আমরা বিচার চাই না, বিচারের বাস্তবায়ন চাই, সব যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসি চাই …

আমরা তো নতুন করে বিচার চাই না, আমরা চাই ফাঁসি! কারণ—এক বিচার বহুবার করার দরকার হয় না। আগেও বলেছি, এখনও বলছি, ভবিষ্যতেও এই একই কথা বলব।

কেন আমরা ফাঁসি চাইছি? হিসেবটা খুব সহজ:

  • জনতার রায়: যুদ্ধাপরাধীদের বিচার তো বাংলার মুক্তিকামী জনতা দিয়ে গেছেন আজ থেকে ৪২ বছর আগে, ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বরের ঐতিহাসিক বিজয়ের মাধ্যমে।

  • শহীদ জননী ও গণ-আদালত: এরপর রাজপথের সকল তথ্য, প্রমাণ আর সাক্ষ্য বিচার-বিশ্লেষণ করে আমাদের পরম জননী জাহানারা ইমামের নেতৃত্বাধীন ‘গণ-আদালত’ ঘাতকদের ফাঁসির রায় দিয়ে গেছেন।

আমরা সাধারণ মানুষ তো আর আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে ঘাতকদের ধরে ফাঁসি দিতে পারব না, ভিড় করে তাদের মেরে ফেলতেও পারবো না। তাই আমাদের একটা নিয়মতান্ত্রিক সরকারের দরকার ছিল। এমন একটা সরকার—

  • যে সরকার এই পূর্বঘোষিত রায়গুলো বাস্তবায়ন করবে।

  • একাত্তরের পৈশাচিকতার সকল তথ্য-প্রমাণ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সবার সামনে তুলে ধরে ঘাতকদের মুখোশ উন্মোচন করবে।

সেই কারণেই ব্যালটের মাধ্যমে আমরা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে দেশ পরিচালনার পবিত্র দায়িত্ব দিয়েছিলাম। কারণ: ১. আওয়ামী লীগ মহান মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দেওয়া দল। ২. আওয়ামী লীগই এখন পর্যন্ত একমাত্র রাজনৈতিক দল, যাদের বুকের পাটা আছে এই অসমাপ্ত জাতীয় কাজটি সম্পন্ন করানোর।

কিন্তু যখনই মনে হচ্ছে আইনি মারপ্যাঁচে কিংবা রাজনৈতিক মারপ্যাঁচে বিচারের মূল গতিপথ বিগড়ে যেতে বসেছে, তখনই আমরা সাধারণ মানুষ ছুটে গিয়েছি শাহবাগের প্রজন্ম চত্বরে। আমাদের শাহবাগ যাওয়ার উদ্দেশ্য খুবই ক্রিস্টাল ক্লিয়ার:

  • সরকারকে সাবধান করতে: আপসকামিতার কোনো সুযোগ নেই। রাজপথ সজাগ আছে।

  • সরকারকে শক্তি জোগাতে: আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ যেকোনো চাপ মোকাবিলায় কোটি কোটি মুক্তিকামী জনতা সরকারের পাশে ঢাল হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

বিষয়টি খুব সিম্পল। এখানে অতিরিক্ত বুদ্ধি খরচ করার কিচ্ছু নেই! আমরা চাই ঘাতকদের সর্বোচ্চ শাস্তি এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে রায় কার্যকর!

Leave a Comment