আজ লাল-সবুজের তরুণ তুর্কিদের বড় এক অগ্নিপরীক্ষা। নেপালের কাঠমাণ্ডুর ঐতিহ্যবাহী এএনএফএ কমপ্লেক্সের কৃত্রিম ঘাসের মাঠে সাফ ফুটবল অনূর্ধ্ব-১৯ চ্যাম্পিয়নশিপের প্রথম সেমি-ফাইনালে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও বাংলাদেশ। বাংলাদেশ সময় আজ বিকাল পৌনে চারটায় (১৫:৪৫) শুরু হবে এই হাইভোল্টেজ মহারণ। টুর্নামেন্টের সমীকরণ অনুযায়ী ভারত এসেছে ‘বি’ গ্রুপের অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়ে, আর আমাদের লড়াকু বাংলাদেশ দল লড়বে ‘এ’ গ্রুপের রানার্সআপ হিসেবে।
কাগজে-কলমে লড়াইটা সমানে সমান, তবে মানসিক শক্তিতে আমাদের দামাল ছেলেরা এক চুলও পিছিয়ে নেই।
খুব বেশি দিন আগের কথা নয়, এই তো ক’দিন আগেই আমাদের অনূর্ধ্ব-১৬ কিশোরেরা দুর্দান্ত ফুটবল উপহার দিয়ে ভারতকে হারিয়ে সাফ ফুটবল অনূর্ধ্ব-১৬ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা ছিনিয়ে এনেছিল। সেই জয় আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে—পরিকল্পনা আর আত্মবিশ্বাস থাকলে দক্ষিণ এশিয়ার যেকোনো পরাশক্তিকে মাঠের লড়াইয়ে ধূলিসাৎ করা সম্ভব। সেই কিশোরদের দেখানো পথেই আজ আমাদের অনূর্ধ্ব-১৯ যুব দলও একই বিক্রমে ঝাঁপিয়ে পড়বে এবং ভারতকে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করবে—এটাই বাংলার কোটি ফুটবলপ্রেমীর জোরালো বিশ্বাস।
একটা সময় ছিল যখন ঢাকা আবাহনী বনাম মোহামেডানের খেলা মানেই পুরো দেশ স্থবির হয়ে যাওয়া, চায়ের কাপে ঝড় ওঠা আর পাড়ায় পাড়ায় প্রিয় ক্লাবের পতাকা ওড়ানো। সময়ের আবর্তে ক্রিকেটের জোয়ারে ফুটবল কিছুটা আড়ালে চলে গেলেও, বাঙালির রক্তে ফুটবলের প্রতি যে আদিম টান—তা কিন্তু মরেনি।
সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের নারী ফুটবল দলের সাফ জয় এবং অনূর্ধ্ব পর্যায়ের কিশোর-তরুণদের ধারাবাহিক সাফল্য প্রমাণ করে—বাংলার ফুটবল মরেনি, বরং ধ্বংসস্তূপ থেকে নতুন করে ডানা মেলছে। আজকের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের প্রতিটি পাস, প্রতিটি ড্রিবলিং আর প্রতিটি গোলই হবে সেই হারানো গৌরব পুনরুদ্ধারের একেকটি ধাপ।
আজকের এই ম্যাচটি কেবল ১১ জন তরুণের মাঠের দৌড়াদৌড়ি নয়, এটি কোটি বাঙালির ফুটবল-স্বপ্ন পুনরুজ্জীবনের এক সোপান। আসুন, আমরা যে যে প্রান্তেই থাকি না কেন, আজ বিকেলে সময় বের করে এই তরুণদের উৎসাহ দেই। তাদের প্রতিটি ভালো মুভমেন্টকে হাততালি দিয়ে সাধুবাদ জানাই। আমাদের ইতিবাচক সমর্থনই মাঠের খেলোয়াড়দের জন্য দ্বিগুণ বুস্টার ডোজ হিসেবে কাজ করবে।
শুভকামনা রইল বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ ফুটবল দলের জন্য। লড়াই করে ছিনিয়ে আনো বিজয়!

