আলাউদ্দিন নগর গ্রাম, নন্দলালপুর ইউনিয়ন, কুমারখালী, কুষ্টিয়া, বাংলাদেশ

আলাউদ্দিন নগর গ্রামটির আগে নাম ছিল চক্রঘুয়া। এই গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন বিখ্যাত দানবীর আলাউদ্দিন আহমেদ। তিনি এই গ্রামে স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, ফিজিক্যাল ইন্সটিটিউট, মসজিদ সহ প্রচুর প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করে জনকল্যাণে উৎসর্গ করেন। তার এই অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ গ্রামবাসীর আবেদনের প্রেক্ষিতে সরকার গ্রামটির নতুন নামকরণে করে “আলাউদ্দিন নগর” নামে।

আলাউদ্দিন আহমেদ মাধ্যমিক বিদ্যালয়
আলাউদ্দিন আহমেদ মাধ্যমিক বিদ্যালয়

 

আলাউদ্দিন নগর গ্রামে উল্লেখযোগ্য প্রতিষ্টান:

  • আলাউদ্দিন আহমেদ শিক্ষা পল্লী
  • আলাউদ্দিন আহমেদ মাধ্যমিক বিদ্যালয়
  • আলাউদ্দিন আহমেদ অডিটোরিয়াম ও জিমনেশিয়াম
  • বাহার কৃষি কলেজ

 

বিশিষ্ট সমাজসেবক আলাউদ্দিন আহমেদ ১৯৪৪ সালের ৩১ জুলাই কুষ্টিয়ার কুমারখালী থানার নন্দলালপুর ইউনিয়ন পরিষদের অন্তর্গত চকরঘুয়া (বর্তমান আলাউদ্দিন নগর) গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা বাহার আলি এবং মাতা তহিরুন নেছা। ঐ গ্রামের তৎকালীন জনদরদি সমাজসেবী ওছিমুদ্দিন আহমেদ ছিলেন তাঁর পিতামহ। এ সম্পর্কে ভারতের নদীয়া জেলার শিকারপুর নিবাসী জনৈক কবি রণজিত কুমার চক্রবর্তী লিখেছেন-

তহিরুন নেছা মাতা, পিতা বাহার আলি
ওছিমুদ্দিন পিতামহ, থানা কুমারখালী।
চকরঘুয়া জন্ম-পল্লি অতি মনোহর
কুষ্টিয়া জেলায় ছিল সাতপুরুষের ঘর।

আলাউদ্দিন আহমেদ তদীয় পিতারদ্বিতীয় সন্তান। তাঁর বয়স যখন চার-পাঁচ বছর, তখন তাঁর পিতার মৃত্যু হয়। পিতার অবর্তমানে তাঁর অভিভাবক হন তাঁর পিতৃব্য চাচা মুহম্মদ চাঁদ আলি। স্মরণীয় যে, আলাউদ্দিন আহমেদের পিতামহ এবং প্রপিতামহ চকরঘুয়া গ্রামের অন্যতম বর্ধিষ্ণু পরিবারের সদস্য ছিলেন। তাঁরা ছিলেন জোতদার এবং অনেক আবাদি জমির মালিক।

উত্তরাধিকারসূত্রে ঐ সব সম্পত্তির মালিক হন আলাউদ্দিনের পিতা বাহার আলি এবং পিতৃব্য চাঁদ আলি। ভূ-সম্পত্তি থাকায় বাহার আলির মৃত্যুতেও সংসারে অভাব-অনটন দেখা দেয় নি। এ সম্পর্কে গ্রামের প্রবীণ লোকেরা বলেন: ‘বংশের ধারা। ওছিমুদ্দিন গোষ্ঠীর লোকেরা সকলেই খুব ভাল মানুষ ছিলেন। ঐ পরিবারের সকলে শান্তি, শৃংখলা এবং একতা নিয়ে বাস করতেন। আত্মকলহ এবং হিংসা তাদের মধ্যে ছিল না। সে জন্যেই ঐ পরিবারের সকলে উন্নতির শিখড়ে উঠতে পেরেছেন।’

বালক আলাউদ্দিন অত্যন্ত মেধাবী থাকায় তাদের পারিবারিক মক্তব শেষ করে নন্দলালপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়। সে সময় নন্দলালপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন আবদুল গফুর জোয়ার্দার। অতি শীঘ্রই বিনয়ী, ন¤্র এবং মেধাবী আলাউদ্দিন প্রধান শিক্ষকসহ স্কুলের অন্যান্য শিক্ষকদের দৃষ্টি আকর্ষণে সমর্থ হন। তারা তাঁকে অধিক ¯েœহ করতেন। প্রাইমারি স্কুল শেষে তিনি ভর্তি হন কুমারখালীর এম এন উচ্চ বিদ্যালয়ে। এই বিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে আলাউদ্দিন মেধাবী ছাত্র হিসেবে পরিচিত হন।

লেখাপড়ার সাথে সাথে খেলাধুলায়ও তিনি যথেষ্ট সুনাম অর্জন করেন। তাঁর সে গৌরবের কথা এম এন হাই স্কুলের ছাত্র-শিক্ষক আজো ভোলে নি। পরবর্তীতে তাঁকে যশোর জিলা স্কুলে ভর্তি করা হয়। ১৯৬১ সালে যশোর জিলা স্কুল থেকে ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। অত:পর আই কম পড়তে কুষ্টিয়া কলেজ (বর্তমানে কুষ্টিয়া সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ) এ জীবনের মহাপরিক্রমার সূত্রপাত ঘটে।

আলাউদ্দিন আহমেদ শিক্ষাজীবনে বাড়ি (চকরঘুয়া) থেকে হেঁটে চড়াইকোল স্টেশনে এবং স্টেশন থেকে ট্রেনে কুষ্টিয়া কলেজে ক্লাস করতেন। উল্লেখ্য যে, সে সময় ‘ঢাকা মেল’ চড়াইকোল স্টেশনে থামতো না। আলাউদ্দিন আহমেদ লেখালেখি করে ঢাকা মেল ট্রেনকে চড়াইকোল স্টেশনে থামার ব্যবস্থা করেন। এতে পাঠরত ছাত্র-ছাত্রীসহ অনেক সাধারণ যাত্রীরাও উপকৃত হন। চড়াইকোলে তখন কোনো ডাকঘর ছিল না। তাঁর চেষ্টায় চড়াইকোলে ডাকঘর স্থাপিত হয়।

অর্থাৎ আলাউদ্দিন আহমেদ ছাত্রজীবন থেকেই বিভিন্ন জনহিতকর কাজে আত্মনিবেদন করেন। ১৯৬৬ সালে আলাউদ্দিন আহমেদ কুষ্টিয়া কলেজ থেকে বি কম ডিগ্রি অর্জন করেন এবং ১৯৬৭ সালে লন্ডনে চার্টার্ড একাউনটেন্সি কোর্সে ভর্তি হবার সুযোগ পান। লন্ডনের ‘ইন্সটিটিউট অব চার্টার্ড একাউনটেন্সি ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস’ তাকে এই সুযোগ প্রদান করে। এ রকম একটি সুযোগ পেয়েছিলেন তবে ইংল্যান্ডে যাবার অনুকূল অবস্থা তখন তাঁর ছিল না। পরবর্তীতে দেশেই তিনি সাহা মজুমদার অ্যান্ড কোং- এর অধীনে চার্টার্ড একাউনটেন্সি অধ্যয়ন করেন।

কর্মজীবন শুরু হলে ১৯৬৯ সালে আয়কর উপদেষ্টা হিসেবে লাইসেন্সপ্রাপ্ত হন। ১৯৭০ সাল থেকে তিনি পূর্ণাঙ্গ আয়কর আইনজীবী হিসেবে কাজ শুরু করেন। কুষ্টিয়া হয় তাঁর কর্মস্থল। অতি অল্পদিনের মধ্যেই আয়কর উপদেষ্টা হিসেবে তাঁর সুনাম ছড়িয়ে পড়ে। কুষ্টিয়ার অন্যতম সৎ এবং নিষ্ঠাবান আইনজীবী রূপে তাঁর ব্যাপক পরিচিতি ফুটে ওঠে।

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে দেশপ্রেমিক মানব-দরদি আলাউদ্দিন আহমেদ তাঁর এলাকার মানুষের দু:খ-দুর্দশা লাঘব করার জন্যে আপ্রাণ চেষ্টা করেন। রাজাকার-আলবদরের চোখ এড়িয়ে তিনি বিভিন্নভাবে সাহায্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। যুদ্ধকালীন সময়ে তাঁর কর্মতৎপরতা, ত্যাগ ও তিতিক্ষার কথা ঐ অঞ্চলের মানুষ আজো শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে। মুক্তিযুদ্ধের পরবর্তী সময়ে বিধ্বস্ত কুমারখালী থানায় বিশেষ করে তাঁর নিজগ্রাম চকরঘুয়ায় তিনি যে ত্রাণ-তৎপরতা দেখিয়েছিলেন, তার তুলনা মেলে না।

১৯৮০ সালে আলাউদ্দিন আহমেদ ঢাকায় তাঁর কর্মস্থল স্থানান্তরিত করেন। ঢাকা মহানগরীতে তিনি তাঁর আইন ব্যবসাকে কেন্দ্রীভূত করে বাংলাদেশের বড় বড় আয়কর উপদেষ্টার সমকক্ষ আসন অধিকার করেন। তাঁর সরল-সহজ মধুর ব্যবহার, কর্মের প্রতি অনুরাগ এবং সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ-ক্ষমতা তাকে জনপ্রিয় আইন উপদেষ্টা হতে সাহায্য করে। দানবীর ও বহুমুখী গুণের অধিকারী আলাউদ্দিন আহমেদ বর্তমান দেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ একজন আয়কর উপদেষ্টা।

আলাউদ্দিন আহমেদ আইন ব্যবসার অবসরে তিনি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন এবং এসব প্রতিষ্ঠান থেকে সিংহভাগ অর্থ সমাজসেবা এবং জনহিতকর কাজে ব্যয় করেন। পাশাপাশি তিনি একজন সফল ব্যবসায়ীও। বিখ্যাত ঔষধ আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান আলো মাল্টি পারপাস কোম্পানি লিমিটেড এর প্রতিষ্ঠাতা তিনি। ঢাকার শহরজীবনে বসবাস করেও তিনি গ্রামকে কিন্তু ভোলেন নি। নিজ গ্রামের প্রতিটি মানুষকে তিনি সুখী ও সমৃদ্ধশালী দেখতে চান। আইন উপদেষ্টা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত কর্মজীবনের সাথে যুক্ত হয় তাঁর সমাজসেবা এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাÐ।

‘শিক্ষা ছাড়া কোন জাতি বড় হতে পারে না’ এই কথায় বিশ্বাস করে আলাউদ্দিন আহমেদ ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত করেন চকরঘুয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়। এই বিদ্যালয়ে তিনি এক একর জমি দান করেন। পরে বিদ্যালয়টি সরকার অধিগ্রহণ করে। আবাসিক সুবিধাসহ ১৯৭৬ সালে প্রতিষ্ঠিত করেন ‘চাঁদ চকরঘুয়া এবতেদায়ী মাদ্রাসা’ যা চল্লিশ শতাংশ জমির উপর এই মাদ্রাসা দৃশ্যমান।

১৯৮২ সালে তাঁর অর্থানুকূল্যে চকরঘুয়া গ্রামে গড়ে তোলেন ‘আলাউদ্দিন আহমেদ উচ্চবিদ্যালয়’। এই বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ফলে ঐ অঞ্চলের মাধ্যমিক শিক্ষার পথ সুগম হয়। বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠানের নাম ‘আলাউদ্দিন আহমেদ কলেজিয়েট স্কুল’। নদী ভাঙ্গনে কুমারখালী কলেজ বিলীন হয়ে যায়। ঠিক সে সময় আলাউদ্দিন আহমেদ এর অর্থানুকুল্যে নির্মিত ‘আলাউদ্দিন আহমেদ ভবন’ নামের নতুন কলেজ-ভবন সমাজসেবক আলাউদ্দিনের অক্ষয়কীর্তি। এলাকাবাসী কুমারখালী কলেজের নামকরণ করতে চেয়েছিলেন আলাউদ্দিন আহমেদ কলেজ। এ প্রস্তাবে আলাউদ্দিন আহমেদ রাজি হননি।

তিনি বলেছিলেন, ‘কুমারখালী কলেজ নতুন কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়। এলাকার বহু মানুষের দানে এ কলেজ প্রতিষ্ঠিত। আমি শুধু নতুন ভবন নির্মাণ করেছি মাত্র। কুমারখালী কলেজ জনগণের কলেজ। তাই এ কলেজের নাম কুমারখালী কলেজই থাকবে।’ ১৯৯৫ সালে বাঁশগ্রাম কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন যা ‘আলাউদ্দিন আহমেদ মহাবিদ্যালয়’ নামে পরিচিত।

কলেজের ভিত্তি প্রস্তর উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে আলাউদ্দিন আহমেদ বলেন: ‘বাঁশগ্রামের এই মহাবিদ্যালয়কে যেন আদর্শ মানুষ গড়ার কারখানা হিসেবে গড়ে তোলা হয়। এ ব্যাপারে এলাকার সকল স্তরের জনগণকে ঐক্য, ত্যাগ ও আন্তরিকতা নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। যাতে করে এই অঞ্চলের ঘরে ঘরে শিক্ষার আলোকবর্তিকা জ্বলে ওঠে।’ ১৯৯২ সালে তিনি কুষ্টিয়ার ‘মোহাম্মদিয়া শামসুল উলুম দারুল মাদ্রাসা’র ছাত্রাবাস নির্মাণ করেন এবং নিয়মিত অনুদান প্রদান করেন।

কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী থানার অন্তর্গত শিলাইদহ ইউনিয়ন পরিষদের এলাকাধীন খোরশেদপুর একটি বর্ধিষ্ণু গ্রাম। ১৯৯৫ সালের ১৩ মে ‘শাহ শকদুম মৌলুক খোরশেদ এবতেদায়ী মাদ্রাসা’ নামক ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন উপলক্ষ্যে আলাউদ্দিন আহমেদ বলেন: ‘শিলাইদহের মতো ইতিহাস-বিখ্যাত স্থানে এ রকম একটি দ্বীন শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন। বিলম্বে হলেও সেই কাঙ্খিত প্রতিষ্ঠান গড়ার লক্ষ্যে আমি আপনাদের সহযোগী হয়ে ইসলামের সেবায় শরিক হয়ে নিজেকে ধন্য মনে করছি।’

কুষ্টিয়া ঈদগাহে ঈদের নামাজ আদায় করার জন্যে পাকা কাতার ও বাউÐারি ওয়াল নির্মাণে এবং কুষ্টিয়া পৌর গোরস্থানে জানাজা পড়ার জন্য নিচতলায় শেড নির্মাণ করে মুর্দার ও মুসল্লিদের প্রতি যে অশেষ সম্মান প্রদর্শন করেছেন, তা আমাদেরকে অভিভূত করে।

জনহিতৈষী কাজের স্বাক্ষ্য হিসেবে এলাকার মানুষের মধ্যে সঞ্চয়ী মনোভাব সৃষ্টি করার জন্যে চকরঘুয়ায় সোনালী ব্যাংকের শাখা অফিস খোলার ব্যবস্থা করেন যা নিজের জমি থেকে দশ কাঠা জমি রেজিষ্ট্রি করে নিজের খরচে ব্যাংক ভবন নির্মাণ করে দিয়েছেন। শিশুদের স্বাস্থ্যবান ও রোগমুক্ত করে তুলতে হলে তাদের বেশি করে দুধ পান করানো আবশ্যক। এই ভাবনা থেকেই তিনি ‘শিলাইদহ ডেইরি ফার্ম’ প্রতিষ্ঠা করেন।

স্বনামধন্য ‘হেলথ কেয়ার ফার্মাসিউিটিক্যালস্ লিমিটেড’ এরও আলাউদ্দিন আহমেদ প্রতিষ্ঠাতা- যা ঔষধের অতুলনীয় গুণগত মান- Good Manufacturing Practice (GMP) এর দিক থেকে বাংলাদেশে ও বিদেশে নতুন একটি উদাহরণ তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি ঢাকা থেকে পঞ্চাশ কিলোমিটার দূরে গাজীপুরে দশ একর জমির উপর প্রতিষ্ঠিত। শিলাইদহ রবীন্দ্র কুঠিবাড়ির পাশেই আলাউদ্দিন আহমেদ একটি পর্যটন কেন্দ্র (পিকনিক স্পট) গড়ে তুলেছেন। যা তাঁর মহাকীর্তিসমূহের মধ্যে অনন্য।

কুষ্টিয়া জেলা-সদর ও কুমারখালী থানা-সদরের মধ্যবর্তী অঞ্চল চকরঘুয়া একটি গ্রাম মাত্র। শুধু আলাউদ্দিন আহমেদের মতো এক বিশাল ব্যক্তিত্বের কারণে চকরঘুয়া গ্রাম উপ-শহরের মর্যাদায় গৌরবে সমুজ্জল। আধুনিক চকরঘুয়া গ্রামের রূপকার দানবীর আলাউদ্দিন আহমেদের নামানুসারে চকর গ্রামসহ চড়াইকোল রেলস্টেশন ও চড়াইকোল পোস্ট অফিসের নাম পরিবর্তন করে সর্বস্তরের হাজার হাজার জনসাধারণের প্রস্তাব সমর্থন ও শ্রদ্ধায়-ভালোবাসায় উক্ত এলাকার নাম ‘আলাউদ্দিন নগর’ রাখা হয়। সম্প্রতি সরকারি গেজেটেও তা অন্তর্ভূক্ত হয়েছে।

আলাউদ্দিন আহমেদ তাঁর অভিভাবকতুল্য শ্বশুর গাজী হাবিবুর রহমানের অন্তিম ইচ্ছায় আলাউদ্দিন নগরে তৈরি করেছেন অত্যাধুনিক ‘তহিরুন্নেছা হাসপাতাল’। এছাড়াও শিক্ষকদের গুণগত মান উন্নয়নে বিশাল পরিসরে খেলাধুলার মাঠসহ তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন ‘আলাউদ্দিন আহমেদ টিচার্স ট্রেনিং কলেজ’ যা তাঁর দূরদর্শিতার স্বাক্ষী বহন করে চলেছে। বিশাল শিশু বিনোদন পার্ক ও কৃষক বন্ধু পাইকারি সব্জি হাট তাঁর অনন্য কীর্তিসমূহের মধ্যে অন্যতম।

এই মহান ত্যাগী এবং পরোপকারী দানশীল মানুষটি প্রতিনিয়ত দেশের মানুষের মঙ্গল চিন্তায় মগ্ন। মানবকল্যাণ সাধনই তাঁর জীবনের ব্রত। তাই সমাজকল্যাণে, সমাজকর্মের খতিয়ানে আলাউদ্দিন আহমেদের নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে ইতিহাসের পাতায়।
সূত্র: ড. এমদাদ হাসনায়েন ও ড. সারিয়া সুলতানা, কুষ্টিয়ার ইতিহাস, দ্বিতীয়।

 

আলাউদ্দিন নগরের প্রতিষ্টান:

 

আরও দেখুন:

৫ নং নন্দলালপুর ইউনিয়ন, কুমারখালী, কুষ্টিয়া, খুলনা, বাংলাদেশ