Breaking News :

রাগ ললিত

রাগ ললিত – শ্রোতা সহায়িকা নোট- পর্ব ১

 

*** এই আর্টিকেলটির উন্নয়ন কাজ চলমান ……। আবারো আসার আমন্ত্রণ রইলো।

রাগ ললিত এর আরোহ
রাগ ললিত এর আরোহ

ললিত রাগটি আমাদের শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের ভোরের দিকের রাগ। শোনার সময় সকাল ৪ টা থেকে ৬ টার মধ্যে। আমাদের সঙ্গীতে রাত যতটা শেষের দিকে যায়, সঙ্গীত তত উত্তরঙ্গে আগাতে থাকে। সেভাবেই রাগটিও সপ্তকের উপরের দিকে গাওয়া/বাজানো হয়।

এই রাগে পরের সপ্তকের (তার সপ্তকের) ষড়জ ও ঋষভ যেন হৃদয় খামছে ধরে। ধৈবত ও মধ্যমের সংযোগও দারুণ লাগে। এই রাগটির বিশেষ ফিচার হচ্ছে দুটি মধ্যম এর পরপর ব্যবহার। দুটি মধ্যম এবং ধৈবতের ব্যবহার ললিতকে ফোটায়।

রাগটি পুরনো। এই রাগটির শাস্ত্র নিয়ে অনেক দ্বিমত শোনা যায়। যতদূর জানা যায় এই রাগের

রাগ ললিত এর আবরোহ
রাগ ললিত এর আবরোহ

 

আদি রূপ ছিল মারওয়া ঠাটের (কোমল ঋষভ ও শুদ্ধ ধৈবত)। তবে বর্তমানে গাওয়া হয় কোমল ঋষভ, কোমল ধৈবত দিয়ে। এজন্য এই রাগের ঠাট ধরা হয় পূরবী। কেউ কেউ বলেন এটি ভৈরব ঠাটের। রাত্রি শেষ প্রহর ও দিনের প্রথম প্রহরের সন্ধি এই রাগ।

 

 

খাজা খুরশিদ আনোয়ারের মতে:
আরোহ: নি রে গা মা, মা ক্ষা গা, মা ধা সা
আবরোহ: রে নি ধা, মা ধা, ক্ষা মা গা, রে সা

পকড় : ন্ঋ গম ধহ্ম ধহ্ম গ, মগ রস। ধ্হ্ম, ধহ্মম, না্ঋ গম, হ্মম গ।

সহজ ললিত পরিচিতি:

 

কাজী নজরুল ইসলামের গানে ললিত:

নজরুলের অনেক গান রাগাশ্রয়ী। নির্দিষ্ট রাগের আশ্রয়ে যে গানগুলোতে সুর করা হয়েছে, সেগুলোর পুরো সুরে রাগের অবয়ব বজায় রাখার চেষ্টা থেকেছে; খুব বেশি রাগভ্রষ্ট হয়নি। তাই নজরুলের গানগুলো কান তৈরিতে বেশি উপযোগী বলে আমার কাছে মনে হয়।

১. পিউ পিউ বিরহী পাপিয়া বলে – জ্ঞানেন্দ্র প্রসাদ গোস্বামী

২.

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের গানে ললিত:

কবিগুরু তার অনেক কম্পোজিশনে প্রচলিত রাগের আশ্রয় নিলেও অনেক সময় রাগের কাঠামোতে তিনি আটকে থাকতে চাননি। তাঁর সুরের পথ রাগের বাইরে চলে গেছে প্রায়শই। আমার কাঁচা কান যা বলে, তাতে বিশুদ্ধ রাগাশ্রয়ী গান হিসেবে তাঁর গান অনেক ক্ষেত্রেই খুব ভালো উদাহরণ নয়।

১. ডুবি অমৃতপাথারে— যাই ভুলে চরাচর (রাগ: ললিত, তাল: চৌতাল, রচনাকাল (বঙ্গাব্দ): ১২৯১, রচনাকাল (খৃষ্টাব্দ): ১৮৮৪), স্বরলিপিকার: ইন্দিরা দেবী)।

২. বর্ষ গেল, বৃথা গেল, কিছুই করি নি হায়– (রাগ: ললিত, তাল: অজ্ঞাত, রচনাকাল (বঙ্গাব্দ: ১২৯৩), রচনাকাল (খৃষ্টাব্দ: ১৮৮৬))

৩. প্রাণের প্রাণ জাগিছে তোমারি প্রাণে (রাগ: ললিত, তাল: আড়াঠেকা, রচনাকাল (বঙ্গাব্দ: ১৩১৭), রচনাকাল (খৃষ্টাব্দ: ১৯১১), স্বরলিপিকার: সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়)

 

আধুনিক গানে ললিত:

১. সুমনের গান – জাগে জাগে রাত

 

ললিতের উপরে প্লেব্যাক:

১. বিশাল ভারতওয়াজ এর সুরে রেখা ভারতওয়াজ এর গাওয়া ২০১০ সালের ইশকিয়া (হিন্দি) ছবির গান – বাড়ি ধীরে জালি র‍্যায়না

২. নওশাদ আলীর সুরে লতা মঙ্গেশকরের গাওয়া ১৯৬৪ সালে লিডার (হিন্দি) ছবিতে গাওয়া – এক শ্যাহেনশাহ নে বানওয়ায়া

৩. Manna Dey – Pritam daras dikhao

 

গজলে ললিত:

১. Koi pass aya sawere sawere – Jagjit Singh

 

ভজনে ললিত:

১.

 

ঠুমরিতে ললিত:

১.

 

অন্যান্য:

১.

 

যন্ত্রে ললিত:

সেতার:

১. ইমদাদখানী ঘরানার শহীদ পারভেজ খানের সেতারে – ললিত।

 

সরদ:

১.মাইহার ঘরানার খলিফা ওস্তাদ আলী আকবর খানের সরদে- ললিত।

২. পণ্ডিত বুদ্ধদেব দাশগুপ্তের সরদে- ললিত।

 

খেয়াল:

১. রামপুর সহসওয়ান ঘরানার ওস্তাদ রশিদ খানের – ললিত।

২. আমীর খান সাহেব এর- ললিত।

৩. পণ্ডিত কুমার গান্ধর্বের কেদার – ললিত।

৪. জয়পুর ঘরানার শিল্পী কিশোরী আমনকারের গলায় – ললিত।

৫. পণ্ডিত মুকুল শিবপুত্রের- ললিত।

৬. বিদুষী শোভা মুডগালের- ললিত।

 

টিউটোরিয়াল:

যেকোনো রাগের স্বরের চলাফেরা বোঝার জন্য ২/৫ টি স্বর-মালিকা বা সারগম-গীত শোনা দরকার। স্বর মল্লিকার পাশাপাশি দু একটি  লক্ষণ গীত (বা ছোট খেয়াল) শুনলে সহজ হতে পারে। লক্ষণ গীত মূলত শেখানো হয় রাগের লক্ষণগুলো সহজে ধরতে। লক্ষণ গীত ছোট খেয়াল প্রায় একই কাজ করে। অনলাইনে অনেক গুলো আছে। একটু খোঁজাখুঁজি করলে পেয়ে যাবেন। স্যাম্পল হিসেবে নিচের দুটো লিংক দেয়া হল।

১. রাগ পুরিয়া এর স্বরমল্লিকা।

২. এনিসিআরটির টিউটোরিয়াল।

সম্পর্কিত রাগ:

ললিত সম্পর্কে আরও জানার জন্য:

১. উইকি আর্টিকেল

২. অবসর স্কুলের আর্টিকেল

৩. tanarang.com প্রজেক্ট এর আর্টিকেল।

 

 

সিরিজের বিভিন্ন ধরনের আর্টিকেল সূচি:

গান খেকো সিরিজ- সূচি
শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের ব্যাকরণ বা শাস্ত্র সূচি
রাগ শাস্ত্র- সূচি
রাগ চোথা- সূচি
রাগের পরিবার ভিত্তিক বা অঙ্গ ভিত্তিক বিভাগ
ঠাট ভিত্তিক রাগের বিভাগ
সময় ভিত্তিক রাগের বিভাগ
ঋতু ভিত্তিক গান (ঋতুগান) এর সূচি
রস ভিত্তিক রাগের বিভাগ
উত্তর ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের রীতি/ধারা
সঙ্গীতের ঘরানা- সূচি
সুরচিকিৎসা- সূচি
শিল্পী- সূচি
প্রিয় গানের বানী/কালাম/বান্দিশ- সূচি
গানের টুকরো গল্প বিভাগ

Declaimer:

শিল্পীদের নাম উল্লেখের ক্ষেত্রে আগে জ্যৈষ্ঠ-কনিষ্ঠ বা অন্য কোন ধরনের ক্রম অনুসরণ করা হয়নি। শিল্পীদের সেরা রেকর্ডটি নয়, বরং ইউটিউবে যেটি খুঁজে পাওয়া গেছে সেই ট্রাকটি যুক্ত করা হল। লেখায় উল্লেখিত বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত যেসব সোর্স থেকে সংগৃহীত সেগুলোর রেফারেন্স ব্লগের বিভিন্ন যায়গায় দেয়া আছে। শোনার/পড়ার সোর্সের কারণে তথ্যের কিছু ভিন্নতা থাকতে পারে। আর টাইপ করার ভুল হয়ত কিছু আছে। পাঠক এসব বিষয়ে উল্লেখে করে সাহায্য করলে কৃতজ্ঞ থাকবো।

*** এই আর্টিকেলটির উন্নয়ন কাজ চলমান ……। আবারো আসার আমন্ত্রণ রইলো।

Read Previous

মীর্জা গালিব এর শায়েরি

Read Next

দাঘ দেহেলভী (নওয়াব মীর্জা খান) এর শায়েরি এর শায়েরি