Breaking News :

আজ রাসেলের জন্মদিন

পরিবারের সর্বকনিষ্ঠ ছেলেটির বাবা ছিলেন খুব পড়ুয়া স্বভাবের । জেলে বসেও প্রচুর পড়াশোনা করতেন তিনি । দার্শনিক বার্ট্রান্ড রাসেল ছিল তাঁর খুব প্রিয় একজন লেখক । উনি মাঝে মাঝে ছেলেটির মাকে ব্যাখ্যা করে শোনাতেন বার্ট্রান্ড রাসেলের দার্শনিকতা। এসব শুনে শুনে বার্ট্রান্ড রাসেলের ভক্ত হয়ে ওঠেন মা এবং নিজের ছোট সন্তানের নাম রেখে দেন রাসেল; শেখ রাসেল ।

বাবা তাঁর দেশের কাজে ভীষণ ব্যস্ত, মিটিং, মিছিল, কখনো আবার বদ্ধ জেলখানা। তাই বাবাকেও কাছে পেতো না তেমন একটা।
বাবা জেলে থাকায় বাড়িটা হয়ে যেতো একদম নীরব, বাবার ভরাট কণ্ঠের ডাক নেই, মানুষের আনাগোনা কম, তাই ছোট্ট রাসেলেরও থাকতো মন খারাপ। মা রাসেলের মন ভালো রাখার জন্য বুদ্ধি করে কিনে দেন একটা তিন চাকার সাইকেল। ছোট মানুষ, দুই চাকার সাইকেল চালানোর বয়স তো তখনো হয়নি তার। মায়ের কিনে দেওয়া সাইকেলটা নিয়ে সারাদিন খেলায় মেতে থাকতো রাসেল। বাড়ির উঠোনের এ কোণ থেকে ও কোণে সাইকেল চালিয়ে বেড়াতো সে।
রাসেল কেমন বুদ্ধিমান ছিল জানো? তাদের বাসায় একটা ছোটখাটো লাইব্রেরি ছিলো। লাইব্রেরির বই থেকে বোনেরা তাকে গল্প পড়ে শোনাতো। একই গল্প ক’দিন পর আবার শোনানোর সময় দু-এক লাইন বাদ পড়লে সে ঠিকই ধরে ফেলতো। বলতো, সেই লাইনটা পড়োনি কেন?

রাসেল ছিল বাবার মতোই সাহসী এবং তুখোড় বুদ্ধিমান। এমন একটা চঞ্চল, নিষ্পাপ ছেলেকেও ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কালোরাতে বিশ্বাসঘাতকের দল মেরে ফেললো।

আজ রাসেলের জন্মদিন। শেখ রাসেল তার সোনালি শৈশব পেরুতে পারেনি আজও । অথচ আজ যার ৫৩ বছরের পুরাদস্তুর পুরুষ হবার কথা, সে কি অদ্ভুত ভাবে নিজেকে আটকে রেখেছে বছর দশেকের প্রাণচাঞ্চল্যে ভরপুর এক কিশোরের মাঝে !

কোন ভাবেই কি রাসেলের খুনিদের ক্ষমা করা যায়?
কিন্তু শুধু আইন করে ক্ষমা করাই হয়নি, রাষ্ট্রীয় ভাবে তাদেরকে কাউকে কূটনীতিক, কাউকে জনপ্রতিনিধি বানিয়ে পুরস্কার দেয়া হয়েছে। সেই ঘৃণ্য কাজটি যে করেছিল, যারা করেছিল, আজও বাংলাদেশের কিছু মানুষ তাদেরকে সমর্থন করে, তাদের রাজনীতিকে সমর্থন করে। সেই মুখে আবার ন্যায়বিচারের কথা বলে, গণতন্ত্রের কথা বলে।
আফসোস।

 

১৮ অক্টোবর, ২০১৭

Read Previous

পেশা পরামর্শ সভা | পেশা পরিচিতি | ইলেকট্রিক বাল্ব তৈরির উদ্যোক্তা

Read Next

পেশা পরামর্শ সভা | তথ্য প্রযুক্তির অপরিহার্য দক্ষতা- কোর্সের সিলেবাস