উজিরে আযম না বনে এসকে লিয়ে ইষ্ট পাকিস্তানকে কুছ একাসট্রিমিস্ট স্টুডেন্ট লিডার আওর সাথভি ওয়েস্ট পাকিস্তানকে কুছ লিডার জিম্মাদার হ্যায়।

[প্রেসিডেন্ট এহিয়া প্রথমেই শেখ মুজিবুর রহমানকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বলে ঘোষণা দিয়ে দিয়েছেন। আমার দৃঢ় বিশ্বাস যে, উক্ত ঘোষণায় শেখ মুজিবুর রহমান এবং তার বাঙালি জাতির প্রত্যেকটি মানুষ মনে-প্রাণে আনন্দিত হয়ে উঠেছিল। কারণ, পাকিস্তানের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোন বাঙালি নেতা পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর আসনে বসতে যাচ্ছিলেন। কিন্তু তাঁর দলের বিচ্ছিন্নতাবাদী কিছু জঙ্গি ছাত্রনেতা তাঁকে সমগ্র পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর পরিবর্তে একটি প্রদেশের প্রধানমন্ত্রী করার জন্য তাঁর ওপর চড়াও হয়। যখন সমগ্র পাকিস্তানের ৫টি প্রদেশের মানুষ তাঁকে প্রধানমন্ত্রী পদে বরণ করে নেবার জন্য গভীর আগ্রহের সাথে অপেক্ষা করছিল, তখন কেন তাঁকে একটি প্রদেশের প্রধানমন্ত্রী হবার জন্য যুব জঙ্গি ও কমিউনিস্টরা তাঁকে বাধ্য করবে? ভারতের ইশারায় তার জঙ্গি স্টুডেন্টস ফ্রন্ট সমগ্র দেশে (পূর্ব পাকিস্তানে) হাঙ্গামা পরিস্থিতি তৈরি করে। এটা আমি ক্রমশ উপলব্ধি করতে শুরু করি যে, শেখ মুজিব যাতে সমগ্র পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী পদে সমাসীন না হতে পারেন, সেজন্য পূর্ব। পাকিস্তানের কিছু উগ্র জঙ্গি ছাত্রনেতা এবং একইসাথে পশ্চিম পাকিস্তানের কিছু রাজনৈতিক নেতার ষড়যন্ত্র দায়ী ]

মুসা সাদিক : সেক্ষেত্রে এই ভয়াবহ রক্তপাত ও ট্র্যাজেডির জন্য কাকে আপনি দায়ী মনে করেন?
জেনারেল টিক্কা : ইস্ট পাকিস্তানে মে স্টুডেন্ট লিডারস অওর তাজউদ্দীন ইন হালাত, ইয়া নে মূলক তোড়নে কে জিম্মাদার হ্যায়। অওর ওয়েস্ট পাকিস্তান কে কুছ লিডার ভি মুলক কো তোড়নে কে জিম্মেদার হ্যায়।

[পূর্ব পাকিস্তানের বিচ্ছিন্নতাবাদী কিছু ছাত্রনেতা এবং তাজউদ্দীনের মতো নেতারা পাকিস্তান ভাঙার জন্য দায়ী এবং সেইসাথে পশ্চিম পাকিস্তানের কয়েকজন রাজনৈতিক নেতার ষড়যন্ত্রে পাকিস্তানের সার্বভৌমত্ব বিলীন হয়ে যায়। (জুলফিকার আলী ভুট্টোর নাম তিনি মুখে উচ্চারণ করেননি বটে তবে তার ইঙ্গিত অনুরূপ ছিল।)]

মুসা সাদিক : তাদের নাম বলবেন কি?

জেনারেল টিক্কা : ম্যায় আভি উনকা নাম নেহি বাতা সেকতা।

[ আমি তাদের নাম আপাতত বলতে পারবো না। ]

মুসা সাদিক : শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের নির্বাচিত নেতা ছিলেন একই সঙ্গে তিনি সংসদেরও মেজরিটি নেতা। এমতাবস্থায় তাঁকে পশ্চিম পাকিস্তানে বন্দি করে রাখার বিষয়ে আপনার ব্যাখ্যা কী?

জেনারেল টিক্কা : ইস্ট পাকিস্তান কে গভর্নর হোতে হুয়ে ম্যায়নে তিনি টেলিফোন কল ওয়েস্ট পাকিস্তান মে কিয়া, উসমে ৮০% কল শেখ মুজিব কি খায়রিয়ত অওর সিয়াসি হালত কি গুপ্তে শু কি। ম্যায়নে ইস্ট পাকিস্তান কে সাবেক গভর্নর আযম খান অওর দোসরে গভর্নরসে সাথ বাত চিত কি। অওর মুঝে একিন থা কে শেখ মুজিবকে বাগায়েত কুয়ি সেয়াসি সমঝোতা নেহি হো সেকতা। মুঝে একিন থাকে শেখ সাব অওর টপ ব্রাস অব দি আর্ম ফোর্সেস ইসকা আচ্ছি তারা জানতা থে।

[পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর হিসেবে আমি পশ্চিম পাকিস্তানের শীর্ষ জেনারেলদের কাছে যত ফোন করেছি, তার মধ্যে ৮০% ফোন করেছিলাম শেখ মুজিবরের প্রতি সর্বোচ্চ সৌজন্য প্রদর্শনের বিষয়ে সাহায্য করার জন্য। পূর্ব পাকিস্তানের সাবেক জনপ্রিয় গভর্নর আযম খানের সঙ্গেও ফোনে কথা বলেছি। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেছিলাম যে, পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে ঐক্য ধরে রাখার জন্য শেখ মুজিবের সঙ্গে সমঝোতা ছাড়া আর কোন বিকল্প নেই সেটা ইসলামাবাদের আর্মি হেডকোয়ার্টারের শীর্ষ জেনারেলরাও আমার মতো জানেন এবং বিশ্বাস করেন। আমি আরও বিশ্বাস রেখেছিলাম যে, পাকিস্তান আর্মির সর্বোচ্চ পদে আসীন জেনারেলরা সেই পথেই অগ্রসর হবেন ]

মুসা সাদিক : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব তখন পাকিস্তানের নির্বাচিত ও অঘোষিত প্রধানমন্ত্রী। তাঁকে অসম্মানজনকভাবে গ্রেফতার করে কারাগারে নিক্ষেপ করলেন কেন? আপনি পাকিস্তানের বেতনভুক একজন জেনারেল আর তিনি পাকিস্তানের সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী। আপনার এ কাজ কি বিধিসম্মত হয়েছে?

জেনারেল টিক্কা : হাম উনকি এক পাল ভি ছোটি নাজার ছে নেহি দেখা। ছোটি নাজার ছে কাভি নেহি দেখা। উনকি হাম এ্যায়সি ইজ্জত ভি করতে থে, উনকি নাজার ছে নাজার ডালকে হাম কাভি বাত ভি নেহি কারতে থে। দো হাত বান কে, উনকি কদম মোবারক পর হামারি নাজার রাখকে স্যার, স্যার কালকে উনকে সাথ আদবছে বাত কারতে থে।

[ আমি তাকে কখনো ছোট করে দেখিনি। সব সময় উচুস্তরের নেতা হিসেবে দেখেছি। বেয়াদবি হয়ে যাবে ভেবে তার চোখে চোখ রেখে। কখনো কথা পর্যন্ত বলিনি। ওঁনার কদম মোবারকের দিকে চোখ রাখে । ‘স্যার, স্যার বলে আদবের সঙ্গে কথা বলেছি। ]

মুসা সাদিক : তাহলে কেন তাঁর কারাগারের সেলের পাশে কবর খোড় । হয়েছিল, কেনইবা আপনি তাঁর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ তুললেন?

জেনারেল টিক্কা : ইয়ে বিলকুল ঝুযুট হ্যায়। লেকিন ইয়ে সহি হ্যায় কে শেখ মুজিব পর বাগাওয়াত কা ইলজাম কেয়া গিয়া থা। লেকিন, ম্যায় অউর দোসরে জেনারেল ইস ইলজাম কে খেলাফ থে। অওর হাম লোগ মাসলে কা সিয়াসি হাল চাহতে থে। ইয়ে ইলজাম ভি আগরতলা ইলজাম কি তারা এক সিয়াসি মামলা থা।

[এটা সর্বৈব মিথ্যা অভিযোগ। যদিও তাঁর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ একরকমভাবে এসে পড়ে। কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে আমি এবং আমার মতো আর বেশ কিছু জেনারেল এই অভিযোগের সূত্রে তাঁর বিচার করার বিরুদ্ধে ছিলাম । আমরা পাকিস্তানের সার্বভৌমত্ব রক্ষার স্বার্থে এই অভিমত পোষণ করতাম। তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগটি তথাকথিত আগরতলা মামলার ন্যায় মিথ্যা বানানো তথাকথিত মামলা ছিল।

মুসা সাদিক : তার প্রতি আপনার গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে জেনে খুশি হলাম স্যার। তাই যদি হয়, আপনি কেন তাঁকে পশ্চিম পাকিস্তানে এনে অপমানজনকভাবে বন্দী করে রাখলেন? মিলানওয়ালি জেলখানায় তার সেলের সামনে তাঁর জন্য কবর খুঁড়ে তাঁকে ৯ মাস মানসিক ও শারিরীকভাবে নির্যাতন করলেন কেন? যেখানে ইতিহাসে এমন ঘটনার নজির রয়েছে যে ফ্রান্সের জাতীয় বীর নেপোলিয়ান বোনাপাট দা গ্রেটকে স্থানান্তরিত করে সেন্ট হেলেনায় রাখা হয়। কিন্তু সেখানে তাকে কোন নির্যাতন করা হয়নি।

জেনারেল টিক্কা : ইয়ে বিলকুল গালদ হেয়। জেলমে শেখ সাবকো কোয়ি তাকলিফ নেহি দিয়াগিয়া। নাইনটিন সেভনটি ফোর মে পাকিস্তান মে OIC কনফারেন্স হুয়া। শেখ সাব উও কনফারেন্স মে তাশরিফ লিয়া। শেখ সাব লাহোর এয়ারপোর্ট মে মিলানওয়ালি জেলকি জেলরকে সাথ মুলাকাত হুয়া, আপকি লিডার উনকে সাথ মোছাফা কারা, অউর কোলাকুলি কারা। আউর উনকি বহোত তারিফ ভি কারা। আউর হাম সুনে শেখ সাব উন জেলরকো বাংলাদেশকি স্পেশাল গিফট ভিদিয়া। হাম ক্যায়সে তাহাজ্জিব-তামাদ্দুনসে উনকি সামনে ছের ঝুকাকে, দো হাত বানকে, কাভি কোয়ি গলতি না হো য্যায়ে, খেয়াল করকে স্যার, ‘স্যার বোলকে উনকে সাত বাত করতে থে। অউর তুমহারি কুছ বেঙ্গলি বাস্টার্ড, উনকো মার ডালা! উনকে পাহেলে তোম কোন, কেয়া থে? ঢাকা মে হাম বহোত বোলতে হুয়ে সুনা তোমহারা সারে স্টুডেন্টস লিডারস, অউর তোফায়েল আহমেদ গং পাবলিক মিটিং-মে বোলতে থে তোম পাকিস্তানকি কলোনিমে সেকেন্ড ক্লাস সিটিজেন হাযেয়। অউর আপকি elderly leaders মওলানা ভাসানী সাব, শেখ মুজিব সাব ঢাকা পল্টন ময়দান মে হার হামেসা বোলতে থে তোম সবকো হাম পাকিস্তান কি শ্লেভস বানায়া রাখা। উঅ সব বাতকি বাত থি, পলিটিক্যাল স্ট্যান্ড য্যায়সে থে। অউর তোম লোগোনে জো শেখ সাব আজাদি মাঙ্গনেকে তোমকো গিফট দিয়া, আজাদ কার দিয়া, আজাদিকা মনজিলে মকসুদ পর তোমকো চড়হা দিয়া, উনকো তোম মার ডালে! সারে দুনিয়া উন বেঙুলি কো কেয়া বলেগা? বেঈমান। বোলেগা, বেঈমান।”

[এ কথা সম্পূর্ণ অসত্য। জেলে শেখ সাহেবকে কোন কষ্ট দেয়া হয়নি। ১৯৭৪ সালে লাহোরে OIC ইসলামী দেশ সমূহের সম্মেলনে তিনি যখন যান, তখন তার পরামর্শে মিলানউয়ালী জেলের জেলরকে বিমান বন্দরে উপস্থিত রাখা হয়েছিল। বিমানে বন্দরে দেখা হওয়া মাত্র শেখ সাহেব উক্ত জেলরের সাথে মোসাফা করেন ও কুলাকুলি করেন। তাকে আদর যত্ন করে রেখেছিলেন বলে জেলরকে তিনি অনেক ধন্যবাদ দেন ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। আমি আরও শুনেছি জেলরের জন্য শেখ সাহেব বাংলাদেশ থেকে মূল্যবান উপহার সামগ্রী নিয়ে গিয়েছিলেন | ওনাকে কোন নির্যাতন করা দূরের কথা, আমরা আমাদের আদবের কোন ঘাটতি না হয়ে যায়, সেজন্য ওনার সামনে আমাদের জেনারেলরা ও সচিবরা দু হাত নাভির ওপর বেঁধে, মাথা নীচু করে সর্বক্ষণ ‘স্যার বলে কথা বলতাম। আর তোমাদের কিছু বাঙালি বাস্টার্ডরা তাঁকে মেরে ফেললো! তার আগে, তোমরা বাঙালীরা, কোথাকার কি ছিলে? ঢাকায় আমি বহুবার শুনেছি তোমাদের ছাত্র সমাবেশে ছাত্র নেতারা, তোফায়েল আহমেদ বলতো, আমরা তোমাদের পাকিস্তানের কলোনী করে দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক করে রেখেছি। ঢাকার জনসভায় তেমাদের খুব বড় নেতা মওলানা ভাসানী সাহেব, শেখ মুজিব সাহেব ঢাকার পল্টন জনসভায় বহুবার ঘোষণা করেছেন, পাকিস্তানী শাসকেরা তোমাদের পাকিস্তানের ক্রীতদাস করে রেখেছে। যদিও সেগুলি সত্য ছিল না, রাজনৈতিক ভাষন ছিল। তবে সে সব ভাষণ যদি সত্য হয়, তাহলে যে শেখ মুজিব সাহেব তোমাদেরকে ক্রীতদাসত্ব থেকে, পাকিস্তানীদের গেলামী থেকে আজাদ করে দিয়েছেন এবং স্বাধীন জাতির মনজিল-এ-মকসুদের সিংহাসনে তোমদের আসীন করে দিয়েছেন- তাকে তোমরা কি করে খুন করে ফেললে? এই গোনাহর জন্য দুনিয়ার সকল মানুষ তোমাদের কি বলে ডাকবে জানো? বেঈমান, বাঙালী বেঈমান নামে ডাকবে। ]

মুসা সাদিক : বাঙালি নয়, বিদেশি এজেন্টরা বাঙালি জাতির প্রাণপ্রিয় জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে। তাদের কারো শরীরে বাঙালি মা বাবার রক্ত নেই, পাঞ্জাবিদের রক্ত আছে। এসব এজেন্টদের পেছনে মদত দেয় ISI (পাকিস্তানী গোয়েন্দা সংস্থা) এবং CIA (আমেরিকার গোয়েন্দা সংস্থা) এবং অর্থায়ন করে সৌদি আরব।

জেনারেল টিক্কা : ইয়ে কিয়া তাজ্জব কি বাত আপ সুনায়ে। আপ কাহা সে ছুনা! হাম তো কাভি নেহি চুনা এয়সি ফজুল বাতে!! হামারি আফসোস দেখ কিতনা বড়া? হাম উনকো টোকা তক নেহি দিয়া। হাম অউর হামারে জেনারেলস, আউর হামারা সারে লীডারস উনকো সাহি সালামত সে তোমহারে পাস হেফাজাত কারদিয়া। বাংলাদেশ মে ভেজ দিয়া। অউর উনকে সাথ হামারি এয়ারফোর্স চিফ এয়ার মার্শাল আব্দুর রহিম খানকো উসিকে প্লেনমে উসিকে সাথ ভেজ দিয়া। So that none of our hostile member of our air force can do any destructive activities to his plane. অউর তোম উনকে সাথ গাদ্দারি কারকে উনকো কাতল কার দিয়া! কেয়ামত তক তোমহারি খুন কি দাগ তোমহারি সের পার, তোমহারি মাজহাব পার জারি রাহেগা! হামারি আফসোস ভি তোমহারি ছের পার জারি রাহেগা।

আপ লোগোকে সাত উনকি কেয়া দুষমণি থা? উনকি সাথ যো ভি থা, হামারি লিডারসকা থা। আপকা কেয়া থা? আপকি লিয়ে শেখ সাব হামারি জিন্নাহ সাব য্যায়সি লিডার থে। আপ লোগোনে উনকো খুন কার দিয়া অউর ইলজাম হামারে ছের পার আ গিয়া। মিডিল ইস্ট অউর আরব জাহানমে নিউজ হো গিয়া হাম উনকো মার দিয়া। ইয়ে কেয়া বাত হুয়া? তোমহারা কুছ বেঙলি বাস্টার্ড কিলড হিম, অউর ইলজাম হামারি ছের পার লাগা দিয়া? কিউ? বোলো, বোলো, বোলকে যাও? হোয়াই ইউ বেঙলি ইনসেক্টস টাচূড হিম? দুনিয়া কা লানত তোমহারি ছের পার। কোয়ি পাকিস্তানি জেনারেলস কো, অউর প্রেসিডেন্ট এহিয়া খান, অউর ভুট্টো সাবকো যো হিম্মত ভি নেহি হুয়া, তোমহারা কুছ বেঙলি বাস্টার্ডস এ্যযছে কারকে দেখায়া! কারবালা কি বাদ পহেলে আপকি বেঙলি মাজহাব এ্যয়ছে কারকে দেখায়া যো অউর কোয়ই মুসলিম কান্ট্রিমে কাভি নেভি নেহি হুয়া!! কেয়ামত তাক মুসলিম দুনিয়াকি লানত আপকি ছের পার রহেগা! For your pleasure you can claim they are Panzabi but truly they are Bengali bustards.

[এটা কি ধরণের বিস্ময়কর কথা আপনি শোনালেন? এমন অবিশ্বাস্য কথা আপনি কোথা থেকে শুনেছেন? এমন অসম্ভব ও অবাস্তব কথা আমরা কেউ কখনো শুনিনি। পাকিস্তানে কাউকে বলতেও দেখিনি।আমার ও আমাদের কত বড় আফসোস দেখ। আমরা কেউ তার গায়ে টোকা পর্যন্ত দেইনি। আমাদের সকল জেনারেল, তিন বাহিনী প্রধান এবং প্রেসিডেন্ট তাকে সুস্থ্য শরীরে ৭২-এর জানুয়ারি মাসে তোমাদের হাতে তুলে দিয়েছি। বিদায়কালে তিনি পাকিস্তানের তিন চিফের সাথে হ্যান্ডশেক করেছেন এবং হাসিমুখে প্রেসিডেন্ট ভূট্টোর সাথে কোলাকুলি করেছেন। তাঁর লণ্ডন যাত্রা নিরাপদ ও আনন্দময় করতে আমাদের বিমানবাহিনীর চিফ এয়ার মার্শাল আব্দুর রহিম খান তার সাথে ঐ প্লেনে লণ্ডন পর্যন্ত গিয়ে তাকে ছেড়ে এসেছেন। এটা নিশ্চিত করার জন্য, যাতে আমাদের বিমান বাহিনির কোনও ভিন্ন মতাবলম্বী সদস্য তাঁর বিমানটিতে কোনও ধ্বংসাত্মক কার্যক্রম চালাতে না পারে। আর তোমরা তার সাথে গাদ্দারি করে তাঁকে খুন করেছো! রোজ কেয়ামত পর্যন্ত তোমাদের মাথার ও চেহারার ওপর খুনের দাগ বয়ে যাবে। আমাদের আফসোসও আপনাদের মাথা ও চেহারার ওপর বয়ে যাবে! আমি আপনার মাধ্যমে জানতে চাই, আপনাদের সাথে তার দুষমনি কি ছিল? ওঁনার সাথে রাজনৈতিক বিবাদ যা কিছু ছিল, তা ছিল আমাদের সেনাপ্রধান ও প্রেসিডেন্টের সাথে। আপনাদের জন্য শেখ মুজিব সাহেব ছিলেন, আমাদের কাছে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর সমকক্ষ ও সমতূল্য নেতা। আপনারা ওঁনাকে খুন করলেন আর খুনের দায় পাকিস্তানিদের ওপর এসে পড়লো! আরব বিশ্বের পত্র-পত্রিকাগুলো লিখলো আমরাই খুন করিয়েছি! এটা কি কোন কথা হলো? কেন? কেন? এ কথার উত্তর দিয়ে যাও। (সে রাগে কাঁপছিলো ও গর্জন করছিলো।তোমরা পোকা-মাকড় বাঙালি তাঁর মতো বিশ্ব নেতাকে স্পর্শ করো কোন সাহসে? আমাদের জেনারেলদের ও প্রেসিডেন্ট এহিয়া খানের এবং মি. ভূট্টোর হিম্মতে (শক্তিতে) যা কুলায়নি! কারবালার পর এত বড় ট্রাজেডি কিছু বাঙালি বাস্টার্ডরা ঘটিয়েছে।! আপনাদের মনে স্বস্তি ফেরাবার জন্য ও মনোকষ্ট দূর করার জন্য আর যতবার আপনারা বলুন, তাদের শরীরে পাঞ্জাবিদের রক্ত বহিছে, তা সত্য নয়, তারা বাঙালি, শেখ মুজিবের হত্যাকারী।।

মুস সাদিক: ১৯৭০ সালে সমগ্র পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের ভোটে নির্বাচিত ও পাকিস্তানের পার্লামেন্টের মেজরিটি লিডার শেখ মুজিবুর রহমানকে প্রেসিডেন্ট এহিয়া খান প্রকাশ্য জনসমক্ষে ও সাংবাদিক দলের সামনে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বলে ঘোষণা দেবার সাথে সাথে পাকিস্তানের তিন বাহিনীর তিন চিফ, সকল সচিব ও সকল জেনারেল আইনত: তার অধীনস্থ ও অনুগত বলে গণ্য হয়েছেন। সেক্ষেত্রে চাকুরিতে জেনারেল বা গভর্ণর হিসেবে তাঁর প্রতি আপনার আনুগত্য লংঘন করে তাকে বন্দী করে পাকিস্তানে পাঠাতে পারেন কি?

টিকা খান : উছ টাইম তাক শেখ সাব উজিরে আজমকা oath নেহি লিয়া। ম্যায় নে শেখ মুজিবুর রহমান কো কুছ হিউমিলিয়েট নেহি কিয়া। ম্যায়নে উনকো ঢাকা এয়ারপোর্টমে সেলুট কারকে রুখসাত কিয়া। শেখ সাবকো রুখসাত কি ওয়াক্তমে ম্যায় ইয়ে সমঝ রাহা থা, কে শেখ সাব ওয়েস্ট পাকিস্তানমে পৌছনে কে বাদ, সিয়াসি সমঝোতা হো যায়েগা। অওর শেখ মুজিবুর রহমান মুলকে উজিরে আজম বন যায়েঙ্গে। ম্যায়নে শেখ সাব কো নেহি মারা। লেকিন আপ লোগোনে উন কো মারা। ম্যায় আপ সে পুঁছতা ই কে আপ লোগোনে উনকো কিউ মারা? কাভি নেহি বোলনা কে টিক্কা খান উনকো মারা। তোম দেনো মেরা দো জুতি তোমহারা ছির পার রাখো, আউর এশিয়ান হাই ওয়ে পার লাহোরসে ঢাকা যাতে হুয়ে দোনো সাইডকা সব লোগোকো ইয়ে বলতে হুয়ে যাইয়ে কি টিক্কা খান ইজ এ গ্রেটম্যান, টিক্কা খান নে শেখ মুজিবকো নেহি মারা। উনকি বেঙ্গলী কওমনে উনকো মার ডালা।

After his assignation all most all the leaders of the word said without him you could never achieve an independent country and your freedom.

তিনি তখনও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেননি। তা সত্ত্বেও আমি শেখ মুজিবুর রহমানকে এক বিন্দু পরিমাণ অসম্মান বা অশ্রদ্ধা প্রদর্শন করিনি এবং তাঁর সামনে দু হাত জোড় করে স্যার স্যার বলে সম্বোধন করে সর্বক্ষণ সতর্ক করেছিলাম। যাতে তার সাথে কোন বেআদবি না হয়ে যায়। আমি তাকে ঢাকা বিমানবন্দরে সামরিক কায়দায় স্যালুট দিয়ে (পশ্চিম পাকিস্তানের উদ্দেশ্যে) বিদায় করে দিয়েছে। শেখ সাহেবকে বিদায়কালীন সময়ে আমি সুনিশ্চিত ছিলাম যে, পশ্চিম পাকিস্তানে শেখ সাহেব পৌছান মাত্র সবকিছু শান্তিপূর্ণ সমঝোতা হয়ে যাবে। অবশ্যই শেখ সাহেব পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হয়ে যাবেন।

আরও দেখুন, আমি শেখ সাহেবকে খুন করিনি। কিন্তু আপনারা বাঙালিরা ওঁনাকে খুন করেছেন। আপনাদের কাছে আমি প্রশ্ন করি, আপনারা বাঙালিরা কেন তাকে খুন করেছেন? আপনারা কেউ কখনো বলবেন না যে, টিক্কা খান ওঁনাকে খুন করেছে। আপনারা দুজন আমার পায়ের দু’ জুতা মাথায় করে নিয়ে লাহোর থেকে এশিয়ান হাইওয়ে ধরে ঢাকা পর্যন্ত চলে যান এবং যাবার সময় এশিয়ান হাইওয়ের দু’পাশের পথচারিদের চিতকার করে বলতে বলতে যান যে, টিক্কা খান একজন গ্রেটম্যান (মহামানব), যিনি শেখ মুজিবকে খুন করেননি। তাকে খুন করেছে তাঁরই বাঙালি জাতির কিছু বাস্টার্ডরা (বেজন্মারা)! ওঁনার সাথে আপনাদের কিসের দুষমনি? ওনার মতো নেতার সাথে পাকিস্তানের নেতাদের দ্বন্দ্ব বা ক্ষমতা নিয়ে প্রতিযোগিতা বিদ্যমান ছিল। আপনাদের লোকদের সাথে তার কিসের দ্বন্দ্ব বা প্রতিযোগিতা ছিল? যে তাঁকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দিতে হবে? তাঁর মৃত্যুর পর আফসোস সহকারে বিশ্বের সকল নেতাই বলেছেন যে, তাঁর জন্ম না হলে আপনাদের দেশের জন্ম হতো না।]

মুসা সাদিক: ২৫ মার্চ আপনার সামরিক পদক্ষেপ এবং গণহত্যা পাকিস্তানকে ভেঙে দেয়- এর জন্য আপনি দায়ী। পূর্ব পাকিস্তানে আপনার সেনাবাহিনীর পতন ঘটে এসব বিষয়ে কীভাবে আপনি আপনার ভূমিকার মূল্যায়ন করবেন?

জেনারেল টিক্কা : মেরে মরনে তক ইসকা ইলজাম মুঝ পার রাহেগা। লেকিন মুলক তােড়নে কা জিম্মেদার ম্যায় নেহি হু। ম্যায়নে আমানত মে কুয়ি খিয়ানত নেহি কি। মায়নে শেখ সাবকে সাথ কোয়ি বুরা সুলুক নেহি কিয়া অওর যব হামনে উনসে মুলাকাত কি তো হামনে উনকো তাহজিবসে স্যালুট দিয়া। শেখ সাব জানতে থেকে মায়নে যো ডিউটি আনজাম দি, উয়ো বিলকুল কানুন কি মোতাবেক থা। অওর মেরে এলাওয়া কোয়ি ভি গভর্নর হোতা, উও ভি এহি করতা। ‘৭১ মে যো বাংলাদেশ মে হুয়া, ৭২ মে শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানকে উজিরে আযম হোনে কে বাদ আগর ওহি হালাত সিদ্ধমে হোতা তো শেখ মুজিবকা সিদ্ধ কা গভর্নর ভি ওহি করতা, যো ম্যায়নে ‘৭১ মে ইস্ট পাকিস্তান মে কিয়া। গভর্নর কে পাস ইসকে এলাওয়া অওর কুয়ি অপশন নেহি থা। উসকে জিম্মাদারি, কনস্টিটিউশন, টেরিটোরিয়াল ইনট্রিগিটি কো ইনট্যাক্ট রাখনা। আগর কোয়ি গভর্নর এ্যায়সা নেহি করতা তো উসকা ইমপেচমেন্ট হোতা। অওর ফাসি ভি হো সেকতা থা।

[আমার মৃত্যু পর্যন্ত এই অভিযোগ আমার ওপর বয়ে যাবে। কিন্তু পাকিস্তান রাষ্ট্র ভেঙে যাবার জন্য আমি দায়ী নই। আমি পাকিস্তান রাষ্ট্রের আমানতের কোন খেয়ানত করিনি। আমি শেখ সাহেবের সাথে কখনো এক তিল পরিমাণ অসৌজন্যতা প্রদর্শন করিনি এবং দেখামাত্র তাকে সামরিক কায়দায় স্যালুট দিয়েছি। শেখ সাহেব পুরোপুরি অবহিত ছিলেন যে, আমি তার প্রতি যা কিছু করেছি (২৫ মার্চ রাতে গ্রেফতার) তা আমার সরকারি-আইনসঙ্গত কর্তব্য অনুযায়ী করেছি। আমার জায়গায় পূর্ব পাকিস্তানে ঐ সময়ে অন্য কোন গভর্নর থাকলে, সরকারি ডিউটি হিসেবে তিনিও তাই করতেন। ‘৭১ সালে বাংলাদেশে যে প্রেক্ষাপটে আমি যা করেছি, শেখ মুজিব সাহেব সমগ্র পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী থাকা অবস্থায় যদি সিন্ধু প্রদেশের কেউ স্বাধীনতা ঘোষণা করে দিতেন, তাহলে সিন্ধু প্রদেশে শেখ সাহেবের নিয়োজিত গভর্নর আমার মতো একই ডিউটি পালন করতো। গভর্নরের জন্য এটা ছাড়া আইনি আর কোন বিকল্প রাখা হয়নি। রাষ্ট্রীয় অখণ্ডতা রক্ষা, সংবিধান রক্ষা এবং গভর্নরের ওপর অর্পিত জিম্মাদারি পালন করা ছাড়া কোন গভর্নরের আর কোন উপায় নেই। এর ব্যত্যয় ঘটিয়ে কোন গভর্নর যদি অন্য কিছু করে, তাহলে তার জেল হতে পারে, এমনকি ফাসি পর্যন্ত হতে পারে ।]

মুসা সাদিক : আপনি জানেন কি! পূর্ব পাকিস্তানে আমাদের তিন-চার লাখ মা-বোনকে আপনার মিলিটারি ধর্ষণ করেছিল?

জেনারেল টিক্কা : তিন-চার লাখ রেপ বিলকুল অ্যাবসার্ড। ইয়ে না মুনকিন হ্যায়। হামারে টোটাল ফৌজ ভি দো লাখ নেহি থা। অলওয়েজ এক লাখ সে ভি কম থা। ম্যাথমেটিকসমে জো ডাল হেয়, উয়ো অ্যায়সি বাত বোল পাওগে। লেকিন আপ নেহি বোলেঙ্গে, আপতো বড়া ব্রিলিয়েন্ট সিভিল সার্ভেন্ট হেয়। ম্যায় আল্লাহ পে তাওয়াক্কাল কারকে ক্যায় সেকতা হু কে কুচ রেপ কে কেসেস ইুয়ে থে। অওর জিন লোগোনে ইয়ে গলত কাম কিয়া উনকে খিলাফ সকত কারওয়াই কি গ্যেয়ি। অওর উনকো জিন্দেগী বরবাদ কর দি গেয়ি। অওর উনকা কেরিয়ার ভি খতম হো গিয়া।

[তিন-চার লাখ ধর্ষণ সম্পূর্ণ অবাস্তব। এটা কাউকে বিশ্বাস করাতে পারবে না। আমার সৈন্যবাহিনীর সংখ্যা ২ লাখ কখনো ছিল না। সব সময় এক লাখেরও কম ছিল। অঙ্কে যে কাঁচা, সে এমন কথা বললেও বলতে পারে, কিন্তু তুমি এমন ভুল হিসাব বলতে পারো না। কারণ, তুমি একজন মেধাবী সিভিল সার্ভেন্ট (জনসেবক)। আমি আল্লাহর ওপর বিশ্বাস রেখে বলতে পারি সামান্য কিছু ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছিল। বটে। কিন্তু আমরা সেসব সৈনিকের জীবন শেষ করে দিয়েছি এবং তাদের ক্যারিয়ার শেষ হয়ে গেছে।]

মুসা সাদিক : সমগ্র পূর্ব পাকিস্তানে ৩০ লাখ নিরস্ত্র বেসামরিক মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল। আপনি কীভাবে এটা জাস্টিফাই করবেন?

জেনারেল টিককা : হাম লোগো নে কয়ি জেনোসাইড নেহি কিয়া। জং নে যো অ্যাকশন অওর কাউন্টার অ্যাকশন মে দোনো তরফ কে লোগ মরতে হ্যায়। কুচ এরিয়া মে ইনোসেন্ট লোগ অ্যাকশন মে মারে প্যায়ে। অওর জিন লোগো নে ইয়ে অপারেশন কিয়া উনকে খেলাফ হাম লোগোনে অ্যাকশন লিয়া। লেকিন যিন অপারেশন মে ইনোসেন্ট লোগ মারে গ্যায়ে, ইনকয়রি করনে পর পাতা চালা, কে ইসকে জিম্মাদার লোকাল লিডার অওর পিস কমিটি থা। উনো নে আপনে সেলফ ইন্টারেস্ট অওর য্যাতি মোফায়াত কে লিয়ে হামে ফৌজসে ইনোসেন্ট লোগো পর, অওর জিনসে উনকি জাতি দুসমনি থি. উন পর অপারেশন করায়া। আপ লোগ হাম পর ইলজাম লাগানে কে বাজায়ে আপ আপনে উস ওয়াক্তকে যো লোকাল লিডার হ্যায় উনসে ইস বারে মে পুঁছে। কিউকি উও ইস গলদ অ্যাকশনকে জিম্মেদার হ্যায়।

[আমরা কোন গণহত্যা চালাইনি। যুদ্ধ যখন শুরু হয়ে যায়, তখন দুপক্ষেই হতাহত হতে থাকে। কোন কোন অঞ্চলে কিছু নিষ্পাপ সাধারণ মানুষের জীবনহানি ঘটেছিল। কিন্তু যারা এমন হতাহতের জন্য দায়ী ছিল, তাদের বিরুদ্ধে আমরা শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নিয়েছি। অনুরূপ হতাহতের বিস্তারিত তদন্তের পর বেরিয়ে এসেছে তোমাদের স্থানীয় নেতা বা পিস কমিটি নিজেদের স্বার্থে আমাদের সৈনিকদের দিয়ে এসব করিয়ে নিজেদের ফায়দা লুটেছে। বদনাম হয়েছে আমাদের সৈনিকদের। আমাদের সৈনিকদের ওপর দোষারোপ করার পরিবর্তে তোমাদের অঞ্চলের লোকাল লিডারদের তোমরা জিজ্ঞেস করো যে, কেন তারা তাদের নিজেদের দুশমনির প্রতিশোধ নিতে আমাদের সৈনিকদের ভুল বুঝিয়ে বিভিন্ন অঞ্চলে সাধারণ জনবসতির ওপর অপারেশন (গোলাগুলি) করিয়ে নিষ্পাপ জনগণকে হতাহত করেছে? যার দায়ভার আমাদের ওপর পড়েছে, প্রকৃত অর্থে এসবের জন্য দায়ী। তোমাদের বাঙালি স্থানীয় ও আঞ্চলিক নেতারা ও পিস কমিটির নেতারা। আমরা বিদেশি, কাউকে চিনতাম না। তোমাদের স্থানীয় ও আঞ্চলিক বাঙালি নেতারা আমাদের চিনিয়ে দিয়েছে এবং তাদের নিজ নিজ এলাকার ও অঞ্চলের শত্রুতা মেটানোর জন্য আমাদের দিয়ে অনেক মিলিটারি অপারেশন করিয়েছে, যাতে বহু সাধারণ মানুষ হতাহত হয়েছে। এসব মিলিটারি অপারেশন তোমাদের স্থানীয় ও আঞ্চলিক নেতাদের জিম্মাদারিতে আমাদের সৈনিকরা করেছে। এসবের জিম্মাদারি তোমার বাঙালি নেতারা। আমাদের সৈনিকরা এসব মিলিটারি অপারেশনের জিম্মাদার হবে না। তারা নিষ্পাপ ||

মুসা সাদিক : বাংলাদেশের মানুষ এখনও গণহত্যা, ধর্ষণ ও এমনতর মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য ১৯৫ জন পাকিস্তানি যুদ্ধাপরাধীর বিচার দাবি করে এবং এই তালিকায় আপনার নামও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। যদি আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ আদালতে এই বিচার অনুষ্ঠিত হয় তাহলে আপনি এবং আপনার সহকারীরা কীভাবে এটা মোকাবেলা করবেন?

জেনারেল টিক্কা : লিস্ট মে মেরা নাম নেহি হ্যায়। আল্লাহ আকবর। যায় ইস্ট পাকিস্তান সে তিন-চার মাহিনে গভর্নর থা। অওর ম্যায়নে কোয়ি ওয়ার ক্রাইম নাহি কিয়া। তামাম পাকিস্তানি শেখ মুজিবুর রহমানকে এহসান মান্দ অওর মশহুর হ্যায় কে উনুনে ইসলামি উম্মাহ কি তরফ দেখতে হুয়ে ট্রায়াল ড্রপ কার দিয়া। ইস তারা উনোনে রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে সালামকে উন্মত হেনে কে হেসিয়াত সে বহুত বড়া কাম কিয়া। ইহুদি, ক্রিশ্চিয়ান অওর নন-মুসলিম ওয়ার্ল্ড মুসলিম উম্মাহ কে হিউমিলিয়েট অওর জলিলকরণে কে কোসিস কর রাহে থে। লেকিন, শেখ সাব যায়েসে আজিম লিডার নে ট্রায়াল ড্রপ করকে ইসলাম কি দুশমন তাকাতোকি সাজেসকো নাকাম বানা দিয়া। অওর ইসতারা ইসলামকি বহুত বড়ি খেদমত কি।

[ঐ তালিকায় আমার নাম নেই। আল্লাহু আকবর। আমি পূর্ব পাকিস্তানে মাত্র ৩-৪ মাস গভর্নর পদে ছিলাম। আমি সেখানে যুদ্ধাপরাধমূলক কোন কিছুই করিনি। সমগ্র পাকিস্তানের কোটি কোটি মোমিন মুসলমান শেখ মুজিবুরের কাছে ঋণ স্বীকার করে এবং তিনি তাদের সকলের কাছে প্রবলভাবে জনপ্রিয় এজন্য যে, ইসলামি উম্মাহর মহান জিম্মাদার হিসেবে তিনি যুদ্ধবিষয়ক বিচার কার্যক্রম স্থগিত করে দেন। হজরত মুহাম্মদ (দ.)-এর উঁচুস্তরের উম্মত হিসেবে তিনি ইসলামের অনন্য খেদমত করেছেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইহুদি-খ্রিষ্টান এবং মুসলিম বিরোধী শক্তি ইসলামি উম্মাহকে হেয় এবং মুসলমান ধর্মকে পাশবিক উন্মাদনার ধর্ম হিসেবে চিহ্নিত ও প্রচার করছিল। পূর্ব পাকিস্তানে লাখ লাখ মুসলমান মা-বোনের ওপর পশ্চিম পাকিস্তানের মুসলমান সেনাবাহিনীর হাজার হাজার পাশবিক নির্যাতনের ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত ও প্রমাণ করার যে চেষ্টা দুনিয়াব্যাপী, বিশেষ করে ইসরাইলি পত্র-পত্রিকা ও ইউরোপের পত্র-পত্রিকার প্রচারণা শেখ মুজিব স্তব্ধ করে দেন। এটা করে তিনি ইসলামের অনেক বড় খেদমত করেছেন। আল্লাহু আকবর। আল্লাহ শেখ মুজিবকো জান্নাতুল ফেরদৗস নসীব করে। আমিন। আমিন ।]

মুসা সাদিক : কিন্তু আমরা জেনেছি পাকিস্তানের নেতা এবং জেনারেলরা ১৯৭৫ সালে বাংলাদেশের নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার সংবাদে খুশি হয়েছিল।

জেনারেল টিক্কা : ইয়ে বিলকুল গলদ হ্যায়। শেখ মুজিবকে কতল পর ছারে জাহা শকড হুয়া অওর হর পাকিস্তানি কো বহুত আফসোস হুয়া। শেখ মুজিব পাকিস্তান আওয়ামমে বহুত মখবুল থে। চুঁকে উনাোনে পি.ও.ডব্লিউ’স কো ইন্ডিয়া ছে রাহা করাওয়া থা। অওর হর পাকিস্তানি দোয়া করতে হ্যায় আল্লাহ তায়ালা উনকো জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করে। উয়ো ১৯৭৪ ওআইসি কনফারেন্স মে সিরকেত কে লিয়ে লাহোর আয়ে থে তার ইসলামি দুনিয়া কে এক বড়া লিডারকে হেসিয়াত সে উনকো বহুত উজ্জত দিই গেয়ি। ম্যায়নে লাহোর সে উনকো স্যালুট কিয়া অওর বহুত ইজ্জত সে হাত মিলায়া। জিন লোগোনে উনকো মারা, উসনে ইসলামি উম্মাহ কা বহুত লোকসান পৌছায়া। উনকে ইন্তেকাল সে দোনা মুসলিম মুলকো কো কাফি লোকসান হুয়া। লেকিন চান মুলকোকো ইসসে ফায়দা হুয়া।

[এ কথা শতভাগ মিথ্যা। শেখ মুজিবের হত্যার কথা শুনে প্রতিটি পাকিস্তানি আফসোস করেছে এবং শোকাহত হয়েছে। ১৯৭১ সালের পর পাকিস্তান জাতির হৃদয়ে শেখ মুজিবের জন্য শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার অনেক বড় স্থান ছিল। কারণ তিনি ভারতের থাবা থেকে ৯৬ হাজার পাকিস্তানি যুদ্ধবন্দিকে বাঁচিয়ে দিয়ে গেছেন। তাঁকে যেন মহান আল্লাহ জান্নাতুল ফেরদৌস নসীব করেন, সেজন্য প্রত্যেক পাকিস্তানি এবং আমাদের সামরিক বাহিনী ও তাদের পরিবার-পরিজন আল্লাহর কাছে মোনাজাত করেছে। ১৯৭৪ সালে শেখ সাহেব ওআইসি (ইসলামি জাতিসমূহের সম্মেলন) সম্মেলনে লাহোর আগমন করলে লাহোরবাসী তাঁকে উচ্চ সম্মান ও সমাদর করে এবং লাখো নারি-পুরুষ রাস্তায় নেমে তার যাতায়াতের পথে ফুল ছড়িয়ে দেয়। আমি লাহোর বিমানবন্দরে তাকে সামরিক কায়দায় স্যালুট দিই এবং নিচু হয়ে ইজ্জতের সঙ্গে হাত মিলাই। যে বাঙালি বিশ্বাস ঘাতকেরা তাঁকে হত্যা করেছে, তারা ইসলামি উম্মাহর বিরাট ক্ষতি করে দিয়েছে। তাঁর মৃত্যুতে বাংলাদেশ-পাকিস্তান উভয় দেশের খুব বড় লোকসান হয়ে গেছে।

মুসা সাদিক : স্যার, একাত্তর সালের যুদ্ধে পাকিস্তানের এক লক্ষ সুপ্রশিক্ষিত সেনা মুক্তিবাহিনীর নিকট আত্মসমর্পণ করে। এক্ষেত্রে আপনি কীভাবে আপনার ব্যক্তিগত ভূমিকার মূল্যায়ন করবেন?

জেনারেল টিক্কা : মুলক টুটনে কা মুঝে বহুত আফসোস হ্যায়। অওর ম্যায় ইসকো দিলসে মেয়সুস করতা হু। হাম সব লোগ ইসকে জিম্মাদার হ্যায়। জিস তারা মুলকে ইনট্যাক্ট রাখনে কি জিম্মাদারি হাম সব লোগো কি থি, ওসি তারা টুটনে কি জিম্মাদারি ভি হাম সব পর WICH Cairo III (His indeication was to Mr. Bhutto and Gen. Yahia Khan) মুলক কা এক হিস্যা আলাক হো যানে সে হামারা ভি কাফি লোকসান হুয়া হ্যায়, অওর হো রাহা হ্যায়।

[পাকিস্তান রাষ্ট্র ভেঙে যাওয়ায় আমার আফসোস সবচেয়ে বেশি। সে জন্য আমি সর্বক্ষণ বেদনা অনুভব করি। পাকিস্তান ভেঙে যাবার জন্য আমরা সকলেই দায়ী। বিশেষ করে, পশ্চিম পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় নেতাদের দায়-দায়িত্ব ছিল বেশি। যেমন-পাকিস্তানের অখণ্ডতা রক্ষার দায়িত্ব আমাদের সকলের, তেমনি পাকিস্তান টুটে যাবার দায়ভার আমাদের উভয় দেশের নেতাদের ওপর বর্তায়। পাকিস্তান রাষ্ট্রের এক অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবার জন্য প্রতিটি পাকিস্তানির অপূরণীয় ক্ষতি
হয়েছে এবং পাকিস্তানের জন্য এ ক্ষতি অব্যাহত থাকবে ও দিনে দিনে। বৃদ্ধি পাবে।]

মুসা সাদিক : স্যার, আপনি বিচারপতি হামিদুর রহমান কমিশন বিষয়ে ওয়াকিবহাল আছেন কি? যেখানে তিনি পূর্ব পাকিস্তানের জেনারেল এবং অন্যান্য কমান্ডিং আর্মি অফিসারদের যুদ্ধাপরাধের জন্য দায়ী করেছেন এবং তাদের বিচার ও শাস্তির সুপারিশ করেছেন।

জেনারেল টিক্কা : পাকিস্তানি আওয়াম নে জাস্টিস হামুদুর রহমান কমিশন রিপোর্টকো মানা হ্যায়, তো ম্যায় ভি মান তা হু অ্যান্ড ল শুড টেক ইট ওউন কোর্স। হাম লোগো নে ইস্ট পাকিস্তানসে আনে ওয়ালে ফৌজিওঁ কো দো বারে ফৌজমে নেহি রাখা। উনো নে ইস্ট পাকিস্তান কি জং মে ওয়ার ক্রাইম কিয়া, ইয়া নেহি কিয়া, কিসিকো ভি ফৌজ মে নেহি রাখা।

[যদি পাকিস্তানি জনগণ বিচারপতি হামিদুর রহমান কমিশনের রিপোর্ট মেনে নিয়ে থাকে তাহলে আমিও মেনে নিয়েছি এবং আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। পূর্ব পাকিস্তানের থেকে যে ৯৬ হাজার পাকিস্তানি ফৌজ ফেরত আসে, তাদের একজনকেও পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে পুনরায় যোগ দিতে দেয়া হয়নি। তারা কেউ পূর্ব পাকিস্তানে যুদ্ধাপরাধী হবার মতো অপরাধ করেছে কি করেনি; সেটা দেখা হয়নি বটে। তবে তাদের সকলকে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর জন্য অযোগ্য ঘোষণা করা হয় ও তাদের পাকিস্তান সেনাবাহিনী বর্জন করে।]

মুসী সাদিক : জনাব নেসার ওসমানী এবং জনাব হাবীব খান ঘোরিসহ শীর্ষ পাকিস্তানি সম্পাদক ও সাংবাদিক নেতারা আমাকে জানিয়েছেন যে, পাকিস্তানের জনগণ হামিদুর রহমান কমিশন-প্রদত্ত প্রতিবেদনের পক্ষে রয়েছে। আপনি কি তাদের সঙ্গে একমত?

জেনারেল টিক্কা : ম্যায় আপকো রুখসাত করনে সে পহেলে ইয়ে। বার্তানা চাহতা হু, কে ম্যায়নে এক গুলি ভি নেহি চালায়া যব পাচিশ। মার্চ কি রাত কো রেডিও পর শেখ মুজিবনে আজাদি কা এলান কিয়া,তো মায়নে ঢাকা মে আপনি আইনি জিম্মাদারি পুরি কি। আপ এক গভর্নমেন্ট অফিসার হ্যায়। আপ পাচিশ মার্চ কো আগর ঢাকাকে গভর্নর হোতে, তো আপভি ওহি করতে যো ম্যায়নে কিয়া। আপ শেখ মুজিব কো নাম জানতে হেয়। শেরে কাশ্মীর শেখ আব্দুল্লাহ কা নাম আপ শুনা হ্যায়? কাশ্মীর কি আজাদি কা এলান করনে পর নেহরুনে উনকো দশ সাল জেল মে রাখা। হামনে ন মাহনে মে শেখ মুজিবকে ইজ্জত সে বাংলাদেশ রওয়ানা কর দিয়া। অওর বাংলাদেশ কো তসলিম ভি কর লিয়া। অওর হাম লোগ চাহতে হেঁয় কে বাংলাদেশ তারাক্কি করে অওর আগে বাড়হে।

[আমি দৃঢ় প্রত্যয়ের সঙ্গে আপনাকে এই সত্য জানাতে চাই যে, আমি পূর্ব পাকিস্তানে একটি গুলিও চালাইনি, যতক্ষণ না শেখ মুজিব সাহেব ২৫ মার্চ রাতে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে দিয়েছেন। গোপন রেডিওতে শেখ মুজিবুর রহমানের দেওয়া বাংলাদেশের আজাদির ঘোষণা শুনে ঢাকার গভর্নর হিসেবে আমার যে জিম্মাদারি ছিল, সেটা পূরণ করেছি মাত্র। আপনি নিজে একজন গভর্নমেন্ট অফিসার। ২৫ মার্চ রাতে আপনি যদি ঢাকায় নিযুক্ত পাকিস্তানি গভর্নর হতেন, তাহলে আপনিও, তাই করতেন, আমি যা করেছি। আপনি শেখ মুজিবুর রহমানের নাম শুনেছেন। আপনি শেরে কাশ্মীর শেখ আব্দুল্লাহর নামও শুনে থাকবেন। কাশ্মীরের আজাদি দাবি করার জন্য নেহেরু সাহেব তাঁকে ১০ বছর কারাবন্দি করে রেখেছিল । কিন্তু আমরা ৯ মাসের মধ্যে শেখ মুজিব সাহেবকে সর্বোচ্চ সম্মানের সাথে বাংলাদেশে রওয়ানা করিয়ে দিয়েছি এবং বাংলাদেশকে সর্বান্তঃকরণে মেনে নিয়েছি। তার ওপর আমরা সকল পাকিস্তানি অন্তর থেকে বাংলাদেশকে শক্তিশালী দেশরূপে দেখতে চাই এবং বাংলাদেশ।সমৃদ্ধির পথে আরও এগিয়ে যাক! এটাই আমরা কামনা করি।

মুসা সাদিক : আপনি যখন আবার এটি উল্লেখ করছেন তখন। বিনীতভাবে আপনার কাছে জানতে চাই স্যার, কেন আপনার আর্মি ইসলামের নামে আমাদের তিন-চার লক্ষ মা বোনকে ধর্ষণ করল, যার ফলশ্রুতিস্বরূপ কয়েক হাজার যুদ্ধশিশুর জন্ম হয়। আপনারা-এর দায় অস্বীকার করেন যখন ইউরোপ-আমেরিকার খ্রিষ্টান কমিউনিটির স্বেচ্ছাসেবীরা সোৎসাহে তাদের লালন পালনের দায়িত্ব গ্রহণ করে?

[ মুক্তিযোদ্ধার দৃঢ়তা নিয়ে উচ্চারিত আমার নির্মম সত্য প্রশ্নবাণে মানব জাতির ঘৃণ্যতম রক্তপিপাসু, ৩০ লাখ বাঙালির খুনি টিক্কা খানের হম্বিতদবি অকস্মাৎ স্তব্ধ হয়ে যায়। তিনি মাথা হেঁট করে ফেলেন। মনে হয় পাপ ও অপরাধের ভারে বাঙালির সামনে তিনি মাথা নত করলেন। হত্যার পাপ থেকে হত্যাকারীর যে মুক্তি নেই ৩১ ডিসেম্বর পাঞ্জাবের গভর্নর হাউসে নরাধম টিক্কা খানের চেহারায় তা ফুটে ওঠে। কঠিন সত্যের মুখোমুখি হয়ে হাল ছেড়ে দেয় এবং ৩০ লাখ বাঙালি ভাইবোন হত্যা ও ৩-৪ লাখ মা-বোন ধর্ষণের পাপবোধ তাকে গ্রাস করে। জল্লাদ টিকা নিরুত্তর মুখে ডানে-বায়ে তাকাতে থাকে। ড্রয়িং রুমের এসিতে বসেও ঘামতে শুরু করে এবং নিস্তেজ হয়ে পড়ে। পরিস্থিতি লক্ষ্য করে জেনারেল টিক্কার লম্বা ফর্সা ছিপছিপে গড়নের একান্ত সচিব সাক্ষাৎকার শেষ হয়েছে বলে জানান। আমরা উঠে পড়ি। সেই অবস্থায় জেনারেল সােফা থেকে উঠে ড্রয়িং রুমের দরজা পর্যন্ত আমাদের বিদায় জানান।

ড্রয়িং রুম থেকে বের হবার সময় অ্যাডভোকেট রেজা প্রথমে, তারপর আমি এবং আমার পেছনে জেনারেল টিক্কা। আমি সম্মান দেখানোর জন্য জেনারেলের দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে আদবের সাথে বের হচ্ছিলাম। আমি লক্ষ্য করলাম, তিনি নিষ্পলক আমার দিকে তাকিয়ে আছেন। মনে শঙ্কা হলো, আমার শেষ প্রশ্নে আঘাত পেয়ে তিনি কি আমাকে শেষ কোন কথা বলতে চান? আমরা দুজনেই তাঁর ড্রইং রুমের দরজার মুখে দণ্ডায়মান এবং দুজনের দূরত্ব ১ ফুটেরও কম। কিছুটা দ্বিধা সত্ত্বেও তার চোখে চোখ রেখে পূর্বের বিষয় থেকে ইউটার্ন নিয়ে তাকে অপ্রতিভ করতে হাসিমুখে জিজ্ঞেস করি,

‘Sir, would you say any of your last comment about our Father of the nation?

জেনারেল টিক্কা কি যেন ভাবছিলেন। আমার প্রশ্নে সম্বিত ফিরে জোর:

furau scan, ‘Oh yes, yes, I don’t mind to mention that he was the greatest man ever I have seen in my life time.

শেখ সাহেব জিল য্যায়সে থির থে। ছের ঝুকানে পড়েহ গা।

জেনারেল টিক্কার সর্বশেষ মন্তব্যে আমার শরীরের লোম খাড়া হয়ে উঠলো! বাঙালির চির দুশমন, বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতারকারি জেনারেল টিক্কা, সেই টিক্কা যে, ২৬ মার্চ ঢাকার বুকে রক্তগঙ্গা বইয়ে দিয়েছিল, সে বলছে, ‘শেখ মুজিবের মতো মহামানব আমি আমার জীবনে আর দেখিনি! তিনি ছিলেন বিশাল পাহাড়ের মতো প্রশান্ত ও গুরুগম্ভীর! আপনি যেই হোন না কেন, তার সামনে আপনার ও সকলের মাথা নত হয়ে আসবে।‘

এতক্ষণ ঘৃণাভরা চোখে তাকে দেখছিলাম। এখন সেই চোখ অশ্রু টলমল হলো। (যদিও তখন জিবাল মানে জানতাম না।) বাঙালির চির দুশমন, গণহত্যাকারী টিক্কার কথা শুনে, তার মুখে বঙ্গবন্ধুর জয়গান শুনে, বাঙালির বিজয়ের কথা শুনে, পুলকিত হয়ে উঠলাম। তার এই সরল স্বীকারোক্তির জন্য প্রথমবারের মতো নম্রস্বরে তাকে বললাম, স্যার, আপনার এই সরল স্বীকারোক্তি এবং আমাদের জাতির জনকের প্রতি আপনার শ্রদ্ধাভরা এই বার্তা বাঙালি জাতিকে আমি লিখে জানাবো।

জেনারেল টিক্কা : Sure, Sure, don’t forget to send me a copy,!shall see.

নিশ্চয়ই, নিশ্চয়ই, আমাকে কপি পাঠিয়ে দিও। আমিও দেখবো। মুসা সাদিক নিশ্চয়ই স্যার। আপনাকে ধন্যবাদ।

তার একান্ত সচিব দোতলা থেকে নেমে আমাদের গাড়ি পর্যন্ত পৌছে দেন এবং আতিথেয়তায় টি হয়ে থাকলে ক্ষমা করে দিতে বলেন। সাক্ষাৎকার ছাপা হলে তার বস জেনারেল টিক্কা খানকে কপি পাঠাতে বলেন। আমি ও রেজাউর রহমান সুস্বাদু খানাপিনা ও আদর আপ্যায়নের জন্য তাকে ধন্যবাদ জানাই এবং জেনারেলকে আমাদের ধন্যবাদ পৌছে দিতে বলে তার সঙ্গে শেকহ্যান্ড করে বিদায় নিই।

সংগ্রহীত-
বিশ্ব নেতাদের দৃষ্টিতে বঙ্গবন্ধু
মুসা সাদিক
মুক্তিযুদ্ধকালে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের ওয়ার করেসপনডেন্ট