আজ ১২ ডিসেম্বর। বাঙালির ইতিহাসের এক ধ্রুবতারা, কিংবদন্তি সাংবাদিক, সাহিত্যিক এবং আমাদের চেতনার বাতিঘর আবদুল গাফফার চৌধুরীর জন্মদিন। একজন আওয়ামী লীগের নিবেদিতপ্রাণ কর্মী হিসেবে আজ এই মহান মানুষটির স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছি।
আবদুল গাফফার চৌধুরী কেবল একটি নাম নয়, তিনি একটি ইতিহাস। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের রাজপথ রঞ্জিত হওয়ার পর তাঁর কলম থেকেই বেরিয়েছিল সেই কালজয়ী গান— “আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি।” এই একটি গান দিয়েই তিনি বাঙালির হৃদয়ে অমরত্ব লাভ করেছেন। যতদিন বাংলা ভাষা থাকবে, ততদিন এই গান ও গাফফার চৌধুরী আমাদের অস্তিত্বের সঙ্গে মিশে থাকবেন।
কিন্তু আমাদের কাছে, অর্থাৎ বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিকদের কাছে তিনি কেবল একুশের গানের রচয়িতা নন; তিনি ছিলেন আমাদের বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াইয়ের প্রধান সেনাপতি।
আবদুল গাফফার চৌধুরী ছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং স্নেহভাজন। বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে তিনি আজীবন তাঁর লেখনীর মাধ্যমে ধারণ ও লালন করেছেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর যখন অনেকেই ভয়ে নিশ্চুপ ছিলেন, যখন ইতিহাসের চাকা উল্টো দিকে ঘোরানো হচ্ছিল, তখন প্রবাসে থেকেও কলমযোদ্ধা হিসেবে গর্জে উঠেছিলেন গাফফার চৌধুরী। তিনি খুনিদের মুখোশ উন্মোচন করেছেন এবং জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠায় দূর পরবাস থেকে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।
আওয়ামী লীগের যেকোনো ক্রান্তিলগ্নে, তা ১/১১-এর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমল হোক কিংবা বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের দুঃশাসন—আবদুল গাফফার চৌধুরীর কলম কখনো থামেনি। তাঁর বিখ্যাত কলামগুলো আমাদের মতো কর্মীদের জন্য ছিল টনিকের মতো। যখনই আমরা হতাশ হয়েছি, তাঁর ‘তৃতীয় মত’ বা অন্যান্য কলাম পড়লে মনে হতো—আমরা একা নই, আমাদের একজন অভিভাবক আছেন যিনি সত্য বলতে ভয় পান না। তিনি সাম্প্রদায়িকতা, মৌলবাদ এবং স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে আজীবন আপোষহীন লড়াই করে গেছেন।
তিনি জননেত্রী শেখ হাসিনাকে নিজের কন্যার মতোই স্নেহ করতেন এবং বিপদে-আপদে ছায়ার মতো পাশে থাকতেন। প্রবাসে থাকলেও তাঁর মন পড়ে থাকত বাংলাদেশে, ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে এবং গণভবনে। তিনি চাইতেন বাংলাদেশ একটি অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক এবং বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে উঠুক।
আজ তিনি আমাদের মাঝে সশরীরে নেই, কিন্তু তাঁর আদর্শ, তাঁর লেখনী এবং তাঁর সাহস আমাদের সঙ্গেই আছে। তাঁর জন্মদিন উপলক্ষে আমাদের শপথ হোক—তিনি যে অসাম্প্রদায়িক ও প্রগতিশীল বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখতেন, তা বাস্তবায়নে আমরা জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে আরও শক্তিশালী করব। স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে তাঁর কলম যেমন তলোয়ারের মতো কাজ করত, আমাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডও তেমন শাণিত হবে।
হে মহান কলম সৈনিক, জন্মদিনে আপনাকে জানাই সশ্রদ্ধ সালাম। আল্লাহ আপনাকে জান্নাতবাসী করুন। আপনার সৃষ্টি ও দর্শন আমাদের পথচলায় পাথেয় হয়ে থাকবে।
জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু। বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।
