অপারেশন সার্চলাইট । ইতিহাস ও রাজনীতি সিরিজ

‘অপারেশন সার্চলাইট’ (Operation Searchlight) হলো ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাতে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে (বর্তমান বাংলাদেশ) স্বাধীনতাকামী বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকে রক্তের বন্যায় স্তব্ধ করে দেওয়ার উদ্দেশ্যে পাকিস্তান সশস্ত্র বাহিনী কর্তৃক পরিচালিত একটি সুনির্দিষ্ট, পূর্বপরিকল্পিত ও প্রাতিষ্ঠানিক সামরিক গণহত্যা অভিযান। আধুনিক পৃথিবীর সামরিক ইতিহাসে একটি দেশের নিয়মিত সশস্ত্র বাহিনী কর্তৃক নিজ দেশের নিরস্ত্র, ঘুমন্ত ও নির্দোষ বেসামরিক নাগরিকদের ওপর ট্যাংক, তোপখানা (Artillery) এবং স্বয়ংক্রিয় মারণাস্ত্র নিয়ে আকস্মিক হামলা চালানোর এমন বীভৎস ও বর্বরোচিত নজির অত্যন্ত বিরল। এই সামরিক অভিযানের মধ্য দিয়েই সূচিত হয় ১৯৭১ সালের ৯ মাসব্যাপী বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-উত্তর বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ গণহত্যা।

+---------------------------------------------------------------------------------------------------+
|                            অপারেশন সার্চলাইটের কৌশলগত নির্দেশিকা ও সময়রেখা                         |
+---------------------------------------------------------------------------------------------------+
|  • ২২ মার্চ ১৯৭১  : ঢাকা সেনানিবাসে অভিযানের চূড়ান্ত খসড়া অনুমোদন (ফরমান আলী ও খাদিম রাজা)        |
|  • ২৫ মার্চ রাত ১১:৩০ : সেনানিবাস থেকে সাঁজোয়া যান ও ভারী আর্টিলারি বহরের যাত্রা (জিরো আওয়ার)     |
|  • ২৫ মার্চ রাত ১১:৪০ : রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে বাঙালি পুলিশ সদস্যদের প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ         |
|  • ২৬ মার্চ রাত ১:৩০  : ধানমন্ডি ৩২ নম্বর থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান গ্রেপ্তার ও স্বাধীনতা ঘোষণা  |
|  • ২৬ মার্চ প্রত্যুষ  : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, পিলখানা, পুরান ঢাকায় হাজার হাজার বেসামরিক মানুষ হত্যা |
+---------------------------------------------------------------------------------------------------+

Table of Contents

১৯৭১ সালের মার্চের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট: ক্ষমতা হস্তান্তরে টালবাহানা ও সামরিক প্রতারণা

অপারেশন সার্চলাইটের পটভূমি কেবল ২৫ মার্চের একটি একক রাতের ঘটনায় সীমাবদ্ধ নয়; এর পেছনে ছিল পাকিস্তান রাষ্ট্রের দীর্ঘ ২৪ বছরের রাজনৈতিক বৈষম্য, অর্থনৈতিক শোষণ এবং বাঙালি জাতিকে সামরিক শক্তিবলে শাসন করার এক গভীর ঔপনিবেশিক মানসিকতা।

১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচন ও জনগণের গণতান্ত্রিক রায়

১৯৭০ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত পাকিস্তানের প্রথম সাধারণ নির্বাচনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ জাতীয় পরিষদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা (১৬৯টি আসনের মধ্যে ১৬৭টি) অর্জন করে। রাজনৈতিক ও আইনি নিয়ম অনুযায়ী শেখ মুজিবুর রহমানের পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পশ্চিম পাকিস্তানের সামরিক-আমলাতান্ত্রিক চক্রান্তকারী গোষ্ঠী এবং পিপলস পার্টির প্রধান জুলফিকার আলী ভুট্টো বিজয়ী বাঙালি নেতৃত্বের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরে অস্বীকৃতি জানায়।

মার্চের অসহযোগ আন্দোলন ও ‘রাজনৈতিক সংলাপে’র আড়ালে সামরিক প্রস্তুতি

৩ মার্চ ১৯৭১ থেকে শুরু হওয়া ঐতিহাসিক অসহযোগ আন্দোলনের মুখে পূর্ব পাকিস্তানের সমগ্র বেসামরিক প্রশাসন, আদালত, ব্যাংক এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা সরাসরি শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে পরিচালিত হতে থাকে। বাধ্য হয়ে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জেনারেল আগা মোহাম্মদ ইয়াহিয়া খান ঢাকা আগমন করেন এবং ১৫ মার্চ থেকে বঙ্গবন্ধুর সাথে লোকদেখানো রাজনৈতিক সংলাপ শুরু করেন।

প্রকৃতপক্ষে এই সংলাপ ছিল পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর সময়ক্ষেপণের একটি সুচতুর কৌশল। একদিকে ঢাকায় সংলাপের নাটক চলছিল, অন্যদিকে বঙ্গোপসাগরীয় রুট ব্যবহার করে ‘এমভি সোয়াত’ অস্ত্রবাহী জাহাজে করে চট্টগ্রাম বন্দরে ভারী গোলাবারুদ আনা হচ্ছিল। তৎকালীন পিআইএ (PIA)-এর বাণিজ্যিক বিমানে সাধারণ পোশাক পরিহিত হাজার হাজার পশ্চিম পাকিস্তানি সৈন্য ও কমান্ডো পূর্ব পাকিস্তানে স্থানান্তর করা হয়।

গুরুত্বপূর্ণ নোট: ১৯৭১ সালের মার্চের মধ্যভাগে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর খাদ্য, জ্বালানি ও যুদ্ধোপকরণ মজুদ করার প্রক্রিয়া বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। এর একমাত্র লক্ষ্য ছিল সামরিক শক্তির চরমতম ব্যবহারের মাধ্যমে বাঙালি জাতির স্বাধিকার দাবিকে চিরতরে পিষে ফেলা।

‘অপারেশন সার্চলাইট’-এর সামরিক নীলনকশা ও কৌশলগত ছক

১৯৭১ সালের ১৭ মার্চ ঢাকা সেনানিবাসে বসে পূর্ব পাকিস্তানের তৎকালীন সামরিক গভর্নর ও ‘ইস্টার্ন কমান্ড’-এর প্রধান মেজর জেনারেল খাদিম হোসেন রাজা এবং প্রধান বেসামরিক আইন প্রশাসক (Zonal Martial Law Administrator) মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী যৌথভাবে এই সামরিক অভিযানের প্রাথমিক খসড়া প্রণয়ন করেন।
+---------------------------------------------------------------------------------------------------+
|                                 অপারেশন সার্চলাইটের কমান্ড স্ট্রাকচার                              |
+---------------------------------------------------------------------------------------------------+
|  • সর্বাধিনায়ক (Commander-in-Chief)       : প্রেসিডেন্ট জেনারেল আগা মোহাম্মদ ইয়াহিয়া খান       |
|  • সার্বিক সামরিক তদারককারী (Governor/GOC) : লেফট্যানেন্ট জেনারেল টিকাক খান ('বাংলার কসাই')         |
|  • ঢাকা শহরের মূল পরিকল্পনাকারী           : মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী (Civil Affairs)          |
|  • ঢাকার বাইরের অঞ্চলের পরিকল্পনাকারী       : মেজর জেনারেল খাদিম হোসেন রাজা (GOC 14 Division)       |
|  • ফিল্ড এক্সিকিউটর (ঢাকা ফিল্ড স্ট্রাইক)   : ব্রিগেডিয়ার আরবাব (53 Brigade Commander)           |
+---------------------------------------------------------------------------------------------------+

পরিকল্পনার মূল অনুমোদন ও লক্ষ্যসমূহ

পরিকল্পনাটি হস্তলিখিত নথিতে রূপ দেওয়ার পর ১৯ মার্চ ১৯৭১ তারিখে তা ইস্টার্ন কমান্ডের নতুন অধিনায়ক লেফট্যানেন্ট জেনারেল টিক্কা খানের কাছে পেশ করা হয়। ২০ মার্চ জেনারেল ইয়াহিয়া খান এই পরিকল্পনা অনুমোদন করেন। ২২ মার্চ ঢাকা সেনানিবাসের কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল কার্যালয়ে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অভিযানের চূড়ান্ত দিকনির্দেশনা পাস হয়, যার নাম দেওয়া হয় ‘অপারেশন সার্চলাইট’।

এই অপারেশনের প্রধান রণকৌশলগত উদ্দেশ্যসমূহ ছিল:
  • কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব অকেজো করা: শেখ মুজিবুর রহমানসহ আওয়ামী লীগের প্রথম সারির রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে একই রাতে গ্রেপ্তার অথবা নির্মূল করা।
  • বাঙালি সশস্ত্র শক্তি ধ্বংস করা: পিলখানায় অবস্থানরত ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলস (EPR), রাজারবাগ পুলিশ লাইনস এবং তৎকালীন সশস্ত্র বাহিনীতে কর্মরত বাঙালি সদস্যদের আকস্মিক আক্রমণের মাধ্যমে নিরস্ত্র করা ও হত্যা করা।
  • আন্দোলনের প্রাণকেন্দ্র ধ্বংস করা: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, যা ছিল বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের মূল চেতনা কেন্দ্র, সেখানে সামরিক অভিযান চালিয়ে ছাত্রনেতা, শিক্ষক ও তরুণ সমাজকে নিশ্চিহ্ন করা।
  • যোগাযোগ ও সংবাদ মাধ্যম নিয়ন্ত্রণ: ঢাকা রেডিও স্টেশন, টেলিভিশন কেন্দ্র, টেলিফোন এক্সচেঞ্জ, জিবিও এবং ডাক যোগাযোগ ব্যবস্থা দখল করে বিশ্বের সাথে পূর্ব পাকিস্তানের সমস্ত আন্তর্জাতিক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করা।
  • পোড়ামাটি ও আতঙ্ক সৃষ্টি নীতি: পুরান ঢাকা, হিন্দু প্রধান আবাসিক এলাকা এবং প্রধান বাণিজ্যিক জনপদে ব্যাপকভাবে আগুন লাগিয়ে সাধারণ জনগণের মধ্যে চরম ভীতির সঞ্চার করা।

২৫ মার্চের কালরাত: ‘জিরো আওয়ার’ ও ঢাকা শহরের মূল গণহত্যার ঘটনাপ্রবাহ

২৫ মার্চ রাত ১১টা ৩০ মিনিটে ঢাকা সেনানিবাস থেকে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর ৫৭ ব্রিগেডের অধীনস্থ সাঁজোয়া যান, ট্যাংক এবং ভারী সাঁজোয়া কনভয় বহর শহরের দিকে যাত্রা শুরু করে। নির্দেশিত ‘জিরো আওয়ার’ ধরা হয়েছিল রাত ১টা, কিন্তু সাঁজোয়া কনভয় রাস্তায় নামার সাথে সাথে এবং ফার্মগেট এলাকায় বাঙালি ছাত্র-জনতার ব্যারিকেড মুখোমুখি হতেই রাত ১১টা ৪৫ মিনিটেই শহরের বিভিন্ন স্থানে মারণাস্ত্রের তোপধ্বনি শুরু হয়ে যায়।

+---------------------------------------------------------------------------------------------------+
|                                 ২৫ মার্চের প্রাথমিক সামরিক লক্ষ্যবস্তুসমূহ                         |
+---------------------------------------------------------------------------------------------------+
|  ১. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ইকবাল হল, জগন্নাথ হল, রোকেয়া হল, শিক্ষকমহল)                              |
|  ২. রাজারবাগ পুলিশ লাইনস (পুলিশের কেন্দ্রীয় অস্ত্রাগার ও মেস)                                      |
|  ৩. পিলখানা ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলস (EPR HQ - ৩য় ও ৪র্থ উইং)                                       |
|  ৪. ধানমন্ডি ৩২ নম্বর (বঙ্গবন্ধুর বাসভবন)                                                        |
|  ৫. পুরান ঢাকা, শাঁখারীবাজার, তাঁতীবাজার ও নিয়ারবাই কলোনি এলাকা                                    |
+---------------------------------------------------------------------------------------------------+

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গণহত্যা: মুক্তচিন্তা ও চেতনার ওপর তোপ দাগা

পাকিস্তানি বাহিনী ২২ বালুচ রেজিমেন্ট, ৩২ পাঞ্জাব রেজিমেন্ট এবং ৩ কমান্ডো ব্যাটালিয়নের একাধিক কোম্পানি নিয়ে চারদিক থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ঘিরে ফেলে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি আবাসিক হলে ভারী ট্যাংক, রকেট লঞ্চার এবং ৫.৭ মিমি মেশিনগান দিয়ে শেল বর্ষণ করা হয়।

ইকবাল হল (বর্তমান সার্জেন্ট জহুরুল হক হল) ও সলিমুল্লাহ হল

ইকবাল হলে সামরিক বাহিনীর মই ও রকেট লঞ্চার ব্যবহার করে আক্রমণ চালানো হয়। সেখানে অবস্থানরত শত শত সাধারণ ছাত্র এবং স্বাধীনতা আন্দোলনের সাথে যুক্ত কর্মীদের কক্ষ থেকে বের করে হলে মাঠ ও করিডোরে দাঁড় করিয়ে ব্রাশফায়ারে হত্যা করা হয়। কামানের গোলায় হলের ছাদ ও একাধিক কক্ষ ভস্মীভূত হয়ে যায়।

জগন্নাথ হল: পরিকল্পিত বর্ণবাদী গণহত্যা

জগন্নাথ হলে পরিচালিত হত্যাযজ্ঞ ছিল সবচেয়ে ভয়াবহ। এটি ছিল অমুসলিম ও সাধারণ ছাত্রদের আবাসন কেন্দ্র। পাক বাহিনী হলে প্রবেশ করে পয়েন্ট-ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে ছাত্রদের গুলি করে। পরবর্তীতে সকালে হলের সামনের মাঠে বেঁচে থাকা ছাত্রদের বাধ্য করা হয় সহপাঠীদের মৃতদেহগুলো টেনে এনে গণকবর খুঁড়তে। গণকবর খোঁড়া শেষ হলে তাদেরও গুলি করে সেই কবরের ওপর ফেলে দেওয়া হয়। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে পরবর্তীতে ব্রিটিশ সাংবাদিক সাইমন ড্রিং ও মার্কিন দূতাবাসের গোপন নথিগুলোতে এই গণকবরের প্রত্যক্ষ বিবরণ প্রকাশিত হয়।

শিক্ষক ও বুদ্ধিজীবী হত্যা

কেবল শিক্ষার্থী নয়, পাকিস্তান বাহিনীর প্রধান লক্ষ্য ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথিতযশা শিক্ষকমণ্ডলীকে হত্যা করা। ২৫ মার্চের কালরাতেই তাদের বাসভবনে ঢুকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়:

  • ড. গোবিন্দ চন্দ্র দেব (জি. সি. দেব): দর্শন বিভাগের প্রধান ও বিশ্বখ্যাত মানবতাবাদী দার্শনিক।
  • ড. জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতা: ইংরেজি বিভাগের জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক ও প্রাগৈতিহাসিক সাহিত্য বিশেষজ্ঞ।
  • অধ্যাপক ফজলুর রহমান: গণিত বিভাগের তরুণ শিক্ষক।
  • ড. আতাউর রহমান খান খাদিম: পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক।
  • ড. এ এন এম মুনিম: ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক।

রাজারবাগ পুলিশ লাইনস: স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ

২৫ মার্চ রাত ১১টা ৪০ মিনিটে পাকিস্তানি ক্র্যাকিং ফোর্স যখন ভারী সাঁজোয়া গাড়ি নিয়ে রাজারবাগ পুলিশ লাইনসের দিকে অগ্রসর হয়, তখন সেখানে অবস্থানরত বাঙালি ব্যাটালিয়ন ও কনস্টেবলরা তাৎক্ষণিকভাবে বিপদসংকেত ঘণ্টা (PAGLA GHANTA) বাজিয়ে দেন।

অত্যন্ত সীমিত অস্ত্রাগার থেকে পুরোনো .৩০৩ (Three-Not-Three) বোল্ট-অ্যাকশন রাইফেল হাতে বাঙালি পুলিশ সদস্যরা পুলিশ লাইনসের ছাদ ও ব্যারাক থেকে পাকিস্তানি ভারী ব্যাটালিয়নের বিরুদ্ধে গুলিবর্ষণ শুরু করেন। এটিই ছিল ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে স্বাধীনতাকামী বাঙালিদের প্রথম আনুষ্ঠানিক সশস্ত্র সামরিক প্রতিরোধ। তবে পাকিস্তানি বাহিনীর রকেট লঞ্চার ও তোপখানার মুখে কয়েক ঘণ্টার টানা যুদ্ধের পর রাজারবাগ ব্যারাক আগুনে ভস্মীভূত হয় এবং শত শত পুলিশ সদস্য শাহাদাত বরণ করেন।

পিলখানা ইপিআর সদর দপ্তর আক্রমণ

পিলখানায় অবস্থানরত বিশাল সংখ্যক বাঙালি ইপিআর (East Pakistan Rifles) সদস্যদের যেন সশস্ত্র যুদ্ধের সুযোগ না দেওয়া হয়, সে জন্য মধ্যরাতে হঠাৎ করে ৩য় ও ৪থ পাঞ্জাব ব্যাটালিয়ন ভারী তোপসহ পিলখানায় আক্রমণ চালায়। গভীর রাতে ঘুমে থাকা বাঙালি জোয়ানদের ওপর নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করা হয়। পিলখানার তৎকালীন সিগন্যাল কোরের বাঙালি সুবেদার ও জোয়ানরা জীবন বাজি রেখে তৎকালীন কমান্ডারদের বার্তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেন এবং শত শত জোয়ান বীরত্বের সাথে প্রতিরোধ গড়ে তুলে পিলখানা ত্যাগ করে সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েন।

ধানমন্ডি ৩২ নম্বর: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের গ্রেপ্তার ও স্বাধীনতার ঘোষণা

২৫ মার্চ রাত ১টা ৩০ মিনিটের দিকে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর স্পেশাল সার্ভিস গ্রুপের (SSG) একটি বিশেষ কমান্ডো দল ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাসভবন ঘেরাও করে। চারদিক থেকে নির্বিচার গুলিবর্ষণের পর তারা বাসভবনে প্রবেশ করে।

গ্রেপ্তারের ঠিক পূর্বমুহূর্তে, রাত ১২টা ২০ মিনিটে (২৬ মার্চের সূচনায়) জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ওয়ারলেসের (EPR সিগন্যাল ফ্রিকোয়েন্সি) মাধ্যমে বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতার ঘোষণা প্রদান করেন:

“This may be my last message, from today Bangladesh is independent. I call upon the people of Bangladesh wherever you might be and with whatever you have, to me resist the army of occupation to the last. Your fight must go on until the last soldier of the Pakistan occupation army is expelled from the soil of Bangladesh and final victory is achieved.”

এই ঐতিহাসিক ঘোষণাটি তৎকালীন চট্টগ্রাম সংগ্রাম পরিষদের নেতাদের কাছে, আগ্রাবাদ সিগন্যাল সেন্টারে এবং সারাদেশে টেলিগ্রাম ও ওয়ারলেস বার্তার মাধ্যমে পৌঁছে যায়। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই পাক কমান্ডো দল বঙ্গবন্ধুকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা সেনানিবাসে নিয়ে যায় এবং পরবর্তীতে পশ্চিম পাকিস্তানে স্থানান্তর করে।

অপারেশন সার্চলাইটের আঞ্চলিক বিস্তার: ঢাকার বাইরে তাণ্ডব

যদিও ২৫ মার্চ রাতের প্রধান মূল কেন্দ্র ছিল ঢাকা শহর, তবে অপারেশন সার্চলাইটের আওতায় পূর্ব পাকিস্তানের সমস্ত কৌশলগত জেলা, সেনানিবাস এবং চট্টগ্রাম বন্দর নগরীতে একইভাবে সর্বাত্মক তাণ্ডব শুরু হয়।

+---------------------------------------------------------------------------------------------------+
|                                ঢাকার বাইরে প্রধান সামরিক অভিযানের কেন্দ্রস্থল                      |
+---------------------------------------------------------------------------------------------------+
|  • চট্টগ্রাম (ইবিআরসি, আগ্রাবাদ, পোর্ট রোড) --> ক্যাপ্টেন রফিকের নেতৃত্বে বাঙালি সেনাদের বিদ্রোহ    |
|  • Comilla (কুমিল্লা সেনানিবাস)             --> ৫৩ পদাতিক ব্যাটালিয়ন কর্তৃক সাধারণ নাগরিক হত্যা   |
|  • যশোর ও রংপুর                             --> ইপিআর ও বেঙ্গল রেজিমেন্টের প্রতিরোধ আন্দোলন      |
|  • সৈয়দপুর ও নীলফামারী                      --> অবাঙালি বিহারীদের সহায়তায় স্থানীয় গণহত্যা     |
+---------------------------------------------------------------------------------------------------+

চট্টগ্রাম: ইবিআরসি (EBRC) ও পোর্ট সিটি প্রতিরোধ

চট্টগ্রামে অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট এবং ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টাল সেন্টারে (EBRC) অবস্থানরত শত শত বাঙালি সেনা সদস্যকে হত্যা করার কৌশল গ্রহণ করে ২৫ মার্চ রাতে ব্রিগ্রেডিয়ার আনসারির নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানি ফোর্স। কিন্তু সিগন্যাল পেয়ে তৎকালীন প্রধান বাঙালি অফিসার ক্যাপ্টেন রফিক-উল-ইসলাম (পরবর্তীতে বীর উত্তম) এবং মেজর জিয়াউর রহমান বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। চট্টগ্রামে পাকিস্তানি সোয়াত জাহাজ থেকে অস্ত্র খালাস রুখে দিতে এবং শহরের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে সাড়ে তিন দিন ধরে তীব্র লড়াই পরিচালিত হয়।

সৈয়দপুর ও নীলফামারীর আঞ্চলিক গণহত্যা

সৈয়দপুর সেনানিবাস ও তার আশেপাশের এলাকায় অবস্থানরত অবাঙালি বিহারী জনগোষ্ঠীকে সাথে নিয়ে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর জওয়ানরা শত শত সাধারণ স্থানীয় বাঙালি পরিবারকে লাইন ধরে দাঁড় করিয়ে জবাই ও গুলি করে হত্যা করে। ২৫ মার্চের পর থেকে প্রায় পুরো উত্তরবঙ্গ জুড়েই অপারেশন সার্চলাইটের এই রক্তক্ষয়ী ঢেউ ছড়িয়ে পড়ে।

গণহত্যার মনস্তত্ত্ব ও পাকিস্তানি সামরিক নীতি: ‘পোড়ামাটি নীতি’ (Scorched Earth)

অপারেশন সার্চলাইট কোনো সাধারণ আইনশৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠার অভিযান ছিল না; এটি ছিল পাকিস্তানি উগ্র বর্ণবাদী মানসিকতা ও ‘স্কর্চড আর্থ’ (Scorched Earth) বা পোড়ামাটি নীতির এক জঘন্য সামরিক প্রয়োগ।

‘মাটি চাই, মানুষ নয়’: টিক্কা খানের সামরিক মানসিকতা

মেজর জেনারেল খাদিম হোসেন রাজা তাঁর আত্মজীবনী A Stranger in My Own Country-তে উল্লেখ করেছেন, অভিযানের দায়িত্ব নেওয়ার সময় জেনারেল টিক্কা খানের মূল মানসিকতাই ছিল বাঙালিদের ওপর ভয়াবহ দমননীতি চালানো। তৎকালীন রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে টিক্কা খানের একটি উক্তি অত্যন্ত পরিচিতি পায়:
“I want the land, not the people.” (আমি পূর্ব পাকিস্তানের মাটি চাই, মানুষ নয়।)
এই নীতি বাস্তবায়ন করতেই পাকিস্তানি সেনাসদস্যরা ঢাকা শহরসহ আশেপাশের গ্রামগুলোতে নির্বিচারে অগ্নিসংযোগ করে, পলায়মান নারী ও শিশুদের ওপর মেশিনগানের গুলি চালায় এবং সমস্ত সম্পদ লুটপাট করে।
+---------------------------------------------------------------------------------------------------+
|                       পাকিস্তানি বাহিনীর উগ্র সামরিক মনস্তত্ত্ব ও প্রাতিষ্ঠানিক নীতি               |
+---------------------------------------------------------------------------------------------------+
|  • উগ্র বর্ণবাদ (Racial Chauvinism) : বাঙালিদের শারীরিক গঠন, ভাষা ও সংস্কৃতিকে অবমূল্যায়ন করা।   |
|  • ধর্মীয় উগ্রতা (Religious Extremity): বাঙালি মুসলিমদের "সাচ্চা মুসলমান নয়" বলে ফতোয়া দেওয়া।    |
|  • লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা (Mass Rape) : বাঙালি সমাজকে মানসিকভাবে ভেঙে দিতে প্রাতিষ্ঠানিক নারী নির্যাতন।|
|  • জনমিতিক পরিবর্তন (Demographic Cleansing): হিন্দু ও মুক্তিকামী বাঙালি জনগোষ্ঠীকে দেশত্যাগে বাধ্য করা।|
+---------------------------------------------------------------------------------------------------+

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া, প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ ও কূটনৈতিক দলিল

২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি জান্তা নিশ্চিত করেছিল যে আন্তর্জাতিক কোনো সাংবাদিক যেন ঢাকা শহরে অবস্থান না করতে পারেন। ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে অবস্থানরত প্রায় ৩৫ জন বিদেশী সাংবাদিককে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে পরদিন সকালে বিমানযোগে দেশ থেকে বের করে দেওয়া হয়।

সাইমন ড্রিং-এর ঐতিহাসিক প্রতিবেদন

ব্রিটিশ সাংবাদিক সাইমন ড্রিং (Simon Dring) হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের ছাদ ও রান্নাঘরে লুকিয়ে থেকে ২৫ মার্চের গণহত্যার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে ঢাকা শহরের চিত্র ধারণ করেন। পরবর্তীতে ডেইল মেইলের সহযোগিতায় ২১ মার্চ ১৯৭১-এ দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফ (The Daily Telegraph) পত্রিকায় প্রকাশিত হয় তাঁর বিখ্যাত প্রতিবেদন: “Tanks Crush Revolt in Pakistan”। বিশ্ববাসী এই প্রথম জানতে পারে যে, ২৫ মার্চের এক রাতের অভিযানে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী কেবল ঢাকা শহরেই অন্তত ৭,০০০ থেকে ১০,০০০ সাধারণ নাগরিককে হত্যা করেছে।

আর্চার ব্লাড ও ‘দ্য ব্লাড টেলিগ্রাম’ (The Blood Telegram)

ঢাকায় অবস্থিত তৎকালীন মার্কিন কনস্যুলেটের কনসাল জেনারেল আর্চার ব্লাড (Archer Blood) যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টে পাঠানো তাঁর ধারাবাহিক টেলিগ্রামে সরাসরি পাকিস্তানি বাহিনীর এই তাণ্ডবকে “Selective Genocide” বা নির্বাচিত গণহত্যা হিসেবে আখ্যায়িত করেন। ৬ এপ্রিল ১৯৭১-এ পাঠানো তাঁর ঐতিহাসিক টেলিগ্রামে লেখা হয়:
“Our government has failed to denounce the suppression, violence, and genocide executed by the Pakistani military in East Pakistan…”

অ্যান্থনি মাসকারেনহাসের অনুসন্ধানী রিপোর্ট

পাকিস্তানি সাংবাদিক অ্যান্থনি মাসকারেনহাস (Anthony Mascarenhas), যাকে তৎকালীন সেনাশাসক পরিস্থিতি ইতিবাচকভাবে কভার করতে পূর্ব পাকিস্তানে পাঠিয়েছিল, দেশের ভয়াবহতা দেখে লন্ডনে পালিয়ে যান। ১৩ জুন ১৯৭১ তারিখে ইউকের The Sunday Times পত্রিকায় প্রকাশিত তাঁর ৮ পৃষ্ঠার বিশদ প্রতিবেদন বিশ্ব জনমতকে সম্পূর্ণভাবে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে এবং বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে নিয়ে আসে।

হতাহতের সংখ্যা, সার্বিক ক্ষয়ক্ষতি ও বৈশ্বিক ডেমোসাইড তথ্য তালিকা

অপারেশন সার্চলাইট এবং তার পরবর্তী ৯ মাসের গণহত্যাকে আন্তর্জাতিক গণহত্যার গবেষক ও পণ্ডিতেরা বিংশ শতাব্দীর অন্যতম বৃহৎ মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
অবস্থান / সেক্টরপ্রাথমিক টার্গেট গ্রুপআক্রমণের মাধ্যম / ব্যবহৃত অস্ত্রনিহতের আনুমানিক সংখ্যা (২৫-২৬ মার্চ)
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সাধারণ ছাত্র, শিক্ষক ও কর্মচারীসাঁজোয়া যান, রকেট লঞ্চার, স্বয়ংক্রিয় মেশিনগান১,০০০ – ১,৫০০ জন
রাজারবাগ পুলিশ লাইনসবাঙালি পুলিশ সদস্যতোপখানা, রকেট লঞ্চার, পদাতিক হামলা৭০০ – ১,০০০ জন
পিলখানা ইপিআর HQইস্ট পাকিস্তান রাইফেলসের জওয়ানঅতর্কিত ভারী তোপ ও স্বয়ংক্রিয় রাইফেল হামলা১,৫০০ – ২,০০০ জন
পুরান ঢাকা ও শাঁখারীবাজারবেসামরিক হিন্দু ও সাধারণ ব্যবসায়ীঘরবাড়িতে আগুন, ব্রাশফায়ার, বোমাবর্ষণ৩,০০০ – ৫,০০০ জন
অন্যান্য জেলা (চট্টগ্রাম, কুমিল্লা)বাঙালি সেনা, পুলিশ ও বেসামরিক নাগরিকসরাসরি রকেট আক্রমণ, লাইন ধরে গুলি২,০০০ – ৩,০০০ জন
আমেরিকান রাষ্ট্রবিজ্ঞানী আর. জে. রামেলের (R.J. Rummel) উপাত্ত: বিশিষ্ট গবেষক আর. জে. রামেল তাঁর Death by Government গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, ১৯৭১ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পরিচালিত এই সামগ্রিক গণহত্যায় আনুমানিক ১৫ লাখ থেকে ৩০ লাখ মানুষ নিহত হন, যার সূচনাটি সরাসরি ঘটেছিল ‘অপারেশন সার্চলাইটের’ মাধ্যমেই।

অপারেশন সার্চলাইটের রাজনৈতিক ও কৌশলগত ব্যর্থতা

পাকিস্তান সামরিক জান্তা ভেবেছিল ‘অপারেশন সার্চলাইট’-এর মাধ্যমে অতি দ্রুত ও নির্মম শক্তি প্রয়োগ করে বাঙালি জাতিকে কিছুদিনের মধ্যেই সম্পূর্ণ নতিস্বীকার করাতে পারবে। কিন্তু সামরিক হিসাব-নিকাশে তাদের চরম কৌশলগত ভুল ছিল।
[পাকিস্তানি অনুমান: এক রাতের অভিযানে বাঙালি আন্দোলন নিশ্চিহ্ন হবে]
                               │
                               ▼
[বাস্তবতা: সর্বাত্মক প্রতিরোধ, সশস্ত্র বিদ্রোহ ও মুক্তিযুদ্ধের সূচনা]
                               │
                               ▼
[ফলাফল: ৩ ডিসেম্বর ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ, যৌথবাহিনীর আক্রমণ ও ১৬ ডিসেম্বর পাক বাহিনীর আত্মসমর্পণ]

অপারেশন সার্চলাইটের রক্তক্ষয়ী তাণ্ডব বাঙালি জাতির মনের সমস্ত দ্বিধাদ্বন্দ্ব মুছে দেয়। রাজনৈতিক অধিকার আদায়ের স্বায়ত্তশাসনের দাবি মুহূর্তের মধ্যেই পূর্ণাঙ্গ “স্বাধীনতার যুদ্ধে” রূপ নেয়। যে সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশ সদস্যদের পাকিস্তান নিঃশেষ করতে চেয়েছিল, তারাই সীমান্ত অতিক্রম করে গঠন করেন ‘মুক্তিবাহিনী’। ১৭ এপ্রিল ১৯৭১ তারিখে মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলায় (মুজিবনগর) আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকার গঠিত হয় এবং ৯ মাসের বীরত্বপূর্ণ সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ৯৩,০০০ সদস্যের ঐতিহাসিক আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ মানচিত্রে স্থান করে নেয়।

তথ্যসূত্র ও রেফারেন্স (References & Bibliography)

১. হাসান হাফিজুর রহমান (সম্পাদিত), বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ: দলিলপত্র (অষ্টম ও নবম খণ্ড), তথ্য মন্ত্রণালয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার।
২. মঈদুল হাসান, মূলধারা ‘৭১, ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড (ইউপিএল), ঢাকা।
৩. মেজর জেনারেল খাদিম হোসেন রাজা, A Stranger in My Own Country: East Pakistan, 1969-1971, Oxford University Press, 2012.
৪. সিদ্দিক সালিক, Witness to Surrender, Oxford University Press, 1977.
৫. Bass, Gary J., The Blood Telegram: Nixon, Kissinger, and a Forgotten Genocide, Alfred A. Knopf, 2013.
৬. Rummel, R. J., Death by Government: Genocide and Mass Murder Since 1900, Transaction Publishers, 1994.
৭. Robert Payne, Massacre: The Tragedy at Bangla Desh and the Phenomenon of Mass Slaughter Throughout History, Macmillan, 1973.
৮. Mascarenhas, Anthony, The Rape of Bangla Desh, Vikas Publications, 1971.
৯. Hamoodur Rahman Commission Report, Supplementary Report on the 1971 War, Government of Pakistan, 2000.