Breaking News :

ধ্রুপদ

হিন্দুস্তানি শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের সবচেয়ে পুরাতন ধারা/শৈলী হলো ধ্রুপদ। সুর-তালের বিশুদ্ধতার দিক দিয়ে এখানে বাধা-নিষেধ বেশি। এর সাথে তালের জন্য ব্যবহার করা হয় পাখোয়াজ। এই গানের চরিত্র অপেক্ষাকৃত গম্ভীর।

জেনে নেয়া যাক ধ্রুপ ও পরিবেশনের বিষয়ে প্রথমিক তথ্য:

ধ্রুপদ  শুরু হয় আলাপ দিয়ে। সনাতন মন্ত্রের মতো – আ, রে, নি, না, রি, ই, নোম, তোম শব্দগুলো ব্যবহার করে আলাপ করা হয়। এখানে খুব যত্ন করে বিস্তার করে রাগের রূপ ফুটিয়ে তোলা হয়। আলাপ শুরু হয় খুব ধীরগতিতে… অতি-বিলম্বিত বা বিলম্বিত লয়ে। সচরাচর ষড়জ (টোনিক স্বর) থেকে আলাপ শুরু হয়। কখনও রাগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্বর বা বাদী স্বর থেকেও আলাপ শুরু হতে পারে। এরপর শিল্পী প্রথমে নিচের দিকের সপ্তকে গিয়ে (গম্ভীর স্বরে) সেখানের এই রাগের বৈশিষ্ট্যগুলো ফুটিয়ে তোলেন। তারপরে ওপরের দিকের সপ্তকের কাজ দেখিয়ে, আবার ষড়জে ফেরেন। এখানে শিল্পী ধীরে ধীরে রাগটির পরিচয় করান। নোটগুলো ধরে ধরে শ্রোতাদের দেখান। গুরুত্বপূর্ণ (বাদী-সমবাদী) স্বরগুলোকে প্রতিষ্ঠিত করেন। একে একে রাগের ভাঁজ খোলেন, যেন একটা ক্যানভাসে শিল্পী একের পর এক টান দিয়ে ক্রমশ অস্পষ্ট ছবিকে মূর্ত করে তুলছেন। ধ্রুপদের এই অংশটি সবচেয়ে জটিল ও দুরূহ। শিল্পীর রাগ বোঝার গভীরতা এবং উপস্থাপনদক্ষতার সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা হয় আলাপে। যে শিল্পী যতো দক্ষ, তিনি ততো সুন্দর করে আলাপের মাধ্যমে রাগের মূলভাব প্রতিষ্ঠিত করে ফেলেন। শ্রোতার মনে রাগের ছায়া তৈরি হয়ে যায়। আলাপের সময় কিন্তু তালযন্ত্র ব্যবহার করা হয় না।

আলাপ শেষে আসবে বাণী বা কথা। সেখানে তালবাদ্য যোগ হবে। ধ্রুপদের প্রবন্ধের চারটি ধাতু/তুক বা অংশ থাকে। স্থায়ী, অন্তরা, সঞ্চারী, আভোগ তুকগুলো সচরাচর ৪ লাইনের সাহিত্য, হিন্দি/উর্দু বা ব্রজভাষায় রচিত। আবার কেবল স্থায়ী ও অন্তরা এ দুই তুকের ধ্রুপদ গানের প্রচলনও আছে। প্রথমে গাওয়া হয় স্থায়ী। এরপর অন্তরা হয়ে আবার স্থায়ীতে ফেরা হয়। তারপর সঞ্চারী, আভোগ গেয়ে আবার স্থায়ীতে ফেরা। সচরাচর ৭, ১০ বা ১২ মাত্রায় বাঁধা সাহিত্য গাওয়া হয়। ১০ মাত্রার সাদরা বা ১৪ মাত্রার ধামার বেশি প্রচলিত।

ধ্রুপদের আনন্দ এর দীর্ঘ, বিস্তারিত, বিশুদ্ধ আলাপে। এছাড়া তাল নিয়ে খেলাও দারুণ। শিল্পী কখনও কখনও শুরু করা লয় থেকে আড়াই বা তিনগুণ পর্যন্ত গতি বাড়ান। কান সমৃদ্ধ হতে থাকলে একসময় ধ্রুপদের অলঙ্কারগুলোর (আশ, ন্যাস, মীড়, গমক, মূর্ছান, স্পর্শন ও কম্পন) বিশেষ আনন্দ পাওয়া যায়। তবে নতুন শ্রোতার জন্য ধ্রুপদের চেয়ে খেয়ালের জগতে ঢুকে আনন্দ নেয়া সহজ।

 

নোট:

আমি যে ধারাবাহিকতায় বর্ননা করেছি, সেটা প্রত্যেকে ঘরানা বা শিল্পির জন্য প্রযোয্য নাও হতে পারে। এমনকি শিল্পি স্থান, কাল পাত্র ভেদে পারফরমেন্স এর ধারাবাহিকতায় পরিবর্তন করতেও পারেন। কখনও একটি অংশকে দু ধরনের টেম্পোতে ভাগ করে নিতে পারেন। তবে পারফরমেন্স সম্পর্কে মোটামুটি একটা ধারনা তৈরি হলে সেটা বুঝতে খুব একটা কষ্ট হবে না।

ধ্রুপদ বিষয়ে  একটি টিউটোরিয়াল:

ধ্রুপদ বিষয়ে আরও একটি টিউটোরিয়াল:

 

ধ্রপদের এক ধরনের ইতিহাস:

 

সিরিজের বিভিন্ন ধরনের আর্টিকেল সূচি:

গান খেকো সিরিজ- সূচি
শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের ব্যাকরণ বা শাস্ত্র সূচি
রাগ শাস্ত্র- সূচি
রাগ চোথা- সূচি
রাগের পরিবার ভিত্তিক বা অঙ্গ ভিত্তিক বিভাগ
ঠাট ভিত্তিক রাগের বিভাগ
সময় ভিত্তিক রাগের বিভাগ
ঋতু ভিত্তিক গান (ঋতুগান) এর সূচি
রস ভিত্তিক রাগের বিভাগ
উত্তর ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের রীতি/ধারা
সঙ্গীতের ঘরানা- সূচি
সুরচিকিৎসা- সূচি
শিল্পী- সূচি
প্রিয় গানের বানী/কালাম/বান্দিশ- সূচি
গানের টুকরো গল্প বিভাগ

Declaimer:

শিল্পীদের নাম উল্লেখের ক্ষেত্রে আগে জ্যৈষ্ঠ-কনিষ্ঠ বা অন্য কোন ধরনের ক্রম অনুসরণ করা হয়নি। শিল্পীদের সেরা রেকর্ডটি নয়, বরং ইউটিউবে যেটি খুঁজে পাওয়া গেছে সেই ট্রাকটি যুক্ত করা হল। লেখায় উল্লেখিত বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত যেসব সোর্স থেকে সংগৃহীত সেগুলোর রেফারেন্স ব্লগের বিভিন্ন যায়গায় দেয়া আছে। শোনার/পড়ার সোর্সের কারণে তথ্যের কিছু ভিন্নতা থাকতে পারে। আর টাইপ করার ভুল হয়ত কিছু আছে। পাঠক এসব বিষয়ে উল্লেখে করে সাহায্য করলে কৃতজ্ঞ থাকবো।

*** এই আর্টিকেলটির উন্নয়ন কাজ চলমান ……। আবারো আসার আমন্ত্রণ রইলো।

Read Previous

স্থপতি ইয়াফেস ওসমানের কবিতা – ৬

Read Next

যন্ত্র সঙ্গীত পরিবেশন