Breaking News :

আমার কবীর সুমন

আমরা যখন বড় হচ্ছিলাম, তখন সুমনের গান এলো। আমাদের ছেয়ে ফেললো। একে, দুয়ে বা সদলবলে যখন যেখানে গান বা গানের কথা, সেখানেই কবীর সুমনের। প্রেমের অনুভবে-প্রকাশে, বিরহে, প্রতিবাদে, আন্দোলনে – সবখানেই ছিলেন কবীর সুমন আমাদের সাথে। তৎকালীন সুমন চট্টোপাধ্যায় নাম, একই গান নিয়ে।

স্বর্গীয় প্রেমের গান ছেড়ে যেন আমাদের প্রেমের কথা। আমাদের ছোট ছোট সুখ দুঃখের কথা। আমার, আমার বন্ধুর, রাস্তার দোকানদার, আমার আত্মীয়- সব যেন আমাদের কথা। গানের একটা ভিন্ন জগত খুলে দিয়েছিলেন তিনি।

গায়ক, গীতিকার, সুরকার, সঙ্গীত পরিচালক, কবি, গদ্যকার, সাংবাদিক, রাজনৈতিক কর্মী, টিভি উপস্থাপক ও নৈমিত্তিক অভিনেতা- কত পরিচয় আছে তার। আমাদের কাছে সবচেয়ে কাছের পরিচয়টি “গানওয়ালা”।

 

কবীর সুমনের আমার সব প্রিয় গান:

অ্যালবাম : তোমাকে চাই

১৯৯২ সালের ২৩ শে এপ্রিল “তোমাকে চাই” এ্যলবামটি বেরিয়েছিলো। আমারা যখন শুনলাম তখন অলরেডি গানের জগতে হুলুস্থুল লেগে গেছে। বড় ভাই ক্যাসেটটি আমার হাতে দিয়ে বললেন “শোন”। সেই ক্যাসেটটি শুনে শুনে নষ্ট হলো, আবার কিনলাম। বহু কপি কিনে বন্ধুদের দিলাম। সেই এ্যবাম বেরোবার ইতিহাস লিখতে গিয়ে সুমন লিখেছিলেন ”

‘তোমাকে চাই’ এলবামটি বেরিয়েছিল আজকের দিনে, ১৯৯২ সালে। তাও – দ্যাখো-দ্যাখো করে চব্বিশ বছর হয়ে গেল। আমার লেখা সুরে প্রথম এলবাম। বেরোত না যদি রবি কিচলু নামে এক অবাঙালি ভদ্রলোক না থাকতেন তখনকার গ্রামোফোন কম্পানি অফ ইণ্ডিয়াতে আর থাকতেন শ্রীযুক্ত ঝা নামে আর-একজন অবাঙালি ভদ্রলোক যিনি গ্রামোফোন কম্পানি অফ ইণ্ডিয়ার মুম্বই অফিসে চাকরি করতেন।

এইচ এম ভির (গ্রামোফোন কম্পানি অফ ইণ্ডিয়ার) রেকর্ড কেন বিক্রী হচ্ছে না, বাজারে কোনও জায়গা পাচ্ছে না তা যাচাই করার জন্য শ্রী ঝা-কে মুম্বই থেকে কলকাতায় আনা হয়েছিল।রেকর্ড ও গানের গন্ধ শুঁকে বলে দিতে পারতেন অনেক কিছু। এই গল্পটা আমায় বলেছিলেন রবি কিচলু সাহেব তাঁর মৃত্যুর আগে। দমদমে, গ্রামোফোন কম্পানির স্টুডিয়ো সংলগ্ন একটা ঘরে ঝা সাহেব বসে বসে শুনছেন ক্যাসেটের পর ক্যাসেট। একটাও পছন্দ হচ্ছে না। হঠাৎ তিনি দেখতে পেলেন একটা টেবিলের তলায় একটা ক্যাসেট পড়ে। জিনিসটি দেখতে চাইলেন। বাঙালি বড়-কর্তারা তাঁকে বললেন, ‘ওটা নেহাতই ফালতু। নতুন একটা বিভাগ (রবি কিচলু সাহেবের অধীনে, অর্থাৎ গ্রামোফোন কম্পানির মূল A & R বা Artists and Repertoire বিভাগের প্রযোজনায় ‘তোমাকে চাই’ বেরোয়নি) ওটা বের করেছে। মালটার sample সব ডীলার ফেরত পাঠিয়েছে। কেউ নিতে চাইছে না।’

ঝা সাহেবের রোখ চেপে গেল। উনি বললেন, আমি শুনব। – বাঙালি বড়-দাদারা প্রাণপণ চেষ্টা করে গেলেন তাঁকে নিরস্ত করতে, কিন্তু পেরে উঠলেন না। ঝা সাহেব বসে বসে ‘তোমাকে চাই’-এর দুটো পিঠ শুনলেন। সময় নষ্ট না করে Print Order-এর ফর্ম নিয়ে তাতে যা যা লেখার লিখে নির্দেশ দিলেন – আজই তিরিশ হাজার কপি ছাপানো হোক, কাল থেকে দোকানে দোকানে সাপ্লাই। এক মাসের মধ্যে আরও তিরিশ হাজার ও সরবরাহ। দসজ দিনের মধ্যে ‘তোমাকে চাই’ বিক্রী হতে লাগল ঝড়ের মতো। উমাসের মধ্যে ষাট হাজার কপি বিক্রী হয়ে গেল। তার পরেও …

ঝা সাহেবকে যদি গ্রামোফোন কম্পানি মুম্বই থেকে কলকাতায় না আনতেন এবং এখানকার A & R বিভাগের বাঙালি কর্তাদের অনবধানবশত এক খণ্ড ‘তোমাকে চাই’ যদি অডিশন কক্ষের একটা টেবিলের নিচে পড়ে না থাকত তাহলে?

রবি কিচলু আমায় জানিয়ে দিয়েছিলেন – কলকাতার বড় কর্তারা এবং নামজাদা শিল্পীদের মধ্যে অনেকে, এমনকি মুম্বই-এর এক জগদবিখাত কন্ঠশিল্পী ব্যক্তিগতভাবে চেষটা করেছিলেন ‘তোমাকে চাই’ যাতে না বেরোয়। বড় কর্তা তাঁর মত চেয়েছিলেন এবং তিনি তা লিখিতভাবে দিয়েছিলেন – এই ব্যক্তির গান যেন না বের করা হয়। আরও অনেক কিছু আমি জানি, কিন্তু তা এখানে লিখছি না। কী লাভ।”

তোমাকে চাই এ্যলবামের প্রথম পিঠে ছিলো:
১. তোমাকে চাই : এ গানটির ভুত খুব করে ধরেছিল প্রথম কদিন। কিন্তু বহুবার শোনার কারণে কিনা জানিনা। এই গানটি আমার খুব প্রিয় থাকেনি। তার চেয়ে এই এ্যালবামের অন্য কিছু গান প্রিয় হয়ে গিয়েছিলো।
২. পেটকাটি চাঁদিয়াল
৩. তুই হেসে উঠলেই
৪. কখনো সময় আসে
৫. যতি ভাবো কিনছো আমায়
৬. হাল ছেড়ো না

তোমাকে চাই এ্যলবামের অপর পিঠে ছিলো:
৭. তিনতালের গান
৮. পাগল
৯. চেনা দুঃখ চেনা সুখ
১০. মন খারাপ করা বিকেল
১১. দশ ফুট বাই দশ ফুট
১২. আমাদের জন্য

অ্যালবাম : বসে আঁকো

১৯৯৩: বসে আঁকো

অ্যালবাম : ইচ্ছে হল

১৯৯৩: ইচ্ছে হল

অ্যালবাম : গানওলা

১৯৯৪: গানওলা

 

অ্যালবাম : ঘুমাও বাউণ্ডুলে

১৯৯৫: ঘুমাও বাউণ্ডুলে

 

অ্যালবাম : চাইছি তোমার বন্ধুতা

১৯৯৬: চাইছি তোমার বন্ধুতা

 

অ্যালবাম : জাতিস্মর

১৯৯৭: জাতিস্মর

অ্যালবাম : নিষিদ্ধ ইস্তেহার

১৯৯৮: নিষিদ্ধ ইস্তেহার

 

অ্যালবাম : পাগলা সানাই

১৯৯৯: পাগলা সানাই

 

অ্যালবাম : যাব অচেনায়

২০০০: যাব অচেনায়

 

অ্যালবাম : নাগরিক কবিয়াল

২০০০: নাগরিক কবিয়াল

 

অ্যালবাম : আদাব

২০০২: আদাব

 

এর পরে আমরা সুমনের সাথে খুব লেগে ছিলাম না। জীবিকার ব্যস্ততায় পুরনো বন্ধুর মতো মাঝে মধ্যে দেখা হতো, কি হচ্ছে জানা হতো। বা একা একা কখনও তার পুরনো গানগুলোর জাবর কাটা। তার পরে যেসব এলবাম এসেছে সেগুলো হলো:

২০০৩: রিচিং আউট (Reaching Out, ইংরাজি)
২০০৫: দেখছি তোকে
২০০৬: তেরো (সাবিনা ইয়াসমিনের সঙ্গে গাওয়া)
২০০৭: নন্দীগ্রাম
২০০৮: রিজওয়ানুরের বৃত্ত
২০০৮: গানওলা ঢাকায় (লাইভ কনসার্ট রেকর্ডিং)
২০০৮: প্রতিরোধ
২০১০: সুপ্রভাত বিষণ্ণতা
২০১০: ছত্রধরের গান
২০১০: লালমোহনের লাশ
২০১২: ৬৩ তে

 

কবীর সুমনের বই:

দশটির বেশি পূর্ণ বই প্রকাশনা আছে তার। সব পড়তে পারিনি। নিচের দুটো মাত্র পড়া হয়েছে।

১. হয়ে ওঠা গান
২. কোন পথে গেল গান

 

সিরিজের বিভিন্ন ধরনের আর্টিকেল সূচি:

গান খেকো সিরিজ- সূচি
শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের ব্যাকরণ বা শাস্ত্র সূচি
রাগ শাস্ত্র- সূচি
রাগ চোথা- সূচি
রাগের পরিবার ভিত্তিক বা অঙ্গ ভিত্তিক বিভাগ
ঠাট ভিত্তিক রাগের বিভাগ
সময় ভিত্তিক রাগের বিভাগ
ঋতু ভিত্তিক গান (ঋতুগান) এর সূচি
রস ভিত্তিক রাগের বিভাগ
উত্তর ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের রীতি/ধারা
সঙ্গীতের ঘরানা- সূচি
সুরচিকিৎসা- সূচি
শিল্পী- সূচি
প্রিয় গানের বানী/কালাম/বান্দিশ- সূচি
গানের টুকরো গল্প বিভাগ

Declaimer:

শিল্পীদের নাম উল্লেখের ক্ষেত্রে আগে জ্যৈষ্ঠ-কনিষ্ঠ বা অন্য কোন ধরনের ক্রম অনুসরণ করা হয়নি। শিল্পীদের সেরা রেকর্ডটি নয়, বরং ইউটিউবে যেটি খুঁজে পাওয়া গেছে সেই ট্রাকটি যুক্ত করা হল। লেখায় উল্লেখিত বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত যেসব সোর্স থেকে সংগৃহীত সেগুলোর রেফারেন্স ব্লগের বিভিন্ন যায়গায় দেয়া আছে। শোনার/পড়ার সোর্সের কারণে তথ্যের কিছু ভিন্নতা থাকতে পারে। আর টাইপ করার ভুল হয়ত কিছু আছে। পাঠক এসব বিষয়ে উল্লেখে করে সাহায্য করলে কৃতজ্ঞ থাকবো।

*** এই আর্টিকেলটির উন্নয়ন কাজ চলমান ……। আবারো আসার আমন্ত্রণ রইলো।

Read Previous

চলে গেলেন পটিয়ালার শেষ অর্থডক্স খলিফা – ওস্তাদ বড় ফাতেহ আলী।

Read Next

সৌদি রাজার ইন্দোনেশিয়া সফর